রোজায় ক্লান্ত দিন!
ঘুরে ফিরে পোষ্টের শিরোনামে 'দিন' শব্দটাকে হটানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু তা আর হলো না। না হলেই বা কি আমি লেখি ব্লগে দিনলিপির মতো কিছু একটা। তা নিয়ে অতো চিন্তা করার কিছু নেই। যা মনে আসে তা নির্বিঘ্নে লেখাই আমার আপাতত কাজ।
৭ রোজা বিদায় নিলো। আরেকটু পরেই সেহরি তারপর ৮ শুরু হবে। অনেকেই বলে সময় নাকি তাদের যায় না বা কাটে না। কিন্তু আমার সময় এতো দ্রুত যায় বুঝতেই পারি না। রোজায় এই এক সপ্তাহ গেলো বলা যায় হুমায়ূন আহমেদরে নিয়া ভাবতে ভাবতে। এই ভাবনা বন্ধ করার জন্যে পত্রিকা পড়া ছেড়ে দিছি। তাও লোকজনের উত্তেজনায় ভাবতে হয় উনাকে নিয়ে। মতিঝিলের এক দেয়ালে একটা পত্রিকা দেখলাম। দিনাজপুরে কোনো এক লোকাল পত্রিকার শিরোনাম 'হুমায়ূন মৃত্যু রহস্য বেড়িয়ে আসছে অনেক অজানা কথা। মানব জমিন, বাংলা নিউজ ২৪, প্রথমালো সবার সম্মিলিত কচকচালিতে ক্লান্ত বিরক্ত। লেবু বেশি কচলালে তিতা হয় কিন্তু এবার আমরা লেবুর গাছ উপড়ানোতেই বেশী ব্যাস্ত। সাধারন মানুষ বুঝে নাবুঝে কি সব কথা বলে শুনলেই মনে হয় অসভ্য জাতির থার্ডক্লাস চিন্তা ভাবনা। মনের দুঃখে এই প্রসঙ্গ এভোয়েড করার চেষ্টা করি কিন্তু বারবার চলে আসে। আমি সাধারন মানুষের মতো তাকে ইশ্বর ভাবি না, বেচে থাকতে যথেষ্ট মশকারী করছি, কিন্তু মানুষটা মরার পর আমি দৃঢ় ভাবে চাই তার পরিবারকে নিয়ে কুৎসা গালিগালাজ ব্লেমগেইম না খেলা হোক। হুমায়ুন আহমেদ নাই এইটাই বড় শুন্যতা। শাওনের গুষ্টি তুলে গালিগালাজ করলেও তা পূরন হবার না। নেট থেকে ১৪৭ টা বই ডাউনলোড করছি। সময় পাইলেই পড়ি দৈনিক একটা করে। আগে পড়ছি বহূ সেই বইতেও চোখ বুলাই। এইটাই এখন আমার একমাত্র বাদশাহ সাহেবের প্রতি শ্রদ্ধা।
রোজায় খাদ্যভাসে চেঞ্জ আসে। আমিও চেঞ্জ করেছি। মাত্র দুইবেলা খাই ইফতারী আর সেহেরি। ইফতারী করি ভাইয়ার অফিসে।দারুন। বাসায় সেহেরী খেয়ে দেই ঘুম। উঠি দুপুর ১ টায়। তাতে রোজা একটু হাল্কা হয় কিন্তু কিছুই করার নাই। প্রতিদিন চায়ের দোকান থেকে ফোন আসে যে মামা ইফতারীটা আমাদের সাথে করেন। কিন্তু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করি সচেতন ভাবে। কিন্তু আন্তরিকতায় মুগ্ধ হই বারবার। এই শুক্রবারেই প্রথম ইফতারী করলাম বাইরে। সবাই চাদা তুলে মাদ্রাসায় খাওয়ালাম নিজেরাও মসজিদে খেলাম। দারুন অনুভুতি। সবাই মিলে একসাথে ১০ মিনিটের ভিতরে ইফতারী করা সহজ কাজ না। খেতে খেতে চাপা ব্যাথা। অসাধারন একটা সন্ধ্যা কাটছে। গত তিন বছর যাবত এই কাজ পুলকের লিডারশীপে করে যাচ্ছি। সোয়াব পাই কিনা জানি না তবে খুব মজা লাগে। এবার দুই মাদ্রাসায় এই কাজ চলবে।
তবে শুক্রবারেই বুঝলাম রোজার ফিলিং। রাতে ঘুমাইনি। বন্ধু ফখরউদ্দিন আসছে জনতা ব্যাংকের একজিকিউটিভ পোস্টে এক্সাম দিতে। আমি কী মনে করে জানি বলছিলাম প্রশ্ন দেখবি আউট। সারারাত প্যাচাল পারলাম। সকালে উঠে দেখি আসলেই তাই। কি আচানক কান্ড। রাতে একফোটাও ঘুমাই নাই। ফখর গেলো বাংলা কলেজে আটটায়। আমি রওনা দিলাম শাহবাগে। উদ্দেশ্য গত চার বছর ধরে যে জায়গায় নিয়মিত উপস্থিত হই। তা হলো আহমদ ছফা রাষ্ট্রসভার বার্ষিক বক্তৃ্তা অনুষ্ঠানে। ফেসবুকে দেখলাম ৯ টায় শুরু। কিন্তু যেয়ে দেখি কেউই আসে নাই। গেটে চেনা জানা দফতরীর সাথে আলাপ জমালাম। দেখি রাসেল ভাই তার সাথে আরেকজনকে সাথে নিয়ে হাজির। একটু পর আসলো সলিমুল্লাহ খান। তিনি এসেই বাংলা ভাষা দেশী না বিদেশী তা নিয়ে আমাদের সাথে প্যাচাল শুরু করলো। তিনি বলতেছেন বাংলা ভাষায় ৮৫ ভাগ শব্দ আসছে সংস্কৃত থেকে। আর বাকি শব্দ সব ইংরেজী, বার্মিজ, পর্তুগীজ থেকে। যেগুলাকে দেশী শব্দ বলে জানি তাও নাকি বাংলার না অন্য জনগোষ্ঠীর। আমি খালি শুনে নিলাম। শামস আল মমীন নামের এক প্রবাসী কবি যে ভাবে চুইংগাম চাবাচ্ছিলেন তা দেখে ভদ্রলোকের উপর মেজাজ খারাপ হলো। ১০ টা ৪০ এ শুরু হলো। হুমায়ূন আহমেদের শোকে ১ মিনিট সবাই দাঁড়িয়ে নিরব থাকলো। মনসুর মুসা বক্তব্য রাখলেন মুনীর চৌধুরীর উপরে। তিনি শুরু করলেন হূমায়ূন আহমেদ লিখিত আহমদ ছফাকে নিয়ে যে শ্রদ্ধা নামা। এইটা আমি অনেক পড়ছি কিন্তু যখন মুসা স্যার পড়ছেন তখন প্রায় কান্না আসছিলো। অনেক কষ্টে আটকালাম। এতো আবেগ ভালো না। পাশে বসছিলো বিধান রিবেরু। চিনি নাই। যখন তিনি নাম লিখলেন কাগজে তখন অবাক হলাম। সিনেমা নিয়ে তিনি অসাধারন লিখেন। এটিএন নিউজে জব করেন। তাকে বললাম লিখেন না আর? তখন উনি বললো লেখার মতো পত্রিকা নাই। আর কেউ ছাপেনা বুধবারের মতো। কিন্তু এতো মধুর সময়ে গেঞ্জাম বাধালো বন্ধু। বললো সায়দাবাদে এসে পড়। আহমদ ছফার জীবনের গল্প গুলো ক্লাস নাইনেই মুখস্থ। কিন্তু তার লেখার সাথে পরিচয় ভার্সিটি ভর্তি হবার পর। খুব ভালো লাগে যখন কেউ আমার প্রিয় মানুষকে খুব প্রশংসা করে। যে শামস আল মমীনের উপর বিরক্ত ছিলাম সেই ব্যাক্তি যখন বললেন যে ছফা ভাই কবিতায় সফল না হতে পারেন কিন্তু তিনি আমার কাছে কবি ও সম্রাট। তখন গায়ের সব শক্তি দিয়ে হাতে তালি দিলাম। দোযখে গিয়ে যদি আহমদ ছফার সাথে কথা বলার সুযোগ পেতাম তবে সেটা হতো পরকালের সেরা প্রাপ্তি।
আমি ছফার স্মৃতি পর্বের মায়া ত্যাগ করে মন খারাপ করে শাহবাগে আসলাম। দেখি কোনো বাস নাই বিকল্প বা ট্রান্স সিল্ভা কিছুই নাই। ভিজলাম বিষ্টিতে। সিএঞ্জি খোজায় মন দিলাম দেখি ১০০ টাকায় রাজি হয়ে গেলো সায়দাবাদ রেইলগেট। যেয়ে দেখি পুরা সায়দাবাদ কাদার স্তুপে হারায়া গেছে। যতো চেষ্টা করি কাদা না লাগানোর তত লাগে। জুতা প্যান্টে কাদা লেগে একাকার। টিকেট পাই না ভালো বাসের। শেষে এস আলমে পাওয়া গেলো। তাকে উঠায় দিয়ে রিক্সা করে মতিঝিল আসলাম। কত পথ পার হয়ে গোলাপবাগ, দক্ষিণ কমলাপু্র, ধলপুর, গোপীবাগ, আরকে রোড সব পেরিয়ে আসলাম। বাসে যখন উঠি তখন দেখি লোকজন সব আমার পায়ের দিকে তাকিয়ে। কাদা শুকিয়ে বিভৎস অবস্থা। কি আর করা বাসে ঘুমাতে ঘুমাতে আসলাম। পাশের যাত্রী টুপি পাঞ্জাবী পড়া। মোবাইলে দেখে রানী মুখার্জীর নাচ। কি আজব দেশ মানুষ দেখি সব আমার মতো ভন্ড। বাসায় এসে গোসল করে মসজিদে রওনা দিলাম!





রোযা ভালু পাই!
সারাদিন খাওনদাওনের গেঞ্জাম নাই,তাই!
দিন ভালই যাইতাছিল।
আরাম আজকে থিকা হারাম।
টেস্ট এক্সামের ডেট ফালাইছে এই রোযার ভিতরে, আজকে থিকা শুরু।
হুদাই সকালের ঘুম বানচাল!
মেজাজটাই খারাপ হইয়া গেছে।
রোজা রমজানে পড়াশুনা অতি জঘন্য ব্যাপার। তাও কী আর করার জীবন মানেই যন্ত্রনা। মন দিয়ে পড়েন। ভালো থাকেন!
একটাও রোজা রাখা হয় নি এখনও। রাত আড়াইটায় সেহরী খেয়ে ইফতার করতে হয় রাত দশটায়। এত লম্বা রোজা রাখা আমার কাজ না।
এত লম্বা কেনো রোজা? এত লম্বা রোজা সারাদিন কাজ করে রাখা আসলেই সম্ভব না!
ভালো লাগলো দিনলিপি পড়ে।
থ্যাঙ্কু। আপনার লেখা পড়তে তার চেয়ে বেশী ভালো লাগে!
দারুন. চমৎকার
ধন্যবাদ ভাইয়া!
দিনে দিনে আবেগের বস্তা হয়ে যাচ্ছি । তার উপর রোজার ক্লান্তি তাতে দেয় অন্তর জলানি। দুই এক করে হুমযূনকে আনলে কষ্ট তো লাগবেই
ভালো কথা, রাণী মুখার্জী কি এখনো নাচে?
ভদ্রলোক দেখতেছিলো পুরানা সিনেমা বান্টিঅউর বাব্লী ছবির নাচ। পত্রিকায় দেখছিলাম রানীর নতুন ছবি আঈয়া র জন্য তিনটা আইটেম গানে নাকি নাচবে!
জাঝাকাল্লাহ খায়ের!
শুকরান শুকরান।
মন্তব্য করতেও ক্লান্তি আসে
22ল ভাইয়ের জন্য প্রেসক্রিপশন-
এরিস্টোভিট-এম (প্রতিদিন সেহরীর পর একটা করে একমাস)
ক্যালবো-ডি (প্রতিদিন ইফতারির পর একটা করে সাতদিন)
আর ডিমের কুসুম, খাসির কলিজা, পালং-কলমি-পাটের শাক, লাউ-কুমড়া-আলু-পটল-বেগুন-চিচিঙ্গা-ঢেঁড়সটা একটু বেশি বেশি খাবেন। পানি বেশি বেশি পান করবেন।
ও মোর আল্লাহ... এইডে কি দিলেন?
এই নিয়ম মেনে চললে অল্পদিনেই ক্লান্তভাব কেটে যাবার কথা।
টুটুল ভাইয়ের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি কবে থেকে দেখা দিলো?
পোষ্ট দিতে আরও বেশি ক্লান্ত লাগে!
ভাল লাগলো দিনলিপি।
ধন্যবাদ। পথ চলা অব্যাহত থাকুক!
তোমার দিনলিপি পড়তে ভালো লাগে।
হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে লেখা পড়ি পত্রিকা খুঁজে খুঁজে। টিভিতে নিউজ দেখি আর নিজের অজান্তেই কান্না ঝড়তে থাকে। মনটা বিষন্ন হয়ে গেছে খুব।কেমন একটা শূণ্যতা।
রোজায় তো ভালো কাজই করছ। অনেক বড় হও, চিন্তা-ভাবনায়, কর্মে।
থ্যাঙ্কু আপু। শুভকামনা থাকলো, ভালো থাকেন সব সময়!
দিনলিপি ধরণের লেখাই বেশি আকর্ষণ করে
তার চেয়ে আপনার যেকোনো লেখা অনেক বেশী ভালো লাগে!
এই দিনলিপিই অনেক পছন্দ।,
ভালো লাগা তো আগেই জানাইছি, দেখো আলসেমি এত্তো যে কমেন্ট করতেও ঢং করি!
রোজা রমজানের দিন আলসেমি জিনিস টা মন্দ না!
স্বদেশে ফিরে আসার আনন্দ কন্টিনিউ রাখেন...
সুন্দর লিখেছেন।
আপ্নি আরও সুন্দর লিখেন!
বন্ধকে বাসে উঠায় দিতে হবে? বাচচা!!!!
লেখা দারুন. চমৎকার
বন্ধু বাচ্চা না কিন্তু ঢাকায় আসলে আমি চেষ্টা করি সর্বোচ্চ ফেভার করার তাই সময় না থাকলেও আগিয়ে দেই, কখনোবা নিজেই গিয়ে কমলাপুর থেকে রিসিভ করতে যাই।
দেশের স্মৃতি নিয়ে বইদেশে আনন্দে কাটান!
মন্তব্য করুন