ইউজার লগইন

উপোষের দিনরাত্রী কিস্তি তিন

এই পোষ্টটা একবার লিখে ফেলছিলাম। অনেক সময় মোবাইল হাতে নিয়ে অনেক বড় করে পোষ্ট লিখলাম নিজের ও সেটের কারনে গায়েব হয়ে গেলো কি যে সাংঘাতিক মেজাজ খারাপ হলো বলে বুঝাতে পারবো না. একরকম জেদ করেই এই পোষ্টটা আবার লিখতেছি মোবাইলে। তবে যা লিখতেছিলাম তা দারুন ভাবে আগাচ্ছিলো এখন বুড়ো আংগুলে প্রচন্ড ব্যাথা তাও লিখতেছি জানি না কি হবে। আর আমার অপেরা মিনিতে একটা ঝামেলা হইছে ভাগ্য শব্দ পেচায়া যায়। তাতে একটু সমস্যা হতে পারে লিখতে গিয়ে। বানান একটু ভুল হতে পারে মাফ করে দিবেন। আসলে লিখছিলাম বাড়ীতে থাকা নিয়ে। ১০ ঘন্টা ক্লান্তিকর বাস জার্নি শেষে বাড়ীতে এসে শান্তি পেলাম না। কারেন্ট থাকে না কারেন্ট থাকলে ডিস থাকেনা। টিভি নিয়ে ভাবলাম লিখবো ইদে তা আর হবেনা কারন যদি নাই দেখি তাহলে লিখি কিভাবে। বাড়ীতে এসে সেই আগের রুটিন বহাল আছে। তবে বাসায় থাকতে বকা দেয়ার কেউ ছিলোনা যতক্ষনই ঘুমাই না কেন। কিন্তু বারোটা একটা বাজলেই আম্মুয় কথা বলা শুরু 'তুই আগে কতো ভোরে উঠতি? একি অবস্থা হলো তোর! এতো বিকাল পর্যন্ত কেউ ঘুমায়? আমিও জবাব দেই কারেন্ট নাই খাবার নাই উঠে কি করবো? আম্মু বলে উঠে জীবনের প্রথম বিশ বছর পার করছি কারেন্ট ছাড়া তোর মতো হলে তো ঘুমিয়েই শুয়েই তাহলে পার করতে হতো। আমি আর কথা বাড়াই না মোবাইলে ফেসবুক ব্লগ পত্রিকা দেখতে থাকি। দেশ কাল মানুষের ঘটনাপ্রবাহ দেখে মেজাজ খারাপ হয়। গোসল করি নামায় পড়ে বইপত্র পড়ি। আম্মু আব্বুর সাথে গল্পে শরিক হই। গ্রামের নানা মানূষের আপডেট পাই। যাদের অনেককেই আমি চিনিনা। তার ভেতরেই আমার নানা বিষয় নিয়ে বকাঝকা করে। চুপচাপ হজম করি। আগে আব্বু কিছু বললে রিপ্লাই দিতাম এখন দেই না। আমার এমনি অসাধারন মানুষ। বাইরে সবার সাথে খুব ভালো। কিন্তু ঘরে মন ভালো থাকলে ভালো, না থাকলে খালি প্যাচার পারে। আগে মন খারাপ হতো এখন আর হয় না। ৩১ বছর চাকরী করছে নেভীতে ননকমিশনড অফিসার হিসেবে। পন্চাশে রিটায়ার হইছে। দাড়ী রাখছে তাই চেহারায় পড়ছে বার্ধক্যের ছায়া। সেই শাইনিং জেন্টেলমেন সুলভ ফর্সা চেহারা আর চামরা আর নেই। চুল পাকতেছে অবিরাম তাই যা খুশি বলুক সমস্যা কি? তার কারনেই জীবনে আমার এত প্রাচুর্যতা বিলাসী ভাব। তবে এই বিষয়ে মামার এক থিউরি আছে যে সামরিক বাহিনীতি রিটায়ার্ড তখন তাদের ডিসিপ্লিনের ছন্দপতন হয়। তাই হুদা বেহুদা কথা বলে বকা দেয়। হতে পারে মামার কথা সত্য। তবে আমি খালি একটা কথাই বলি যে এই জামালপুর ভালো লাগে না। চাকরী ভালো পেলে যখন আসবো না তখন বুঝবা পেচালের মর্ম। আমার আম্মু খুব ভালো। যা বকা দেয় শুনতে ভালোই লাগ। রোয়ার দিনে আম্মুর বকা হলো মসজিদে নামায পড় কোরান পড়। নামাযটা যাও পড়ি আর কোনো কথাই শুনি না। আমাদের দুই ভাইয়ের কাছে আমার আম্মু অসাধারন মানুষ। আম্মু জাহেদা শফি কলেজ থেকে বিএ ড্রপাউট। চাকরী পাওয়া সত্তেও করে নাই কারন কর্মস্থল দুরে আর আমার আব্বুর বদলির চাকরী। টাইপ রাইটিং শর্ট হেন্ড ব্লকের কাজ সবই পারে। নব্বইয়ের দিকে শুরু করলো অর্ডারে টেইলারিং. একটা মাত্র মেশিন নিয়েই শুরু হলো আম্মুর যাত্রা। ঢাকা চট্টগ্রাম খুলনা যে কলোনীতেই থাকি না কেনো আম্মুর ব্যাপক প্রচার। হাজারের উপর নানা আপু আন্টিকে সেলাই শিখিয়েছে। আব্বুর এতো পেচাল উপেক্ষা করে সংসার সামলিয়ে আমাদের সব কিছু ঠিকটাক করে আম্মুর এই যে পরিশ্রম তা সত্যি সেলুট করার মতো। উপার্জিত টাকা বেশির ভাগ সংসারে খরচ করছেন টেনশন ছাড়া। বাকী টাকা খরচ করছেন ইচ্ছেমতো। আমার ভাইয়া তখন খুলনা ইউনির স্থাপত্যর ছাত্র। মাসে আব্বুর টাকায় চলে না তখন দেদারসে টাকা দেয় কম। আমার আম্মু যে শ্রমটা আমাদের পেছনে ঢালছে উচিত ছিলো অনেক বড় হবার। আমার ভাইয়া মোটামুটি পারছে কিন্তু আমি গবেট তাই থেকে গেলাম। এছাড়া আমার আম্মুর রান্না শেখা বই পড়া টিভিতে ক্রাইম রিপোর্ট দেখার খুব আগ্রহ। কিন্তু এখধ যখন দেখি আম্মু আব্বু টাইম মেনটেন সাত পাকে বাধা দেখে তখন জি বাংলার উপরে মেজাজ খারাপ হয়। বাড়িতে আসার পর থেকে যে রকমারী খাবার দাবার খাই তাতে চোখে পানি আসে যে মা জিনিসটা কতো দারুন। ঢাকায় চার বছর অফ ছিলো বাড়ীতে এসে আম্মু আবার সেই মেশিনে হাত দিছে। সময় কাটে না তাই নাকি করে। ভাইয়া মানা করে ভাবীও অনুরোধ কথা শোনার লোক না। উপার্জিত টাকা নানুবাড়ীতে দেয় আমাকে দেয় ইচ্ছেমতো খরচা করে। আম্মু আসলেই অসাধারন একজন। আমার চেয়ে ভাগ্যবান লোক কম আছে। প্রথম যেটা লিখছিলাম সেটা অনেক ভালো ছিলো। এইটা ভালো হইলো না কিন্তু জেদ তো পুরন হলো।

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নাঈম's picture


কোপা সামছু.....

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আন্টি রে সেলাম..

মীর's picture


আম্মু আসলেই অসাধারণ একজন। খুব সত্য কথা।

রাসেল আশরাফ's picture


মামা'র থিউরীর সাথে একমত।

আম্মু আসলেই অসাধারন একজন।

খুব সত্য কথা।

সাঈদ's picture


বাহ। দারুন সৌভাগ্যবান আপনি এমন মা পেয়েছেন।

তানবীরা's picture


জেদও পুরন হয়েছে, লেখাও ভালো হয়েছে Big smile

সাবেকা's picture


লেখাটা সত্যি মন ছোঁয়া । মার কথা পড়ে আর কি বলব, মা জিনিষটাই এমন !

জোনাকি's picture


আন্টি অনেক গুনোবতি...তোমাদের ঈদ মোবারক Smile

জেবীন's picture


মামা তো দেখি বিশাল বানী দিয়া ফেল্লো!
অই যে বল্লা, দারুন স্মার্ট বাবা রিটায়ার্ড করে দাড়ি রাখায় বাধক্যের ছোয়াঁ পড়ে গেছে, আসলেই তাই হইছে আমার বাবার ক্ষেত্রে,
আম্মা'রা আলাদাই জিনিস, আল্লাহ বানাইছেন এক জাত!

১০

টুটুল's picture


উমম

১১

জ্যোতি's picture


তুমি গ্রেট।মোবাইলে পোষ্ট দাও,অার অামি কমেন্ট দিতেই পেরেশান।ঈদে বেড়াতে এসো।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!