ইউজার লগইন

উপোষের দিন রাত্রী এই বছরের শেষ কিস্তি!

রোজা ৩০ টাই হলো কপাল ভালো একত্রিশটা হবার কোনো চান্স নাই এইটাই একমাত্র শুকরিয়া। ৩০ বা ২৯ যাই হোক রাখা কোনো ঘটনা না। তবে ২৯টা হলে একটা মনে শান্তি লাগে। একটা রোজা থেকে তো বেচে গেলাম। প্রকৃত মুমিন রা অবশ্য তা নিয়ে ভাবে না কিন্তু আমি সেরকম না। সকালে চা না খেতে পারার আমি প্রতিটা দিন হাড়ে হাড়ে বুঝি। এই কষ্টটা এড়ানোর জন্যই সকালে ঘুমাই একটায় উঠি। তাতে আমার আব্বু নাখোশ। বলে এই জীবনে খালি যারা ওয়াচকিপারের ডিউটি করে তাদেরকেই এরকম দিনে ঘুমাতে দেখছি তুই তো তাও না তাইলে এতো ঘুমাস কেন? উত্তর দেই না মনে মনে বলি আমি হইলাম ফ্রিল্যান্স বুদ্ধিজীবি মানুষ রাতে ঘুমালে চলে? যাই হোক আজ একটায় ঘুম থেকে উঠে খুব মন ভালো হয়ে গেলো।দেখি মামা আসছে বাড়ীতে আইমিন যে মামার সাথে থাকি। মামা বলে উঠলো আসছিলাম জামালপুরে এক কাজে ভাবলাম গৃহ বন্দী ভাগিনাকে দেখে যাই। দুপুরটাই দারুন ভাবে শুরু হলো। যেহেতু মামা আমার তিনদিন পরে আসছে তাই ঢাকায় খোজ খবর নিলাম। সাহারা খাতুনের কথা মেনে মামা ২০০টাকার একটা চায়নিজ তালা কিনে বাসায় লাগিয়ে আসছে। তালা নাকি খুব ভালো। মামা আপসোস করে জানালো একটু টিভিও দেখতে পারি না যখনি ঘরে ঢুকি তখনি স্টার জলসা বা জী বাংলা চলে। নানু থেকে শুরু করে মামীরা সব হা করে দেখতেছে। টিভি দেখতে দেখতে ভাত খাবো সেই আয়েশটুকুও নাই। আমি বললাম আমি তো তাইলে ভালো আছি শুধু সাত পাকে বাধা জন্য সাড়ে নয়টা টিভি আব্বু আম্মুর জন্যে ছাড়তে হয়। এছাড়া কারেন্ট আর ডিস থাকলে আমার হাতেই সব কিছু। এই কথা বারতার ফাকে আব্বু নামায পড়ে আসলো। শালা কে পেয়ে উনার মনে অনেক গপপো করা শুরু করলো। তাদের ফ্লোর দিয়ে আমি গোসল করলাম নামায পড়লাম। তখন দেখি আম্মু তার ছোট ভাইয়ের সাথে বাড়ীর গল্প করতেছে। আমি টিভি দেখা শুরু করলাম। প্রথমে এনটিভিতে সংবাদ দেখে আপডেট হলাম। রিমোট টিপতে টিপতে দেখি জানেমান নামে রিসেন্ট কলকাতার একটা মুভি হয়। কাহিনী হলো তামিল থেকে মে বি মেরে দেয়া। নায়িকাকে ভিলেনরা খুজতেছে জান দিয়ে কিন্তু নায়িকা অপরিচিত নায়কের সাথে গাড়ী নিয়ে পালাচ্ছে। নায়ক এতোই ভ্যাবলা যে প্রথম দেখার পর থেকেই প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে তার পুরা ডিটেইলস তার বন্ধূদেরকে বলতেছে ফোন। সিনেমাটা পুরাই দেখতাম কিন্তু গেন্জাম করলো মামা। বললো চলে যাবে নানুবাড়ীতে। আমি বললাম আমিও যাবো চলো। বের হয়েই পড়লাম বিপদে। লীনাপুর কথা মনে পড়লো যে ময়মনসিংয়ে অনেক গরম। এখন দেখি পাশের জেলায় জামালপূরেও মেলা গরম। কি আর করা বাজার পর্যন্ত হাটতে হাটতে মামা ভাগিনা ঘেমে ভিজে গেছি। মামাকে বললাম রোজা না রাখলে কতো ভালো তুমি এখন সিগারেট খেতে পারতে আমি চা খেতে পারতাম। এই গরম টা এন্জয় করতে পারতাম। অটো মানে চাইনিজ বাইকে উঠলাম। এতো আস্তে যায় কিন্তু গায়ে পুরা বাতাসে ঠান্ডা করে দিলো। সামান্য পথ হেটেও যাওয়া যায়। কিন্তু ভাড়া পাচ টাকার জায়গায় চাইলো দশটাকা। ইদের সিজন তো তাই পাচ টাকা বকশিশ। মেজাজটা বিগড়ে গেলো। মামাকে বললাম ঢাকা আর জামালপুর যেখানেই যাও পকেট কাটা লোকের অভাব নাই। মামা বললো টাকা তো সবার দরকার। কি করবা বলো! স্টেশনে পেপারের দোকানে গেলাম দেখি শামীম ভাই নাই। তাইলে কালের কন্ঠের ইদসংখ্যা পাবো কই? শামীম ভাই এই নির্বান্ধব জামালপুরে এক মাত্র বন্ধু। জিম করা পেশীবহুল ছেলে ওয়ালটন বাইক চালায় তার ভাবসাবই আলাদা। তার চাচা যেহেতু বসা কিনে নিয়ে আসলাম তিনটা পত্রিকা আর আম্মুর জন্য রান্না নিয়ে সাপ্তাহিক আর সাপ্তাহিক ২০০০য়ের ম্যাগাজিন। দাম ত্রিশ করে। সবসময় থাকে দশ বিশ পচিশ এবার ত্রিশ। টাকা দিতে গিয়ে ভাংতি নাই পাচশো টাকার নোট। যেহেতু স্পেশাল কাস্টোমার তাই পেয়ে গেলাম ভিআইপি ভাবে। এরপর মামাকে আগিয়ে দিতে গেলাম। মামা কিনলো ফল। ফলের যে দাম আর দোকানদারের যে ভাব তাতে মেজাজ গেলো খারাপ। দোকান চেন্জ করে আগাতেই দেখি দোকান হাক দিয়ে উঠে ভাই হাত খালি ছিলো না তাই খেয়াল করতে পারি নি। আমি বলে বসলাম নবাবদের দোকানে থাকি না। মামা পাশের দোকান থেকে মাল্টা কিনলো। দাম ঢাকার থেকে বেশী। মামা ঈদে নানু বাড়ীতে যাবার জন্য অনেক বললো। নানু বাড়ী অসাধারন জায়গা। কিন্তু যেতে ভালো লাগে না কারন অনেক আত্মীয়তে ঠাসা অনেক গেন্জাম। আমার একাকিত্ব উদযাপন করতে খুব ভালো লাগে। সাথে ব্লগে যেহেতু টিভি নিয়ে লিখি তাই টিভি দেখা ফরজ। কিন্তু এবার হয়তো হবে না কারন মামার মন একটু বিষন্ন। তার প্রিয়জনের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে এক ঘুষখোর কাষ্টমসে চাকরিরতর সাথে। বিয়ে আগেই হইছে এবার উঠায় দিবে। এই জগতে কত কিছু মেনে নিতে হয় এইটা ভাবতেই মন খারাপ হয়। এখানেই শেষ করি। অনেক কষ্টে মোবাইলে লেখা পোষ্ট্টা নিবেদন করলাম মীর আর বিষন্ন বাউন্ডুলেকে। এই ব্লগের অনেককেই আগে থেকে চিনি। চেনার কারনে আর তাদের লেখাজোকার সাথে পরিচয়ের কারনেই খুব ভালো পাই। কিন্তু এই দুজনের কাউকেই আমি চিনি না কিন্তু তাদের লেখা খুব ভালো লাগে।

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মনজুর আনাম's picture


শেষের ২ লাইন খুব ভালো লাগলো Smile

মীর's picture


নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হইতেসে। লট এন্ড লট অভ থ্যাংকুস ডিউড, উৎসর্গের লাগি THNX

জ্যোতি's picture


ঢাকায় কালের কন্ঠ ঈদসংখ্যা পাইনি। ভাবলাম বাড়ীতে পাব,কিন্ত পেলাম না।জানেমান মুভিটা কেমন?ভালো হলে দেখতাম।টিভি দেইখো,টিভি নিয়ে লেইখো।

একজন মায়াবতী's picture


ঈদ মোবারক। আপনার পোস্ট পড়লে মনেই হয় না যে ঈদে টিভি দেখি নাই Laughing out loud

নাঈম's picture


কোপা সামছু.....

তানবীরা's picture


ঈদ মোবারক।

।টিভি দেইখো,টিভি নিয়ে লেইখো।

জেবীন's picture


বাসায় টিভি নষ্ট, সব কালার বেগুনী!!! কারুর দেখি ঠিক করানোর গরজই নাই!! টিভি দেখা হচ্ছে না ইদানিং। ঈদের অনুষ্ঠান নিয়ে লেখা দিও।

ঈদ মুবারাক Smile

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


শেষটা পড়ে কোথা থেকে জানি বালি এসে পড়ল চোখে.. :')

সব ভালোলাগার জবাব ধন্যবাদে দেয়া যায় না।
খুব খুব ভাল থাকেন, সুপ্রিয় শান্ত ভাই।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!