ঈদ উদযাপন, ঢাকায় ফেরার বিড়ম্বনা ও মৃত্যু সংবাদ!
ভেবেছিলাম ঢাকাতে ফিরেই পোষ্ট দিবো। তা আর হলো না। কারন পরীক্ষা পেছালো আর জামালপুরে ট্রেনের টিকেটের খুব গেন্জাম। ছাত্রলীগের পোলাপাইন তারা আমার মতোই বেকার। টিকেট কালোবাজারী করেই তাদের দিন চলে। তাই তাদের এই কর্মসংস্থানে কেউ বাধা দেয় না। জামালপুরে একটা লোকাল পত্রিকা অফিসে গতবার গেছিলাম। আমার বাড়ী থেকে বেশি দুরে না। অফিসটায় সাইজ ঢাকার একটা মাঝারী ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সমান। ভদ্রলোক তিনজন বাংলা সিনেমা দেখছিলো ভিডিও চ্যানেলে। আমি তাদের তিনটাকা দিয়ে পত্রিকা কিনলাম। জিগেষ করলাম ট্রেনের টিকেট সব ব্ল্যাকে চলে যায় এইটা নিয়ে আপনারা সোচ্চার না কেনো। উল্টা আপনাদের পত্রিকা জুড়ে দেখি খালি সব জাতীয় খবরে ঠাসা। তিনি হেসে বললেন বাবাজী দেশের টাকা তো দেশেই থাকলে ভালো। যেভাবে কামাচ্ছে কামাক।রেব পুলিশ তো ঐখানেই থাকে। তারাই কিছু বলে না আর আমরা বলে কি হবে! আর টিকেট ব্লাকে থাকলে খারাপ না ইমার্জেন্সীতে পাওয়া যায়। ট্রেনের শোভন চেয়ারে ভাড়া ৯০ টাকা আর বাস ভাড়া আড়াইশো তিনশোটাকা তাও যে ধরনের বাস তাতে এইসব হবেই। আমি তার অকাট্য যুক্তি মেনে নিয়ে স্টেশনে গেলাম। আমার যে একমাত্র বন্ধু আছে তাকে বললেই সে ৫০ টাকা বেশী দিয়ে কেটে দিবে। ১৫৫ টাকার প্রথম শ্রেনী ২০০ টাকায়। তা আর করি নাই। আব্বুই যায় সবসময় উনি কাটুক। আব্বু ফজরের নামাযের পরেই সাইকেল দিয়ে রওনা হয়। এবার যেয়ে দেখে বিশাল লাইন। জামালপুরে একটা জিনিস ভালো যে লাইনের ডিসিপ্লিন আর ব্লেকারদের তত্পরতা।ছয়টা থেকে লাইন ধরে টিকেট আব্বু পেলো সাড়ে দশটায়। মাঝে মাঝে ভাবি আমি এই কাজটা করি আবার বলি নিয়মের বাইরে যেয়ে লাভ কি। গত আড়াই বছরে ডজন খানেক বার বাড়ীতে আসছি এর ভিতরে শুধু একবার ভাইয়া ভাবী ভাতিজি নিয়ে যখনি আসছিলাম তখনি শুধু মেডিনোভার ডাক্তারদের জন্য যে এলিয়ন ইউস করে সেটাতে করে। সেবার শীতের সময় এলিয়নে চড়ার ভাবই অন্যরকম। আমার ভাবীর নিকটাত্মীয় আবার মেডিনোভার মালিকদের একজন। তাই ভাইয়া দুরে কোথাও গেলে এই গাড়ীটাই একটা চমত্কার বাহন। যাই হোক টিকেট যখন আব্বুই কাটে কাটুক। আমি ছোটোমানুষ ছোটোই থাকি। টিকেট অনেক কষ্টে মিললো উনত্রিশ তারিখ ভোর তিনটা বিশে যমুনায়। আশা করি মোবাইল নিয়ে ভালো মতো ঢাকা ফিরতে পারবো। আব্বু অন্তত্য আন্তরিকতার সাথে আমাকে ট্রেনে তুলে দিয়ে বাসায় ফিরবে। জামালপুরে প্রথম শ্রেনী বলতে যা তা শোভন চেয়ারের মতোই। সব বগিতেই স্ট্যান্ডিং টিকেটে লোক দাড়ানো প্রচন্ড ভীড়। এই ভীড়ের মধ্যেই আমার গতবার সিম্ফোনী সেট টা হারালাম। কী যে মন খারাপ হইছে। যাই হোক ঠিকঠাক থাকলে সকালেই পৌছাবো। বাসায় না ঢুকেই আগে চায়ের দোকানে একটা হুলস্থুল আড্ডা দিয়ে দুপুরে বাসায় যাবো। এবার ঈদ প্রসংগে আসি ভালোই কাটালাম লম্বা ছুটি। বড়বেলার ঈদগুলো যায় একা একাই। তবে দেড় বছর পরে এবার নানু বাড়ীতে যাই। নানু বাড়ীর সবাই তাদের বড় মেয়ের ছেলেকে অনেক খাতির যত্ন করে। মামার সাথে বাড়ীর চায়ের দোকানে আড্ডা মারতেও আনন্দ। নানু মারা গেছে ১১ বছর আগে। তিনি বেচে থাকলে তার সাথে চা খাওয়াটা বড় উপভোগের হতো। সকালে ঘুম থেকে উঠে নদী পার দিয়ে হেটে চা খাওয়ার যে আনন্দ তা এই জীবনে ভুলার না। আম্মু আব্বুর থাকার প্লান ছিলোনা তাই দুই দিন থেকেই এসে পড়েছি। আর জামা কাপড় আনি নাই থাকা যেত তা না হলে। এমনিতে আমার দাদু বাড়ীতে ঈদ মানেই সকালে নামায পড়া এতোটূকুই। এর ভেতরে আম্মুর হাতে রান্না আর টিভি দেখা এতোটুকুই আনন্দ। এবার তুমুল বিষ্টিতে আমি খুশী কারন সবার ঈদই আমার মতো ঘরে বসেই। টিভি দেখা রিমোট চালনা এই নিয়ে আব্বু কথা শোনায়। রাগ করি কিছু সময় পর আবার দেখি। ফোনটোন আগের মতো কাউকেই করিনা অপেরা মিনিতেই বসে থাকি। দিনগুলো ভালোই যাচ্ছিলো তার ভিতরে গতকাল আসলো এক মরন সংবাদ। মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটির বিখ্যাত বেকারী পন্য ভ্যানে সাপ্লাই দেয় নাসির নামে যে লোক তিনি মারা গেছে। ঈদের আগ থেকে অসুস্থ ইবনেসিনায় ভর্তি ক্যান্সারে নাকি মারা গেলো। লোকটার বাড়ী চাদপুর। করমালীর চায়ের দোকানেই পরিচয়। আমাকে অত্যন্ত ভালো পায়। দেখলেই জিগেষ করবে মামা কেমন আছেন? আপনার মতো লোক কম দেখছি যে বিশ মিনিট হেটে এত ঘাইমা চায়ের দোকান আসে! তার অনেক আগে তার মোবাইল সেট ঠিক করে দিয়েছিলাম এই কারনে ২০০৯ সালে অনেকগুলা ভোর বেলা উনি দোকানে রুটি কেক দিতে আসতেন তখনি আমাকে ফোন দিতেন বলতেন মামা তাড়াতাড়ি আসেন দোকান খুলছে একটা চা খায়া যান। মানুষটার জন্য মনটা অত্যন্ত খারাপ। জগতটাই একটা মায়া। কত মায়া ভালো লাগাতে আটকে থাকে মন। এই পোষ্ট মোবাইলে লেখা অনেক কষ্টে। সামনের পোষ্ট পিসি থেকে লিখবো ঈদে টিভি প্রোগ্রাম নিয়ে। সবাই ভালো থাকুন।





আপনার এই সরল সুন্দর পোস্ট গুলো আমার খুউউব পছন্দ ...
কেমন আছেন?
পড়লাম।
হুম, আমিতো রীতিমত ওয়েট করছি
এইবার পুরা ৬ দিন থাইকা আসছি আমার প্রানের শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, নানুবাসায়।
ওখানেই বোধহয় প্রথম ট্রেন টিকেট কালোবাজারির প্রচলন হয়েছিল।
আগে ঈদের টাইমে ১৫০ দিলেই পাওয়া যেত,
এখন ৬৫ টাকার টিকেট ৩০০ দিলেও পাওয়া যায় না!
আজকাল খুব মানুষই এমন মায়ার বাঁধনে আটকায়। তোমার লেখাগুলো পড়ে ভালো লাগে খুব। পারলে এমনই থেকো যত বড়ই হও।
আমি এবার ঈদের পুরো ছুটিটা শুধু ঘুমিয়ে, খেয়ে আর টিভি দেখে কাটালাম ঘরে বন্দী থেকে।৮দিনে একবার বারান্দা থেকে উঠোনেও নামিনি।
অনেকবার ভেবেছি তোমার মত মোবাইল থেকে একটা পোষ্ট দেই। পারি না। কমেন্ট করতেই আঙ্গুল ব্যথা হয়ে যায়।
পরের পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম।
ঈদের টিভি প্রোগ্রাম নিয়ে পোস্টের অপেক্ষায় আছি।
আমি একটা টেলিফিল্ম দেখসি মন ফড়িং এর গল্প। ভালোই।
আর একদিন কি জানি কি দেখলামরে ভাই। জাহিদ হাসানের নায়িকা বিন্দু!!! তারা আবার হোয়াই দিস কলাভেরী গানের সাথে নাচল। তাদের নাচ দেইখা টিভি অফ করে আমি
পিসি-পোষ্ট আসুক তাড়াতাড়ি..
~
পোষ্ট ভাল পাইলাম
ঈদের টিভি প্রোগ্রাম নিয়ে পোস্টের অপেক্ষায় আছি।
মোবাইল দিয়েই এত্ত কিছু লিখে ফেলসেন? কষ্টের জন্য ধন্যবাদ! ঈদ প্রোগ্রাম কেমন লাগলো জানার অপেক্ষার রইলাম!
মন্তব্য করুন