এই মফস্বলে দিনকাল।
ঘুম আসছে না যদিও ঘুমানো জরুরী। কারন কাল সকালেই ট্রেনে করে রাজধানী বরাবর রওনা দিবো এরকমই কথা আছে। টানা দশ বারোদিন যাবত আমার দেরীতে ঘুমানোর অভ্যাস। রাতে শুয়ে শুয়ে নেটে বসে থাকি। লোকজনের ফেসবুক চর্চা দেখি। রেডিও ফুর্তিতে গান শুনি বিসিএসের পড়ায় চোখ বুলাই এইতো। রাতে টকশো দেখা হয় না মোটেও কারন আব্বু আম্মুর রুমে টিভি। খামাখা বিরক্ত করতে ভালো লাগেনা। তাই এবারের ঈদে লাইভ গানের কোনো প্রোগ্রাম দেখি নাই। আর লাইভ প্রোগ্রাম দেখেও বিনোদন নাই। শিল্পী তার মতো গান গেয়ে যাবে আর দর্শক ফোন করে বলবে ভাইয়া আমি ভুরুংগামারীর অমুক আজ আপনাকে খুব সুন্দর লাগতেছে। আপনার পছন্দ মতো একটা গান গায়েন। এখন প্রশ্ন হলো সবাই ভালো পোষাক পড়ে কড়া মেকাপ নিয়েই টিভিতে গান গায়। সেখানে সুন্দর লাগবেই তা গাটের পয়সা খরচ করে ফোন দেয়ার দরকারটা কি? আর শিল্পীদের নিজের সব গানই প্রিয় যা গায়। বেশীর ভাগ লাইভ শোর উপস্থাপক বেকুব সুন্দরী তরুনী। এদের না আছে মিউজিক সেন্স না আছে কমনসেন্স! কারে কি উপমা দিতে হবে কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হবে সেই আদবের বড় অভাব। বিশেষ করে প্রবাসী কেউ ফোন করলে তাদের আদব সংকট তীব্র হয়। বিদেশে থাকলে কত বিপদ। দেশে রেমিটেন্স পাঠায়া এইসব থার্ড ক্লাস শো তেই বিনোদন খুজতে হয়। আমার অতো ঠেকা পড়ে নাই। একমাত্র সায়ান আর্টসেল ওয়ারফেইজ আসলেই আমি লাইভ অনুষ্ঠান দেখার চিন্তা করি। তাও মাই টিভিতে সায়ান আসছিলো মিস করছি কি আর করা! টিভি নিয়ে ভেবেছিলাম লিখবো একটা পোষ্ট কিন্তু ইচ্ছে করে না আর। দেখি ঢাকায় গিয়ে লেখা যায় কিনা! তবে ঈদ অনেক দিন হয়ে গেলো এখন সেই সময়ের কথা লেখাও একটা ঝামেলা। আর আমি নোট করিনা কিছু স্রেফ নিজের মুখস্থ বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে মেমোরী থেকে লিখি। তা লেখা সম্ভব কিনা তা নিয়ে ভাবনায় আছি। এখন পুরান কথাগুলাই বলি মানে বাড়ীতে থাকা সেই পুরান কথাগুলোই। আসলে সেই আগের অবস্থাতেই বাড়ীর দিনগুলো কাটলো। মা বাবার সাথে থাকা। টিভি দেখা সাথে আম্মুর হাতের অসাধারন রান্না খাওয়া। সকাল বিকাল রাত ভালো মন্দ খেতে খেতে বলা যায় টায়ার্ড। দেখা যায় আব্বু খায় সব্জি মাছ আমি খাই মাশকালাইয়ের ডাল. গরুর মাংস, মাছ ভাজা, বেগুন ভাজি। ঢাকায় যা পাই তাই খেতে হয় আর এখানে আমার জন্য কত চয়েজ। সকালে দশটায় ঘুম থেকে উঠে চোখ কচলাতে কচলাতে ফ্রেশ হবার পরেই দেখি চার চারটা পরোটা আর গরু ভুনা সাথে টিভির রিমোট। নিজেকে পুরা হীরক রাজার দেশের রাজ অতিথি মনে হয়। অথচ ঢাকায় অসংখ্য সকালে না খেয়েই আমার কাটে। তবে আম্মুর নিষেধের কারনে দু তিন কাপ চা খেয়েই দিন পার করতে হয় তাও আবার রং চা নিজের বানানো। কড়া লিকারের রং চা। আমার চা বানানোর জন্য ঘরে হিটার আছে সিলিন্ডার আছে ডায়নিংয়ে। এই স্বর্গ রাজ্য পাওয়াই অসম্ভব। এবারের বাড়ীতে তাও আবার কাজিনের বিয়ে। ব্যাপক হইচই। আমার চাচতো বোন ডিগ্রী ফাইনাল ইয়ারে পড়ে। তার জামাই চুয়াডাংগা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরে কর্মরত। জামাই আমার ব্যাচের। ময়মনসিংয়ের ত্রিশালে বাড়ী। এই নিয়ে আব্বুর ব্যাপক ব্যাস্ততা। চাচা দুবাই থাকার কারনে বলা যায় আব্বু নিজের বড় ছেলের বিয়েতেও এতো কিছু করে নাই। বিয়ে ভালোয় ভালোয় পার হইছে। গ্রামের মানুষ জটিলতায় হিলারীরেকেও হার মানাবে। ঈদের দ্বিতীয় দিনে মামা আসছিলো। মামাকে নিয়ে ঘুরলাম জেলা শহরের রাস্তায় রাস্তায়। সেই জোত্স্না রাত টা দারুন গেছে। মামার সাথেই তো থাকি তাও মামাকে পেয়ে যা উচ্ছাস আমার তা বলার মতো না। এরপরের দিন ছিলো বিয়ে খালি মানুষ আর মানুষ। এতো এতো মানুষ ভালো লাগে না। আর পত্রিকা কিনতে বিকেলে জামালপুর যাই। পত্রিকা পাই না। এতো মানুষ রেল স্টেশনে যে পত্রিকাও সব শেষ হয়ে যায় দুপুরেই। আমার যে বন্ধু পত্রিকা বেচে তার সাথে কথা বলতে ভালো লাগে। কিন্তু সমবয়সী মফস্বলের ছেলে তো কথা বারতায় খালি ধান্দা ফিকিরের গল্প। তবুও এই নির্বান্ধব সময়ে তারেই খুব ভালো লাগে। যখন দেখি তার বাপ বসা দোকানে দ্রুত সরে যাই। মফস্বলে চায়ের দোকানে চা খেতে ভালো লাগে না। চায়ে এতো চিনি দুধ বমি আসে। তবে তাদের গরম পানিতে গামলায় চায়ের কাপ ধোয়ার সিনটা অসাধারন! জামালপুরে এতো কিছু থাকার পরেও ইবনে বতুতার মতোই আমার এইখানকে ধনসম্পদ পুর্ন জাহান্নামই মনে হয়। ভাগ্যিস ফেসবুক, টিভি, এন্ড্রয়েড, নেট, বই, আম্মু আব্বুর সাথে আড্ডা আছে। নয়তো বন্ধু, চায়ের দোকান, ক্লাস আড্ডা এই সব ছাড়া অর্থহীন লাগে দিনযাপন। ঢাকায় বন্ধু আছে এই ভরসাতেই আমার সেই আস্তানাই ভালো লাগে। ঢাকায় একা থাকাও সুখের নিজের মতো উপভোগ করা যায়। আর চিটাগাং থাকতে পারলে তাতো বেহেশত! এই পোষ্টটা নোকিয়া সি টু ডাবল জিরো দিয়ে লেখা। দাড়ি কমা বাক্যে ভুল বানান ভুল নিজ গুনে ক্ষমা করবেন।





ভালো লাগলো লেখাটি।
ধন্যবাদ আপু। ভালো থাকবেন!
বন্ধু ছাড়া জীবন অচল। ভালো লাগল।+++
থ্যাঙ্কস রিয়েল লাইফ ফ্রেন্ড। এতো কষ্ট করে ঘুরে যাও এখানে শুধু আমার এই সব আজাইরা পোষ্ট পড়ার জন্য। শুভকামনা থাকলো!
তারাতারি ঢাকায় আসো
আজ দুপুরেই ঠিকঠাক মতো এসে পড়লাম আপনাদের শহরে!
অসাধারণ সত্য ভাষন
থ্যাঙ্কু আপু। এই সব ভাষন দেয়ার সাহস পাই আপনারা পড়েন বলেই!
এই কুটনীতির প্রধান কারন ডিশ এন্টেনা আর জমি জমার দাম বৃদ্ধি!
লেখনি অনেকটা হুমায়ুনের মত
এইটা অনেকটা অনিচ্ছাকৃত ভাবেই এসে যায়। কি আর করা~!
অনেক ছোট খাটো সাধারণ কথা অনেক সাবলীল ভাবে লেখাটায় আসছে, এখানেই লেখাটা জমে উঠছে..অন্তত আমার জন্য তাই....
লাইভ পোগ্রাম গুলাতে আর আগের মতো মন বসে না, মনে হয় মানের দিক থেকে কিছুটা মার খেয়ে যাচ্ছে পোগ্রামগুলো, যদিও ভাঁড়ামির গ্রাফটা সদা ঊর্দ্ধমুখী।
নোকিয়া সি ডাবল টুতে ও লেখাটা মোটামুটি নির্ভুল অবস্থাতেই ভুমিষ্ঠ হইলো...
কাজেই লেখা চলুক...সেটা যেখানেই হোক না কেন...কম্পিউটার কিংবা মোবাইল 
ধন্যবাদ ভাইয়া। কষ্ট করে এসে পড়ে যান আবার এতো বড় কমেন্ট এতো ভালো ভালো কথা বলে যান স্রেফ স্নেহ করেন বলেই।
লাইফ শোতে শিল্পীরাও একিই গান একি ভাবে গেয়ে যায় বারবার। একি গানই যদি শুনতে হয় তবে পিসিতে শুনাই ভালো বিরক্তিকর আতলামীময় টিভিটা দেখতে হয় না। এখন বালের ডিসের লাইন কেটে দিতে বলছি তাই টিভি হীন জীবন যাপন শুরু হলো। তাই টিভি নিয়ে লেখায় একটু থমকে গেলো।
ভালো থাকেন ভাইয়া। শুভকামনা অনেক অনেক!
আপনার লেখাটি সুন্দর লেগেছে ভাইয়া

------------------
আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন!
মফস্বলের দিনকাল নিয়ে আমারো এইরাম একটা লেখা লিখতে মুঞ্চায়।
আপনি এর চেয়ে ঢের ভাল লিখেন। খালি এখন লিখতেছেন না। বিজি কমলে শিগ্রী পোষ্ট দেন!
বস্ আপনে এই যে ভালোলাগা থেকে কথাগুলো বলেন, এগুলোকে আমি খুব ফীল করি জানেন? আপনে এর আগেও আমার একটা পোস্টে গিয়ে এভাবে বলেছেন।
আপনি জানেন না, আপনের কথাগুলো শোনার পর থেকে আমি আসলেই একটা লেখা রেডি করার চেষ্টা করতেসি। হয়ে উঠতেসে না যদিও। তাও চেষ্টা করেই যাচ্ছি।
আমি ঠিক নিশ্চিত নই, কিন্তু মে বী একটা কথা ঠিক; এই যে ট্রাইটা চালাচ্ছি, সেটা মূলত আপনের কথাগুলোর কারণেই করা হচ্ছে। এটা একটা বেশ আজব (!) ব্যপার কি বলেন?
একটা পোষ্ট লিখে শেষ করলাম। প্রকাশ করুন দিলাম বলতেছে এক্সেস ডিনাইড আপনি লগ ইন নাই। কি যে একটা কষ্ট। মেজাজ পুরা উরাধুরা খারাপ। দেড় ঘন্টার ফসল এক ক্লিকেই শেষ। তবে আপনার এই কমেন্টটা কেবল দেখলাম। মেজাজ খারাপ তাও মন ভালো হয়ে গেলো। যাদের ভালো লাগে তাদের মুখে এমন কথা শুনলেও ভালো লাগে। দেখি কালকেও চেষ্টা করবো পোষ্টটা আবার লেখার দেখা যাক কী হয়।
আপনি চেষ্টা করেন লিখে ফেলান শুধু আমি না অনেকেই আপনার লেখা ভালো পায়!
আমিও আছি লাইনে!
ভেরী গুড!
হুম বুঝলাম!!!!!
থ্যাঙ্কস!
মন্তব্য করুন