আমি যদি ভীড় হয়ে যাই!
মন মেজাজ বলা যায় যথেষ্ট আমোদে ছিলো। কাল শেষ হলো বিসিএস রিটেন। ভালোই দিলাম মানে পার করলাম আর কি। সেমিস্টার ফাইনালও চলে গেলো। মনে করছিলাম যে সময়গুলো যাবে আগের মতো হেসে খেলেই অবসরে চায়ের দোকানে আড্ডায় সময় যাবে দারুন। কিন্তু মানুষ যা ভাবে তা আর কি হয় ইহাই সবচেয়ে বড় ফেইলোর। এমনিতেই সকালে একা একা চায়ের দোকানে বোর হচ্ছিলাম। তারভেতরে দুপুরে বাসায় ফিরে দেখি ফেসবুকে কি কান্ড। এক বন্ধু আমারে জব ক্যারিয়ার নিয়ে হেদায়েতের বানী দেয় মেসেজে। আমি শুধু জানতে চাইছিলাম লোক নিলে জানাইস। সে আমার জব সংক্রান্ত হেদায়েত দেয় সাথে আমার এটিচিউড টাইম ওয়েস্ট নিয়া নসিহত দেয়। মেজাজটা হান্ড্রেডের উপরে খারাপ হইলো। জানতে চাইছি সামান্য কথা সে দেখি দেয় হাদীসের বানী। আরে শালা হাদীস মানলে তো তোদের আগে চাকরী পাইতাম। ফাজায়েলে আমল পড়ে আমল করে বেহেশতের খোয়াব তো সবাই দেখে। সেইটা বয়ান দেয়ার ঠেকা কেন তোদের এতো? আর আমি তো তোর কাছে চাকরী চাই নাই খালি সারকুলার হলে জানাতে বলছি। ছয়মাস হইছে চাকরী করে তাতেই পোলাপানের ফাপর দেখলে মনে হয় বিল গেটস হইছে। যাই হোক এই ধাক্কা সামলিয়ে যখন ভাত খেয়ে বসলাম তখন দেখি এহতেশাম ফোন দেয় বলতেছে সাবের কে নিয়ে আমি যে স্ট্যাটাস দিছি তাতে আমার বন্ধু কমেন্ট সাথে গালিগালাজ করছে। মেজাজটা হইলো খারাপ ফেসবুকে গিয়ে দেখলাম কাহিনী। আমার বন্ধুরে নিয়ে আমি স্ট্যাটাস দিবো তাই তো নরমাল। সে এখন জামাত শিবির করে নাকি ছাত্রলীগ ছাত্রদল করে তার দায়ভার আমি কেনো নিবো? বেসিকেলি সে এখন কিছুই করেনা ভালা একটা চাকরী করে সামনে বিদেশ যাবে। আমার কাছে বন্ধুর পরিচয়ের উপরে কিছু নাই আর কখনো ছিলো না। এইটা জানতে তাকে আমি নক করলাম। তিনি আমাকে ব্লক করলেন। মেজাজটা হইলো জঘন্য খারাপ। এতো সহযে বন্ধুত্ব হারাইলাম এইটা কোনো কথা হইলো। মেজাজটা খারাপ হইলো ফেসবুকের উপরে যে এখানে ফ্রেন্ডশীপ এত ঠুনকো। জীবনের প্রথম একাউন্ট ডিএক্টিভেট করলাম জানি না কবে খুলবো। ফ্রীল্যান্স বুদ্ধিজীবির ছুটি অন্তত সামনের তিন চার সপ্তাহে খুলতেছি না এতোটুকু শিউর। আমি চব্বিশঘন্টা ফেসবুকে থাকার লোক মোবাইলে বা পিসিতে। গরম গরম সবার স্ট্যাটাস পড়তে মতামত জানার এই আগ্রহটা দিনকে দিনকে খালি বাড়ছিলো এখন সব বন্ধ। একা একা বসে থাকলেই হাতে মোবাইল নিয়ে মেতে থাকতাম ফেসবুকে এমনকি বিসিএস রিটেনের ১ ঘন্টা বিরতিতে বা সেমিস্টার ফাইনালের ফাকেও। যদিও কষ্ট হবে তা হলেও কিচ্ছু করার নাই। এই সময়টা বই পড়বো না পড়া বই গুলো, চায়ের দোকানে থাকবো, বিদিততে যাবো প্রায় দিন নয় বসে থাকবো সারাদিন পাবলিক লাইব্রেরীতে পড়ার মধ্যেই থাকবো আর এই ব্লগ তো আছেই। জাহান্নামে যাক এক্টিভিজম লাইক পোস্ট শেয়ার চ্যাট ইত্যকার নানান জিনিস।
শিরোনামটা একটা কলকাতার এক গান থেকে নেয়া। কথাঃ ঋতুপর্ন ঘোষ সুর সংগীত পরিচালকঃ নীল দত্ত(অঞ্জনদত্তের ছেলে) গাইছে ইষিকা চক্রবর্তী ছবির নাম মাছ মিস্টি এন্ড মোর! গানটা অজস্রবার এই ৮-৯ দিন যাবত শুনছি। একটা বিষাদ ভর করে মাথায়। খুব ভালো লাগে গানটা অনেক ভালো। কথাগুলা মাস্টারপিস। কলকাতার উচ্চারনরীতি থারড ক্লাস এখন তাই লিরিক্সে একটু ভুল হতে পারে আর মেজাজ খারাপের লেখা ভুল না হয়ে যাবে কোথায়!~
এদেশও প্রবাস হয়ে যায় আনমনে
ঘর কেনো ঠিকানা হারায় কে বা জানে
উঠানামার সিড়িগুলো সব
নিজে নিজে এলোমেলো দিক পালটায় অকারনে
অবিষাদ বারবার
হাতে হাত রাখো
ভয় নেই হারাবার
যদি পাশে থাকো
আমি যদি ভীড় হয়ে যাই
আমি যদি ভীড় হয়ে যাইই
সন্ধ্যে সকাল হতে চায় ভালোবেসে
সময়টা ঠিক পালটায় অনিমেষে
হাতে বাধা ঘড়িগুলো সব
কেনো জেনো বেখেয়ালে এক হয়ে যায় কাছে এসে
অবিষাদ বারবার
হাতে হাত রাখো
ভয় নেই হারাবার
যদি পাশে থাকো
আমি যদি ভীড় হয়ে যাই
আমি যদি ভীড় হয়ে যাইই
পৃথিবী প্রবাস হতে চায় অবহেলায়
সব মন ঠিকানা হারায় ধুলো খেলায়
চেপে রাখ দম গুলো সব
একে একে ফুস ফুস থেকে ছাড়া পায় প্রানখোলায়
অবিষাদ বারবার
হাতে হাত রাখো
ভয় নেই হারাবার
যদি পাশে থাকো
আমি যদি ভীড় হয়ে যাই
আমি যদি ভীড় হয়ে যাইই





মাঝে মাঝে ফেসবুক বন্ধ রাখা আসলেই খুব ভাল!
ব্যাস্ত জীবনের ফাঁকেও নতুন করে পুরান গল্পের বই পড়া, মুভি দেখা বা প্রিয় সব গান শোনার অবসর সময় অনেকটা বেড়ে যায়। সিদ্ধান্তে সাধুবাদ!
ফেসবুকের আবির্ভাবের পর থেকেই এইসব অনাকাঙ্খিত ঝামেলাগুলো আমার আসলে ভালই লাগে, অনেক চেনা মানুষের চেনা মুখোশ গুলোর ভেতরের অচেনা মুখটার সাথে চেনা জানা হয়ে যায়। খারাপ কি!
বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে কোয়ানটিটির চাইতে কোয়ালিটির মূল্য সবসময়ই অনেক বেশি।
আর আমার মতে কেউ যদি আপনার লাইফে এসে আপনাকে চেনাজানার পরেও চলে যেতে পারে, তাহলে মন মেজাজ খারাপ করার কিছুই নাই। সে আপনার লাইফে থাকাটাই ডিসার্ভ করে না।
অনেক ভাল লাগা একটা গান শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ। প্রিয় মানুষজনের সাথে নিজের পছন্দের কিছু মিলে গেলে অনেক ভাল লাগে।
ভাল থাকেন। অনেক ভাল। সবসময়।
আসলে গত দুই বছর যাবত ফেসবুক এতো কপচাইছি আর মোবাইলে বাংলা লেখার সুবিধায় সমানে চালাইছি তাতে ফেসবুক থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া একটূ কঠিন। চিন্তা করতেছি জানুয়ারী এর মধ্যের দিকে আমার যাবো তার আগে মোটেও না। বই আসলে তুমার মতো জমিয়ে পড়া হয় না। পাব্লিক লাইব্রেরী বা বিদিততে যেয়ে পড়া শুরু করি যেকোনো কিছু সন্ধ্যায় তা শেষ করে বাসায় ফিরি। নিজের যা বই আছে তা বন্ধু বান্ধবদের দিতেই ভালোবাসি আর সিনেমা তো দেখা হয় খুবই কম। টিভি কারড আছে ডিসের লাইন নাই গত আড়াই মাস যাবত তাই বলা যায় দিনকাল চায়ের দোকানে আড্ডা বাজি কোথাও গিয়ে খানাদানা আর বাসায় বসে নেটে গুতাগুতি করা ছাড়া আর কিছু নাই করার।
গান টা দারুণ...
~
থ্যাঙ্কু ভাইয়া আমার খুব পছন্দ হইছে কথাগুলান!
রাত্রে যদি সূর্যশোকে ঝরে অশ্রুধারা
সূর্য নাহি ফেরে শুধু ব্যর্থ হয় তারা
আমি সুরুজ সাহেবের মতো ওতো মহান না তাই মেজাজ এখনও খারাপ। ফেসবুক আমার সাম্প্রতিক দিন যাপনের সব চাইতে কাছের জিনিস। সেটা ছাড়া সময় পার করতেছি দেখি কদিন চলে!
আমার এমন বন্ধু হইলে ডায়রেক্ট গিয়া কানের নীচে দিতাম :-)তয় গানটা কইলাম চখাম

চখাম শব্দটা দেইখা বড় ভালো পাইলাম!
ফেইসবুক থেকে দুরে থাকা খুব সহজ। আমি তো ইদানিং মুখে আসলেও অনেক কমেন্ট করি না শুধু তর্ক করতে হবে বলে। করলেই সময় নষ্ট। মাঝে মাঝে বিরতী নেয়া ভাল, আর ফেইসবুককে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নেয়া ভাল। এই জিনিস গত ৪বছর ধরে প্রচুর সময় নষ্ঠ করেছে। আমি নিশ্চিত ল্যাপটপ আর নেট কানেকশন না থাকলে গত ছয় বছরে আমি খুব ভাল ভাল কিছু গল্প উপন্যাস অবশ্যই লিখতে পারতাম। এগুলো ব্যবহারের আগে আমার অবসরে আমি শুধু বই পড়তাম আর লিখতাম। এখন আমার কোন অবসরই নেই, নেট আমার সব অবসর খেয়ে ফেলে, পড়া আর লেখা গোল্লায় গেছে।
তুমুল সত্য কথা বলছেন ভাইয়া। এই নেটের কারনে এখন কিছুই করা হয় না সব কো কারিকুলাম খেয়ে ফেলছে ফেসবুক। তবে আমার ফেসবুক গত দু বছরে খুব আপন হয়ে উঠছে। লোকজনের স্ট্যাটাস না পড়লে আর নিজের স্ট্যাটাস না দিতে পারলে কেমন জানি খালি খালি লাগে। ইহা একটা ডিজিটাল বেড়াম!
ফেসবুক লাইফটা ধ্বংস করে দিল , এই সময়টা অন্য কিছুতে দিলে খুব বড় কোন প্রজেক্ট দাঁড়িয়ে যেত। সেদিন নোটিফিকেশন পেলাম যে আপনি ডি-অ্যাক্টিভেট করেছেন , কারণটা জানলাম।
ফেসবুক আসলেই অকাইম্মা জিনিস। কিন্তু কেনো জানি এই সব জিনিসই আমাদের সবার ভালো লাগে। একটা দোকানে কলকাতার সিনেমা দেখতেছে বললাম বাংলা চ্যানেল দেন দেখাগেলো বেশীর ভাগ চ্যানেলেই খবর আর নয়তো খবরের বা অনুষ্ঠানের বিরতি। এতো লোক কি সংবাদ জানতে ভালোবাসে তাহলে। রাত বাড়ার সাথে সাথে টকশো হবে। দেড় ডজন টকশো এতো অতিথী সামান্য দু তিনটা সাব্জেক্ট নিয়েই গ্যানর গ্যানর এইটাও কি জাতির ভালো লাগা কিনা জানি না। টনি গ্রেগ মারা গেলো মনটা উদাস!
ভালো থাকবেন ভাইয়া। পারলে ব্লগে কিছু লেইখেন!
সামাজিক যোগাযোগ হিসেবে ফেসবুক যতটা কাজের তার চেয়ে বেশি আকামের। প্রচুর সময় নষ্ট হয়। কিছুদিন রেগুলার ছিলাম, এখন ফেসবুক থেকে দূরে আছি। এখন আমার বেশীর ভাগ সময় অফিস আর আমার মেয়ে নিয়ে নিয়েছে।
তাহলে তো দারুন আছেন ভাইয়া।
ফেসবুক মানুষ চেনার একটা অব্যার্থ তরিকা
তবে রিয়েল লাইফই ভালো মোহ কম থাকে!
আমি তাহলে যা ধারনা করছিলাম তাই , অভিমান থেকেই ডিএক্টিভেশন!! .।যাই হোক, শুধু বলি যে বেশী পাকনা মানুষজনের কথায় নিজের সুখ বিসর্জন দিয়েন না।
মন্তব্য করুন