ইউজার লগইন

কত কি করার আছে বাকী...

সেই অনিবার্য অলসতাতেই দিন কাটছে। সেই কাপে কাপে চা খাওয়া, বিষন্ন মুখের আড্ডা, নানান কথা বারতা শুনেই আর কিছু বলতে বলতেই দিন যাচ্ছে সময় কাটছে। তার ভেতরে ফেসবুকে নাই সাথে এমবিএ ক্লাস নাই অন্তহীন অবসরে ক্লান্ত হই বারবার। সকালে ঘুম থেকে উঠে আর সেই আগের মতো পিসিতে বসার ব্যাস্ততা নাই তবুও উঠে যাই ভোরেই। রেডিওতে গান শুনি সাড়ে ছটায় বিবিসি বাংলার প্রত্যুষা শুনা হয় নিয়মিত হাত মুখ ধুয়ে আবার শুয়ে থাকি এবার শুনি প্রভাতী। প্রভাতী শুনা শেষ হলে এফ এম রেডিও গুলা সকাল সকাল কি গান শুনায় তা নিয়ে আগ্রহ চাপে খানিক সময় শুনেই বিরক্ত লাগে। তখন যে জামা পড়ে শুয়ে ছিলাম তা পড়েই চায়ের দোকান বরাবর রওনা দেই পথে নিউএজ কিনে নেই। চায়ের দোকানে বসেই দুধ চিনি কম চা খেতে খেতে বড় খবর সব গিলে ফেলি। পত্রিকা পকেটে ভাজ করে রাখি আস্তে আস্তে লোকজন আসে আড্ডা জমে কথা বাড়ে। কিন্তু নাস্তা করা হয় না। সকালে নাস্তা না করলে নাকি মেমোরী মাইর খেয়ে যায়। আমার গত ১ বছর ধরেই সকালে তেমন কিছু খাওয়া হয় না। এই চা কিংবা বেকারীর পচা কেক এই খেয়েই কাটাই। এই জন্যেই মনে হয় মেধাশক্তি এভাবে মাইর খাচ্ছে দিনকে দিন। আসলে সকালে নাস্তা করতে এখন একরাশ বিরক্ত লাগে কারন হোটেলে গিয়ে এই পরোটা বা তন্দুর রুটি সাথে মুগ ডাল ভাজি এই সব খেতে মেজাজ খারাপ লাগে। কারন শিয়া মসজিদের মোড়ে শত শত মানুষ ঝুড়ি কোদাল নিয়ে শীতে কাপতে কাপতে বিড়ি ফুকে আড়াইশো তিনশো টাকার হাজিরা দিয়ে কেউ এসে নিয়ে যাবে বলে। এই সব আধপেটা মানুষ কিছু না খেয়েই কত কাজ করবে আর আমার মতো শান্ত হোটেলে গিয়ে চারপাচ পরোটা আর গিলা কলিজা দিয়ে হেভভী খানা দিবে এইটা ভাবতেই ইনসাল্টিং লাগে। যেহেতু বাসায় নাস্তা করা হয় না তাই বাইরেও খাওয়ার দরকার নাই। ব্রেইন এমনিতেই সবার মার খেয়ে যায় দিনে দিনে।

তবে ইদানিং চায়ের দোকানে বসে থাকাটা মোটেও ভালো লাগে না। এমন না যে লোকজন কম বা চা ভালো বানায় না এমনিতেই ভালো লাগে না। বিরক্ত লাগে এই নিদারুন অলসতায়। দম বন্ধ হয়ে আসে বুকে। মনে হয় এই বসে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। তবে মরে যাওয়ার কথা আসলেই খালি অঞ্জন দত্তের কত কি করার ছিলো যে আর মহীনের ঘোড়াগুলির কত কি করার আছে বাকী এই দুটো গানের কথাই মুখে আসে। মরতে তো হবেই কালও তা আসতে পারে জীবনে কিন্তু তা বলে এতো কাজ বাকী রেখে মরতেও ইচ্ছা জাগে না। মরার পরে কি হবে তা নিয়ে টেনশন তো আছেই সাথে দুনিয়াতে থেকে কি করলাম তাই বড় চিন্তা। বাবা মায়ের ভালোবাসার কোনো মুল্য দিতে পারলাম না, ভাই ভাবী মামার এতো স্নেহ এতো কিছু করলো তাদের জন্য নুন্যতম একটা শ্রদ্ধার জায়গায় যেতে পারলাম না আর বন্ধু বান্ধব চায়ের দোকানদার রিক্সাওয়ালা কতো অজস্র মানুষের কত ভালোবাসা পাইছি তার বিনিময়ে কি দিলাম, দুনিয়া ভরা এতো সিনেমা এতো ঘুরার জায়গা এতো এতো বই কিছুই পড়া হলো না। তখন মনে হয় বেচে থাকাটা যদি অর্থহীন হয় তবে এই মুহুর্তে যদি আল্লাহ না করুক ইচ্ছা অনিচ্ছায় মরে যাই তবে আমার কি হবে। এতো মরন চিন্তা আসার কারন চিটাগাং মেডিকেলের এক মেয়ে আত্মহত্যা করলো। সম্পর্কে তাকে আমি চিনি না কিন্তু আমার অনেক বন্ধুর চেনাজানা ক্লাস মেট। মেয়েটা মারা গেলো। একটা মেধা একটা স্বপ্ন একজন মানুষের কত বড় অপচয়। ইমন জুবায়ের ব্লগার হিসেবে ছিলেন খুব ডাকসাইটের। নীরবেই মারা গেলেন তিনি যেমন নীরব জীবনে তিনি দিন যাপন করেছেন এতোদিন। এতো কিছু নিয়ে তিনি পড়াশুনা করছেন লিখছেন যা সম্ভব না। এমন না যে ইমন জুবায়ের ভাই আমার খুব কাছের মানুষ ছিলেন। ব্ল্যাকের উচ্চারন নিয়ে কথাবারতা বলে তাকে হেয় করে বলা যায় বিরাগ ভাজন হয়েছি তাতেও তার প্রতি রেসপেক্ট কমে নাই একবারও। এই ক্যাচালময় ব্লগিং জগতে তার অকাল চলে যাওয়া সত্যিই পীড়াদায়ক। তারপর পত্রিকার পাতা খুললে তো নানান কায়দায় মানুষ মারা বা মরে যাওয়ার গল্প। প্রিয় শিল্পী অরুপ রাহীর গানের মতোই বলতে ইচ্ছা করে মরার দেশে ভালো লাগে না/ মরি উপায় কি যে বলো না!

তাই সেচ্ছা অনিচ্ছায় আপনাকে আমাকে মরতে হবেই। যদি তাও বেচে থাকেন তবে রাষ্ট্র আপনাকে মেরে ফেলবে। তাই মরার আগে অন্তত অনেক গুলা কাজ করতে চাই। ভালো চাকরীর বেতন দিয়ে পারিবারিক নিজের সাচ্ছন্দ্য চাই, মিথ্যা কম বলতে চাই, আরো অনেক ভালো ভালো গান শুনতে চাই, অনেক সিনেমা দেখা বাকী সেগুলো দেখতে চাই, অনেক অনেক বই পড়া হয় নি তা পড়তে চাই, বন্ধু বান্ধবদের বিপদে পাশে থাকতে চাই এর বাইরে আমার চাওয়ার কিছু নাই। কারন এই সমাজ সংসারে কেউ কাউকে ফিরেও দেখে না যতোই নিক মানবতার ভং। তাই আমি দ্বায়িত্বশীল মানবিক আচরন করেই দিন পার করতে চাই। দানবীর হয়ে বা মানব সেবা করে খ্যাতি চাই না চাই আমার মাধ্যমে যেনো কেউ কষ্ট না পায় পারলে অন্যের কষ্ট লাঘবে সহযোগী হিসেবে যেনো থাকি।

আসলে স্বপ্ন প্রতিশ্রুতি চাইবার ইচ্ছা থেকে কোনো লাভ নাই এই বাংলাদেশে। যে বিএনপি আওয়ামীলীগের কাছে আমরা দেশ বন্ধক দিছি তাদের কাছে ব্যাক্তিগত বা সামস্টিক কোনো ইচ্ছা আকাংখার কোনো দামই নাই। না হলে যে তীব্রভাবে ভালোবেসে নৌকা মার্কায় ভোট দিছি। সেইসব প্রতিশ্রুতির মুল্য কই? অনেকে বলেন শিক্ষা
স্বাস্থ এগ্রিকালচারে অনেক কাজ হয়েছে তাহলে এতো লোক প্রতিদিন কাপড়ের গাট্টি নিয়ে ঢাকায় আসে কেন? দরিদ্র নাকি কমছে আমি তো জামাল্পুরে গিয়ে দেখি অবস্থা খারাপের দিকে আরো। আইন শৃংখলা, সড়ক নিরাপত্তা, এনার্জী এই সবে তো সরকারের পাশ নাম্বার তো দূরে থাক ডাবল ডিজিট নাম্বার পাবে কিনা তাই চিন্তা। এখন বিএনপি আগামীতে আসলে এদের চেয়েও বেশী জঘন্য হবে লুটপাট গুনের নামাতা আকারে, বাড়বে জামাতের লোকেরা মন্ত্রী আসবে। তখন কই যাবো? এই জাতির এতো আশা আকাংখা তখন আবার আওয়ামী দিকে ধাবিত হবে আবারো সেই প্রতিশ্রতির প্রতারনা। এমন দেশে ধুকে ধুকে বেচে থাকাটাই একমাত্র শ্রেষ্ঠত্ব। কি লজ্জার কথা। আগামী দিন গুলোতে কি কোনো ভীম আসবে না যে আর্যদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে কৈর্বতদের হয়ে। রামপালের কুশাসন থেকে বাচাতে যেয়ে নিজেই মারা যাবে তীরের ফলায় তবে করে যাবে স্বাধীনতার পথ, সেই হাজার বছর আগে যদি হতে পারে তাহলে এখনো আসবে আসতেই হবে। না আসলে এই বেচে থাকার মানে কি? এতো সামস্টিক ব্যাক্তিগত স্বপ্ন পুরন না হবার বেদনা রেখে লাভ কি?

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


তবুও আশাবাদী...সামনে সুদিন।
চলুক দিনলিপি Arrow

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কু চলবে দিনলিপি!

জ্যোতি's picture


এখানে আমার কমেন্ট কই গেলো? সকালেই পোস্ট পড়ে কমেন্ট করেছি। Sad
এমনই মায়া নিয়ে অনেক বড় হও। একদিন নিশ্চয়ই সুদিন আসবে। আশা নিয়েই তো জীবন। Smile
ব্লগার ইমন জুবায়েরের হঠাৎ মৃত্যুর খবরটা শুনে সত্যি খুব বেশী খারাপ লেগেছে।

আরাফাত শান্ত's picture


আপনারা পড়েন আবার কষ্ট করে কমেন্টান এই লোনের কোনো শোধ নাই!
কমেন্ট জিন গায়েব করছে

টুটুল's picture


অনেক কিছু বাকি ... জানলাম... কিন্তু সেইখানে বিবাহের কিছু দেখলাম না Sad

আরাফাত শান্ত's picture


বিবাহের কোনো প্ল্যান বা সম্ভাব্যতা এখনো দেখছি না!

যশোরী পাগলা's picture


ভাল

আরাফাত শান্ত's picture


ধন্যবাদ!

যশোরী পাগলা's picture


ভাল

১০

রাতিফ's picture


ভীমের আসার সকল পথ রুদ্ধ হয়ে আছে আজ এই বাংলায় Smile

তবে কেন জানি তারপরও মনে হয় ব্যক্তি স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে একজন ভীম আসবেই...আজ না হোক কাল, কাল না হোক পরশু ... কারণ এন্টি সিস্টেমের পরবর্তি ধাপ সিস্টেম ... বহুকাল আমরা এন্টি সিস্টেমে গড়াগড়ি খাইতেছি ... সিস্টেমে ফেরত যাওয়ার সময় আসন্ন Smile

ভালো থাকেন, হতাশা মুক্ত থাকেন আর লিখতে থাকেন।

১১

আরাফাত শান্ত's picture


হ ভাই লিখতেছি সাত পাচ না ভেবেই। আপনাদের মতো পাঠক কয় জন পায় কপালে?
ভাল থাকেন ভাইয়া!

১২

মীর's picture


আপনে শুনেন, ঝাকানাকা বাদ দিয়ে এখন থেকে সকালে নিয়ম করে নাস্তা করা শুরু করেন। শিয়া মসজিদের মোড়ে কোদাল হাতে যত লোকই বসে থাকুক, তাদের জন্য দু'কলম লেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারবেন না; যদি খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম করেন। পুচকে মাসুদ রানা সকালবেলা ডাবল ডিমের ওমলেট দিয়ে নাস্তা করে কত সোহানা-রেবেকাদেরকে সেভ করে ফেললো; আর আপনে বসে আছেন শিয়া মসজিদের ভাবনা নিয়ে!

এখন থেকে খাওয়া-দাওয়া নিয়ম করে করতে থাকেন। দেখবেন অন্য সব ঝামেলা আপনা-আপনি মিটে যাচ্ছে। যদি না যায়, তখন বইলেন যে; আমি একটা কথা বলছিলাম কিন্তু সেইটা কাজে লাগে নাই।

১৩

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


টিপ সই Big smile

১৪

আরাফাত শান্ত's picture


চেষ্টা করবো ভাইয়া। আপনেও একটু কষ্ট করে নিয়মিত লেইখেন!

১৫

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাংকু ব্রো

১৬

তানবীরা's picture


তাই মরার আগে অন্তত অনেক গুলা কাজ করতে চাই। ভালো চাকরীর বেতন দিয়ে পারিবারিক নিজের সাচ্ছন্দ্য চাই, মিথ্যা কম বলতে চাই, আরো অনেক ভালো ভালো গান শুনতে চাই, অনেক সিনেমা দেখা বাকী সেগুলো দেখতে চাই, অনেক অনেক বই পড়া হয় নি তা পড়তে চাই, বন্ধু বান্ধবদের বিপদে পাশে থাকতে চাই এর বাইরে আমার চাওয়ার কিছু নাই।

এই চাওয়ার জন্যেই বেঁচে থাকো

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!