ইউজার লগইন

বই পুস্তকের মেলা খেলায়!

অনেক দিন দুপুরে পোষ্ট লেখি না। সেই সামুর আমলে দুপুরে পোষ্ট লিখতাম সকাল জুড়ে ব্লগে বসে থাকতাম। দিনগুলো ছিলো অন্যরকম। তখন মনে হতো ব্লগে থাকার চেয়ে গুরুত্বপুর্ন কোনো কাজ থাকতে পারে না আর। যাই হোক ব্লগের জায়গায় এখন ফেসবুক। মোবাইল দিয়ে ফেসবুক দেখা সংযোগ থাকা খুব ইজি কাজ। তার জন্য কোনো বাড়তি এফোর্টের প্রয়োজন নাই। কিন্তু ব্লগিংটা আসলে পিসিতে বসেই করার জিনিস। যদিও আমি মোবাইলে লিখতে পারি পোস্ট ভালোই। তাও সেটা ঠেকায় পড়েই। কিন্তু ব্লগিং জিনিসটা কম্পিউটার ল্যাপটপেরই ব্যাপার। ফেসবুকের মতো তা এতো ইউজার ফ্রেন্ডলী আইটেম না। আর ফেসবুক দিয়ে দ্রুত সবার কাছে চলে যাওয়া যায়। ধরেন আমি কালকে একটা লেখা শেয়ার দিলাম বা ইদানিং দিতেছি তাতে চায়ের দোকানের বন্ধু বান্ধবেরা পড়ছে আর এসেমেস করে বলে শান্ত ভাই আপনি তো আমাদের নিয়া সেরকম লেখা লিখে ফেলেন। আপনার লেখার হাত দারুন। অথচ আমি যে ব্লগে লিখি কোন ব্লগে কি লিখি তা কেউ জানে না অথচ ফেসবুকের এক শেয়ারের উসিলায় সব কিছু পড়ে ফেললো। এইটাই ফেসবুকের শক্তি।

আমি টেক্সটবুক পড়তে প্রচুর অনীহা থাকলেও বই পড়া নিয়ে বাল্যকাল থেকেই আমার খুব ঝোক। এই ঝোকের কারন হতে পারে বই পড়ার প্রতি এক ধরনের ভালোবাসা। যা পাইছি ভাইয়ার কাছ থেকে। আমার ভাইয়া অতি মেধাবী মানুষ ছিলো। ম্যাট্রিকেই সে সামান্যের জন্য স্ট্যান্ড করে নাই। সেই ভালো রেজাল্টের সুবাদে নেভী থেকে এককালীন কিছু টাকা পাইছিলো। যার পুরোটা দিয়েই ভাইয়া হুমায়ুন আহমেদ আর জাফর ইকবালের বইয়ের পেছনে বিনিয়োগ করলো। তার সাথে সাথে ভাইয়া তখন রহস্য পত্রিকায় গল্প পাঠাতো আর কিশোর পত্রিকা নামে আরেকটা পত্রিকা ডাক যোগে আসতো। এইভাবেই ক্লাস ফোর ফাইভ থেকেই আমার বড়দের বই সব পড়ে শেষ করবার নেশা। নানান জায়গা থেকে ভাইয়া তখন হুমায়ুন আহমদের বই আনতো এক রাতে পড়েই ফেরত দিতে হতো। আমি ভাবতাম কবে ভাইয়ার মতো কলেজে পড়বো আর কবে এরকম দ্রুত বই পড়া শিখবো! তখন খুলনায় বই পড়ার একটা পরিবেশ ছিলো। আমি বড় ভাইদের খুব কমই দেখছি যাদের বই পড়ায় আগ্রহ কম। তিন গোয়েন্দা মাসুদ রানা থেকে সমরেশ হুমায়ুন এইসব নাম শুনে শুনেই বড় হওয়া। আমি চিটাগাংয়ে এসে দেখলাম এরাও সেরকমই। কিন্তু চিটাগাংয়ে সারাদিন স্কুল খেলাধুলা তাও সময় কম। চিটাগাংয়ের একেকটা বন্ধুদের বাসায় দেখতাম মিলন- হুমায়ুনের ফ্যাক্টরী। সমানে পড়ছি আর ফেরত দিতাম। তখন শিবিরেরও পাঠাগার সেখান থেকেও অনেক ধরনের ইসলামিক বই আমারে পড়তাম। লোকজন বলতো শিবিরের বই বাসায় রাখা ঠিক না। আমি বলতাম আমি তো করিনা সুতরাং ইসলামী বই পড়তে তো মানা নাই। ক্লাস টেনে এসেই আমি হুমায়ুন আহমেদ পড়া ছেড়ে দিলাম। ভাইয়া খুলনা ইউনি থেকে চিটাগাং আসলে বই আনতো সুনীলের পড়ে খুব আনন্দ পাইতাম। কাকাবাবু সিরিজ কিশোর গল্প আরো যত উপন্যাস এইসব পড়েই খুব দিন যেতো। তখন ভাইয়া আমাকে বই মেলা থেকে এনে দুটা বই গিফট করলো। আনিসুল হকের দুইটা বই। সেই থেকে আমার বই মেলা যাবার আকাঙ্ক্ষা। ঢাকায় আসার আগেই বিভুতিভুষন, বঙ্কিম, মানিক, রবীন্দ্রনাথ, শরতবাবুর লেখা পড়া শেষ। অনেক লেখাই অতো বুঝে সারি নাই তাও গিলে ফেলছি। ঢাকায় এসে আমার শিব্রাম, তারাপদ, মুজতবা আলী যত রম্য লেখক আছে সব শেষ করে ফেললাম। প্রথম বইমেলায় যাই ২০০৭ য়ে। কিনে আনছিলাম জহির রায়হান আর সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস সমগ্র। তবে তখন বাসায় থাকতাম অফুরন্ত সময় তাই টিভিতে বই মেলা নিয়া আলাপ নিউজ রিপোর্টিং খুব মন দিয়ে শুনতাম। বাংলাদেশের অনেক নাম জানা লেখকের চেহারা জানি আমি সেই সময়। ২০০৮ সাল থেকে খুব মজার। তখন আমি না খেয়ে না খেয়ে ব্লগিং করি। ব্লগারদের বই বের করার ট্রাডিশন তখন কেবল শুরু। অমিত আহমেদ আমার খুব প্রিয় একজন ব্লগ লেখক ছিলো তার উপন্যাস তার সামনে থাকা অবস্থাতেই কিনি। তিনি আমাকে জিগেষ করেন আপনি কি সামুর ব্লগার আমি কিছু না বলে হাসি দিয়ে কিনে আনি বইটার নাম গন্ধম। ফাহমিদুল হক ভাইয়ের বই, আনু মুহাম্মদের লেখা বই, বদরুদ্দীন ওমর যা পাই তা কিনি। টাকা দেয় ভাইয়া। তখন বইমেলায় অনেক ব্লগার কিন্তু কারো সাথে আর পরিচিত হই না। এমনি এক বই মেলার দিনে সামুর পিকনিকের টাকা দিতে গেলাম পাব্লিক লাইব্রেরী। দেখি সামী ভাই, টুটূল ভাই, মেজবাহ ভাই, কৌশিক ভাই শামীম সবার সাথে পরিচয়। সেই পাচ বছর আগে সেইদিনের আমার একটা ঘটনা মনে আছে যে এক লোক আসলো প্রেসক্রিপশন নিয়ে তার কাছে নাকি মেডিসিন কেনার টাকা নাই। মেসবাহ ভাই খুব মন দিয়ে দেখলো তখনো আমি জানি না ল্যাবএইডের তার চাকরীর খবর। উনি বললো চাচা যদি সত্যি কিনেন তবে দাম সব মিলায়া আড়াইশোর বেশী হবে না। এই নেনে দুইশো টাকা। আমি শুধু চেয়ে থাকলাম। ২০০৯ য়ের বইমেলাটা আরো দারুন কারন ততদিনে আমরা সিনিয়র ব্লগার। সাজিয়াপু আসছে ঢাকায় আমি নাঈম বই মেলায় ঘুড়ি দল বেধে। তখন বই মেলায় যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে সাইন চলছে। চারিপাশে খালি ব্লগের মানুষ। আমি তখন আবার বাম জ্বরে আক্রান্ত। প্রচুর এই নিয়ে বই কিনছি। নাদান জেবীন আপুর সাথে দেখা হলো একদিন। আমি আর নাদান ভাই মিলে গেলাম মেলায়। নাদান ভাইয়ের এক বন্ধু বউ নিয়ে আসছে আমাদের কাজ একটাই সেটা হলো বিভিন্ন দোকানে গিয়ে রান্নার বই খুজে তার ভিতর থেকে কিনতে সাহায্য করা। ২০১০, ১১,১২ ধরে আমার বইমেলায় বেহুদা ঘুরাঘুরি। ১০য়ের বইমেলায় নাঈম আসছিলো তার কবিতা একটা সংকলনে ছিলো। যেহেতু টাকা পয়সা ছিলো তাই বই কিনছি দরকার পড়লে ধার করেও কিনছি। তারপর আসলো ১১ সাল। বন্ধু আশরাফ মাহমুদের সাথে চার পাচ দিন। তার বই রোদের অসুখ বের হইছিলো শুদ্ধস্বর থেকে। ওর সাথে রিক্সা ভ্রমনের আর ওর হাজার হাজার টাকায় বই কেনা দেখে অবাক হইছিলাম। ও আমার কাছে এখনো এক হাজারের মতো টাকা পায় যা দেয়া হয় নাই। রন্টি ভাইও টাকা পায় দেয়া হয় নাই। তবে আশরাফের সাথে আমার যোগাযোগ নাই আর সে এক হাজার টাকার জন্যে আমারে ফেসবুকে মেসেজ পাঠাইলো। আমি নগদে আনফ্রেন্ড করছি। তার টাকার জন্য না তার মহাজনী সুলভ আচরনের জন্যে। যদি এইবার বইমেলায় সে এসে থাকলে পরিশোধ করে দিবো নগদে। তার কারন সীমিত সামর্থ্যের আমি টাকা পয়সা নিয়ে কোনও সময় চিন্তা করিনা দেদারসে নেই দেদারছে দেই। আমার বন্ধুরা কেনো এই সামান্য কটা টাকার জন্য কলিজা টেস্টে ফেইল মারবে। যাই হোক আজাইরা প্যাচাল। ১১ তে বই মেলায় কম যাওয়া হইছে ইন্টার্নশিপ চলছিলো। বারোতে অনেক বার গেছি। বারবার গেছি অনেক বই কিনছি। এবির কারনে নিজের লেখা বই আকারে কাগজের পেজে দেখার কপাল হইছে। এর আগে আমার ব্লগেও বইয়ের জন্য লেখা দিতে বলছিলো রাশেদ ভাই, হয় নাই দেয়া। তেরো নিয়া প্ল্যান ছিলো হয়তো জব করবো তাই আশরাফের মতোই অনেক বই কেনা যাবে। কিন্তু তেরোর মেলা এসে পড়লো আমি সেই আগের মতোই ছাত্রবেকার। টাকা পয়সার টানাটানি দেখি কেরকম বই কেনা যায়! তবে যাওয়া হবে অনেক বার এইটা মিস নাই।

আমি সারাবছর বই কেনার লোক। দেখা যায় প্রতি মাসেই আমি আজিজ থেকে কিছু না কিনছি। এখন অবশ্য বই কেনার চেয়ে পড়াটা জরুরী। তাই পাব্লিক লাইব্রেরীতে পড়ে থাকি। বিদিততে মিন্টু ভাইয়ের দোকানে বই একটা হাতে নিলে না পড়ে বাসায় ফিরি না। এই জন্য অবশ্য আমার মন দিয়ে স্লো পড়ার বাতিকটা কমে গেছে। মন দিয়ে কিন্তু দ্রুত বই শেষের জন্য পড়া দিতে হয়। তাতে অনেক বইই খুব ভালোভাবে পড়া হয় না। তাতেও বই শেষ করার আনন্দের কাছে কিছু না। তবে গত তিন চারমাস আমার বই পড়ায় একটা স্থবিরতা চলতেছে। চায়ের দোকান আর নেট সাথে ক্লাস। ক্লাস থাকলে ক্লাস এই করেই দিন যায়। পড়া আর হয় না। যে বামভক্ত ছিলাম তাদেরও বই না যে ইসলাম ইতিহাস নিয়ে আগ্রহ ছিলো তাও না। নেটে হালকা পাতলা পড়ি তাও শুধু ব্লগ পত্রিকা। আমার বয়সী লোকজনেরা বা তারো ছোটোরা অনেক আগেই বই পড়া ছেড়ে দিছে। পাস করার জন্য পড়াই এখন মুখ্য। আর যারা পড়তে চায় তারা কেউ খেলাধুলা সিনেমা গার্লফ্রেন্ড এই সব নিয়েই দিন কাটায়। বাংলাদেশে বইয়ের যে দাম তাতে সাধারন নিম্নমধ্যবিত্তের বই পড়ার চেয়ে টিভি দেখা সস্তা। এক মাস ৩০০ টাকা দিয়ে টিভিতে জাহান্নাম দেখা অনেক সহজ কাজ। তার চেয়ে বই নতুন পুরানো যাই হোক কিনে পড়া অনেক ভোগান্তি। বই যদি আমরা না পড়ি এইভাবে জলসা প্লাসের হাতেই বিনোদন ছেড়ে দেই তাহলে নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্মীয় হানাহানি যাবতীয় অসভ্যতা খালি বেড়েই চলবে। কারন রুচিহীন অসভ্য পাশ এডুকেটেড মানুষের চেয়ে খারাপ মানুষ দুনিয়াতে নাই!

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


তোমার লেখা দেখে আবার ঢুকলাম Big smile

আর একটু জনমাইলে দস্যু বনহুরও পড়তে পারতা। অনেকসময় ঐ লুকও খাইছে ছোটবেলায়

এইটা যে যেভাবে নিক কিনতু আমার জীবনের চরম সত্যি, কোলকাতা লেখকের বই পড়তে শুরু করলে দেশি লেখকদের কেমন যেনো অনেক সময় পানসে লাগে। আমার অবশ্য বই পড়ার শুরু ছিলো, মায়ের কালেকশান থেকে, ফালগুনী - আশুতোষ, ছোট চাচার নিমাই, দ্যান চাচাতো ভাইবোনদের সুনীল - সমরেশ - আববুর শংকর। শংকর এখনো আমার খুব ফেবরিট। Party

মীর's picture


Angry Angry

আরাফাত শান্ত's picture


আমি সমরেশ কিছু পড়ছি সুনীলও মোটামুটি। কিন্তু শংকর, নিমাই, শির্ষেন্দু ফালগুনী, গজেন্দ্রকুমার, মৈত্রয়ী কিছুই পড়া হয় নাই। তবে নীলখেতে খুবই সস্তায় পাওয়া যায় ঢাউস সাইজের বই কিনে পড়া হয় নাই আর। সমস্যা নাই সামনে সময় আছে বেচে থাকলে কিনে পড়ে ফেলবো। থ্যাঙ্কস আপু। মুখ খারাপের আতংকে আপ্নার সাথে ইচ্ছা করেই কথা হয় না। কখন আবার কি মনে করেন Smile

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


শঙ্কর এর চৌরঙ্গী
আর
শীর্ষেন্দুর দূরবীন।

এসাপ পইড়া ফেলান। ভালা লাগতে বাধ্য।

আরাফাত শান্ত's picture


ওকে Smile

মীর's picture


ফার্স্ট কমেন্ট। লেখা সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলার নাই। দিন দিন পাকা লেখক হয়ে উঠছেন আপনি Smile

আরাফাত শান্ত's picture


আপনার মুখে প্রশংসা শুনলে নিজেরে অন্যরকম বড় কিছু মনে হয়। শুভকামনা!

সাইফ's picture


ই যদি আমরা না পড়ি এইভাবে জলসা প্লাসের হাতেই বিনোদন ছেড়ে দেই তাহলে নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্মীয় হানাহানি যাবতীয় অসভ্যতা খালি বেড়েই চলবে। কারন রুচিহীন অসভ্য পাশ এডুকেটেড মানুষের চেয়ে খারাপ মানুষ দুনিয়াতে নাই!

এই শেষ ক'টা লাইনের জন্য কমেন্টে এলাম।

আশা করি, বই পড়ার অভ্যাস আবার ফিরে আসুক। কিন্তু সেটা কি আদতে সম্ভব?

আরাফাত শান্ত's picture


সম্ভব। এমন তো না যে পোলাপান বই পড়ে না। আর লাইব্রেরীর সংখ্যা বাড়ালে আর বইয়ের দাম কমানো সাথে সাথে বড় বড় জেলায় নিয়মিত বই মেলা হলে পাব্লিক বই পড়বে না কেনো!

১০

জ্যোতি's picture


তোমার আর মীরের লেখা দেখে মোবাইলেই লগ ইন করলাম । Smile
এত সুন্দর লেখ কেমনে ? আজব !
অনেকদিন বই কিনি না । তেমন একটা পড়িও না Sad
বাসা দূরে হওয়াতে এবার হয়ত বইমেলায় যাওয়াও হবে কম Sad

১১

আরাফাত শান্ত's picture


আপনার শোকেস সেল্ফ জুড়ে মেলা বই তাই পড়ে আগে শেষ করেন। কি কন অফিস থেকে ডাইরেক্ট মেলায় আসবেন। বছরের এই মাসটার চেয়ে আর কোনো দারুন মাস আছে কিনা! ফেসবুকে নিশ্চই দেখছেন তাড়া হুড়ার লেখা তাই অনেক কিছুই বাদ পড়ে গেছে। আপনাদের ভালোবাসায় মুগ্ধ হই!

১২

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


এইবার সারা বছরে পকেটে কিছুই জমেনাই। ইন্ডিয়ান বই কিনতে কিনতেই ফতুর।

বইমেলায় বেশি যাওয়া যাইব না। পকেটে থাকবো না টাকা, বই কিনতে না পারার দুঃখ নিয়া মেলায় ঘুইরা লাভ নাই! Sad

১৩

আরাফাত শান্ত's picture


কতো ধরনের অযুহাত। আমগোরও টাকা পয়সা নাই তাও মেলায় থাকা বই কেনা মিস নাই!

১৪

লীনা দিলরুবা's picture


এই প্রথম সম্ভবত তুমি তোমার পাঠাভ্যাস নিয়ে বিস্তারিত লিখলে। এই বিষয়টা আমি অনেকের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করেছি, ধারাবাহিকভাবে বইপড়ার কারণে একসময় তার একটা লেখার হাত তৈরি হয়। তার চিন্তার শক্তি বাড়ে, কোনোকিছু নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক অনুভূতি ব্যক্ত করতে পারে। এইযে তুমি তরতর করে পড়ে ফেলার মত গদ্য লেখো, বুঝতে পারছি, এর মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের বইপড়ার অভ্যেস।

এটা ধরে রাখো।

১৫

আরাফাত শান্ত's picture


আরো কিছু পয়েন্ট নিয়ে লেখার ইচ্ছা ছিলো কিন্তু তাড়াহুরায় মিস হয়ে গেছে। দেখি অন্য কোনো দিন লিখবো সামনেই। ধরে রাখছি তো কিন্তু চায়ের দোকানে আর ফেসবুক ইন্টারনেটে সময় খেয়ে ফেলায়। পড়ার সেই আগের মতো স্পিরিট টা নাই। সমস্যা নাই সামনেই আবারো দিন আসবে তখন আবার মন দিয়ে পড়া শুরু করবো। থ্যাঙ্কস আপু। শুভসকাল!

১৬

রাসেল আশরাফ's picture


আশরাফ মাহমুদের সাথে টাকা পয়সার ব্যাপারটা পড়ে কেন জানি হেসে ফেললাম। বিশেষ করে তোমার নগদে আনফ্রেন্ড করে দেয়াতে।

বইমেলা নিয়ে লিখো। যেতে তো আর পারবো না। তোমাদের লেখা পড়েই না হয় দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাবো।

১৭

আরাফাত শান্ত's picture


আপনার হাসি পাইলো ঘটনাটা আমার মন খারাপের কিঞ্চিত লজ্জিতও। কি আর করার। সামনা সামনি যদি দেখা হয় টাকাটা দিয়ে সরি চেয়ে নিবো। দেখি বইমেলা নিয়ে তো অনেকে লিখে আমি কিভাবে পার্টিসিপেট করি মেলায় সাথে টাকা পয়সার টানাটানি তবে আশা করতেছি লিখবো! ভালো থাকবেন ভাইয়া শুভকামনা!

১৮

রন্টি চৌধুরী's picture


বই যে কতকাল কিনি না ভুলেই গেছি। আহারে, একসময় শুধু বই ই কিনতাম। বাসা থেকে স্কুলে যেতে সেইকালে তিন/চার টাকা রিক্সাভাড়া লাগত, আসা যাওয়ায় দশ টাকা, সাথে লান্চ খাবার কিছু এক্সট্রা টাকা। বিকেলে প্রাইভেট পড়তে যাবার জন্যে রিক্সাভাড়া। আমি বাসা থেকে গুনে গুনে এইসব ভাড়া নিতাম না, রিক্সায় চড়ার চেয়ে হেটে চলে যাওয়াটা বেশী ভাল্লাগতো। তবে ভাড়াটা তো পেতামই, সেটি দিয়ে কেনা হত বই। খুব ছেলেবেলায় কমিকস। টিনটিন, বিল্লু, পিংকী, চাচা চৌধুরী, দেশী কিছু কমিকস। ভাড়াও দিতাম সেগুলো Smile তখন মোটে ফোর, ফাইভে পড়ি। আমার কালেকশনে সবি ছিল। রাজ্যের পুলাপান সেগুলো ভাড়া নিয়ে পড়ত, সেই ভাড়ার টাকায় আরও কমিকস আসত Smile হাহাহা। কয়েকবছর আগেও বিশাল বইপত্রের কালেকশন ছিল বাসায়। হাজার এর উপরে তো হবেই। লোকজন ধার নিয়ে নিয়ে ফতুর করে দিয়েছে আমার কালেকশন। টিকে আছে কিছু বই। বৈদেশ আসার পর থেকে টিপিকাল ফাউল পাবলিক হয়ে গেছি। বই এর ধারে কাছে নাই এখন। বুঝতে পারি দিনে দিনে অধ:পতনের দিকে যাচ্ছি। প্রথমবার দেশ থেকে আসার পথে ফ্লাইটে হ্যান্ডলাগেজ ছাড়াও, কাগজের ব্যাগে একগাদা বই ছিল। কাষ্টমস পার হবার সময় বাংলা না জানা কাষ্টমস এর লোকেরা ভেবেছে পড়াশোনার বই Smile সেই দিন আর নাই। বই এর ধারে কাছে আমি নাই আর এখন।

১৯

আরাফাত শান্ত's picture


আমারো কমিক্সের খুব ঝোক ছিলো। একটাকা করে কমিক্স ভাড়া নিতাম কেনার উপায় ছিলো না আমার। এখনো আমার কমিক্স পড়ার খুব আগ্রহ। নিউ মার্কেটে খুজছিলাম একদিন ডায়মন্ডের কমিক্স পায় নাই। কমিকন নামের এক প্রতিস্টান আছে তারা কমিক্স আনে তাদের আস্তানায় একবার যাবো। বিদেশে থাকলে এতো কিছু নিয়ে ভাবতে হয় তারপর আছে আবার টাইম কিলিং ফেসবুক তাতে বই পড়া অনেক দুরের বস্তু। ভালো থাকেন ভাইয়া শুভকামনা। ফেব্রুয়ারীতে দেশে বেড়ায় যান!

২০

রন্টি চৌধুরী's picture


চেষ্টা চলছে বই পড়ার অভ্যাসটা আবার একবার তৈরি করার। মাথা কাছে, বালিশের পাশে দুটা বই আছে গত দশ পনের দিন ধরে, ইবে থেকে খুব কম দামে কিনেছিলাম একজন খুব প্রিয় মানুষের বায়োগ্রাফী আর একটা ফিল্ম বানানোর হাবিজাবির বই। বিশ পাতার বেশী পড়া হল না আজতক।

২১

আরাফাত শান্ত's picture


কষ্ট হলেও পড়েন। বই পড়ার কোনো বিকল্প নাই!

২২

শওকত মাসুম's picture


এবারের মেলায় বইয়ের দাম একটু বেশি মনে হল

২৩

আরাফাত শান্ত's picture


দামের কোনো শেষ নাই
বই কেনা কষ্টের তাই!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!