দশ বছর!
মিশ্রিত দিন রজনী পার আমার পছন্দ না। হয় দিন ভালো কাটবে নয়তো দিন খারাপ কাটবে, হয়তো মন ভালো থাকবে নয়তো মন তুমুল খারাপ থাকবে। এই মোটামুটি ভালো খারাপের মিশ্রনের দিন আমার পছন্দ না। নানক সাহেব রাস্তার উন্নয়ন করবে খাল কাল্ভার্ট দিয়ে ঢেকে দিবে তাই নান্নুর দোকান চলে গেলো। অবশ্য দোকান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তা তিন চারদিন ধরেই জানা। নান্নু সাহেবের ইচ্ছা ছিলো দোকান চলে গেলেও খোলা আকাশের নিচে দশ পনেরো দিন রেখে ব্যাবসা পাতি করবে বাকীর টাকা উদ্ধার করবে। কিন্তু তা আর হলো না। কাল যদিও বালুর বস্তায় বসে খোলা আকাশে বসে নান্নুর অস্থায়ী বাক্সো দোকানে চা খেলাম। আজ আর কপাল নেই। সকালেই পুলক ফোন করে বলে দিছি নান্নু বন্ধ। তাও বের হলাম গা গোসল করে। সেলিমের দোকান আছে সোসাইটি পাচের মেইনরোডে সেইখানে যেয়ে নিজেরে এতীম এতীম লাগলো। তাও বসে রং চা খেলাম। চাদপুরে বাড়ী সেলিম সাহেবের তার দোকানে কম বসা হলেও পুলকের কারনে তিনি আমারে পায়া অত্যন্ত খুশী। চা খেলাম বসে থাকলাম। এমন সময় এক সমবয়সী লোক তার বন্ধুকে বলতেছে আওয়ামীলীগ বাদে আর কেউ জনস্বার্থ দেখে না। কথাটা নান্নুর দোকানে কইলে তারে আমি জিগাইতাম জনস্বার্থ জিনিসটা কি আগে বুঝায়া কন। কিন্তু অন্য দোকান আর এমনিতেই মেজাজ খারাপ তাই কথা বাড়ালাম না। ছোটো দুই ভাই আসলো সাইফ অনিক। তাদের হাসির কথা বার্তায় হাসলাম কিন্তু প্রান খুলে না। মসজিদে গিয়ে নামায পড়লাম। দেখি নতুন ইমাম। মরহুম প্রতিষ্ঠাতা হুজুরের ছেলে। আমি চিন্তা করতে থাকলাম রাজনীতি ব্যাবসার মতোই ধর্মও একটা পরিবারতন্ত্র ব্যাপার স্যাপার আছে। হুজুর মদীনায় ইসলাম প্রতিষ্ঠা নিয়ে বেইস লেস কিছু বয়ান দিলেন। জুম্মার খুতবায় আমি কম হুজুরকেই দেখছি যারা আজাইরা প্যাচাল পারে না। উনিও সেই আজাইরা প্যাচাল গুষ্টির লোক।
নামায শেষে বের হ্লাম। কিন্তু বাসায় যাওয়া যাবে না। কারন মুনতাসীরদের মিলাদ। মুনতাসীর হলো শান্ত ভাইয়ের ছোটো ভাই। ১ টা বোন থাকার কারনে পুলকের মুখ বলা শালা। আমি বললাম পুলকের শালার এক্সাম দিবে এসএসসি মিলাদে না থেকে যাবো কই। মিলাদে যেয়ে দেখি আরেক কান্ড। হুজুর ট্রেডিশনাল স্টাইলে মিলাদে আস্থাশীল না। সবাইরে দরুদ পড়ায়তেছে আর সুরা ইখলাস। তাই পাচ মিনিটেই মিলাদ শেষ। দেশে নতুন নতুন ইসলামিক কনসেনশাচ পয়দা হয়। আগে ইয়া নবী সালামু আলাইকা কইছি তা নাকি বিদয়াত। এইটা যে বিদয়াত তা আমি মাসিক মদীনা পড়ার আমল থেকেই জানি। তাও পড়ে গেছি টেনশন ছাড়া। কিন্তু এখনকার মুসলমানদের অনেক টেনশন। টিভিতে চাপদাড়ীওয়ালা আলেমরা কিসব নতুন নতুন কথা বলে লোকজন তা তামিল করতে মাঠে নামে। ধর্ম পালন জিনিসটা যদি এই নষ্ট ভ্রষ্ট টিভি চ্যানেলওয়ালাদের হাতেই ছেড়ে দেই তাহলে চলবে কিভাবে। আমি তাই ধর্মীয় বই পড়তে সবাইরে বলি। যত পড়া হবে তত আলোকিত হবে তত আলোকিত হবে ধার্মিক জীবন। মিলাদের দোয়া চলতে চলতে আমি ফিরে গেলাম দশ বছর আগে। দশ বছর আগে আমি এসএসসি কেন্ডিডেট। মুনতাসির মিলাদে তো অল্প কয়েক জন। আমাদের ব্যাচ আয়োজিত মিলাদ। পুরা মসজিদ ভর্তি লোক। সবার টানটান উত্তেজনা। প্যাকেট করা আছে ১৫৫০। ৫০ টা আমাদের জন্য। সেই স্পেশাল পঞ্চাশে জিলাপী নাই সমুচা নিমকী তিনটা করে আর বালুসা মিস্টি। আমি প্যাকেট পাহারা দিয়ে স্টোর রুমে বসে। কিন্তু ডিস্ট্রিবিউশনে ভুল হলো। লোকজন প্যাকেট অনেকে দুই তিন বার করে নিলো। পঞ্চাশ প্যাকেট বাদে সব শেষ। হুজুরদের হাতে ধরায় দেয়া হলো টাকা। মেয়েদের কাছ থেকে চান্দা নিছি তাদেরকে বাসায় কি পাঠাবো? আর এতো সখের তবারক নিজেরা কি খাবো। শেষে ডিসিশন হলো আমরা যারা বন্ধু, ব্যাচের মুখপাত্র তারা কেউ নিবে না প্যাকেট। যারা বন্ধু কিন্তু অতো আপন না তারা নিয়ে যাক। তারা নিয়ে যেয়ে প্যাকেট থাকলো ৩৯ টা। তা মেয়েদের বাসায় বাসায় পাঠিয়ে দেয়া। এবং সবাইকে একি কাহিনী শুনানো। ডিস্ট্রিবিউশনে ভুল হইছে তাই একটা করেই তবারক রাখেন। এইটা বুঝাইতে যায়া আমার বন্ধু শাহেদের সাথে এরিনের আব্বার হলো কথা কাটাকাটী। এরিনের আব্বা যতোদিন ছিলো তার বাপের নাম হয়ে গেলো এই বালুশা আটার দলা। আর এরিনের নামতো অনেক দিন যাবতই এডিস। বাসায় এসে আম্মূ বলে নিচের তালা মীম ঝিমের আম্মা আসছিলো তার দুই পোলা নাকি প্যাকেট পায় নাই তাই তোর খোজ নিছে। আমি কইলাম নিজেরা খাই নাই মানুষরে কি দেই? যাই হোক। পুরা এক্সামের দিন থেকে শুরু করে একমাস আমাদের আলোচনা ছিলো তবারক ডিস্ট্রিবিউশন ব্যার্থতা। কার কী দোষ, কে কত বড় বলদ তা নিয়ে আলোচনা। আজ দশবছর পরে মিলাদের এই ব্যাপারটা নিয়ে হেভভী মজা পাই। তবে মন খারাপ হয় দশবছর হয়ে গেলো। ক্লাসমেট বন্ধুরা এসিসিএ টিচার, সাবলেফটেনেন্ট, বিদেশে উচ্চ শিক্ষার্থী, আর্মির ক্যাপ্টেন, মোটা মাইনের চাকুরে। আমি হালা বেকুব এখনো মাস্টার্স করি। চায়ের দোকানে ঘুরে ফিরে খাই। আমাদের বেশীর ভাগ ক্লাস মেট মেয়েদের বিয়া শাদী করে বাচ্চা পয়দা সারা। যারা এখনো অবিবাহিত আছে তাদেরও লাইন ক্লিয়ার শুধু একটু লেট হচ্ছে। তবে চিটাগাং থেকে বন্ধুরা ঢাকায় আসলে খুব মজা হয়। কারন আমি একমাত্র লোক যার সবসময় সময় আছে আর যখন মানা করি পারবো না তখন ধারনা করে আমার কোনো কারনে মেজাজ খারাপ ইচ্ছা নাই! তবে প্রচুর বন্ধু আছে ব্যাচের যারা আমার মতোই বেকার কিন্তু তাদের স্নাতকোত্তর শেষ তাই অনেক জায়গায় এপ্লাই করে আমি তো তাও পারি না। যাই হোক এই সব একি কথা বারবার বলা অনর্থক অন্য কথা বলি।
বাসায় এসে ভাত খেয়ে মনের আনন্দে ঘুমালাম। ছাত্র বেকারদের আনন্দের ব্যাপার হলো দুপুরে আয়েশে ঘুম দেয়া যায়। এরকম সময় কারো হাতেই নেই আবার সময় থাকলে ইচ্ছে নেই। ঘুম থেকে উঠেই দেখি ছোটো ভাই সাইফের ফোন শান্ত ভাই দোকানে আসেন। আমি বললাম দোকান তো নাই সে কয় আরে দোকানেই জায়গাতেই আসেন। রিক্সা দিয়ে গেলাম। যেয়ে দুই বেকুব বসে থাকলাম। তারপর ও বললো রিক্সা দিয়ে আজিজ যাই আমিও সায় দিলাম বললাম টাকা নাই রিক্সা ভাড়া তোমার। রিক্সা দিয়ে যাচ্ছি আর তার ব্রাক ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েদের কি হালচাল তা নিয়ে আলাপ চলছে। আজিজে গিয়ে সাইফ তার এক মেয়ে বন্ধুর জন্য স্কেচবুক কিনলো। আমারে খালি জিগায় ভাইয়া এইটা বেশী নরমাল হয়ে যায় না। আমি সব বারেই বলি না ভালোই তো। আর সান্তনা দেই নাজিফা তুমাকে দিছে মানিব্যাগ তুমি দিবা ভ্যানিটি ব্যাগ তা বাদ দিয়া তুমি দেও স্কেচবুক এইটা কোনো কথা হইলো। ফেরার সময় দেখি ধানমন্ডী ৮য়ে শিরোনামহীণ গান গায়। রিক্সা দাড় করিয়ে কিছু সময় শুনলাম। শিরোনামহীণকে কেনো জানি এভারেজ মনে হলো। গেলাম কাদেরের চাপ পুলককে আনা হলো। বিল হবে আমার সাইফের ৬০:৪০ তে। খেলামও ব্যাপক। চাপ টাপ খেয়ে ওরা খেলো স্টারের লাচ্ছি। আমি লাচ্ছি খাই না কারন আমার আম্মু এতো ভালো এই জিনিস বানাতো তাই খেতাম না আর এখন কিনে খাবো। আজ সারাদিন আম্মুর সাথে ফোনে কথা হয় নাই। মোবাইলে আম্মুর সাথে কথা বলতে আমার ভালো লাগে না। অসহ্য এক পীড়া দেয় মন খারাপের। আম্মুকে মিস করি তাতো সবাই করে কিন্তু এখন এতো মিস করি যে ফোন দিয়ে তা বলতে গেলে দমবন্ধ হয়ে আসে!





শিরোনামহীনের লাস্ট এলবামটি বহু আগ্রহ নিয়ে কিনেছিলাম। হতাশ হয়েছি।
রবীন্দ্রনাথের গানের এলবাম টা করেই আমার মন উঠে গেছে তাদের উপর থেকে তার আগে বন্ধ জানালাটাও অতো বেশী ভালো লাগে নাই!
ইশ! আমি লেকের পারেই ছিলাম বিকাল থিকা রাত পর্যন্ত। বিল্ড বেটার বাংলাদেশ এর প্রোগ্রামে। টাইম অনেক ভাল কাটছে।
বাড়ি থেকে ঘুইরা আসেন, ভাল্লাগবো।
বাড়ীতে যাইতে অতো মন টানে না। তাও যাবো।
কেমন হলো প্রোগ্রামটা? পোস্ট দেও!
দশ বছর। এই দশ বছরে যাতনা মনে যন্ত্রনা মাঝে মাঝে দিয়ে যায়, মাঝে মাঝে নষ্টালজিকও করে। অবহেলায় কিভাবে গত অনেকটা বছর কাটিয়েছি সেটি মনে করে খুব খারাপও লাগে মাঝে মাঝে। যা কিছু করব ভেবেছিলাম, তা করা হয় নি, তেত্রিশ বছর কেটে যাবার মত দশা।
সময় এখনো আছে। লেগে থাকেন অনেক কিছু করতে পারবেনই! অনেক অনেক শুভকামনা ভাইয়া!
দারুণ দারুণ!
এরিনের মায়ের নামকরণের গল্প জানা গেল, এরিনেরটা কী?
এরিনের বাপের নাম বালুশা
এরিনের নাম এডিস বা তা থেকে এডিইচ্চা
আন্টির কোনো নাম দেই নাই!
নান্নুমিয়ার দোকান ছাড়া গতি কি তোমাদের গ্রুপের?
তোমার দিনলিপির বদৌলতে আশপাশের ওরাও দেখি এবি'র চেনা হয়ে যাচ্ছে!
"মা'রে মিস করি" কথাটা সরাসরি বলতে এত্তো লজ্জা করতো ফোন দিয়া বলতেই পারতাম না, কিন্তু আব্জব কত্তো কাউরে বলে ফেলতে পারি "মিস ইউ".।।। মা'রে বলতেই গলা ধরে যায়! শেষে এককাজ করতাম, এসেমেস দিতাম অনেক ফরমালি, " মিসেস চৌধুরী ব্লা ব্লা"
জানি না এই তো ধরেন আজ সকালে আমি কোথাও যাই নাই সারাদিন বাসায় থাকতে হবে। দেখা যাক কী হয়। চেনানোর জন্য লিখি না দিনলিপির কারনেই তারা এসে যায়। আর আপনারা ভালোবেসে পড়েন তাতেই ভালো লাগে। ভালো থাকেন আপু। মন দিয়া অফিস আদালত করেন!
চমৎকার লিখছেন বস্। পড়তে পড়তে নিজের পুরোনো দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছিলো।
ধন্য হই আপনার প্রশংসায়!
ধন্যবাদ হে মীর ভাই.।।।
আস্তে আস্তে বলি, শিরোনামহীন নিয়ে আমি অলওয়েজ হতাস। আরো হতাস দিগন্ত টিভিতে তাদের বার বার দেখে
আমার তো টিভিতে ডিসের লাইন নাই সাড়ে তিনমাস ধরে তাই দেখি না।
কি আর করবে বলেন সবারই এখন পেটে টান!
জনস্বার্থে যে সব কাজ করছে তার কারণে জনদুর্ভোগ যে কত তা যদি বুঝত ! কাল সকাল সাড়ে সাতটায় বের হলাম বাসা থেকে । বাড়ী আসলাম দুপুর একটায় ।
ট্রাডিশনাল মিলাদ আমার ভালো লাগে । অার টিভিতে ধর্ম নিয়া একেকজন একেকরকম বলে । পুরাই আউলা লাগে। আজকাল অার শুনি না তাই ।
তোমার মত কিছু বন্ধু যদি আমার থাকত! রিক্সায় ঘুরতাম, এখানে সেখানে যেতাম ! সুখের দিনগুলি না ফুরাক তোমার ।
শান্ত আমার বাড়ী ৬ নং রোডে, তুমি যে এলাকাতে থাকো সেই এলাকায়, বাড়ী থেকে অনেক দূরে আছি, তোমার লেখা পড়লে বাড়ীর ছোয়া পাই, সবসময় তোমার লেখা পড়ি।ভালো লাগে, আরো লিখো.।
আপনার নামটা জানতে পারলে ভালো লাগতো।
থ্যাঙ্কস এই সব ছাইপাশ লিখে আপনাদের ভালো লাগে তাতেই আমি খুশি!
চায়ের দোকান উইঠা গেলেও আমি কিনতু আপনারে আর চায়ের দোকান নিয়া একটা গল্প লেখার চিন্তা করতেছি ...
দেখি চায়ের দোকান উঠে কোনদিকে যায়!
লেইখা ফালান বস..
দেশে নতুন নতুন ইসলামিক কনসেনশাচ পয়দা হয়। আগে ইয়া নবী সালামু আলাইকা কইছি তা নাকি বিদয়াত। এইটা যে বিদয়াত তা আমি মাসিক মদীনা পড়ার আমল থেকেই জানি। তাও পড়ে গেছি টেনশন ছাড়া। কিন্তু এখনকার মুসলমানদের অনেক টেনশন। টিভিতে চাপদাড়ীওয়ালা আলেমরা কিসব নতুন নতুন কথা বলে লোকজন তা তামিল করতে মাঠে নামে। ধর্ম পালন জিনিসটা যদি এই নষ্ট ভ্রষ্ট টিভি চ্যানেলওয়ালাদের হাতেই ছেড়ে দেই তাহলে চলবে কিভাবে। আমি তাই ধর্মীয় বই পড়তে সবাইরে বলি। যত পড়া হবে তত আলোকিত হবে তত আলোকিত হবে ধার্মিক জীবন।
দারুণ বলেছেন। তবে ভাই, এসব চিন্তা বাদ দিয়ে বাস্তবে ফিরে আসুন। বর্তমানে ধর্ম হল সকল অধর্মের মূল। মাইন্ট কইরেন না। আর দয়া করে বই মেলায় এসে রোদেলা(স্টল নং ২০১-২) অথবা জিনিয়াস(স্টল নং ৩৬০-৬১) থেকে আমার লেখা হৃদয়ের এপিঠ-ওপিঠ কিনবেন। বেকারদের জন্য উৎসর্গ করা বইটি হয়তো আপনার ভালো লাগবে। আর পড়া শেষ হলে জানাবেন। যদি কিছু মনে না করেন, মূল্য ৮০ টাকা আপনাকে ফ্ল্যাক্সি করে পাঠিয়ে দেব। বেকারের দুঃখ আমি বুঝি।
আপনার বইটা অবশ্যই কিনবো। মনে রাখলাম।
স্বপন ভাই,, ইয়ে মানে আমারেও কি ফ্লেক্সি পাঠান যাবে :
মন্তব্য করুন