নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময় অংশ তিন!
ভেবেছিলাম শাহবাগ নিয়ে লিখবো না আর। কারন চারিদিকে এতো বেশী এই নামের লেখালেখি, তাদের এতো শতো ভালোবাসার আবেগের লেখার ভীড়ে আমার সরল দিনলিপির ঠায় কই? তাও লিখি কারন আমার লেখাতো কীবোর্ড টেপার কষ্ট ছাড়া আর কোনো কষ্ট নাই। লেখা যদিও অনেকে ভালো বলে তাও আমি আমার লেখার কোয়ালিটি নিয়া মোটেও সন্তুষ্ট না। তারপর আছে আবার বানান ভুল আর যতি চিন্হ ব্যাবহারের ভুল ভ্রান্তি। তাও লিখি কারন লেখাতেই যাত্রা লেখাতেই শেষ, আমি ভালো আছি এই নিয়ে বেশ!
কালকের দিন নিয়ে কিছু বলি। কাল ছিলো শুক্রবার মহাসমাবেশের দিন। সকাল থেকেই ব্যাপক রোদ। বাইরে বেরিয়েই দেখলাম এই রোদে আর জুম্মার নামাযের সময় শাহবাগে আর কয়জন থাকবে? তাও চায়ের দোকান থেকে বেড়িয়ে ডাইরেক্ট রিক্সায় শাহবাগ আসলাম। রিক্সা চালক নুর ইসলাম অতি দ্রুত চালায়। আর আমাকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলে "মামা সাবধানে বইসেন"। সে টয়োটা এলিয়নের সাথে রেসে নামলো জিতলো এলিয়ন কিন্তু সে এতো জোড়ে প্যাডেল মারছে কোয়াইট ইম্পসিবল কাজ। ছায়ানটের পাশ দিয়ে দেখলাম তাদের ছাত্র ছাত্রীরা মানব বন্ধন করছে। শাড়ী পাঞ্জাবী পরিহিত নারী পুরুষ গান গাচ্ছে তা দেখতেই সুখ। কিন্তু দেখলাম সেই রবীন্দ্র সংগীতেই? উনারা কি রবীন্দ্র সংগীত বাদে আর কোনো কিছুকে আপন ভাবেন না। রিক্সা দিয়ে শাহবাগ আসলাম মাত্র ২৫ মিনিটে। পারভীন আপুর সাথে দেখা হলো কথা হলো। সামুর হাসান মাহবুব আর কত নামের ব্লগারদের নাম জানলাম। শুভ ভাই আসলো। গেলাম ছবির হাট চা খেলাম। তারপর আবার শাহবাগ। একটু পরেই দেখি ভার্সিটির এক বড় ভাই গার্লফ্রেন্ড সহ। বললো শান্ত খেতে যাচ্ছি খাবি নাকি? আমি তো খেতেই চাই চলেন জলদি। আজিজের দোতালায় অন্তরে তে গেলাম সেখানে দেখি ব্যাপক ভীড়। খাবার খাচ্ছে আর সিট খালি হবার আশায় পাবলিক দাড়ায় আছে এই জিনিসটা বড়ই বিরক্তকর। আমরা গেলাম তিনতলা। সেখানে ছোট্ট দোকান তাও চেয়ার ফাকা। উনারা খেলো রুই মাছ আর ডাল। আর আমি খেলাম গরু, দুই পদের ভর্তা, ডাল। আমারই বিল ১১০ টাকা। যাই হোক বিলটা বড় ভাই ই দিলো। আমি তার তোহফা স্বরুপ তাদের রং চা খাওয়ালাম। খানাদানা শেষ, বিল ক্লিয়ার তাই আমি বললাম ভাইয়া আপনারা যান আমি একটু বিদিত তে ঘুরে আসি। এইরকম নোয়াখাইল্লা আচরন দেখে ভাইয়া তার গার্লফ্রেন্ড হতাশ কিনা বুঝলাম না। বিদিততে ঘুরা ফেরা করতে যেয়ে মনে হলো আরে বই মেলা চলে এখানে আমার কি কাজ? গেলাম ডিভিডির দোকানের কৃষ্ণকলির নতুন এলবাম বুনোফুল আর মনোসরনীর এলবামটা কিনতে। সেকেন্ডটা পেলাম আর একটু ডিভিডি গুলো হাতিয়ে এসে পড়লাম। আসতে একটু সময় লাগলো। এসে দেখি এতো মানুষ আর মানুষ পা ফেলার জায়গা নেই। চারিদিকে জনসমুদ্র। তার ভেতরে বক্তব্য চলছে বামেরাই বেশী সুযোগ পেলো বক্তৃতার। তার ভেতরে জাফর ইকবাল, আনোয়ার হোসেন, প্রান গোপাল দত্তের বয়ান। রাসেল ভাইয়ের উচ্চতার কারনেই তাকে দেখা যায় আর কাউকে দেখার উপায় নেই। বর্ন আসলো অনেক কষ্টে ক্রমাগত টেক্সট মেসেজে খুজে পাওয়া গেলো। কারন কল করে নেটওয়ার্ক পাওয়া বা কথা শুনানোর কোনো উপায় নাই। বর্নরে পাইলাম সাথে দেখি বর্নের বড় ভাই মর্মও হাজির। ভদ্রলোক অতি সুদর্শন। দেখে কিঞ্চিত হিংসা হলো। এতো মাইকে এতো আওয়াজে ছবির হাটে আশ্রয় নিলাম তাই শপথ মিস। অবশ্য দুঃখ পাওয়ার কিছু নাই কারন যার যার শপথ তার তার মনে। তানভীরা আপুর বই আসবে কিন্তু কাউকে পেলাম না নেয়ার মতো। যদিও উনি আমারে ফেসবুক মেসেজ দিয়া কইছিলো শান্ত সবাইরে নিয়া যাইও। কিন্তু সবাইরে পাই কই? যেয়ে দেখি সুমি আপু, সামিয়া, আন্টি সবাই আছে। বই কিনলাম। একটা বর্নরে গিফট দিলাম। বোনের পক্ষ হয়ে তারা চা খাওয়ালো। গল্প শুনলাম। বই মেলাতেই আমার বন্ধু নুর ফয়জুর রেজা আর তার বন্ধু আসলো। বন্ধুদের সাথে আমার ভালোমানুষী সুশীলতা কম। তাই আলাপের তুবড়ি ছুটলো। আমার আলাপে তারা এতোই খুশী যে চা খাওয়া দরকার তা ভুলেই ছিলাম। টিএসসিতে চা খেলাম। নুরের গল্প দিনকালের আপডেট জানলাম। নুরকে দেখলে আমার খুব হিংসে হয়। কত দারুন একটা হলে থাকে। হলের পাশের খেলার মাঠ ফুটবল খেলে। গনিতের মতো একটা জটিল বিষয়ে পড়ে কত আনন্দ। নুরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ডাইরেক্ট রিক্সায় দেলোয়ারের দোকান। সেখানে গিয়ে দেখি শাহবাগ থেকে কেবল ফিরলো পুলক, সাইফ, শান্তভাই, আদনান। আমি কেনো শাহবাগে তাদের সাথে যোগাযোগ করি না প্রতিদিন তা নিয়ে হতাশ। আমি বললাম ভাই আমার একা থাকতেই ভালো লাগবে। আপনাদের সাথে তো প্রতিদিনই তিন চারবার করে আড্ডা মারা হয়। শাহবাগে একত্রে থেকে আর কি করবো?
আজকের দিন শনিবার শুরু হলো। দেরীতেই উঠলাম। পিসিতে বসে পত্রিকা দেখলাম। পত্রিকা গুলার আন্দোলোন নিয়ে কাভারেজ দেখে ভালো লাগলো। এমনকি চোরের বাচ্চা চোর মাহমুদুর রহমানের ফ্যাসীবাদী তকমা পেয়েও শান্তি পেলাম। আমি চিন্তা করছিলাম মাহমুদুররা আগে ম্যাডামের খাস লোক ছিলো। এখন দেখি জামাতেরও আপন মানুষ। কিন্তু জামাত যদি হয় শুয়োর এরা সব শুয়োরের বাচ্চা। চায়ের দোকানে আসলাম। মুফতি ভাইয়ের সাথে কথা হলো। এবি ব্যাংকের মাঝারী গোছের কর্মকর্তা। উনি দেখি আন্দোলোন নিয়ে খুব পজ়েটিভ। বললো কত জ্যাম সহ্য করি, কত হেটে আসছি মতিঝিল থেকে এই সামান্য ভোগান্তি সহ্য না করলে এই দেশে থাকি কেমনি? উনি আন্দোলোনের লোক না। নয়টা পাচটা অফিস করা, ঘুমাতে পছন্দ করা আর বন্ধের দিন টিভি মুখস্থ করার লোক। সাইফ গত রাত থেকে ওখানে মেসেজ দিলো। আমি বললাম দেখা হবে না কিন্তু সাইফ তুমারে নিয়া আমি গর্বিত, কারন তুমি যে কড়া ভাষায় ব্রাক ইউনিভার্সিটির ফেসবুক পেজে আন্দোলোনে সবাইকে আসতে বলছো তা পইড়াই আমি মুগ্ধ। দুপুরে বাসায় আসলাম। কাপড় ধুইতে হইলো। যদিও আমার ধৌত করা কাপড় আমার আম্মুর ধোয়ার মতো পরিস্কার হয় না তবুও বুয়াদের চেয়ে ভালো ধুই। গোসল করে খেলাম এক গাদা ভাত। তারপর জলদি রেডি হয়ে রিক্সায় রওনা দিলাম। চল্লিশ টাকায় সিটি কলেজে নামলাম। নেমেই দিলাম হাটা। ১৫ মিনিট হেটেই ছবির হাট। জ্যোতি আপু আসলো। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত শাহবাগ আজকেও অনেক অনেক মানুষ। তার ভিতরে ইন্টারেসটিং তীরন্দাজ শিল্পী গোষ্টী। তারা গান গাচ্ছিলো বিখ্যাত গান সাম্পানওয়ালার সুরে 'ওরে কাদের মোল্লা তোর কেন ফাসি হইলো না? বিভিন্ন দলে পোলাপান এক হয়ে স্লোগান দিচ্ছে। এক স্থুলকায় মেয়ে স্লোগান দিচ্ছে লোকজন তা দেখে হাসছে। আমি মনে মনে হাসলাম পাবলিক পাবলিকই থাকলো। খালি ফ্যালফেল করে চেয়ে থাকা আর ডিএসএলার অন করে ছবি তুলা ছাড়া কাজ নাই। চারিদিকে এতো ডিএসএলআর পার্টি তাই মাঝে মাঝে হিসেব করতে ইচ্ছা করে কাদের সংখ্যা বেশী বাদামওয়ালা নাকি ডিএসএলার? যাই হোক হুজুগের আতিসায্যে বাংলাদেশী জনতা আন্দোলোনকে পহেলা বৈশাখ বানায় ফেলছে। এই চান্সে সাইড বিজনেস যারা করতেছে তাদের রমরমা ব্যাবসা। তবে চটপটি ব্যাবসায়ীরা একটু বিপদে কারন তাদের প্লাস্টিকের চেয়ারগুলোতে পাবলিক এমনি বসে থাকে। যাই হোক এ পর্যন্ত যতটুকু আন্দোলোন হয়েছে এরচেয়ে ভালো আর হবার কিছু ছিলো না। আমার ইসলামী শান্তসিষ্ট চিন্তাবিদ বন্ধুরা নানা ফতোয়া দিচ্ছে। তাদেরকে আমি শুধু একটাই কথা বলি আপনারা নিজেরা পালন করেন ঠিকাছে কিন্তু দেশে ৯৬ ভাগ লোকই আপনাদের মতো মুমীন মুসলমান না। তাই আগে হাজী শরীয়তউল্লাহ হন তারপর বেলাল্লাপনা নাচগানের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেন! নিজেরা ভন্ড তাই সবাইকে একি মানের ভন্ড না ভাবলেই ভালো!





মহাসমাবেশে যান নাই?
মহাসমাবেশ মানে শুক্র বারে তো সকাল থেকে রাত অবধি ওখানেই। এই ছবির হাট টিএসসি শাহবাগ জুড়েই হাটছি!
এই সিরিজে শাহবাগ অন্দোলনের কেন্দ্রভূমের গল্প আরো বেশি উঠিয়ে আনুক। যেহেতু তুমি রোজ অংশগ্রহণ করছো, আরও পর্যবেক্ষণ আশাকরি। নিজের দৈনন্দিনের গল্পের পাশাপাশি সেখানকার মানুষদের কথাবার্তায় এই সিরিজটা যেটুকু জমে উঠেছে তার আরো সম্প্রসারণ চাই।
এইটা ভালো বলছেন আপু আসলেই নিজের দিনযাপনের প্যাচাল বেশী হয়। চেষ্টা করবো।
অনেক অনেক শুভকামনা আপু!
শাহবাগ গেলে আর আসতে ইচ্ছা করে না । বাসায়ও টিভিতে দেখি একই খবর, আর ভাবি চলে কেন আসি! যারা সবসময় আছে তাদের স্যালূট ।
আজ অফিস ফাকি দেওয়ার চেষ্টা করেও হয়ত পারব না , দোয়া করো যেন কোন উপায়ে ছুটতে পারি ।
বিপ্লবী লাল সালাম!
শান্ত আপনাকে প্রতিদিন এই সিরিজের একটা করে পর্ব পোস্ট করতে হবে। এগুলো ইতিহাসের দলিল ছাড়া আর কিছু নয়। আরো লিখুন, বেশি বেশি করে লিখুন।
চেস্টা করবো!
অফিসে কামলা দিয়ে প্রতিদিন যাওয়া সম্ভব হয় না, মনটা পড়ে থাকে শাহবাগে। চলুক আপনার দিনলিপি।
তবুও এসে পইড়েন!
ইতিহাস কে কি জোর করে তৈরী করা যা্য? ইতিহাস তৈরী হয় তার আপন নিয়মে, সময়ের প্রয়োজনে...আর মহাকাল নির্ধারণ করে দেয় ইতিহাসের উপাদান ও সেই সব উপাদানের যাবতীয় কার্যপরিধি.... জোর করে তৈরী হওয়া ইতিহাস আর ভুলের ইতিহাস বিনির্মান একই জিনিস বৈকি, ব্যাপারটা অনেকটা পরিপুর্ণ মানব-আকৃতি লাভের আগেই কোন মানব-ভ্রুনকে টেনে হিঁচড়ে তার মায়ের পেট থেকে বের করে আনার মতো আর কি! .....দুধের স্বাদ কখনোই ঘোলে মিটে না, দুধ দুধই; আর ঘোল শুধুই ঘোল....
তবুও আমি আশাবাদী ভাইয়া। এই নতুন দিনের মিছিলই পথ দেখাবে!
খুব ভালো লাগলো।
থ্যাঙ্কস!
আবার কাল যামু
বিশেষ প্রতিনিধি!
লীনা আপুর সাথে একমত, আরও বিস্তারিত লেখেন।
'বর্ণ' হবে!
আইচ্ছা!
হাহাহাহাহা। আমিও এটা অনুভব করি, আজকাল নাকি আমার মা'ও রোজ রাতে খেতে ওখানে যান, ঘুরাঘুরি করতে, বলে এতো কিছু হয়, আসতে ইচ্ছে করে না বাসায়, দেখি ভাল লাগে
মন্তব্য করুন