ইউজার লগইন

আলামীন আশীষদের মতোন ছেলেরা যে কারনে বিদেশে যায়।

আজ সকাল থেকে উঠেই আমার মন মেজাজ ভালো না। একে তো পচিশে ফেব্রুয়ারী বিডিয়ার বিদ্রোহের নির্মমতার কথা তার সাথে সাথে বই মেলার স্টল আগুনে পোড়া আবার রাতে বাজে স্বপ্ন দেখে হতাশ, মন আজ সকাল থেকে উঠেই ভালো না।কি আর করার মানুষের জীবন এমনই। অনেক কিছুর মিলিয়ে একটা মন খারাপের অবস্থা তৈরী হয়। তার ভেতরেও সকালে একটা পোস্ট লিখলাম। উইন্ডো ট্যাব খুলে অনেক কিছুই পড়ছিলাম তার ফাকেই লিখে ফেললাম। মনে করলাম বেশী সময় তো লাগে নাই আর লগ আউটও হয় নাই এখানে থেকেই প্রকাশ করুন দিয়ে দেই সেভ না করেই। দিলাম আর দেখালো এক্সেস ডিনাইড, পোস্ট উধাও। মেজাজটা যত খারাপ হবার কথা ছিলো ওতো খারাপ হলো না। খালি দুই ঘন্টা সময় নস্টের জন্য নিজেকে অভিশাপ দিলাম। এই দুই ঘন্টা সময় দিয়ে বই পড়লে মাহবুব মোর্শেদের বই গুরু ও চন্ডালটা শেষ করে ফেলতে পারতাম। কি আর করার সময় খারাপ। আমারই শুধু এমন হয়। মন ভালো করতে গেলাম চায়ের দোকানে দেখি খা খা রোদ। শ্রমিক মিস্ত্রি লোকজন রুটি কলা খায়তেছে। বসার জায়গা নাই। আমাকে দেখার সাথে সাথেই সবাই উঠে পড়তে পরি মরি অবস্থা। আমি বলি এতো ব্যাস্ত কেন আপনারা? শান্তি মতো খান। আমার মতো ছাত্র শ্রেনীর বেকারদের এতো সম্মান দেখানোর দরকার নাই। বসেন। কিছু সময়ের মধ্যেই উনারা উঠে গেলেন। দেলোয়ার সাহেবের ওয়াইফ অংকে খুব কাচা। হিসাব করতে পারে না। আমি অবাক হলাম। কারন এই ধরনের কর্মজীবি সাংসারিক নিম্ন মধ্যবিত্ত মহিলারা হিসেবে খুব পটু থাকে। কিন্তু মামী উলটা। মামুলী হিসাবই মিলাতে পারছে না। আমি করে দিলাম হিসাব মুখে মুখে ১২৪ টাকা।

পাভেল আসলো। পাভেলের সাথে শাহবাগ নিয়ে অনেক কথা হলো। পাভেল আবার একটু নাস্তিক্য প্রবন লোক। তার সাথে সেই মুডেই কথা বলতে হয়। আমি ইদানিং বিভিন্ন মানুষের সাথে বিভিন্ন মুডে কথা বলি। যা উচিত না তাও বলি। কারন কারো মনে কষ্ট দেয়ার কাজ আমি করতে চাই না। পাভেলকে চা খাওয়ালাম। ওর নাকি ক্লাস আছে তাই চলে গেলো। আসলো পুলক ভার্সিটি থেকে। মিডটার্ম চলতেছে। প্রশ্ন দেখলাম সিভিল ড্রাফটিং নাকি কিসের এক্সাম ছিলো। খুব সোজা প্রশ্ন। একরাত পড়লে আমিও এইসব প্রশ্নের উত্তর জানা থাকবে লিখতে পারবো। পুলক এসেই বললো আইসক্রীম খাবেন। আমি কইলাম আইসক্রীম আমি কখনোই খাই না। যে মেয়ে অনেকদিন আগেই চলে গেলো তার এই সব চকবার মকবার করনেটো মরনেটো খুব প্রিয় ছিলো। তাই আমি গত ছয় বছরে আইসক্রীম বলা চলে খাই ই নাই। আর না খেতে না খেতে কেমন জানি বিতৃষ্ণা লেগে আছে এই জিনিসটার প্রতি। পুলকরে বললাম আপনার বিলবোর্ড মডেল বান্ধবীকে খাওয়াবেন। দেখবেন এখন তো পুলক বলতে অস্থির, কয়দিন পর বলবে পুলক ছাড়া আমার চলেই না। মামী আমার কথা শুইনা অতি খুশী। বলতেছে শান্ত মামা আপনি যা কথা জানেন না। পুলক আজকে খুব ব্যাস্ত। তার বন্ধু আলামীন চলে যাবে ওমানে। আমারও বন্ধু তাই মনটা হলো উদাস। আলামীন দারুন একটা ছেলে। বন্ধু হিসেবে দারুন, মানুষ হিসাবেও। কিন্তু গত ১ বছর ধরে ও একটু বাতিলের পথে। বাবা বুবা খায়, জুয়া খেলে, বিপিএল নিয়ে বাজী লাগে। তার বাপের হিউজ পয়সা। কাঠের ব্যাবসা, আটি বাজারে বিশাল জমি বাড়ী। আলামীনের ধারনা ছিলো তার বাপের ব্যবসা দেখেই তার দিন যাবে। তাই সেমিস্টার ফি দেয় নাই ইউল্যাবের। টাকা মেরে সুখের দিন পার করতো। পড়াশুনা ওখানেই শেষ। ১ বছর আগে করলো বিয়ে। আমি আর পুলকই তার এই উদ্যোগে থাকলাম। আর ছিলো তার কাজিন ইউসুফ ভাই। কিছুদিন পরেই দুইজনেরই ফ্যামিলি মেনে নিলো। খালি পুলক দাওয়াত পেলো না বিয়ের। তাতে পুলক একটু আপসেট ছিলো। আমি বুঝাইছি আপসেটের কিছু নাই। বন্ধুদের কাজ সাথে থাকা। সাথে ছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তার এতো প্রিয় আব্বাজান তারে আর লাইক করে না। ব্যাবসাতেও বসতে দেয় না। টাকা দেয় এইটা কর ওইটা কর। আলামীনও উদ্যোগী হয়ে একটা বিশাল পোল্ট্রী খামার দেয় বাড়ীতে। কিন্তু দুই তিন মাস ভালো চলার পরে মাইর খেয়ে যায়। তারপরই তারা ইয়াবা আর কেরানীগঞ্জে জুয়া খেলার দিন শুরু। বাবা যখন বুঝতে পারলো যে ছেলে বাতিলের পথে। তখনি তাকে হুট করে ওমানে পাঠায় দেয়ার কাজ শুরু। আজ ওমান চলে যাচ্ছে বাসা থেকে বলে দেয়া ৬ বছরে আসবি না। তার বউ যার বয়স মাত্র ২০ তার মনের কি অবস্থা আমি জানি না। কিন্তু ব্যাপারটা খুব কষ্টের যে আলামীনের মতো আইফোন ইউস করা ছেলেরা শেষমেষ লেবার হবে। দেখা যাক কতদুর কি হয়!

তিন মাস আগে আশীষ চলে গেলো। পুলকের কাজিন আমার বন্ধু। একসাথে আড্ডা মারা। ও চলে গেলো কারন ওর ডিগ্রীর পড়াশুনা ভালো লাগে না। এদিকে বাড়িতে যেয়ে যে ব্যবসা করবে তাও সম্ভব না। কারন ছাত্রলীগের বড় নেতা ও এলাকার। কিন্তু তার বাবা চেয়ারম্যান এবং রানিং এমপির সাথে তাদের গন্ডগোল। তাই বাড়িতে স্থায়ী ভাবে থাকলেই বিপদ আসন্ন। হয় র‌্যাবের ক্রস ফায়ার নয়তো চরমপন্থীদের দিয়ে খুন করানো যে কোনো কিছুই হতে পারে। এই ভয়ে তার ঢাকায় থাকা। কিন্তু ঢাকায় থাকতে ওর মন টানে না। পুলকের আব্বা জাপানে পাঠানোর চেষ্টা করলো পারে নাই। তাই অল্প টাকায় ওমানে পাঠানো লেবার হিসেবে। আজ পুলক আশীষের জন্য একটা চিঠি লিখছে তার লাইন গুলা ছিলো এমনই

"যতদিন ঢাকায় ছিলি আমি আর সৌম্য তোকে দালাল বলে পচাতাম। (দালাল বলার কারন আমাদের সব কাজের খবর তুই চাচাদের দিয়ে দিতি।) আজ আমার আর সৌম্যএর খুব ইচ্ছা করে চিৎকার করে কাদঁতে কাদঁতে ডাকতে যে দালাল তুই কই? শান্ত ভাই প্রায়ই জিগেষ করে আশীষের কথা। তখন আমার খুব ইচ্ছা করে দাড়ান ফোন দেই এখনি আসতে বলতেছি। কিন্তু পারি না কিছুই। ভালো থাকিস। মন খারাপ করিস না"

এই চিঠিটা পড়ে আমারই কান্না আটকাচ্ছে না আর পুলকের কি অবস্থা জানি না।

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

লীনা দিলরুবা's picture


লেখা পড়ে আলামীন, আশীষ দুজনার জন্যই খারাপ লাগছে।

আজ আমার আর সৌম্য এর খুব ইচ্ছা করে চিৎকার করে কাদঁতে কাদঁতে ডাকতে যে দালাল তুই কই?

পুলকের চিঠির এই লাইনটা অসাধারণ হয়েছে।

আরাফাত শান্ত's picture


এই লাইনটা যখন পিসিতে লিখছি তখনো আমার চোখে পানি! Sad

লীনা দিলরুবা's picture


চিনি না, জানি না। আমারও...।

আরাফাত শান্ত's picture


কি আর করার আছে আপু। অজস্র দুঃখবোধ আর মন খারাপ নিয়েই দিনগুলো পার করা!

জ্যোতি's picture


কত কিছু যে বদলে যায় ! মায়া ভালোবাসা ছেড়ে দূরে যেতেই হয় । তবু ভালো থাকুক । বাতিলের খাতায় নাম না থাকুক ।
মন খারাপ করো না ।

আরাফাত শান্ত's picture


আমার মন বেশী একটা খারাপ না। তবে পুলকের চিঠিটা পড়ে কান্না আটকাতে পারি নাই!

টুটুল's picture


ভালবাসা খুব খারাপরে... খুব খারাপ Sad

আরাফাত শান্ত's picture


তাও এই দেশে এইটাই একমাত্র জিনিস যা সহযে পাওয়া যায় না!

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


মন খারাপ করা লেখা! Sad

১০

আরাফাত শান্ত's picture


Sad

১১

একজন মায়াবতী's picture


Sad

১২

আরাফাত শান্ত's picture


Sad

১৩

মীর's picture


সময়টাই মন খারাপ করা আসলে।

১৪

আরাফাত শান্ত's picture


হুমম Sad

১৫

নিঃসঙ্গতা's picture


আপনি একটানে কেমন করে যেন লিখে যান, ভালোই লাগে পড়তে মাঝে মাঝেসাঝে ... ..

১৬

আরাফাত শান্ত's picture


ধন্য হলাম এই মাঝে সাজের ভালো লাগায়!

১৭

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


ভালোবাসা খুব খুব খারাপ.. Sad

১৮

আরাফাত শান্ত's picture


বেশি খারাপ না Smile

১৯

শাপলা's picture


পড়ে মনটা কহারাপ হয়ে গেল।

অনেক ভালো লাগল তবুও।

২০

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস আপু।
নিয়মিত লেইখেন এখানে!

২১

শওকত মাসুম's picture


বাহ! দারুণ

২২

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস বস, আপনারটা বেশী ভালো!

২৩

তানবীরা's picture


কত কিছু যে বদলে যায় ! মায়া ভালোবাসা ছেড়ে দূরে যেতেই হয় । তবু ভালো থাকুক । বাতিলের খাতায় নাম না থাকুক ।
মন খারাপ করো না ।

২৪

আরাফাত শান্ত's picture


দেখা যাক কি হয়।
আমার ওতো মন খারাপ না শুধু পুলকের চিঠি পড়েই কাদছিলাম Sad

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!