৭ই মার্চ!
অনেক দিন ধরে রাতে মশার কামড় খেতে খেতে পোস্ট দেই না। আজ কোনো অদ্ভুত কারনে মনটা খুব খারাপ। তাই ভাবলাম লিখে ফেলি পোস্ট। যদিও মন খারাপ থাকার কোনো কারনই নাই। বন্ধু আড্ডায় দহরম মহরম জীবন। খাচ্ছি দাচ্ছি ঘুমাচ্ছি আর আড্ডা মারছি। দিন চলে যাচ্ছে খুব দ্রুত। সকাল শুরু হয় মাঝ রাতে ঘুমিয়ে পড়ি, সারাদিন বলার মতো কিছুই করিনা তাও দিন যাচ্ছে হাসতে খেলতে খেলতে। আমি জানি যে জীবন আমি চালাই তা অনেকেই ইর্ষা হয়। কিন্তু এতো ভালো থাকার ভিতরেও, অনেক আড্ডার ভীড়েও নিজেকে কেমন জানি অবসাদ গ্রস্থ ক্লান্ত লাগে। এই কথা কোনো বন্ধুকে বললে চিরাচরিত হাসি দিয়ে বলবে প্রেম কর, একবছরের মধ্যে বিয়ে কর। আমি হেসেই উড়িয়ে দেই। নিজেই বাচি না নিজের টেনশনে তারপর আবার প্রেম পীরিতি। এই প্রেম পীরিতির মাদার'স ফাদার। এই সব ইমোশনাল এটাচমেন্ট এখন আর আমার পোষায় না।
আজ ছিলো সাতই মার্চ। এই দিনটা আমাকে খুব টেনশনে ফেলে দেয়। পনোরোই আগষ্ট বা জন্মদিনে মাইকের শব্দ দুষিত ভাষন আমাকে পীড়িত করলেও এই দিন আমি বারবার খালি এই ভাষনটাই শুনতে চাই। বদরুদ্দীন ওমরের কোনো এক বই তে পড়ছিলাম সুস্পষ্ট নির্দেশনা হীন এই ভাষনে তিনি নাকি হতাশ হয়েও মুগ্ধ হইছিলেন যে এরকম ভাষন তিনি গোটা জীবনে আর একটাও শুনেন নাই। আমিও যখন ভাষনটা কোথাও পড়ি বা টুকটাক শুনি তাতেই এই ভাষনের প্রতিটা শব্দ চয়নে আমি মুগ্ধ হই মাঝে মধ্যে হেসে উঠি। কোনো বন্ধু যখন আমার কথা না শুনে তখন আমি অনেকদিন ধরেই এই লাইনটা বলি তিনি আমার কথা শুনলেন না! তিনি শুনলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। প্রত্যেকটা লাইন প্রত্যেকটা কথা অন্তরে বিদ্ধ করে চোখে পানি এনে দেয়। আমার ধারনা যারা সাতই মার্চের ভাষন ফিল করতে পারে না তাদের দেশপ্রেমের অনেকটা ঘাটতি আছে। আমি আওয়ামীলীগের কোনো কালেই পাড় সমর্থক না। কিন্তু এই ভাষন শুধু আওয়ামীলীগের একজন নেতার ভাষন না এইটা একটা জাতির কন্ঠস্বর। এই কন্ঠস্বর এই বানী আজও প্রাসংগিক। যুগে যুগে তা অন্তরে থাকবে এই জাতির মনে। আহমদ ছফার একটা অসাধারন প্রবন্ধ আছে জাতির পিতাকে নিয়ে। অনেকেই উনাকে নিয়ে পুস্তক বই লিখে সয়লাভ করেছেন। কিন্তু একটা মাত্র প্রবন্ধে ছফা সাহেব যেভাবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখেছেন বাজী ধরে বলতে পারি তা অনেকে মনিষীর পক্ষেই সম্ভব না। আমার বাসায় কোনো বুক শেল্ভ নাই। তাই বইটা কোন ব্যাগে রাখছি নাকি কাউকে দিয়ে নেয়া হয় নাই তা এখন মনে পড়ছে না। খুব ভালো হতো যদি সেই প্রবন্ধ থেকে দু চারটা লাইন কোড করতে পারতাম। আগের প্রসঙ্গেই আসি এই যে সাতই মার্চের ভাষন এর যে ন্যায্যতার প্রখরতা ও সরলতার দীপ্তি আছে তা বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে চলে গেছে অনেক কাল আগেই। মশিউল আলমের উইকিপিডিয়ায় বাংলাদেশ বইটা পড়ে আমি অবাক হচ্ছিলাম আর চমকে উঠছি এই কোন পলিটিক্যাল নেতাদের হাতে দেশ বন্ধি। দাম একটু বেশী হলেও বইটা সবার পড়া উচিত। পড়লেই ভাবা যাবে এ কোন স্বাধীনতা আর সভেরেনটির ফাকা বুলি সবাই আমরা কপচাই আর অভাগা দেশটা কিভাবে চলে? জুলিয়ান আসাঞ্জ ছিলো বলেই এতো কিছু জানতে পারলাম। নয়তো এইসব তথ্য জানতাম আরো ৪০ বছর পরে। তাই সাতই মার্চের এই কারনেই আত্মস্থ করা জরুরী যে আমাদের অনেক কাজ করার বাকী। সংগ্রামের এখনো অনেক পথ বাকী। ঘরে দুর্গ বারবার গড়ে তুলতে হবে। দাবায়া কেউ যেনো না রাখতে পারে তার জন্য আরো অনেক বেশী দেশকে নিয়ে ভেবে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। তা সংঘবদ্ধ ভাবে সবাইকেই। বিচ্ছিন্ন হলে দিন শুধু চলেই যাবে।
ফরহাদ মজাহারকে আমি কখনোই খুব বেশী অপছন্দ করি নাই। আগে নানান বিষয়ে তার বিকল্প ভাবনায় মুগ্ধ হতাম। তখন আমি নিতান্তই সদ্য কিশোর পার চিটাগাং থেকে আসা ভার্সিটি ভর্তি হওয়া তরুন। ফরহাদ মজাহারকে কই জানি দেখলাম দাঁড়িয়ে স্যালুটের ভংগিতে সালাম দিলাম। উনি আমার বিষয় আষয় জিগেষ করে ছেড়ে দিলেন। সেইদিন মনে হচ্ছিলো অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন। খুশীতে মানুষ থাকে আটখানা আমি ছিলাম সেইদিন বারো খানা। অনেক ছাগু টলারেন্স দেখিয়েও উনাকে আমার এতো অপছন্দ হয় নাই এতোদিন। কিন্তু এই সাতদিন ধরে উনার নাম শুনলেই পিত্তি জ্বলে। মনে মনে ঢাকায় এসে যত গালি শিখছিলাম সব রাউন্ড করে করে দেই। অথচ আমি যেইদিন উনার লেফটেনেন্ট জেনারেল ট্রাক কবিতাটা পড়ি কেনো জানি না বুঝেই খুব মন খারাপে কেদে ফেলি। ভাগ্যের কি পরিহাস এখন! চোখের সামনে নানান মানুষ ছাগু হয়ে যাচ্ছে, ছুপা ছাগু থাকলে মুখোশ বেড়িয়ে আসছে বড়ই ভয়ানক এই সময়। আমার এক বন্ধুর সাথে শুধুমাত্র শাহবাগ টাহবাগ নিয়ে সম্পর্কের শেষ প্রান্তে। অথচ কত দারুন বন্ধু ছিলাম আমরা। রাজনীতি ধার্মিকতা এই সবের জন্য যদি বন্ধু হারাতে হয় ব্যাপারটা খুব কষ্টের। অনেকে এইটা কে খুব বড় জিনিস মনে করে যে অমুক ভাবনার কারনে ওর সাথে আমার যোগাযোগ নাই। কিন্তু আমার কাছে বন্ধুত্ব হারানোর চেয়ে বেদনার কিছু নাই তা যে কারনেই হোক। কারন প্রত্যেকটা বন্ধুই একেকটা অমুল্য রত্ন। রত্ন হারানোর বেদনা সবাই বুঝে না!
ঢাকায় ইদানিং প্রচুর নতুন রিক্সাওয়ালা। এরা কেউ কিছুই চেনে না। ভাড়া চায় উলটা পালটা। আমি সাধারন পথ না চেনা রিক্সাওয়ালদের নেই না। কারন এরা ন্যায্যভাড়ার কথা বলে কিন্তু দেয়ার পরে অসন্তুষ্ট হয়। আর সব সময় ভাবে এদের ঠকাচ্ছি। পয়সা দিয়ে রিক্সা ভাড়া দিবো এতো টেনশনে কেনো যাবো? কিন্তু পথ ঘাট চেনা রিক্সাওয়ালাদের এখন পাওয়াই যায় না। সব কেমন জানি আন্দাজি ঢিল ছোড়া লোক। রিক্সায় উঠে আপনি সামান্য অন্য মনস্ক হলেই তারা কই দিয়া যে যাবে নিজেই অবাক হবেন। আর এক ধ্যানে যদি মোবাইলে মনের সুখে ফেসবুক টেসবুক চালান তাহলে তো দেখবেন আপনি যাইতে চাইছেন নিউমার্কেট নিয়া গেছে বসুন্ধরা সিটি তারপর দাত কেলায়া হাসি। ভাগ্যিস আমার সাথে কখনো এমন হয় নাই। নান্নু সাহেবের দোকান ভেঙ্গে দেবার পর থেকে আমি আমার চিন পরিচয়ের যে রিক্সার সার্কেল ছিলো তাদের সবাইকে হারাইছি। তাই এখন এই সব অচেনা রিক্সাওয়ালাদের পথ চেনাতে চেনাতে নিয়ে যাই আর তাদের নানান গল্প হজম করি। তারা যদি ব্লগে লিখতো তবে খুব নাম করতো। একেকজনের ফিলোসফি একেক রকম। এদের কারো সমিতির কিস্তি দিতে হবে তাই অনেক টাকা চাই, কারো খেয়ে পড়ে বাচলেই চলে, কেউ আসছে জীবনে ঢাকা শহর আসে নাই তাই নানান জিনিস দেখবে বলে এমনকি প্রেমিকার বিয়ে হয়ে গেছে বলে সেই দু;খ ভুলে থাকতেও আসে অনেকে। এই বিচিত্র মানুষদের বিচিত্র ভাবনা আমাকে সম্মোহিত করে। আজ যখন হরতালের দুপুরে এক রিক্সায় আমি আর এলাকার ছোটোভাই সাইফ রিক্সায় যাচ্ছিলাম, রিক্সাওয়ালা হুদেই নানান আতংকের কথা বলা শুরু করলো। ওমুক জায়গায় গুলি তমুক জায়গায় ককটেইল এইসব শুনে অবাক হচ্ছিলাম। পরে সে দুর্ভাগ্য ক্রমে এক ভ্যানের সাথে লাগিয়ে দিয়ে ঝাঝিম ছিড়ে ফেলে। সাইফ ভ্যানওয়ালা ও রিক্সাওয়ালা যে ধমকটা দিলো- এই সামান্য ধমকেই তারা কাইত। সারাপথ আর কোনো প্যাচাল নাই। হরতালের দিনে ফাকা শহরে রিক্সায় ঘুরতে খুব মজা। এতো পুলিশ লাঠি সোটা নিয়ে দাঁড়িয়ে তার উপর দিয়ে আপনার রিক্সা লেগুনা গতিতে চলছে ভাবতেই সুখ। স্যান্ডেল ছিড়ে গেছে। স্যান্ডেল কিনবো বলে টাকা জমিয়ে সেই টাকা ভেঙ্গে ফেললাম। সাধারনত আমি প্রচুর হাটি তাই ১২০০-১৫০০ র যত স্যান্ডেল একটাও তিন মাসের বেশী পড়তে পারি নাই। এই দু;খে এলিফেন্ট রোডের ফুটপাত থেকে ১৫০ টাকা দরে তিনজোড়া স্যান্ডেল কিনলাম। তিন মাস পড়তে পারলেই অনেক। এক হাজার টাকা নগদে লাভ। এলিফেন্ট রোডে গুল্লি সিঙ্গারা পাওয়া যায়। হেভী টেস্ট, তা খেতে খেতে রিক্সায় সাইফের গল্প শুনতে শুনতে এলাকায়।
ঢাকা শহরে রিক্সাওয়ালাদের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রচুর নতুন মানুষের আমদানি ঘটে। তা মনে হয় আরো বাড়ছে। সবাই এখন ঢাকায় পড়তে চায়, থাকতে চায়। ঢাকাতেই সব সুযোগ আর সম্ভাবনা। কিন্তু এই শহরটাকে কেউ ওউন করে না। সবাই টিস্যু পেপারের মতো ইউস করে ছেড়ে ফেলে দেয়। কিন্তু আজ হঠাত করেই রিক্সা ভ্রমনে আমার ঢাকা প্রেম উতলে উঠলো। কারন চিটাগাংয়ে থাকলে বন্ধু বান্ধব নিয়ে হয়তো দারুন থাকতাম। টিউশনী কিংবা প্রেম পীরিতে করে ভালোই কাটতো সময়। সমুদ্র দেখার আনন্দে বারবার দিশেহারা হতাম। তারপরেও ঢাকাতেই ভালো আছি। সব কিছুই সেন্টার। ব্লগে লিখছি ভালো ভার্সিটিতে পড়ছি নতুন পুরাই বই পড়ছি, মানুষদের চিনছি এই আনন্দ অপরিসীম। ঢাকার বাতাস যতই বিষাক্ত হোক, পরিবেশ যতই দুষিত হোক আমি তো বেচে আছি প্রতি দিনই নতুন নতুন সকালে নানান কিছু পড়ছি ব্যস্ত হচ্ছি এই জীবন অসাধারনে। এই জীবন চিটাগাং বা খুলনায় নেই। এই যে একরুমের বাসায় থাকি। একটা ইন্টারভিউ দিতে বন্ধু দুইজন আসছে। তাদের আতিথেয়তায় মুগ্ধ করছি এই জিনিস চিটাগাংয়ে ভাবাই যায় না। আমার এই এক রুমের বাসায় কত মানুষের কত উপকার করছে বা করলো তা ভেবে নিজেই পুলকিত হই! আজ সারাদিন তেমন কিছুই করি নাই। দুপুরে রিক্সা ভ্রমনে স্যান্ডেল কেনা, ক্লাস করা, চায়ের দোকানে আড্ডা দেয়া তারপর বাসায় ফিরে মশার কামড় খেতে খেতে পোষ্ট লেখা এই তো! টিভি নাই। আজ থেকে খেলা। মনটা ব্যাপক উদাস!





ফার্স্ট কমেন্ট।
পোস্ট হইসে বরাবরের মতোই। ইদানিং তোমার সব পোস্টে গার্ল ফ্রেন্ড থাকা না থাকার গল্প, ইমোশনাল এটাচমেন্ট না থাকার কথা বার্তা থাকে। ব্যাপার কি
সামনে থেকে আর লিখবো না। নো প্রবলেম।
ভালো থাকো। মন দিয়া পড়া লেখা করো শুভকামনা!
সামনে আরো আসুক।
শান্ত ভাই এর একটা দুষ্টু মিষ্টি পেম হপে, আমরা সবাই মিলে জ্বালাবো। এটাই কাম্য।
প্রচুর হিডেন ছাগুর লেজ বের হয়ে আসছে। কাদের সিদ্দিকী তাদের মধ্যে অন্যতম। বন্ধু-বান্ধবতো বটেই, সার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও আমি হিডেন ছাগু পেয়েছি।
ফেসবুকের ফ্রেন্ডলিস্টে সবারই একটা করে থরো রিভিশন দেয়া জরুরি।
রিভিশন সত্তেও বাস্তব জীবনে বা ফেসবুকে চাই বা না চাইতেও ছাগুরা থেকেই যায়। আর হিডেনরা যখন বন্ধু হয় তখন করার তেমন কিছু থাকেনা!
এটা অনুভব করা খুবই ভালো। কেন জানিনা ঢাকায় আমার কিছুই ভালো লাগে না অনেকদিন। এত মানুষ, এতকিছু! তবু আমার জন্য যেন কোথাও কেউ নেই, কিছুই নেই।
ভালো থাক শান্ত, ভালো ভালো লেখ
আমারো ভালো লাগে না ওতো তাও খুজে নেই। কি আর করার।
ভালো থাকেন আপু। দোয়া রইলো জোরছে!
এই নিরাশার আর নির্মম দিনেও মানুষ জীবন চালায়, চালাতে হয় বলে...।
সাত-ই মার্চ-এর বঙ্গবন্ধুর ভাষণ যতবার শুনেছি, চোখে পানি এসেছে। এই মানুষটা...এই মানুষটা...।
হ আপু এই চালানোর নামই বেচে থাকা!
এই জাতির কত বড় দুর্ভাগ্য এরকম একজন মানুষকে টেনশন ছাড়া সপরিবারে হত্যা করলো!
‘ল্যাঞ্জা ইস ভেরি ডিফিকাল্ট টু হাইড’- অনেকেরই মুখোশের আড়ালের চেহারাগুলো ইদানিং বেড়িয়ে আসছে। এদের চিনে রাখা উচিৎ ভবিষ্যতের জন্য।
সহমত ভাইয়া। ভালো থাকেন। সাবধানে!
বুঝতেছি

মন্তব্য করুন