ইউজার লগইন

বাড়ী এলাম!

বাড়ীতে আসছি দুই আড়াই দিন হয়ে গেলো। আসার সময় প্ল্যান ছিলো বাড়ী থেকে প্রতিদিন পোষ্ট লিখবো। প্রতিদিনের দিন যাপন সাথে টিভি দেখা ও ঘুরে বেড়ানো নিয়ে ভালোই লেখা যাবে পোষ্ট। কিন্তু মানুষ ভাবে এক হয় আরেক। শুক্রবার দুপুরে বাড়ীতে আসার পর থেকে আমার মোবাইল দিয়ে লিখতেই ইচ্ছা করছে না। আর কীপ্যাড দিয়ে লিখলে এখন কেনো জানি না হাত ব্যাথা করে। এন্ড্রয়েড দিয়ে যে লিখবো সেরকম চার্জই থাকে না। আর কি নিয়ে লিখবো তা নিয়েও চিন্তা। কারন টিভি আজ বিকালেই একটু দেখার কপাল হলো। তার আগের দুইদিন তো ডিসের লাইনেই কারেন্ট ছিলো না। আমি বাড়ীতে আসলে সবসময় এমন হয়। হয় কারেন্ট থাকে না, নয়তো কারেন্ট থাকলে ডিস থাকে না। যে কারেন্ট আসে তা দিয়ে শুধু মোবাইলেই চার্জ দেয়া যায়। আর কিছুই করার উপায় নাই। আমাদের গ্রামে যাদের আত্মীয় ইতালি পার্টি তাদের সবারই দুইটা তিনটা করে ফ্রিজ। যেনো একটা নষ্ট হলে আরেকটা বেকাপ দেয়। আমাদের মরা ধরা ফ্রিজ যা বাইশ বছর ধরে পড়ে আছে। প্রতিবার বাড়ীতে আসলেই আম্মুর দুশ্চিন্তার কথা শুনি। আমি অবাক হই ফ্রীজটার জানের এতো জোর দেখে। কারন এতো ইলেক্ট্রিসিটি বিপর্যয়ে টিকে আছে কিভাবে? এই আধা গ্রাম আর আধা শহরের মানুষ গুলা এই ফ্রীজের মতোই। এতো সমস্যা তবু কোনো কিছুতেই তাদের কম্প্লেইন নাই। দিন গেলেই হলো। অন্ধকারে মশারীর ভেতর বসে এই পোষ্ট লিখছি। মোবাইলের ছোট্ট স্ক্রীনে কতদুর কি লেখা যাবে আর কতো ভুল হবে তা নিয়ে বলা মুশকিল তাও শুরু করি। শুক্রবার সকালে কাক ডাকা ভোরে মামার কারনে ঘুম থেকে উঠলাম। যদিও আমার দুই মোবাইলেই এলার্ম দেয়া ছিলো তার আগেই উঠলাম। ফজরের নামায় পড়তে ইচ্ছা করলো না। কারন ট্রেন জার্নিতে জুম্মার নামাযই পড়া হবে না। আর ফজর পড়ে লাভ কি! গোসল করে একটু পিসিতে বসেই সাতটায় রওনা দিলাম। ট্রেন সাড়ে নয়টায়। সিএন্জি ভাড়া চায় দুশো টাকা। তাই উঠলাম বাসে। বাসের নাম রংধনু। শুক্রবার সকালে যাত্রী পাবে কই? তাও তারা থামিয়ে ডাকতেই থাকলো। এমন অবস্থা যে পারলে ঘর থেকে ডেকে আনে। রাস্তাঘাট সব ফাকা। তাই আটটাতেই পৌছলাম। প্লাটফর্মে ঢুকেই দেখি তিস্তা কেবল আসলো। আমার মন খারাপ হলো। কবে যে আসে ট্রেন। মোবাইল করলাম এক বন্ধুকে সে সায়দাবাদে নেমে কোষ্টারে উঠছে। কোষ্টার দেখা গেলো কমলাপুর দিয়েই যাচ্ছে তাই ধপ করে নেমে কথা বলতে বলতে হাজির আমার সামনে। হোয়াট এ সারপ্রাইজ! দারুন আড্ডা হলো সাথে চা খাওয়া। আরো পরিচিত অর্ধ পরিচিত তিন বন্ধুর সাথে দেখা হলো। নাস্তা খাওয়ালাম ওদের সবাইকেই। নয়টা দশে আসলাম প্লাটফর্মে দেখি ট্রেন হাজির। দশটার দিকে ছাড়লো। জানলার পাশে সিট। পাশে এক বেকুব বসা। জানতাম না তার টিকেট নাই। পিছে এক মহিলা বসা। তার ভাই তাকে বলে দিছে জানলা খুলবা না, শিবির ইট পাটকেল মারবে। বেচারী সারাটা পথ ঘেমে ঘেমে একাকার। আমি আর কি জানলার পাশে বসে ঢাকা গাজীপুর দেখছিলাম। দারুন হেডফোনে অনুপম আর আর্টসেল চলছিলো। সাইফ টুল নামের এক ব্যান্ডের ডজন খানেক গান দিছিলো। সাইফের ভাষাতেই বলি অস্থির। ময়মনসিং আসলাম। এক কলাওয়ালা উঠলো ডজন দশটাকা। পাবলিক সব বান্দরের মতো কলা খাইলো। আর আমি চায়ের আশায় বসে ছিলাম। একবার পেয়েই দুই কাপ চা মেরে দিলাম। আর কিছু খাই নি। নিউএইজ পড়ে মুখস্থ করছি। তিনটায় নামলাম। নেমেই রিকশা তারপর বারো মিনিট হাটলেই বাড়ী। খুব কাছেই। বাড়ীতে এসেই আম্মুর ডায়লগ শুকায়া গেছোস। আরো নানা খোজখবর বিনিময়। গল্পের ফাকেই টিভি খুললাম দেখি ডিস নাই। কি আর করা আম্মুর হাতের দারুন সব রান্না আর চা বানিয়ে খেতে খেতেই দিন চলে গেলো। ডিস নাই কারেন্ট নাই তাই আলমারী থেকে শিব্রাম আর জীবানানন্দ নেমে পড়তে বসি। কবিতা আমি ওতো ভালো বুঝি না। লীনাপুর মতো কবিতার স্বাদও নিতে জানি না। তাও ভালো লাগে পড়তে। আর শিব্রামের গল্পতো বহুবার পড়া তাও পড়ি। এদিকে বাবা মায়ের সাথে গল্পও চলে। তাদের চেনাজানা নানা আপডেট দেই। আগ্রহ ভরে শুনে। উনাদেরও গল্প শুনি। এক সকালে জামালপুরে যাই কারন আব্বু সেট কিনবে। নরমাল নোকিয়া সেট আব্বুর চয়েজ হয় না। তাই সিম্ফোনী কিনে দেই। ফেরার সময় একসাথে আব্বু আমি চা খাই। বাসায় ফিরে ঢাকা থেকে আনা ফয়েজ আহমদের ট্রিলজি পড়া শুরু করে। একদিনেই এক পার্ট শেষ। খাওয়া ঘুম আর নামাযেই যায় সময়। বাড়ীতে আসলে নামায খুব মন দিয়ে পড়তে হয়। কারন তাতে আম্মু খুশী কিন্তু আল্লাহ কতোটা খুশী হয় জানি না। বিশেষ কয়েকজনের জন্য অনেক দোয়া করি। আজ বিকেল চারটায় ডিস আসে। দশ মিনিট পরেই কারেন্ট নাই। চ্যানেল আইয়ে দিনাত জাহান মুন্নী গান গায় লাইভ। দেশের গান এক বার যেতে দে না, কোনো যুতেরই হয় নাই। চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরে শুন্যর গাওয়া খাচার ভেতরে অচিন পাখি দেখায়। ফিউশনের নামে কি যে বাজে গাইলো। ডিসটাও চলে গেলো। পাচটা সাড়ে পাচটায় আবার আসলো। সংবাদ দেখলাম। ভিডিও চ্যানেলে হচ্ছিলো বোঝে না সে বুঝে না। কিছু অংশ দেখলাম ফাউল আর অভিনয়ে অনেক ঘাটতি। চা বানালাম। সময়ে খবর দেখলাম। খালেদা জিয়ার বাল ছাল ভাষন নিয়েই সব আয়োজন। কারেন্ট গেলো। ভাইয়া ভাবী ফোন দিলো। অনেক আলাপ হলো।স্টার প্লাসে কি জানি এওয়ার্ড দেখাচ্ছে। সালমানের ফাতরামিতে চুড়ান্ত। ছোট্ট বাচ্চা দাবাংয়ের ডায়লগ দেয় তাতেই সবাই কি খুশি! আয়ুস্মান আর ইলিয়েনা পুরুস্কার পেলো আমি অবাক হচ্ছিলাম এরা সবাই এতো হাসে কেন! হাসার তো কিছু নাই। তখনি কারেন্ট গেলো তিন ঘন্টা যাবত নাই। খেয়ে দেয়ে অন্ধকারে বানান ভুল আর বাক্য ভুলে লিখলাম এই পোষ্ট মোবাইলে।

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


এই আধা গ্রাম আর আধা শহরের মানুষ গুলা এই ফ্রীজের মতোই। এতো সমস্যা তবু কোনো কিছুতেই তাদের কম্প্লেইন নাই। দিন গেলেই হলো।

দারুন বলছেন ভাই।

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস ভাইয়া!

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


এই আধা গ্রাম আর আধা শহরের মানুষ গুলা এই ফ্রীজের মতোই। এতো সমস্যা তবু কোনো কিছুতেই তাদের কম্প্লেইন নাই।

এই অবস্থা শুধু গ্রামেই নয়, সবখানেই। অনেককিছুই আমাদের মুখবুজে সহ্য করা ছাড়া যেন আর কিছুই করার নেই। বাবা-মায়ের সাথে ভাল কাটুক তোমার সময়।

আরাফাত শান্ত's picture


আপনারও ভালো কাটুক সময়!

জ্যোতি's picture


মা খুশি হলে আল্লাহ খুশি হবেন । Smile
ভালো কাটাও বাড়িতে । বাবা-মায়ের সাথে আনন্দে কাটুক দিন ।

আরাফাত শান্ত's picture


ভালোই কাটায় আসলাম!

শওকত মাসুম's picture


ভাল সময় কাটুক, বাড়িতে গিয়ে বেশি টিভি দেখার দরকার কি।

আরাফাত শান্ত's picture


ঠিক বলছেন ভাইয়া। তবে ঢাকায় টিভি দেখি না তো তাই একটু আগ্রহ! আর আপনারা তো টিভিতেই হাজির হন তাই দেখা জরুরী!

লীনা দিলরুবা's picture


কতদিন বাড়ি যাইনা...।
বাড়ির এইসব দিনরাত্রির গল্প বরাবরের মতো উপাদেয় হয়েছে।

১০

আরাফাত শান্ত's picture


মোবাইলে লেখা তাড়াহুরায় তাও যে আপনারা কষ্ট করে পড়েন তাতেই ধন্য হই!

১১

একজন মায়াবতী's picture


প্রথমেই বলি, তোমার অন্য পোস্টের তুলনায় এইটাতে বানান আর বাক্য ভুল ছিল না বললেই চলে Tongue মোবাইলেই লিখো তাহলে এখন থেকে।
দারুণ সময় কাটুক বাড়িতে। ভালো থাকো

১২

আরাফাত শান্ত's picture


ছোট্ট একটা খোটা দিলা মাইন্ড খাইলাম না হাজার হোক বন্ধু মানুষ। মন দিয়ে পড়াশুনা করো ক্লাসে যাও!

১৩

তানবীরা's picture


পড়তে পড়তে মনে হচছিলো সামনে বসে গলপ শুনছি। হাসতে হাসতে জান শেষ। Big smile

১৪

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস আপুজান!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!