ইউজার লগইন

ভেসে যায় আদরের নৌকো!

শিরোনামটা এমনিতেই দেয়া। কোনো বিশেষ তাত্‍পর্য নাই। অনেক কাল আগে বিষাক্ত মানুষ ওরফে মুরাদ ভাই চন্দ্রবিন্দুর গানটা লিরিক লিখে পোষ্ট দিয়েছিলো। আমি তখন কেবল চন্দ্রবিন্দু আর নচিকেতার সার্কাসটিক গান গুলোই শুনছি। এরকম অসাধারন গান শুনতে পেরে দারুন লাগছিলো। ব্লগ জিনিসটাই দারুন। অনেক দারুন কিছু কত সহজে নিজের কাজে মানিয়ে নেয়া যায়। মুরাদ ভাইয়ের সেই গানের পোষ্টগুলা কত অসাধারন ছিলো। আমি আউলাপু তামিম ইরফান তানজিলাপু গিয়ে বায়না করতাম এই গান চাই ঐ গান চাই প্লিজ পোষ্ট দেন। কিন্তু বায়না জিনিসটাই ভোগাস। উনি উনার পছন্দের নানা গান দিতো। আমরা সব শুনতাম। আমার এতো বৈচিত্রপুর্ন গানে ভালোবাসা তখন থেকেই শুরু হলো। তখন আমাদের যারা দেশে থাকি সবারই নেটের স্পিড যাচ্ছে তাই। রাশু ভাই আর রন্টী ভাইয়ের অবদানে পেলাম ইস্নিপস থেকে ডাউনলোডের উপায়। মোটামুটি লুফে নিলাম তা। আমার মনে আছে আমার পুরানা হার্ডডিস্কে তিন জিবি গানই ছিলো শুধু ইসন্পিসের লোড করা গান। সব হারিয়ে ফেলছি তা। সেদিন ফেসবুকে রাশেদ ভাই আর তার বউ ব্যাংককে হানিমূনের ছবি দেখে আমার মনে হলো এইতো সেদিনই একসাথে আমাদের কত ব্লগ আড্ডা কত বালিকা নিয়ে মশকরার দিনগুলো কাটলো। দিনগুলো খালি চলেই গেলো। নতুন হওয়া আমারব্লগে যেতাম না কিন্তু কি কি ঘটনা ঘটছে কাকে নিয়ে সবই ছিল মুখস্থ। কিন্তু এখন এই এবির কিছুরই আর আগ্রহে জেনে রাখা হয় না। ব্লগিং সবাই ছেড়ে দেয় লিখে না আর কিন্তু আমরা কয়েকজনরা পড়েই থাকলাম ব্লগেই। হয়তো আগের মতো সেই সিরিয়াসনেস নাই। খায়া না খায়া ব্লগিং করার আগ্রহও নাই, তবুও ব্লগই শেষ ঠিকানা। ফেসবুকে থাকি বেশি তাও মনে হয় ফেসবুকের ভেতরেও আমার ব্লগিং সত্তাটাই আসলে থাকে। মানু ভাই দারুন একটা কথা একবার বলছিলো যে ব্লগার পরিচয়টাই সব চেয়ে বড় শান্তি দেয় উনাকে। আমারও এতো কিছুর ভেতরে ব্লগার পরিচয়টাই আসল। আস্তিক নাস্তিক যাই ট্যাগ করা হোক না কেনো আমার কাছে তার কোনো বেইল নাই। নিজেকে একজন ব্লগের মানুষ ভাবতেই সস্তি লাগে। এইসব ছাইপাস যাই লিখি তাও শান্তি ব্লগে লিখছি কেউ না কেউ তো পড়ছে। চিটাগাংয়ে থাকতে আজাদীতে আমার চিঠি ছাপালে বিশ্বজয়ের টেষ্ট পেতাম। একটা ব্লগ লেখার পরেও সেই টেষ্টটাই পাই। গতকাল মাসুম ভাইয়ের জন্মদিন ছিলো। একটা পোষ্ট লেখার খুব ইচ্ছে ছিলো কিন্তু মোবাইলে লেখার কোনো আগ্রহই পাই নাই। এই ছোটো স্ক্রীনে কীপ্যাড টিপে লেখা যে কত কষ্টের তা কেউ বুঝবে না। তবে মাসুম ভাইয়ের এতো বড়ো একটা জন্মদিন গেলো কেউ একটা পোষ্টও দিলো না। সব কাজ আসলে আমাকেই করতে হবে যা বুঝলাম। তাও আজ লিখছি মোবাইলেই আজ মাসুম ভাইকে রিপিট টেলিকাস্টে এনটিভিতে এই সময় অনুষ্ঠানে দেখলাম। মামুন রশীদরে নিয়ে বসে আছে। মামুন রশীদ নিয়ে দারুন একটা কথা বলছিলো আমাকে। টিভিতে দেখে সেই কথাটাই মনে হলো। ভালোই লাগলো আলোচনাটা। খালি প্রশ্ন না উত্তরও শোনারও সময় পাওয়া গেছে। একাত্তর টিভি যত ভালোই হোক, তাদের টকশো গুলার মেইন সমস্যা হলো এক হালি অতিথি কিন্তু কেউই তেমন বলার সুযোগ নাই। উপস্থাপকই শুধু পেটপেট করবে। আর প্রশ্ন করার একটা নিয়ম আছে। অসভ্যের মতো প্রশ্নবানে জর্জরিত করাটা আমার ভালো লাগে না। যেমন আজ সকালে আরটিভি গোলটেবিলে দেখলাম। কেউ কারো কথা শুনলো না, নিজেরা নিজেদের স্ট্যান্টে চাপাবাজি মেরেই চলছে। টিভিতে অনেকগুলা স্বাধীনতা দিবসের নাটক দেখলাম মন দিয়ে। শুধুমাত্র এনটিভির নাটকটাই ভালো লাগলো। যদিও ফেরদৌস হাসান খুব যে ভালো বানাইছে তাও না। তবুও নাটকটা ভালো। সততার পথে থাকতে সাহস জোগায় চশমা নাটকটা দেখার পর। টুয়েন্টিফোরে নাটক হলো একটা আর ধারাবাহিক। তিশা বুড়ীর এই বয়সেও আন্ডারগ্রেডের ছাত্রী সাজায় কি আজব কাস্টিং। নাটকের অতি সাধারন একটা গল্পের থার্ডক্লাস নাটক। তাও যে প্রোমো দেখায় মনে হয় কীনা কি আর আমি এক পর্ব দেখেই বুঝে গেছি কোন দিকের নাটক এইটা। মাছরাংগাতে নাটক দেখছি ফাউল। গ্রামের নাটক কিন্তু এমন ভাষায় কথা আর অভিনয় করছে মনে হয় প্রমথ চৌধুরীর কাছ থেকে কেবল চলিত ভাষাটা শিখে আসলো। আর সারা নাটকে সব একটাই ঘটনা তমালিকা যুদ্ধে যাবে। আর তেমন কিছু দেখা হয় নাই। সংবাদ দেখা হইছে। গাড়ী অটোরিকশা ভাংগে পিকেটাররা আব্বু খুব আগ্রহ নিয়ে তা দেখে। একটু আগে খেলা হলো তা দেখতে পারলাম না। কারন তারা ঘুমায় আর আমি টিভি দেখবো ইহা বড়ই প্যাথেটিক। এই কারনে কারেন্ট থাকা সত্তেও টিভি দেখা হয় না। আর কারেন্ট তো থাকেই না। গ্রামে এখন সেচের সময়। কারেন্ট কত জরুরী এখন। সেই আসল সময়েই কারেন্ট থাকে না। বিটিভির এডটার কথা মনে পড়ে খুব, বাপজান পানি ছাড়ার সময় হইছে ঢং ঢং ঢং! বাড়ীতে কেমন আছি তা নিয়ে তো কিছু বলা হলো না। আজ বাড়ীতে থাকার শেষদিন। শনিবার সকালেই তো চলে যাবো। যদিও শনিবার জামালপুরে হরতাল। সরিষাবাড়ীতে গেনজাম হলো লাভ হলো আমার। অনেক ফোন সারাদিন পেলাম। সরিষাবাড়ী আমার খালা বাড়ী। খালু জানু বিএনপির পলিটিশিয়ান। আগামীবার যদি বিএনপি পাওয়ারে আসে তবে উনি লালে লাল শাহজালাল হবে। ট্রেনের টিকেট এবারো যথারীতি আব্বু কেটে দিলো। ১৫৫ টাকার ফাস্ট ক্লাসের এখন দুশো পয়ত্রিশটাকা। সাড়ে তিনশো টাকা বাস ভাড়া আরেকটু হলেই ছুয়ে ফেলতো। বাড়ীতে ব্যাপক আদর আপ্যয়নে কাটলো। আম্মু যে দারুন রান্না করছে খালি খাইছি সমানে। ডেইলী রাতে খাওয়া শেষে এক গ্লাস দুধ। মনে হয় সেই ছোট্ট শান্তরে পাইছে। এতো খেয়ে দেয়ে আমার সামান্য ভুড়িটাই এখন স্ফীত হচ্ছে। আম্মুর সাথে আড্ডা মারার যে আনন্দ আর আব্বুর যে স্নেহ তা দেখতে দেখতেই দিন শেষ। এবার একটা বকাও খাই নাই। প্রতিবার আসি আর মনে হয় বয়স বাড়ছে তার ছাপ পড়ছে তাদের চেহারায়। আর আমি অকর্মা এসে খালি খেয়েই যাচ্ছি আর দিন কাটাচ্ছি আলস্যে। ঢাকা আমার খারাপ লাগে না কিন্তু আম্মু আব্বু নাই, সকালে নাস্তা নাই, তাদের সেই আদর নাই, আম্মুর সে দারুন রান্নার জায়গায় বুয়ার পচা রান্না এই এডজাস্টমেন্টেই সময় লেগে যায় কয়েকটা দিন। এবার আমি কোথাও যাই নি, জামালপুরেও খুব একটা ঘুরি নাই কারন এই স্বর্গ ফেলে বাইরে ঘুরে বেড়ানো আর আড্ডা মারার কোনো মানে নাই। আমি আছি তাই আদরে ভালোবাসায় আটখানা না ষোলো খানা হয়েই।

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


যতদিন সময় আছে আদর খাইতে থাকেন,
অসময়ে খুঁজলেও আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

গানটা খুব ভাল পাই।

সার্কাস্টিক বলতে কি বুঝাইছেন?
ঢাকা আইতাছেন কবে?

আরাফাত শান্ত's picture


সারকাস্টিক মানে বুঝাইছি হাস্যরসাত্নক ফাজলামী সুলভ গান!
আয়া পড়লাম তোমগো শহরে। Smile

কুহেলিকা's picture


টিপ সই মজা মজা ধইন্যা পাতা

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস ভাই কোক

রাসেল আশরাফ's picture


আজ ব্লগে ঢুকতে ঢুকতে তোমার কথা মনে করছিলাম। এসেই পোস্টটা পেলাম। পড়ে যথারীতি মনটা খারাপ হলো।

আরাফাত শান্ত's picture


মন খারাপ কেনো? Sad

sajeda's picture


আম্মু যে দারুন রান্না করছে... Sad

আরাফাত শান্ত's picture


হ আপু। আপনারে খাওয়াইতে পারলে শান্তি পাইতাম!

একজন মায়াবতী's picture


এইটা যদিও আমার কথা না। ফেসবুকে তোমাকে একজন লিখলো সেইটাই লিখে দিলাম ----

সব দিনই একঘেয়ে, আজকে হয়ত ভাবছ চাকরী পেলে তুমি অনেক ব্যস্ত হবে, চিন্তা কর, তখন কি পোস্টে যে ভালবাসার কথা লিখেছে সেইসব কি পাবার আর সময় বা সুযোগ থাকবে?

জীবনটা হল একটা ট্রেন, অনেক দূর চলে, কিন্তু একবারই যায়, ফেরত আসে না, প্রতিটা স্টেশনে অল্প অল্প করে অভিজ্ঞতা নেয়। তারপর যখন সময় হয় ট্রেনটা থেমে যায়। দূর্ঘটনায় যে ট্রেন পড়ে না তা নয়, ঠিকই পড়ে! কিন্তু মায়া পড়ে যায় ফেলে আসা পথের উপর!

যেভাবে সবাইকে শর্তহীন ভালবাসছ, সেভাবে জীবন পার করার থেকে আর কতটুকুই বা ভাল হতে পারে!

১০

আরাফাত শান্ত's picture


সোহাগ ভাই লিখছিলো। এককালে উনিও দারুন ব্লগার ছিলেন। লাইন গুলা পড়তে খুব শান্তি পাইছি!
ভালো থাকো!

১১

জ্যোতি's picture


খায়া না খায়া ব্লগিং করার আগ্রহও নাই, তবুও ব্লগই শেষ ঠিকানা। ফেসবুকে থাকি বেশি তাও মনে হয় ফেসবুকের ভেতরেও আমার ব্লগিং সত্তাটাই আসলে থাকে।

মনের কথা । আর আগের সেই দিনগুলি খুব মনে পড়ে, মিস করি। এভাবে না বদলালে হতো দিনগুলির।
মাসুম ভাইকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা আবারো জানালাম। কেক পাই নাই তাতে কি! বেঁচে থাকেন শতবছর শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায় ।

একাত্তর টিভি যত ভালোই হোক, তাদের টকশো গুলার মেইন সমস্যা হলো এক হালি অতিথি কিন্তু কেউই তেমন বলার সুযোগ নাই। উপস্থাপকই শুধু পেটপেট করবে।

একাত্তর টিভির টকশো দেখতে দেখতে টকশোময় মনে হয় সবই।
বাড়ি গিয়ে কারেন্ট মাঝে মাঝে পেতাম তবে এবার ডিশ পাইনি বললেই চলে। তবু ভালো সময় কেটেছে। তুমি ঢাকায় ফিরে জম্পেশ আরো পোস্ট দাও।

১২

আরাফাত শান্ত's picture


পোস্ট তো আমি দেই। আর কে লিখে নিয়মিত মাসুম ভাই ছাড়া Smile

যেদিন গেছে সেদিন কি আর ফিরিয়ে আনা যায় Sad

ভালো থাকেন আপু। পোস্ট দেন জলদি টাইম কম!

১৩

লীনা দিলরুবা's picture


মায়ায় ভরা মায়াময় শান্তর পোস্ট।
কতদিন বাড়ি যাই না...

১৪

আরাফাত শান্ত's picture


সামনেই যাবেন আর বাড়ীর সব লোক তো ঢাকাতেই থাকে নিয়মিত আড্ডা দেন সেইখানেই তো অনেক আনন্দ!
ভালো থাকেন আপু। অনেক দোয়া। মায়া অনুভব করেন বলেই এতো মায়াময় লেখা!

১৫

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


বাবা-মা যতদিন আছে আদর নিয়ে নাও ষোলআনা একসময় এগুলা খুব মিছাইবা, যেমন আমি মিছাই।
লেখা ভাল লাগছে।

১৬

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস ভাইয়া। রিয়াসা যেনো মিস না করে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাইখেন!

১৭

শওকত মাসুম's picture


অনেক ধন্যবাদ শান্ত।

১৮

আরাফাত শান্ত's picture


ধন্যবাদ বন্যবাদের দরকার নাই!
আপনি ভালো থাকেন Big smile

১৯

তানবীরা's picture


মায়ায় ভরা মায়াময় শান্তর পোস্ট।
কতদিন বাড়ি যাই না...

২০

আরাফাত শান্ত's picture


আসবেন তো সামনেই তখন সপরিবারে রওনা দিয়েন বাড়ীর দিকে!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!