ইউজার লগইন

নববর্ষের নবধারায় প্রথম দিনে!

পোষ্ট দিতে ওতো বেশী ইচ্ছা করে না। কারন এবির প্রথম পাতাতেই আমার তিন খানা পোস্ট। এইটা দিলে হবে এক হালি। একটা ব্লগের প্রথম পেইজেই যদি কোনো ব্লগারের চারটা পোষ্ট থাকে সামহ্যোয়ার ইনের আমলে তার নাম দিছিলো ফ্লাডীং। এই ফ্লাডিংয়ের খুব চল ছিলো তখন। অনেক ছাগল প্রজাতির ব্লগারই এই কাজ করে ধরা খাইতো। এখন নাম বললে দেখবেন তারা একেকজন কতো বড়ো বড়ো শেঠ, ফেসবুকে কত শত লাইক কিন্তু তখন নিজের পোষ্ট প্রথম পাতায় রাখার জন্য তাদের রিপোস্ট ফ্লাডিং কত সহ্য করছি আমরা। শুরুর দিকে ব্লগে রেটিং সিস্টেম ছিলো। পাচে রেটিং আমরা দিয়া আসতাম ১ করে। তারপর আসলো মাইনাস সিস্টেম। মাইনাস সিস্টেমে ছিলো মজা। কে কত বড় ছাগল তার পরিচয় তাদের পোস্ট কতো মাইনাস খায়। জাফর ইকবালকে নিয়ে একটা বিদ্বেষী পোস্ট ছিলো সেই পোস্ট তখনি পাচশো ছয়শোর উপরে মাইনাস খেলো। এরকম পাতি ছাগলদের আরো অনেক কান্ড আছে। তখন সবার লক্ষ্য ছিলো ফাস্ট পাতায় পোস্ট রাখা। কিন্তু সামুতে এতো আজাইরা পোষ্ট লোকজন দিতো যে এক ঘন্টার ভেতরে প্রথম পাতায় পোস্ট নাই। তবে আমরাও ছিলাম এক কাঠি সরেস। ব্লগ খুলেই দশ পাতা অব্ধি পেইজ ভিজিট করে ব্লগ শুরু করতাম। একটু পরের দিকে যখন অনেক ব্লগ ছাড়া শুরু করলো সবাই তখন আমাদের কমন ডায়লগ ছিলো সামুতে ২০ পাতা ঘুরেও পড়ার মতো একটা পোস্ট নাই। তার আরো কিছুদিন পর ডায়লগ ছিলো সামুতে এখন একজন ব্লগারেকেও চিনি না। এখন ডায়লগ হলো আমার শেষ কবে সামহ্যোয়ার গেছিলাম মনে পড়ে না। তবে সামহ্যোয়ার ইন বিপরীত চরিত্র এখন এবিতে। এখানে একেক্টা পোস্ট সপ্তাহখানেক ধরে প্রথম পাতায় থাকে। ব্লগের লোকজন চুপিচুপি অতিথি সেজে পড়তেই আরাম পায়। একেকটা পোস্ট লেখার পরে আমি বাদে সব ব্লগারই বিশ্রামে যায়। এমন একটা অবস্থা যে এই সেমিস্টার শেষ সামনের সেমিস্টারে আরেকটা পোস্ট লিখবো। আমরা যারা এতো অজস্র সময় ফেসবুকে দেই তার ১০ ভাগের এক ভাগ সময় ব্লগে দিলেই কত ইন্টারেক্টিভ একটা ব্লগে নাম কামাই। এমন না যে আমাদের পোস্ট লোকজন পড়ে না। লোকজন ঠিকই পড়ে আমরাই গাফেলতি করে কমেন্ট করি না। লীনা আপু অনেকদিন আগে আমারে বলছিলো যে ব্লগে আমাদের একেকজনের যে বয়স তাতে অযথা পিঠ চাপড়িয়ে লাভ নেই। ভালো লেখা আর ভালো লাগার লেখাকেই ভালো বলা উচিত সবার। কারন ব্লগিং জগতে আমাদের মাস্টারস এমফিল করার দিন চলতেছে। আমি কথাটা মানি। কিন্তু কাজে মানি না। অনেক লেখাই ওতো ভালো না লাগলেও ভালো বলি যেনো অনুপ্রেরনা পায়। কিন্তু অনুপ্রেরনা টুকুই ব্যর্থ কারন তারপর লেখাই বাদ দেয় লোকজন। তবে আমার কাছে মনে হয় এবির পোস্ট গুলা অন্যসব ব্লগের মতো গোডাউনের রাবিশ না। আমি বাদে সবার পোস্টই কোনো না কোনো ভাবে অসাধারন। খালি কমেন্ট করার গেঞ্জামটা কমালে আমার ধারনা এবির চেয়ে ভালো ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম বিরল। আর যদি ব্লগিং করা মানেই যদি হয় ক্যাচাল প্যাচাল আর গুটিবাজীর আসর তবে এবি তার থেকে অনেক দূরে। আমি সত্যি খুব ভালোবাসি এই ব্লগটাকে। তাই প্রতিটা ছাইপাস পোস্টে যখন ব্লগ দখল করি তখন মনে হয় অযথাই লিখছি। মনকে তখন সান্তনা দেই যাদের লেখার কথা তারা লিখে তাই আমার মতো অলেখকরাই তো দখল নিবে। কিচ্ছু করার নাই!

শহুরে মধ্যবিত্তের বাংলা সন বা বাংলার তারিখ মনে রাখার বা পালনের একমাত্র দিন পহেলা বৈশাখ। আমার জীবনে বাংলা নববর্ষ পালনের দোড় ঝাপ শুরু ছোট বেলা থেকেই। আমাদের নেভী কলোনীতে মেলা হতো বিশাল মেলা। কালচারাল ভ্যারাইটি শো হতো আর কতো গেমের ব্যবস্থা। শিশুকালে আমার কাছে বৈশাখ মানেই মেলার দিন। মেলাতে অজস্র কিছু কিনতে চাইতাম, অজস্র জিনিস খেতে চাইতাম কিন্তু কমই পেতাম ভোগের। আর তখন খানাদানার মানও যে খুব ভালো ছিলো তাও না। তাও আমি তখন স্বপ্ন দেখতাম একদিন আমার অনেক টাকা হবে। আমি অনেক কিছু কিনবো। ছোটো ছোটো যে গেইম গুলো আছে সব খেলবো। হয়তো এখন জন্ম নিলে উত্তরাধুনিক বাচ্চাদের যেভাবে বড় হয় তখন এভাবে হলে কোনোকিছুই আপ্সোস থাকতো না। কিন্তু এখনো আমার খুব আপসোস যে রিং ছুড়ে কোক জেতার কিংবা বালতিতে কয়েন খোজার যা তখন পারি নাই। খুব ইচছা করে সেই সিট বেল্ট ১০০ ফুট উচু চেয়ারে লেক পারি দিয়ে আকাশে উড়ার স্বাদে বাধা চেয়ারে বসে থাকতে, কিংবা নেভীর সেই মাঝারী স্প্রীডবোট গুলাতে চড়ে অনেক সময় নিয়ে ঘুরতে। কিন্তু ছোট মানুষ বলে কিছুই পায় নি। পেয়েছি শুধু খেতে আর টুকটাক খেলনা কিনতে। তখন স্টিলের পিস্তল আর বারুদ খুব চলে। বছরের পর বছর ধরে আমার এই পিস্তল কেনা তা হারিয়ে ফেলানোর যে দুর্বিষহ বেদনা তা কাটে নাই। একটু বড় হয়েও যখন সবাই বড় বড় ভাব দেখানোতে ব্যাস্ত তখনো আমার প্লাস্টিকের একটু ভাবের রিভলবার কেনার সখ মিটে নাই। এখনো আমার অস্ত্রের প্রতি সখ কমে নাই। প্রভাবশালী নেতা খেতা টাইপের লোক দেখলেই ছ্যাবলার মতো বলি ভাই আপনার কাছে রিভল্টিভল্বার আছে। কোনোদিন যদি বের করেন আমাকে দিয়েন সেই ছোটবেলায় যেভাবে খেলনার পিস্তল নিয়ে ঘুমাতাম সেরকম ভাবে একটা ফাকা রিভল্বার নিয়ে ঘুমানোর খুব সখ। এই সখ প্রায় বাস্তবায়িত হবার পথে ছিলো। আমার আর আবীরের এক ভাই ছিলো চমন। তারা খুব আওয়ামীলীগ ওয়ালা। তিনি প্রায়ই মানুষকে দেখানোর জন্য গুলিহীণ পিস্তল নিয়ে ঘুরতো। আমি অসংখ্যবার আবীরের শুক্রাবাদের বাসায় তা ইচ্ছে মতো নাড়া চাড়া করছি। কিন্তু হাতে নিয়ে ঘুমানোর সুখটা এখনো অধরা। যাই হোক দিন গেলো চিটাগাংয়ে চলে গেলাম। তখন পহেলা বৈশাখ মানেই কনসার্ট। একেকটা কনসার্টের লোভে কই কই যে গেছি তার কোনো হিসেব না। আর কিভাবে জানি মারেফতী কায়দায় আমরা জেনে যেতাম। তবে চিটাগাংয়ে কনসার্ট গুলো যেগুলা বেশীর ভাগই বিভিন্ন দিবস, বিয়ে বাড়ী, গায়ে হলুদ, বা নতুন কিছু খোলা উপলক্ষে, ভালো দিক হলো ভালো গান বাজনা হয় সেখানে। আর খারাপ দিক হলো মনোরঞ্জনের জন্য হিন্দী গান। জগতের যতো ফাউল হিন্দী গান আছে সব আপনি শুনতে পারবেন। আর দেখবেন কি উদ্ভট কায়দায় সবাই নাচতেছে। তবে পহেলা বৈশাখের গান মানেই জেমস আর মাক্সুদের গান শুনা। তখন চিটাগাংয়ে লোকাল ব্যান্ড গুলার এক্সেন্টে একটূ সমস্যা থাকলেও দারুন কাভার করতো। এখনো ভাসে দিন গুলার কথা। এই তো সেই দিন গুলো। ঢাকায় এসে পহেলা বৈশাখ বোরিং কাটতো। ভাই ভাবী বিয়ের ১ দেড় মাস পরেই ছিলো পহেলা বৈশাখ। খুব ঘটা করে উনারা ভোরেই চলে গেলো রমনার বটমুল। আমার ইচ্ছা করেই যাওয়া হলো না। তারপর রবীন্দ্র সরোবরে বিশাল অনুষ্ঠানগুলাতেও যাওয়া হয় নাই। ভার্সিটিতে দারুন দারুন কনসার্ট হতো চাদা দিয়েও যাওয়া হয় নি। কারন ভালো লাগে না। আর ছোটোবেলার সেই ফীলটা পাই না। লোকজন মঙ্গল শোভা যাত্রায় গিয়ে দোড়ঝাপে থাকতো সকাল সকাল। আমাকে যাওয়ার অনুরোধ করতো যাওয়া হয় নাই। কোনো এক পহেলা বৈশাখের দিন আমি আর নাঈম মামা বেরিয়ে ছিলাম উনি ঢাকায় আসার সুবাদে, অনিক আর ঝড়কন্যার সাথে দারুন আড্ডা হলো সাথে বুমারসে খাওয়া হলো বেইলীরোডের টায় কিন্তু ফেরার সময় মহা গেঞ্জাম। কিভাবে যাবো শান্তিনগর থেকে তাই বিপদ। রিক্সা নিলাম রিক্সা জ্যামে আটকানো আর অনেক রাস্তা বন্ধ। অনেক কষ্টে পরীবাগের দিকে পৌঁছলাম। তারপর রিক্সা নিয়ে ধানমন্ডি সেখান থেকে বাসা। নাঈম মামার পকেটের টাকার ব্যাপক বাশ দিয়ে মন খারাপ ছিলো। আর মনে হইছে বারবার এই কারনেই আমি পহেলা দিনে বের হই না ঘর থেকে। এরপর থেকে আসলেই বের হই নাই। গতবছর সারাদিন বাসাতে ছিলাম বিকেলে বন্ধু সাইফুদ্দীন ডাক দিলো কিছুটা আমার একা একা থাকার স্ট্যাটাস দেখে। তার সাথে বুয়েটে গেলাম। বুয়েটে ওতো ভীড় নাই। তাও নাকি সেদিন নাকি অনেক মানুষ। ভালো লাগছিলো সিনিয়র ভাইদের এতো ব্যাপক উপস্থিতি দেখে। বুয়েটের যতো কালচারাল ব্যাপার স্যাপার তা মনে হয় হ্যান্ডেল করে আর্কিটেকচারের পোলাপাইন। ঘুরলাম ফিরলাম দারুন আড্ডাও দিলাম। তবে খুব মনে ধরে আছে মহীনের ঘোড়াগুলির গান গাইছিলো এক ছেলে তার কথা। তার গানের গলায় আমি মুগ্ধ হইছিলাম খুব। রাতে শিরোনামহীনের গান শুনার প্রলোভন ছেড়ে দিয়ে রিক্সা দিয়ে আসছিলাম। দারুন কেটেছে।

এবারের বৈশাখের আগের দিন আমার প্রচন্ড মন খারাপ। কারন জানি না তবে মন খারাপ। আগে থেকেই বলা ছিলো কিন্তু পিছলাচ্ছিলাম যে যাবো নাকি যাবো না। অনেক ভোরে ঘুম থেকে উঠছি। নামায পড়েই অনেক হাটলাম। আল্পনা দেখলাম মানিক মিয়ার বুকে। খুব সুন্দর। সবাই বৈশাখী সাজে ব্যায়াম করতেছে। তবে অনেকেই আসছে ব্যায়াম কলিগদের সাথে উদযাপন করতে। রঙ্গীন জামাকাপড় পড়া মানুষের ভীড় সকাল থেকেই। একাই ছিলাম হেটে বাসায় ফিরলাম। গোসল করে ভাবলাম ঘুমাবো তখন দেখি ফোন। তখনই ভাবলাম যাই জীবনে কি আর আছে! রিক্সা ভাড়া বাড়তি, পঞ্চাশ টাকার ভাড়া ৬০। উঠলাম আর ভাবতেছিলাম টেকা নাই যাইতেছি কেন? রিক্সা দিয়ে যাচ্ছিলাম এমন সময় এক মেয়ের সাথে দেখা। ফেলে আসা ভার্সিটির ছোটোবোন। সাজের ঠেলায় দেখি মানুষ দেখে না আর লেগুনা খোজে। আমি ভাবতেছিলাম আজ তো লেগুনায় চড়ার দিন না। তাই কখনো যা করি না তাই করলাম। রিক্সা থামিয়ে নিম্ন মানের ফ্লাটিং সুলভ হাসি দিয়ে বললাম কই যাও? এমন ভাবে জিগাইলাম মনে হয় যেনো হাজার বছরের পরিচয় সুত্রে অনেক আলাপ। সে যাবে আটে আমি বললাম আনাম র‍্যাংসের সামনের নামায়া দেই। সে তো গদো গদো। এই তো শুনলাম তার মুখে বিবিএ শেষ করে বসে আছে। তার জানপরান বয়ফ্রেন্ড জিপিতে জব করতেছে। সকাল সাতটাতেই নাকি বসে আছে ধানমণ্ডি ৮। আমি বললাম ভালো। আমার নাম্বার চাইলো নিলাম আসমান জমিন ছারখার করা ভাব, যে আমি অল্প বয়সী নারী জাতিদের নাম্বার দেই না। নিজের ফাপড় শুনেই নিজেই অবাক। যাই হোক স্টারে গেলাম। যেয়ে দেখি ব্লগার বড় ভাই কুন্তল ওরফে নাদান। আমাকে দেখে মুখ লুকায়। আমিও ফ্রীল্যান্স বুদ্ধিজীবি পালাবে কোথায়? বারবার ঘুরে ঘুরে শিউর হলাম নাদানই ইহা। যেয়েই জেবীন আপুরে লাগায় দিলাম যান আপনাগো মুখচোরা বন্ধুর কুশল জাইনা আসেন। নাদান ভাই ভাবীকে নিয়ে আসলো। ভাবীরে দেখার কি আছে, ফেসবুকেই দেখছি। যাই হোক এবির গ্যাং অনেকেই মিসিং। তাও খানাদানা মিসিং না। ছাগুটাগুর গোস্ত খায়া চিকেন টিকেন সাটায়া অনেক আনন্দ পাইলাম। সবাইকেই খুব সুন্দর লাগছিলো। বিশেষ করে জেবীন আপু আর কনাপুকে। আর নাজ আপু জ্যোতি আপু তো একি ধরনেই জামা। মনে হয় জাতীয় পোষাক লুঙ্গির মতো তবুও উনাদেরকে খুব দারুন লাগছিলো। তবে মুরাদ ভাইয়ের ফটোসেশন আর ডায়লগ বাজীর তো কোনো তুলনাই চলে না। পারভীন আপু আসলো। উনার বাসা এতো কাছে তাও দেরী করে, এরেই বলে মক্কার লোক ওমরাহও পায় না। হাসতে হাসতে খুন। বর্ণের খুব সাধ ছিলো ঘুরাঘুরির। বেচারা জানে না আমরা আলস্যের শিরোমনি তাই কনাপুর বাসায় ঢূকেই আমাদের ঘুম ঘুম চোখ। কনাপুর বাসাটা দারুন। এতো সুরুচির এতো স্পেসের এতো দারুন বাসা ঢাকায় বিরল। ফেসবুকে অনেকেই ছবি হয়তো দেখে ফেলেছেন। কিন্তু ছবির চেয়েও সুন্দর। তবে সবাই বলতেছিলো আড্ডাবাজীর জন্য পারফেক্ট বাসা। আমি এই কথার সাথে মোটেও একমত না। কারন আড্ডাবাজীর শ্রেষ্ঠ চায়ের দোকান, খাবারের দোকান, কিংবা বাইরে কোথাও। ঘরে বসে কোয়ালিটি টাইম পাস করা যায়, আরামে অনেক কথাই বলা যায় কিন্তু আড্ডার ফীল আসে না আমার। আর আমার মনে ধরে আছে লীনাপু আর মাসুম ভাইয়ের বাসা। অজস্র বই আর বই দেখতে পারার আনন্দ যেকোনো বাসার আমার কাছে প্রধান সম্পদ। যাই হোক কনাপুর বাসার ছাদ লাগোয়া বারান্দা গুলো একে বারেই মাইন্ডব্লোয়িং। এগারো তলা থেকে যখন আমি ধানমন্ডিকে দেখছি বারবার মনে হয় লাফ দেই। আমার লাফ দেয়ার খুব আশা। আমার প্রিয় একটা রুমান্টিক কমেডি ছবি আছে ম্যান্ডি মুরের চেসিং লিবার্টি। ছবিতে নায়ক নায়িকা দড়ি বেধে লাফিয়ে পড়ে ব্রিজ থেকে খুব সুন্দর একটা নদীতে। দুজনার মুখ পাশাপাশি উলটা করে ঝুলছে। কি অসাধারন সিন। যদি কোনোদিন এ ওয়াক ইন দ্যা ক্লাউডের ম্যাক্সিকান-এমেরিকান আতানিয়া সানচেজের মতো নায়িকা পাই তবে অবশ্যই অনেক অনেক ছবি তুলবো আর এমন কিছু লাফ দিবো। যাই হোক আড্ডা হলো। অনেক কথা শুনলাম। টিভি দেখলাম। টিভিতে দেখার মতো কিছু নাই। কিছু সময় রেসলিং দেখলাম, দেখি অনেক লম্বা গেম রেসলিম্যানিয়ার, দেখার আগ্রহ নাই। গান শুনলাম কিছু হিন্দী গান ভালো লাগে না। বাংলা গানও হচ্ছে নানান চ্যানেলে। কিন্তু সেই চেনা গান গুলাই আর কতো। আর শিল্পীরা দর্শক মনোরঞ্জনের কি সব গান গায় শুনায় কষ্ট। প্রিয় ফারজানা আপু হাজির তার আর জেবীন আপার গল্প শুনতে শুনতে হাসতে হাসতে শেষ। রাব্বী ভাই আসলো খাওন দাওন নিয়ে। ভালোই খেলাম। দারুন টেস্ট ভর্তাগুলোর । তারপর কিছুক্ষণ শুয়ে থাকলাম। আমার দুপুরে ঘুমানোর যে বাজে অভ্যাস তাতে একবার ঘুমালে ছটায় উঠতাম। দই খেলাম। রিহানের বোলিং দেখলাম। খাওয়ার বিলের চান্দা যদিও কেউ চায় নাই তবে খুব চিন্তায় ছিলাম কারন পকেটে শুধু ১০০ টাকা নিয়ে ঘুরছি। বের হলাম উনারা মানিক মিয়াতে গেলো আল্পনা দেখতে যা আমি সকালেই দেখে আসছি। আমি আর কি একজন প্রিয় বন্ধুকে কল দিলাম সে আত্মীয়ের বাসায় তাই তার ওখানে যাওয়ার প্ল্যান বাদ। চায়ের দোকানে ফিরলাম। দেখি দোকানে সবাই। সবাই বলতেছে শান্ত ভাই আপনি নাই তাই কোথাও যাই নাই। এতো বড় অনারের উত্তেজনায় আমি আটখানা। চা খেয়ে গেলাম ধানমন্ডি ৮। দুনিয়ার ভীড়। এতো মানুষ আর এতো ঠেলাঠেলির ভীর পুলকের আপুর কবিতাপাঠ আর শুনা গেলো না। রিক্সা দিয়ে ফিরলাম আবার দোকানে। ক্লান্ত যদিও তাও প্রানবন্তো আড্ডা। সেই আড্ডা শেষে আদনানের বাসায় দাওয়াত সেখানে বুয়া নাই মামার রান্না। গরুর মাংসের দারুন রান্না করছে মামা। খেয়ে দেয়ে দিশেহারা অবস্থা। তারা এলকোহলের আয়োজন করছে দামী জিনিসই আনছে। আমি খাই নাই বা খেতে চাই না। কারন আস্তিক মানস আমার মাথা চাড়া দিয়ে উঠে আর একবার খেলেই তো শেষ। আমার খুব ইচ্ছা আমি বলবো জীবনে কোনোদিন ওয়াইন বিয়ার স্পর্শ করি নি। যাই হোক বাসায় ফিরেই ঘুমালাম। খুব টায়ারড লাগছিলো। এতোই ঘুমালাম যে আজ হাটা হয় নাই সকালে।

সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। অনেকের সাথেই দিনটা পার করার ইচ্ছা ছিলো তারা কেউই আসে নাই। তাই ভালো সব কিছু যে ভালো যাবে এমন আশা করা ভুল! জগজিৎ সিং গান গেয়ে গেছে বেশী কিছু আশা করা ভুল!

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


নববর্ষের শুভেচ্ছা Boishakh.jpg

আরাফাত শান্ত's picture


আপনারেও শুভেচ্ছা রিয়াসারে নিয়ে ভালো থাকেন!

উচ্ছল's picture


ব্লগের লোকজন চুপিচুপি অতিথি সেজে পড়তেই আরাম পায়।

Big smile
প্রতি নববর্ষ এমন কাটুক! Smile

আরাফাত শান্ত's picture


দোয়া কইরেন ভাইজান!

রাতিফ's picture


সামুর কথা মনে করায়া দিলেন, পুরাই নস্টালজিক হয়ে পড়লাম .. হায়রে!! কি সব দিন যে কাটাইছি ... বাড়ি ঘর চিন্তা চেতনা তখন সবই ছিলো ব্লগকে ঘিরে!!

লেখাটা বেশ লাগছে ... লেখাটা পড়তে পড়তে বৈশাখের একটা আমেজ মগজে ঘোরাফেরা করতে শুরু করে দিলো!!

নববর্ষের শুভেচ্ছা থাকলো ...

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস ভাইয়া। কত কিছু না চাইতে মনে পড়ে যায় তাই দিয়েই লিখতে হয়। ভালো থাকেন। শুভকামনা!

রাসেল আশরাফ's picture


শুভ নববর্ষ

আরাফাত শান্ত's picture


আপনারেও বিদেশ বিভুইয়ে থেকে, বউ নিয়ে এমন একটা দিনে না ঘুরতে পারার জন্য সমবেদনা!

জ্যোতি's picture


আহা! সামুর দিনগুলি মনে পড়ে গেলো । সেইসব দিনগৃলি মনে রাখার মতোই ।
এবি বিষয়ক কথাগুলোর সাথে পুরা একমত ।
কণাপুর বাসার প্রেমে পড়ে আছি ।
সবাইকে শুভনববর্ষ । দিনটা ব্যপক আনন্দে কাটছে । এমনি যদি যায় দিন যাক না !

১০

আরাফাত শান্ত's picture


ভালাই। ব্লগে কম কম দেখি কেন? বিজি নাকি?
ভালো থাকেন সুইট সিস্টার!

১১

শওকত মাসুম's picture


আহা, কি দারুণ একটা লেখা। কতকিছু মনে পড়লো। আড্ডাও মিস করলাম।

১২

আরাফাত শান্ত's picture


ভালো করছেন না এসে। আপনি থাকলে মুরাদ ভাইয়ের কোনো বেইলই থাকতো না~!
শুভেচ্ছা!

১৩

টুটুল's picture


একেকটা পোস্ট লেখার পরে আমি বাদে সব ব্লগারই বিশ্রামে যায়।

সেইরম পোস্ট

১৪

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কু বস!

১৫

তানবীরা's picture


শুভ নববর্ষ

১৬

আরাফাত শান্ত's picture


আপনারেও শুভেচ্ছা আপু। কি কি করলেন বরষবরনে তার ভিডিও চাই ফেসবুকে! আর তা নিয়ে লেখা চাই ব্লগে!

১৭

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আমার কথা কইছে মাত্র এক লাইনে! Sad Stare

১৮

আরাফাত শান্ত's picture


সবার কথাই এক দুই লাইনেই বলছি। বেশী লাইনে কথা বলবো আগামী দিন গুলোতে আগে লাইনে আসো Big smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!