ইউজার লগইন

সবাই কেনো সবাই হয়ে যায়!

কি নিয়ে লিখবো ভেবে পাচ্ছি না। লেখা দরকার ছিলো অনেক কিছু কিন্তু ইচ্ছা করেনা এই সব দিনলিপির কচলাকচলির একই জিনিস লেখার মুড থাকেনা সব সময় তাও লিখে বেড়াচ্ছি। কতো কিছু ঘটে চোখের সামনে কত নিদারুন এক্সপিরিয়েন্সের ভেতর দিয়ে দিন যাপন,তা নিয়ে যদি গল্প লিখতে পারতাম তাহলে হতো একটা কিছু। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আমি মোটেও গল্প লিখতে পারি না। চেষ্টাও করি নি কখনো। আসলে গল্প লেখার একটা ভঙ্গি আছে সেইটাই আমার আসে না। আমার যেটা আছে সেটা হলো উপন্যাস লেখার চেষ্টা করার ক্ষমতা তা নিয়ে বিশেষ ভাবি নাই। কারন সাহিত্য টাহিত্য আসলে এতো সহজে আসার জিনিস না। দীর্ঘজীবনের পড়াশুনা, জীবনকে নিয়ে ভাবার দৃষ্টি ও পর্যবেক্ষন করা ক্ষমতা থাকতে হয় এবং তা প্রকাশের স্বকীয় ভঙ্গি থাকতে হয় সব কিছু ছাপিয়ে আসলে একটা জন্মগত প্রতিভা থাকতে হয় আমার তা কিছুই নেই। নিজেরে খুব নালায়েক মনে হয় যে প্রতিভাও নাই পরিশ্রমও করতে পারিনা। খালি পড়তে পারি তাও আলসেমী লাগে আর আড্ডাবাজিতে অলস দিন কাটাতে পারি। এর ভেতরে বর্ণ আবার বলছে জলের গান ব্যান্ডের গান গুলা নিয়ে পোস্ট দিতে। এ্যালবামটাই এখনো কিনতে পারলাম না। টাকা পয়সার টানাটানি। লিখবো কি করে? যদিও অনলাইনে শুনছি আগেই অনেক গান শুনা তাও লিখতে মন টানছে না। আর বিষন্ন অনেক ভালো এখন গান নিয়ে পোস্ট দেয় ঐ লেখুক। পহেলা বৈশাখে ব্লগ দেখে বের হই নি। নয়তো শিউর অনুপমের গান নিয়ে যে পোস্ট দিতে তার সামনা সামনি অনেক প্রশংসা করতাম। আর বিষন্ন এ্যালবামটাও কিনে বসে আছে সেইভ করতে নাকি ঝামেলা। জেবীন আপুও লিখতে পারে তিনি এ্যালবামটা গিফট পাইছে। আমার কাছে বন্ধু ফখরুদ্দিনের রেকর্ড করা জলের গানের আটটা গানের ভিডিও আছে তাই শুনি মোবাইল থেকে। ছোটোভাই সাইফ হাহাকার করে ভাইয়া কতোদিন চাপ খাওয়ান না। তারে বুঝাই কেমনি যে ধার উধার শোধ করে বা দিয়ে কতো চাপাচাপিতে আছি। যাই হোক এই সব নিয়ে ভাবি না। কারন টেকা পয়সা দেদারসে খরচ করে ফুটানি করা দিন যাপনের ছেলে আমি ওতো ভেবে কাজ কি! তবে অনেক মানুষের কত কি চাওয়া আরেক মানুষের উপরে। যেমন আব্দুর নুর তুষারের কথাই ধরেন। টিভি চ্যানেলে যারা চাপা পিটায়া খায় তাদের ব্যাপারে আমি সারাজীবন জুড়েই সন্দিহান। তুষারও তার বাইরে নাই। সেই তুষার যখন ইসলামী ব্যাংকের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে তখন আমি হতাশ হই না, জামানাটাই এখন এমন। যে ডক্টর কামাল হোসেন তার মেয়ে সারা হোসেন এতো মুক্তিযুদ্ধ প্রগতিশীলতার ধারক বাহক যোদ্ধা সেই সারা হোসেনের হাজবেন্ডই তো ডেভিড বার্গম্যান। যিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কতো আজব গজব লিখে বেড়ায় সমানে। সেইটা নিয়ে আবার দেখলাম কত লোক নাখোশ। আমি নাখোশ হবার কোনো কারন দেখি না কারন জগজিত সিং সেই কবেই গেয়ে গেছে বেশী কিছু আশা করা ভুল!

আমি নিজেও একমাত্র বাপ মা ভাই ভাবী ছাড়া আর ইদানিংকালে মামা ছাড়া আর কারো উপরেই কোনো কিছু আশা ভরসা রাখি না। কারন এককালে আমার অনেক বন্ধুছিলো ভার্সিটির, ধানমন্ডি কিংবা ফার্মগেটে তাদের সাথে আড্ডা দিতে না পারলে মনে হতো দিনটাই ব্যর্থ। এখন তাদের সাথে কথাই হয় না। কতো যোজন যোজন দূরে আমাদের একেক জনের অবস্থান। কেউ আমার খোজই নেয় না আমিও নেই না। যে বন্ধু এককালে বলতো তুই ঢাকায় না থাকলে মনে হয় ঢাকায় মানুষ জন নাই সেই বন্ধুই এখন অজস্র কাজে ব্যাস্ত। ব্যস্ততা ভালো জিনিস। আমারও আশা নাই সেই লোকজনদের তথাকথিত কোয়ালিটি সময় পাওয়ার। এক ঝাক ভার্সিটি বন্ধু গেছে আরেক ঝাক বন্ধু ও ছোটভাইদের গ্রুপ আসছে। বরং এদের সাথে বেশি ভালো লাগে নিজেকে তরুন লাগে। সেই সব জবহোল্ডারদের মতো হোপলেস ফ্রাস্ট্রেশন এদের মনে নাই। এদের জীবনে নানান ধরনের সমস্যা তাও তারা হাসি ঠাট্টায় মাতায় রাখে চারপাশ। এটাই আসলে জীবন। যে যত মন খারাপই হোক শেষমেষ আপনাকে হাসতেই হবে। এই ছোটোভাই ও বন্ধুকুলের কাছে আমি কোনো আশাবাদ রাখি না। সময় ভালো কাটে তাদের দুঃখ সুখে পাশে থাকি অন্তত শোনার চেষ্টা করি এতোটুকুই কাহিনী। যদি কেউ না থাকে দোকানে, না আসে, দেখা না হয় অনেকদিন কারো সাথে তখন টেনশন নেই না কারন জেমস গান গেয়ে গেছে আসবার কালে আসলাম একা যাইবার কালে যাবো একা! আর আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের কথাই শেষ কথা যে যারা দুনিয়ার কুটিল বাস্তবতার ট্যারা চোখ আর ল্যাংড়া পা দেখে না তারাই মনে হয় আশাবাদী হয়।

বিসিএস রিটেনে টিকলাম তাতে অনেকেই খুব আনন্দিত। আমি ওতো বেশী খুশি না। কারন আমার পাশে বসা যেই মেয়েটা ছিলো নাম উম্মে মুসলিমা তার ধারে কাছেও আমার সিরিয়াস নেস ছিলো না। কিন্তু কপাল হলো সে টিকে নাই টিকলাম আমি! ভাইভাতে যদি টিকতে পারি তাহলেই এখন খুশী। কারন ১৮৬৯৩ জনকে টিকাইছে। তার ভেতর থেকে নিবে চারহাজারের উপরে। তার ভেতরে সরকারের শেষ দিন গুলো। কতজনকে রাজী খুশি করাতে হবে পিএসসিকে। তাই আমি মে মাসে হয়তো ভাইভা নেয়া শুরু হবে তা নিয়ে খুব আশাবাদী না। যদি দুর্ভাগ্যজনক টিকে যাই তাহলে সবাই শান্তকে নিয়ে অ্নেকে আশার বীজ বুনবে আর বলবে শান্ত ছেলেটা জিনিয়াস। আমি যে কত বড় উজবুক তা আমি প্রতিনিয়ত টের পাই আর টের না পেলে মেমোরী থেকে ধার নেই নানান উজবুকগিরির কান্ডগুলো। তাই ফেসবুকে বা নিজের জীবনে এমন কি ব্লগেও আমি কিছু প্রমান করার জন্য ঝাপিয়ে পড়ি না। ওলরেডী হারিয়ে যাওয়া বন্ধুরা ডিজুস সীমের মতোই ফিরে আসতেছে। ফোন দিয়া বলতেছে জানতাম তুই টিকবি! আমি বলি আমিও জানতাম টিকলে তোদের ফোন পাবো। দেখা যাক ভাইভায় কি হয়। আশা নাই টিকবো কিন্তু হয়ে গেলে জীবন নিয়ে আরো একটু আশাবাদী হবো হয়তো। চাকরী জীবনে যাওয়ার অমৃত সুধা পান করবো। এইটুকুই এর চেয়ে বেশী কিছু না।

দিনগুলো যাচ্ছে আগের মতোই। ভোরেই খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ঘাসে পা রেখে হাটছি। রাসেল ভাইদের মতো গারদে পচে মরতে হচ্ছে না। টাইপ করতে করতে রাসেল ভাইয়ের কথা মনে হলো। শাহবাগের দিনগুলার কোনো একদিন ভাবীর ল্যাপটপ ব্যাগ হাতে নিয়ে ঘুরতেছে রাসেল ভাই। আমি জিগেষ করলাম কার ল্যাপটপ? কয় আর বইলেন আপনার ভাবীর ল্যাপটপ নিয়ে ঘুরি আমি। আমি বললাম ভালোই তো ব্লগে আপডেট দেন। উনি কইলো না আমি ল্যাপটপে লিখতে পারি না। আর আপনার মতো মোবাইলে লেখার প্রতিভাও নাই। পিসিতে বসে লিখি একেবারে খাট খাট করে কীবোর্ডে স্ট্রোক মারতে মারতে। আমি বললাম আমিও তো তাই এতো শব্দ করে কীবোর্ড প্রেস করি মনে হয় যুদ্ধ করতেছি। ভাগ্যের কি পরিহাস সেই মানুষটা ল্যাপটপ তো দূরে থাক বই পুস্তক ছাড়া অন্ধকার সেলে দিন পার করতেছে আর আমরা ব্লগে টগে লিখে বোগল বাজাইতেছি। এরশাদ নাকি বিশ্ববেহায়া আমরাও তো তার যোগ্য অনুসারী যে কোনো কিছুতেই আমাদের কোনো আর কিছু মনে হয় না। দিন চলে যায় অবিরত। গা সয়ে গেছে সব কিছুতে। আমি কেডস পড়ে হাটা ছেড়ে দিছি সকালে। স্যান্ডেল আর পাঞ্জাবী পড়ে হাটতে বের হই। লোকজন হয়তো শিবির টিবির মনে করে আমার কিছু যায় আসে না। স্যান্ডেল পড়ে যাই কারন খালি পায়ে ঘাসে পা রাখবো বলো। নরম ঘাসে পা দিয়ে হাটার আনন্দ ভোর বেলায় কেউ সচারচর পায় না। যদিও প্রচুর ধুলা বালু চারিদিকে তাও খালি পায়ে হাটি। ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে আকাশ দেখি। খুব শান্তির ব্যাপার লাগে। রাতে ভার্সিটি থেকে ফিরে বাস থেকে নেমে মোহাম্মদপুর ইদগা মাঠে মন খারাপ থাকলেই বসে থাকি। নতুন ঘাস লাগিয়েছে সেই মাঠে। বাতাসের দিন বসে থাকতে কি আনন্দ! মনে হয় জীবনটা যদি এখানেই থেমে যেতো। ফেসবুকে অনেকদিন আগে স্টেটাস দিয়ে ছিলাম যে জীবনের আমার একমাত্র প্রাপ্তি সময় উদযাপন করতে পারা। আসলেই তাই ইচ্ছা মতো নিজের সময় আলস্য আড্ডায় উদযাপন করেই কাটিয়ে ফেললাম। আগে সবসময় বন্ধুদের নিয়ে ভাবতাম নিজের সব সুখে বন্ধুদের জড়াতাম। এখন আর তেমন নাই। চিটাগাংয়ে যে দুই তিনজন বন্ধুকে প্রতিদিন ফোন দিতাম এখন তা সপ্তাহে একবারে এসে নামছে। ওরাও ফোন দেয় না তাই সেই আগের মতো একপক্ষীয় জোস খুজে পাই না। তবে সামনেই আবার পুরানা দিনে ফিরে যেতে হবে। কারন ওদের শর্ট কোর্সের আইএসএসবি এক্সাম সামনের মাসের দিকে। তখনো হয়তো আবার আমার মুখেই শুনবেন বন্ধুত্বের জয়গান। তবে এবার খুব ধরছিলো ওরা চিটাগাংয়ে যাওয়ার জন্য কিন্তু ইচ্ছা করেই গেলাম না। কারন চিটাগাংয়ে বোরিং লাগে যখন সবাই দেখি অফিসে যাবে আর আমি বন্ধুদের নিয়ে সীবিচে সামনে সারাদিন বসে থাকবো। তারা কাজ কাম বাদে আমারেই শুধু সময় দিবে। নিজের সময়ের দাম দেই না বলে অন্যের সময়ের দাম দিবো না তা হবে না। তাই ভাবছি টাকা পয়সা জব হোক তারপর যাবো চিটাগাং। আর চিটাগাং সড়ক পথের যে খারাপ অবস্থা। তাতে সামিয়ার মতো বাসে করে কলকাতাতে চলে যাওয়াই ভালো। তারপর সেখানে ট্রেনে ট্রেনে ঘুরে বেড়াবো আর লুচি- আলু তরকারী খাবো। দাদাদের এক্সেন্টে তো পারি কথা বলতে তা আরো ঝালিয়ে আনবো। আজ ভোরে বেড়িয়ে হেটে বাসায় ফিরছি বারোটায়। বলা যায় টানা সাত ঘন্টা বাইরে ছিলাম। খুশীর এক কান্ড ঘটছে। আমার এক রিক্সাওয়ালা মামা ছিলো। এক সাথে চা খেতাম নাম আমজাদ। উনি সিএনজি চালানো শুরু করবে। ড্রেস বানাতে দিছে। সেই ড্রেস আনলো আর আমার আর পুলকের জন্য মিস্টি আনলো। আহা কি শান্তি। বলতেছে দুই দিন ধরে আপনারে খুজতেছি পাই না তাই মিস্টি খাওয়ানোর জন্য ঘুরি। পাইলেই আপনার প্রিয় কালোজাম মিস্টি খাওয়ায় দিবো। চোখে পানি আসলো। কত লোকের অদ্ভুত ভালোবাসা পেলাম এই জীবনে। দুই বছর আগের কথা আমি আর পুলক গ্যারেজের এক ছেলেকে খুব আদর করে তার নামে ডাকতাম। ছেলেটা হুট করেই হারিয়ে গেলো। পুলকের সাথে তার দেখা হলো অনেকদিন নিউমার্কেটে। ঘুরতে আসছে। পুলক খুশী মনে তারে ঢাকা কলেজের সামনের সস্তায় একটা গেঞ্জী আর ওয়াজের সিডি কিনে দিলো তার চাহিদা মাফিক। ছেলেটা তা পায়া যে কী খুশী। সেই ছেলেটা কাল হুট করে চায়ের দোকানের দিকে আসছে। অনেক সময় নিয়ে সন্ধ্যা থেকে বসা। আমি ক্লাস টাস করে রাতের সাড়ে নয়টায় আসলাম দেখি ছেলেটা। আমি তাকে মজা করে আপনে বলে ডাকতাম। কিরে আপনে এখানে কি করেন? ' ভাইয়া আপনার আর পুলক মামার কাছে আসছি বিদায় নিতে। ভোলায় চাকরী পাইছি একটা ছোটোখাটো তাই এখানে থাকবো না। বাড়ীতে যাবো কাল বিকেলে তাই আপনার সাথে দেখা করতে আসলাম।' আমার পকেটে টাকাই নাই। ছেলেটার হাতে যে ১০০-২০০ টাকা যে দিবো পকেট গড়ের মাঠ। কি আর করা আমি মুখ ফসকে বলেই ফেললাম এমন দিনে আসলি পকেটে যে টাকাই নাই। নান্নুও নাই যে ধার করে নিয়ে দিবো। ও বলে উঠলো কি যে বলেন ভাইয়া এমনি আসছি আপনাকে চা আর পুলক ভাইকে সিগারেট খাওয়াবো বলে। আমি চা খেলাম। চা টা ওতো ভালো হয় নাই। সুমন মিয়া দোকান দিছে কিন্তু চা বানাতে পারে না। পচিশ হাজারটাকা বাকী দিয়ে নাকি ধরা খাইছে। তাও আমার কাছে মনে হইছে এর চেয়ে শান্তির চা খাওয়া জীবনে খাই নি!

যাই হোক কথায় কথা বাড়ে। এইসব কথাবারতা ছাড়া আমি আর কিছুই লেখতে পারি নাই ব্লগে। আপাদমস্তক ব্যর্থতা আমার। তবুও দিন যাচ্ছে ভালোই। সেমিস্টার ফাইনাল চলতেছে। দিতেছি। আশা করি পাশ করবো কারন পাশে আছে বন্ধু সিরাজুল ইসলাম শাহীন। তার মতো উদার ছেলে বড়ই বিরল। পুরা খাতা খুলে দেয় আমি লিখবো বলে। রন্টি ভাই দেশে আসলো। ফেসবুকে জানলাম। খুব ভালো পাই উনারে। দেখা করবে কিনা জানি না। তবে আমার খুব ইচ্ছা দেখা করার। আগে ব্লগতো এমন ফেসবুকময় ছিলো না। ব্লগের লোক মানে ব্লগেরই লোক এর বাইরে ইয়াহুতে কারো কারো সাথে হালকা পাতলা যোগাযোগ। তাই ২০০৮ য়ে যখন রণ্টি ভাইয়ের সাথে যেদিন দেখা হলো। তখন আমি আনন্দে আপ্লুত। কি করবো দিশেহারা। আর আপনারা কেউ জানেন কিনা জানি না, সব বিষয়েই উনি দারুন গল্প করতে পারে। গল্প শেষে বলে উঠবে শান্ত হইলো গিয়া মাটির মানুষ। উনার বাবা যেদিন মারা গেছে তার খবর পাই সপ্তাহ খানেক পর, এতো মন খারাপে পড়ছিলাম তা বলার মতো না। তখনো উনি বিদেশে। তবে আজব ব্যাপার হইলো গিয়া সেই কোন জামানা থেকে রন্টী ভাই আমাকে দেখতেছে যে আমি পড়াশুনা করি এতোদিন পরেও দেখবে যে আমি পড়াশুনাই করতেছি। আর শুন্য পকেটের বেকার। ব্যাপারটা বড় ইনসাল্টিং।

এ কয়দিনে বই পড়া শেষ করলাম কি কি? আন্ডারগ্রাউন্ড জীবন সমগ্র, মাহমুদুল হকের আগে পড়া খেলাঘর, শওকতের ওসমানের কালরাত্রির খন্ডচিত্র, কাজী আনোয়ার হোসেনের ছোটো কুমার, বদরুদ্দীন ওমরের বাপ আবুল হাশিমের আমার জীবন ও বিভাগপুর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি, দুলাভাই হয়েও যে হলো না আনোয়ার কবিরের ফাসির মঞ্চে তেরোজন, আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের বিস্রস্ত জার্নাল। আরো পড়তে পারতাম আরো জমানো আছে বই কিন্তু আলস্য লাগে আর পিসিতে বসে ইউটিউবে গান শুনতেই আনন্দ। সিনেমাও দেখলাম অনেক। নাইজেল কোলের ডিরেকশনে ফাইভ ডলার এ ডে, কিয়ানো রিভস আর আতানিয়া সানচেজের এ ওয়াক ইন দ্যা ক্লাউডস, এমাজিং স্পাউডারম্যান, ব্যাটমান বিগিন্স, ব্যাটম্যান ডার্ক নাইট রাইজেস, এমেরিকান গ্যাংস্টার, ব্রেকএওয়ে, পারফেক্ট সেন্স, স্টুপিড ক্রেজি লাভ, হার্ডকেন্ডি, টবি ম্যাকুইরের ব্রাদার, লাভ এন্ড ওনার, ওয়ান টুয়েন্টী সেভেন হাউরস আর এ সেপারেশন। অনেক গুলাই দেখলাম। সব গুলাই যে খুব ভালো লাগছে তা না। তাও দেখছি। কারন হিন্দী ছবি নিয়ে আমি না দেখেই অনেক জানি অনেক পড়ি তাই ভাবলাম হলিউড নিয়ে এবার মাথা ঘামাই। তবে হলিউডের সমস্যা একটাই এতো সুন্দরী নায়িকারা যে তাদের দেখার পর রাস্তা ঘাটে কোনো মেয়ের দিকে তাকালেই মনে হয় কার দিকে তাকায় আছি এ? এমা স্টোনদের দিকে তাকালে তা না হয় রহমত বরকত আছে!

অনেক কিছু লিখে ফেললাম। আজ যাই। দুপুরে খুব ঘুম আসছিলো। বাড়ির কেয়ারটেকারের অত্যাচারে ঘুমানো দায়। এতোদিন পরে সে জানলার ভাঙ্গা তার কাচের পরিধি মাপে। গ্যাস ঠিক করছে। বুয়া আমার কাছে দেয় বিচার যে গ্যাসের হিট নাই নতুনটায়। এতো হাবিজাবি শুনে ভার্সিটি যাবার আগে এই পোস্টটা লেখা শেষ করলাম। কারেন্ট গেলো দেয়া হলো না। রাতে এসে আবার লিখলাম

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মর্ম's picture


অদ্ভুত ভাল লাগা একটা শিরোনাম! মনে রাখা মত একটা কথা! Applause

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস ভাইয়া। আপনে লিখেন না কেন আর? জলদি পোস্টান!

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


কবে দেখা করবেন কন!
আপনেরে গিফ্ট দেওয়ার জন্য জলের গান জমা রাখলাম।
আমি লেখার হইলে তো লেখতামই,
কিন্তু গানগুলি শুইনাই এগুলা সম্পর্কে আপনের কথাবার্তা চিন্তাভাবনা জানার ইচ্ছা করছে। তাই বলছি।আবারও বলি, প্লিইইইইইজ..

ভাইভার জন্য অসংখ্য শুভকামনা। আল্লাহ আপনেরে এই পুলসিরাত পার হৈয়া সিরাম একটা পার্টি দেওয়ার তৌফিক দান করুক!

লেখার শিরোনামটা অসাধারন।
এই জিনিসটা আমি একদমই পারি না।
বেস্ট পারে মীর ভাই,
অনেকদিন দেখি না ওনারে। ভাল্লাগে না।

হলিউডে হাণা দিছেন দেখে ভাল্লাগলো।

এবি তে ৩ বছর ৩ দিনের ইস্পিশাল শুভেচ্ছা।
অনেক ভাল থাকেন, সুপ্রিয় শান্ত ভাই।

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কু বর্ণ। সুখে থাকো। অনেক অনেক শুভকামনা!

পজিটিভ's picture


নিজেরে ব্যর্থ ভাইবা প্যান্ট খারাপ করার মাঝে মুজিজা যে কি আছে আমি জানি না। তুমি সারাক্ষন একই কথা বল। এই ভাবে ভাবতে থাকলে এক সময় দেখবা তুমি নাই হয়ে গেছ। তোমার বি সি এস হবে, বা তুমি চাকরি পাবা ভাল জায়গায়, তাতেও ব্যর্থতা তোমার পিছন ছাড়বে না। গত ২ বছরে আমার একটা রিয়েলাইজেশন আইছে, যতগুলা কাজ পারি নিজের মত কইরা জামু, কে কি ভাবল না ভাবল কেয়ার করুম না, টাইম অল্প হাজার তো আর বাচুম না। কব্বরে ব্যর্থতার সিল নিয়া যাওনের কোন মানে না। যতগুলান বইয়ের নাম কইলা, সিনেমার নাম কইলা, ঐগুলান কোন কামে আইব না, যদি না তুমি উপলব্ধি কর। যাওক গা, মাইন্ড খাইও না, লেখা ভালা হইসে! Smile

আরাফাত শান্ত's picture


ব্যর্থতার কথা নাই ভাইয়া। এইটা আসলে সাময়িক মন খারাপ থেকে উৎপন্ন হতাশার বহি প্রকাশ।
ভালো থাকবেন ভাইয়া। আপ্নিও ভাবীরে লইয়া শান্তিতে থাকেন!

রাসেল আশরাফ's picture


ভাইবাটা ভালো করে দাও। আমরা আরেকজন ক্যাডার ভাই পাই। আর তোমাদের মতো ছেলেরা যতো সরকারী কর্মকর্তা হবে তাতে দেশেরই লাভ।

লেখা ভালো হয়েছে তবে এই হা হুতাশটা এট্টু কমায়। দেখবা আরো ভালো থাকবা।

আরাফাত শান্ত's picture


দেখা যাক ভাইয়া। দোয়া কইরেন কি হয়। হা হুতাশ থাকবেই আমার লেখায়। কারন বাস্তবে আমি যেমন কাটাই ব্লগে ঠিক তেমন করেই লিখি। ভালো থাকেন, ভালো ভালো রান্না করেন!

নাজনীন খলিল's picture


হা -হুতাশ করোনা।
সময়ের সাহসী সৈনিক হয়ে বেড়ে উঠো।এই অন্ধকার একদিন কেটে যাবে।যাবেই।

১০

আরাফাত শান্ত's picture


জী আপু দোয়া কইরেন। ভালো আছেন তো এই অসময়ের দিনগুলোতে?

১১

তানবীরা's picture


এরশাদ নাকি বিশ্ববেহায়া আমরাও তো তার যোগ্য অনুসারী যে কোনো কিছুতেই আমাদের কোনো আর কিছু মনে হয় না। দিন চলে যায় অবিরত। গা সয়ে গেছে সব কিছুতে।

ঠিক

তবে হলিউডের সমস্যা একটাই এতো সুন্দরী নায়িকারা যে তাদের দেখার পর রাস্তা ঘাটে কোনো মেয়ের দিকে তাকালেই মনে হয় কার দিকে তাকায় আছি এ?

Wink Wink Wink

১২

আরাফাত শান্ত's picture


Smile
ভালো থাকেন আপু!

১৩

জ্যোতি's picture


কিসের এত ব্যর্থতা! তুমি তো সফল মানুষ , রিক্সাওয়ালা মামা মিষ্টি খাওয়াতে খুঁজে, সেই ছেলেটা চা খাওয়াতে আসলো! কত ভালোবাসা! আর কি চাই!
ভাইভাতেও টিকবা ইনশাল্লাহ। চাকরী করলেও পোস্ট দিও কিন্তু রোজ। দোয়া করি ভাইভাতে টিকো, ভালো একটা বউ পাও, ঘর ভর্তি বাচ্চা কাচ্চা হোক Smile

১৪

আরাফাত শান্ত's picture


্দোয়া কইরেন আপু। আপনারও মন মেজাজ ভালো থাকুক!

১৫

নরাধম's picture


ক্যাডার হইয়া আমাগোরে ভুলে যাইওনা, বিপদে তোমারে ডাকমু, তুমি ক্যাচাৎ করে দিবা, ঠিকাছে?

১৬

আরাফাত শান্ত's picture


আগে হয়ে সারি ভাইয়া
আপনি দেশে আসবেন কবে? বিয়ে থা কি আর করবেন না এই জীবনে!

১৭

শওকত মাসুম's picture


ঈর্ষনীয় জীবন

১৮

আরাফাত শান্ত's picture


মোটামুটি ওতো বেশী ইর্শনীয় না!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!