জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৩।।
আমি জীবনে কোনোদিন কোনো সাহিত্য পুরষ্কারে যাই নাই তেমন। শেষ গিয়েছিলাম মনে হয় বাংলার পাঠশালা এক পাতি বাম পাঠচক্র বেইসড সংগঠনের আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সাহিত্য পদকে। অনুষ্ঠানটা খুব সাদাসিদে ভাবে আর সি মজুমদার মিলনায়তনে হয়েছিলো। খুব বেশী কথা মনে নাই সেই অনুষ্ঠানের। তবে কাল যে আয়োজনে গেলাম তাতেও আমার যাওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা ছিলো না। কারন আমি সেরকম কেউ না যে কেউ দাওয়াত দিবে। আর চারিদিক কোনো সময় ফলো করা হয় না যে খোজ করে যাবো। তাই এই অনুষ্ঠানে যাবার প্রধান কারন আহমদ মোস্তফা কামাল ভাইয়ের পুরস্কার প্রাপ্তির অনুষ্ঠান বলেই। নয়তো কতো কিছুই তো হয় এই ভাবে কি আর জরুরী ভেবে যাওয়া হয়। আর অনেকদিন এবির লোকজনের সাথে ফেসবুক মোবাইল বাদে যোগাযোগ নাই। তাই ভাবলাম যে কয়জনই আসুক আড্ডা তো হবে! তাই সকাল থেকেই আমার প্ল্যান বিকেলে যাবো বাংলা একাডেমী। আমি ধারনা করছিলাম প্রোগ্রাম শুরু হবে চারটার সময়। আগেভাগে যাবো। কামাল ভাইয়ের কাছ থেকে লাঞ্চের টাকা নিয়ে চানখারপুলের বিরিয়ানী খেয়ে আসবো। কিন্তু ঐ যে জগজিত সিং গান গেয়ে গেছে বেশী কিছু আশা করা ভুল। তাই আমার আশা দুরাশাই থেকে গেলো। বুয়া আসলো অনেক দেরীতে। রান্না করলো অতি মশলা দেয়া রুই মাছের তরকারী আর ভাত। সারাদিন বাসাতেই ছিলাম এবিতে পোস্ট লিখলাম বই পড়লাম এই করেই কাটলো। ১ ঘন্টার জন্য চায়ের দোকানে বের হইছিলাম। পুলককে পেলাম। পুলকের চাচতো বোনকে দেখতে পাত্রের মা বাবা আত্মীয় স্বজন আসছে সুদুর চিটাগাং থেকে। এর ভেতরেই পুলকের কাজিনের খবর নাই। সবাই ধারনা করছে মেয়ের এফেয়ার আছে তাই পালাইছে। পুলকের বড় বোন চারিদিকে ফোন টোন দিয়ে জানলো কাজিন শ্যামলীতেই এক বান্ধবীর বাসায়। পুলকের চাচা দেশে নাই। তাই এই নিয়ে তাদের ফ্যামিলীতে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। আমি আসলে এই সব ড্রামার মানে বুঝি না। মেয়ের যদি এখন বিয়ে করতে মনে না চায় বলে দিবে ডাইরেক্ট। বাপ চাচার ভয়ে কিছু বলবে না আর ছেলেরা দেখতে আসার সময় পালাবে এর মানে কি আসলে? মেয়েকে বারবার জিগেষ করা হচ্ছে কোনো পছন্দ থাকলে বল তাও বলে না। আর মেয়ে বিয়ে করতে চাচ্ছে না, কি দরকার পিএইচডি ছেলের বাবা মা কে দাওয়াত করে কনে দেখানোর ব্যাবস্থা করতে। অবশ্য আমি এইসব ফ্যামিলী ড্রামায় কখনো পড়ি নাই। খুবই সিম্পল জীবন আমার। তাই হয়তো বুঝি কম। আর আজ অবধি তো কোনো দ্বায়িত্বই নেই নি কোথাও! এইসব ভাবতে ভাবতে হেটে হেটে বাসার দিকে ফিরলাম। রিক্সায় আসতাম কিন্তু ভাড়া চায় ২০ টাকা ১৫ টাকার ভাড়া। আমি এতো রিকশায় চড়তে পছন্দ করি, কোনো এক রিক্সাওয়ালাকে মারলে নিজের গা বাচানো স্বভাব থেকে সরে এসে প্রতিবাদ জানাই আর সেই রিক্সাওয়ালারাই আমাকে বুঝে না। এমন কি আমি রিকশাওয়ালাদের সাথে তুই তুকারীও করি না। কারন রিকশা চালায় বলে তার সাথে তুই তুকারি করবো এইসব মধ্যবিত্ত সাহেবদের স্বভাব আমার কখনো হয় নি। আমার এই পথে ঘাটের এই সাধারন মানুষদের নিয়ে এতো ভাবনার কথা শুনে আমাকে আমার এক দোস্তো ডাকতো গরীবের বন্ধু শান্ত! ছোটোবেলায় নায়ক আলমগীরের এক ছবি দেখছিলাম সেখানে সে থাকে গরীবের বন্ধু, পেশায় মাস্তান খালি গরীবদের উপকার করে বেড়ায়। আমি তো সেরকম রবিনহুড হতে পারলাম না। তবে তীব্র মন খারাপ হয় যখন দেখি একদল মানুষের বাস বিত্তের রাজপ্রাসাদে থাকে আর আরেকদল মানুষ শুধু মাত্র খাবারের টাকা আয় করার জন্যই বেচে থাকে!
যা হোক অযথাই অনেক লেকচার দেয়া হলো। আমাদের সবার কাজই লেকচার দেয়া। সেদিন এক লোক আসছে চায়ের দোকানে তার সাথে পাভেল এইটিজের গান নিয়ে আলাপ করতেছে। সেই লোক জাস্ট ঝাড়লো যে কি কি গান শুনা উচিত। কনওয়ে টুইটি থেকে জনি ক্যাশ লোবো সবার নাম বলে কয়ে অস্থির। আমি খালি দেখলাম বিভিন্ন শিল্পীর নাম বলতে পেরে লোকটা মনে দিগ্বিজয়ী আনন্দিত। তখন আমার আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের কথাটাই মনে হলো যে এ দেশে সব চেয়ে সস্তা জিনিস হলো হিতোপদেশ দেয়া। তবে আমি কেন জানি ক্লোজ ফ্রেন্ড ছাড়া কাউকেই নিজের পড়াশুনা গান শুনার বিষয় নিয়া ঝাড়ি না। এই গুনটা এখন আরো বাড়াইছি। চোখের সামনে লোকজন আজাইরা নানান তথ্য দেয় জানি ভুয়া তাও শুনে যাই চুপচাপ। কারন মুর্খের দল পড়াশুনার সাথে সংযোগহীন মানুষেরাই বেশী তর্ক করে বেশী আজাইরা প্যাচাল পারে।
অপ্রাসংগিক কতো কথা বলে দিলাম অযথাই এবার মেইন পয়েন্টে আসি। বাংলা একাডেমীতে পুরস্কার বিতরনীতে যাবো তা সকাল থেকেই ফাইনাল। এই জন্যে বিকালে কোনো কাজই রাখি নাই। বুয়ার জঘন্য রান্না খেয়ে পাঞ্জাবী একটা পড়ে রওনা দিলাম। রিক্সা পাই না। নীলখেত চায় ৮০ টাকা কি বিপদ। ৮০ টাকায় আমি নাজিমুদ্দীনরোডে চলে যাই কতো ঘুরে আর নীলখেতের সিগনালেই চায় ৮০ টাকা। সবুর করলাম হাতে এখনো ব্যাপক সময়। রিক্সা পাওয়া গেলো অনেক কষ্টে ৬০ টাকায় উঠে পড়লাম। সারদিন রিকসা চালিয়ে বেচারা রিক্সাওয়ালা ক্লান্ত। আস্তে আস্তে চালাচ্ছিলো। আমিও তাড়া দেই নাই কারন যায়া দেখবো কেউ আসে নাই তাই দেরীতে যাওয়াই ভালো। কিন্তু কি হলো রিকশাওয়ালা হঠাৎ এক রিক্সাওয়ালার বাক বিতন্ডা করেই তার মেজাজ গেলো খারাপ হয়ে। দারুন টান দিলো তখন। অসুরের শক্তি তার গায়ে। কিন্তু সায়েন্স ল্যাবের মুখে জ্যামে নাকানিচুবানি খেলাম। পাশে সুন্দরী মেয়ে বাদাম খায় আর আড়চোখে তাকায় কেউ তার দিকে তাকাচ্ছে নাকি। ইয়াং মেয়েদের এ এক আজব সাইকোলোজি। কেউ তাকালে বিরক্ত হবে আবার না তাকালে আশেপাশে দেখবে কেউ দেখছে কিনা! যাই হোক আমার ওতো সময় নাই দেখার। আমার কানে বেজে চলছে আমেরিকান ব্যান্ড টুলের গান। আমি তাই নিয়ে চিন্তিত। জ্যোতি আপু অনেকক্ষন ধরে নাকি বসে আছে। এই কারনে হঠাৎ তাড়া অনুভব করলাম। নীলখেত নেমে রাস্তা পার হয়েই রিক্সায় কালী মন্দির। এই রিক্সাওয়ালাও ক্লান্ত বড্ড আস্তে আস্তে চালায়। দিলাম তাড়া বললাম মামা আরেকটু জোরে চালান। আমার জরুরী কাজ আছে। জরুরী কাজের কথা শুনে নিজেই হাসলাম মনে মনে। আহ মনে হয় পুরুষ্কারটা আমি পাচ্ছি। যেয়ে দেখি আপু মুড অফ করে বসা। চেহারায় ক্লান্তি। সারাদিন অফিস করে ঘন্টা খানেক হলো মেজাজ খারাপ করে বসে আছে। চা খেয়ে আসি নাই আর রিক্সায় ঝাকুনি খেতে খেতে পেটে খিদে লেগে গেছে। কিন্তু খাবার নাই। অনুষ্ঠান শেষে খাবার দেওয়া হবে। আমরা আয়োজক না তাই চা ও পাই না। গলা শুকিয়ে কাঠ। মেইন মঞ্চে ঢূকলাম। কামাল ভাইকে খুজি, ভাইয়া নাই। আমি আর জ্যোতি আপু বসে ছিলাম। এসির কেমন জানি গন্ধ। তার ভেতরে শাড়ী পড়া সুন্দরী তরুনীরা হাটা চলে করে। বুঝলাম না এদের কাজটা কি। পড়ে বুঝলাম এরা ক্রেস্ট, উত্তরীয়, বই আগিয়ে দিবে অনুষ্ঠানে। মুরাদ ভাই, শুভ ভাই, জেবীন আপু আসলো। অনেকদিন পর সবার সাথে দেখা। সেই যে ফেব্রুয়ারীতে টানা আড্ডা চলছিলো তার পরে আজ। কামাল ভাইয়ের সাথে দেখা হলো। জ্যোতি আপুর ভাষাতেই বলি উনাকে আগের চেয়ে সুন্দর লাগছিলো। তবে কামাল ভাইয়ের সাথে অনেক লোক ছিলো তাই আমি জিগেষ করি নাই যে এগুলা পুরুষ্কার নিতে সাধারনত পাবলিক পাঞ্জাবী পড়ে আসে। শান্তি নিকেতনী স্টাইলে কথা বলে আপনার সেরকম কোনো ভাব নাই কেন? অনুষ্ঠান শুরু হতে দেরী হবে। আমরা পুকুর পাড়ে বসে স্বভাব সুলব এবির হইচই আড্ডা দিতে থাকলাম। কিন্তু পেটে খিদে থাকলে কি আর আড্ডা ভালো লাগে! চা নিলাম অনুষ্টানের ওখান থেকেই। খিদের তাড়নায় হোক আর চা অনেক সময় ধরে চা খাই না বলেই হোক এক চুমুকেই জিহবা টা গেলো পুড়ে। সচরাচর আমার জিহবা পুড়ে না। আজকেও সেই পুড়ার রেশটা রয়ে গেছে। অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেলো। কিন্তু দেরীতে আর খিদায় আমার আর অনুষ্ঠানে মন নাই। তাও রাসেল ভাইকে খুজতে গেলাম। জানতাম লীনা আপু আসবে না। তবে খুব আশায় ছিলাম ইস যদি আসতেন তাহলে কি আর এতো বাটে পড়তে হয়। আপুরে খুব মিস করছি। কলকাতার সুখময় বাবু অনুষ্ঠানের ভুয়সী প্রশংসা করলেন। তবে তার আরবে বালি তাই মুর্তি হয় না এই থিউরীটা পছন্দ হলো না। কামাল ভাইয়েরও প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন। আমি ভেবেছিলাম কোনো মন্ত্রী টন্ত্রী আসবে। মালের কাছ থেকে পুরুষ্কার নিবে কামাল! তরুন লেখক হিসেবে পুরস্কৃত হলো মেহেদী উল্লাহ নামের এক ছেলে। ছেলেটা সম্ভবত আমার বয়সী কিংবা বড় হবে একটু। আমি মনে মনে ভাবতেছিলাম আহারে জীবনে কি করলাম কোনো পুরস্কারই পেলাম না। অবশ্য তার পরেই মনে হয়েছে আমি পাঠক হতে চেয়েছি আজীবন। লেখক হবার সখ নাই। কামাল ভাইয়ের আত্মীয় স্বজন সবাইকে চিনিয়েছিলেন আগেই। উনার সাথে যে সামান্য সময় তখন কথা হলো তখনো মনে হইছে আসলেই উনি কথাশিল্পী। কারন সুন্দর ভাবে আপন করে কথা বলে আমার মতো অধমের সাথে। কামাল ভাই পুরুস্কার নিলো। আমার ধারনা ছিলো প্রাইজ মানি দেড় দুই লাখ। কিন্তু এতো দেখি আড়াই লাখ টাকার মামলা। রথী মহারথী অনেক তথাকথিত তরুন লেখকদের বসে থাকতে দেখলাম। মনে মনে ভাবছিলাম বেচারারা যতোই তালি দিক মন একটু খারাপ। কারন প্রাইজ কে না পেতে চায়! তরুন যে লেখক পুরুষ্কার পাইলো তার কথা শুনে মেজাজ খারাপ। প্রতিদিন লোকাল বাসে যায়, ২০০ মানুষের সাথে কথা বলে, মায়ের উকুন বেছে দেয়, শুক্রবারের বাংলা সিনেমা দেখা এগুলাই নাকি তার গল্প লেখার অনুপ্রেরনা। আমি ভাবলাম কাম সারছে! আতেল গাছে ধরে। তার নানাবিধ চাপা শুনার যন্ত্রনা সহ্য না করতে পেরে বাইরে এলাম। তার চেয়ে কামাল ভাইয়ের বক্তব্য কতো অসাধারন। কান্নাপর্ব নিয়ে তার ভাবনা, উপন্যাসটা লেখার দীর্ঘ সময় অভিজ্ঞতার সরল বর্ননা, পুরস্কারের তাৎপর্য, লোকজ শিল্পীদের জন্য কিছু করতে না পারার লেখকের ব্যার্থতা সাথে সাথে এই অস্থির সময়ের বর্ননা, সব মিলিয়ে দারুন সুলিখিত বক্তব্য। শুনেই শান্তি। কিন্তু এরপর আমি বাইরে আপু ভাইদের খুজতে গেলাম। দেখি নাই। কাজী শাহেদের তাই বক্তব্য কিছু অংশ শুনি নাই। উনারা নাকি ভিতরে। গেলাম। আল্লাহয় বাচাইছে কিছু অংশ শুনি নাই। নয়তো মান্যবর চেয়ারম্যানের বক্তব্য পুরা গজব। অশ্লীল, অশালীন গল্প যদি হয় রসবোধ (বাংলা নিউজ ২৪ বলছে) তবে সেই রসবোধের দরকার নাই। পুরা বক্তব্যে উনি ভালো একটা কোনো কথাই বলেন নাই। তাও দেখি প্রতিটা গল্প শেষে ভবন ফাটিয়ে তালি আর তালি। ঝাকায়া ঝাকায়া তালি। ভালো করে দেখলাম তাদের গলায় ঝুলে জেমকনের কার্ড! উনার বক্তব্য শুনে আমি উনার ভাষাতেই বলি পুরা চোদনা হয়ে গেলাম। পরের পর্বে ফাতেমা তুজ জোহরার নজরুল গীতি। আগ্রহ পেলাম না। কামাল ভাইও ব্যাস্ত ফটোসেশন ও ইন্টারভিউ নিয়ে। কি আর করা ক্ষুদার্ত পেট নিয়ে সবাই হাটতে হাটতে চলে গেলাম টিএসসি। রাসেল ভাইয়ের ওয়াইফ আইমিন লিপি আপু আসলো। জন্মদিন গেলো গত পরশুদিন উনার। শুভ ভাই খাওয়ানোর দাবী জানালো। উনি বাসায় যাওয়ার নিমন্ত্রন দিলো। কিন্তু এই গরমে কি আর বাসায় যেয়ে খাওয়া হয়! জেবীন আপু জ্যোতি আপুরা রিক্সা খুজছিলো। আমিও চিন্তা করলাম আপু বাহিনী না নিয়ে গেলে কি আর মাসুম ভাই কি আর খাওয়াবে। তাই আমিও রিক্সা খুজছিলাম। যুতমতো ৭৫ টাকায় পেয়ে গেলাম শিয়া মসজিদের ঢালে। তখনই ভুলটা করলাম। উচিত ছিলো আপুদের ডাক দিয়ে এক সাথে যাওয়া। বা তাদের রিক্সায় উঠায় দেয়া। কি আর করা ফুলার রোডের ওদিক এসে এই ভাবনা আমার মাথায় আসলো। ফোন দিলাম। আপুরা তখনো রিকশা পায় নাই। রিক্সা যে আবার ঘুরাবো তারও উপায় নাই কারন গাড়ী ভর্তি জ্যামের রাস্তায় বসে আছি। এসে পড়লাম রিক্সায়। মধ্যে ধানমন্ডী ১৫ তে নেমে ঝাল মুড়ি কিনলাম। খিদায় পেট চো চো করতেছে। ঝালমুড়ি খেতে খেতে ভাবছিলাম লীনাপুর বাসার দিকে ঘুরে যাই। পড়ে ভাবলাম থাক ওতো ঘুরে কাজ নাই। চায়ের দোকান আসলাম চা খেয়ে বাসায় হাটা। আগের পোস্টেই বলছিলাম চায়ের দোকান থেকে মন উঠে যাচ্ছে। সবাই ছিলো তাও পুলক বাদে কারো সাথেই কথা বলি নাই। ১৫ টাকার রিক্সা ভাড়া ২০ টাকা চায় তাই হাটতে হাটতে বাসায় ফেরা। হিসেব করে দেখলাম ১৬০ টাকা খালি রিক্সা ভাড়াই দিলাম। পুরাটাই নীট লস। ভেবেছিলাম কামাল ভাইয়ের কাছ থেকে ট্রাভেল এলাউন্স নিবো তাও আর হলো না!





কামাল ভাই পুরস্কার পেলেন এটাই হলো আনন্দ ।
ফেরার পথে বেশি টাকায় রিক্সা নিলাম আমরা । মাসুম ভাইয়ের কাবাব খাওয়ার দাওয়াতটা মিস করা ঠিক হয়নি । তারপর ফেরার পথে জেবীন পুরি, সিংগারা খাওয়ালো । খুধার চোটে খেয়ে হজম করতে পারলাম না
সেই গজব বক্তব্য শুনে পুরা অডিটরিয়ামের মানুষ তালি দিচ্ছিলো । সস্তা রসিকতা শুনে আমরাই আপসেট হলাম ।
আহারে আপু কালকের দিন্টাই গেলো আপনার গজবময়। আপনার জন্যে মন খারাপ লাগছে!
আনন্দ তো অবশ্যই। তবে আমাদের এতো কষ্ট করে যাওয়া, এতো বেহুদা সময় টাকা নস্ট করে উপস্থিতির তেমন কোনো মানেই নাই। মান্যবর চেয়ারম্যানের রসিকতার গালি গুলা খালি শুনে আসলাম!
দোয়া করি আপু অনেক। ভালো থাকেন, ভালো হয়ে যান!
কালকে টিভি নিউজে দেখলাম
তাই নাকি? ভালো তো!
সুইস বেকারীর পেটিস ছিলো খাবারের মেন্যু .... যারা যারা খাইছে তাদের পেট খারাপ না হয়ে কোন উপায় নাই কারন আমরা কতগুলা ভুখা না খাইয়া চইলা আসছি।
তবে সবাইকে খুশির সংবাদ দিতে চাই, কামাল ভাই বলেছেন উনি আমাদের ভরপুর খাওয়াবেন, স্থান-মেন্যু আমাদের আর বাকি কর্তব্য কামাল ভাইয়ের (ইয়ে মানে উনি এখনো ঘোষনাটা দেন নাই .. তবে এই দিলো বলে)
কাজি বুড়োর রগরগে ছেনালিপনা দেখে আমিও তোমার মত 'চোদনা' হয়ে গেছিলাম। তবে তারচেয়েও বেশি 'চোদনা' হইছি বুড়োর সস্তা রগরগে রসিকতা শুনে হল ভর্তি মানুষের কড়তালি দেখে। মানুষ অদ্ভুত !!
বিমা, দাবি গ্রহণ করা হলো।
আপনার দোয়া জ্যোতি আপুর উপরে কাজে লাগছে। কাল উনি জেবীন আপুর প্রলোভনে পুরি সিংগারা খায়া পেটে রাখতে পারে নাই
দাবী মেনে নেয়া ছাড়া কামাল ভাইয়ের আর কোনো পথ নাই!
এই বেটার নামই শুনছি এতোদিন। এরকম যে মানুষ উনি তা কালকেই লেসন নিলাম। হল ভর্তি মানুষ তালি দিচ্ছিলো কারন মননে চিন্তায় তারাও মনে হয় এই কিসিমেরই পাবলিক!
মাসুম্ভাইয়ের কাবাবের দাবাত উপেক্ষা কইরা এত্তোগুলা ভুখা নাখান্দারা, সুশিলের বিপরীত পাব্লিক'রা যতই খাই খাই ভাব দেখাই, খানা না পাইয়া ক্যাচরমেচড় করি না কেন, কিবা খাবার টেবল আগলে থাকা অর্গানাইজারদের যন্ত্রনা দেই না কেন (বারেবারে গিয়া কথা বলছিলাম, মুরাদ যেম্নে অইখানে ঢাকনা দেয়া কি খাবার, একই খাবার কি সব বাক্সে আছে নাকি নানান পদ আছে, আমরা কখন খেতে পারবো ইত্যাদি বলে যন্ত্রনা দিতেছিলাম) কিবা অডিট্রিয়ামে গিয়ে অধৈর্য বাচ্চাদের মতো এটা ওটা করছিলাম, কেবল মাত্র কামাল্ভাই নিয়ে কথা হলেই ধুড়ধাড় করে তালি দিতেই ছিলাম থামাথামি বাদ দিয়া, আবার সেই আমরাই কাজী শাহেদের বিরক্তিকর নোংরা জোক শুনে পুরাই "মাননীয় স্পিকার" হয়ে গিয়েও শেষ অব্দি ছি্লাম, কেবল মাত্র আমরা এবি'র হয়ে গিয়েছিলাম বলে, যাদের কিনা কামাল্ভাই নিজের পরিবারের মানুষজন হিসেবেই তুল্য করেন!
যন্ত্রনা দেই, অসুশীল হয়ে হল্লাহাটি করি, খাবারের কমতিতে সবার সাম্নেই গলা ফাটায়ে চিল্লাই, তাও আমরা ভুলে যাই না আমরা আমরাই! আমাদের একজনে এমনি পুরস্কার পেলো সেইটাতে যাওয়াতেই আনন্দ ছিলো, আর সবকিছুর কমতি আমরা নিজেরাই মজা করে বের করে ফেলি।
ভাষন বড় দিয়ে ফেললাম, খানার ভাগও যেন বেশি পাই কামাল ভাই!!
আপনে তো একটা পোস্ট লিখে ফেললেন কমেন্টে। আপনি লিখলে এই পোস্ট আরও দারুন করে লিখতেন।
এর উপরে কথা নাই আপু!
জানা থাকলে আমরাও যেতে পারতাম কামাল ভাইয়ের সুলিখিত বক্তব্য শুনতে
..আবারও অভিনন্দন কামাল ভাইকে !!
এটা তো ওপেন প্রোগ্রাম ছিল। পত্রপত্রিকায় তারিখ-সময়-ভেনু প্রকাশিত হয়েছে এবং আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আলাদাভাবে কাউকে আমন্ত্রণ/নিমন্ত্রণের ব্যাপার ছিল না।
আমিই ভাল আছি ভাই, দাওয়াতও নাই, রিক্সার জামেলাও নাই। শান্ত ভাই, আপনিও একদিন পুরষ্কার পাবেন।
ভাল একটা কথা লিখেছেন,যখন দেখি একদল মানুষের বাস বিত্তের রাজপ্রাসাদে থাকে আর আরেকদল মানুষ শুধু মাত্র খাবারের টাকা আয় করার জন্যই বেচে থাকে
থ্যাঙ্কু!
মিয়া প্রথমে "পুরস্কার" বানান ঠিক করো। দুইটা পোস্ট দিছো, শিরোনামে দুইটারই বানান ভুল
পুরো ধারাবিবরণীর জন্য ধন্যবাদ তোমাকে। না গিয়ে আফসোস হচ্ছিলো, উপায়ও অবশ্য ছিলো না।
খাওয়া নিয়ে হাহাকার দেখে মজাই লাগছে। তোমরা দেখি সব খাদক হয়ে গেছ।
বানান ভুল আর যতিচিন্হে ভুল তা তো আমার জন্ম থেকেই! তাই বইলা এইভাবে কইবেন
দোকানদার নান্নু কয় সবার সামনে অপমান মরনের সমান!
যাই হোক যান নাই তাও আপনার নাম যতোবার নিছি আপনার উচিত শুধু আমারে এই জন্যে খাওয়ানো
"অফমান মনে করলে অফমান", এটা আমাদের এক প্রতিবেশি বলতেন। উনার বাড়ি ছিল চাটখিল। ঝগড়াটে ছিলেন খুব। গায়ে পড়ে ঝগড়া করতেন। প্রতিবেশিরা ধরে দিতো রাম বকা। ঝগড়া ঝাটি থামলে সবাই বলতো, এত বকাবাজি উনি সহ্য করেন কেমন করে ! তো ভদ্রলোক এসব গায়ে মাখতেন না। বলতেন, "অফমান মনে করলে অফমান" (নোয়াখাইল্লা তো, 'প' কে 'ফ' বলতেন)।
যাই নাই দেখে এমনিতেই মন খারাপ, আবার খাওয়াইতে কও
আপনার কমেন্ট পড়ে হাসি পেলো খুব। অফমান মনে করলেই অফমান আসলেই ঠিক। যান অপমান মনে করলাম না আর। আপনেই তো বলবেন। আর কে আছে এই ভাবে বলার!
আপনার কাছে এমনিতেই অনেক খানা পাওনা আছে! যখন খাওয়া শুরু করবেন দেখবেন দিনের পর দিন শুধু খেয়েই যাচ্ছি
তোমার কমেন্ট পড়ে মনটা ভালো হয়ে গেল।
আমারো মন ভালো আপু। এই ব্লগ থেকে তো আট নয় মাস আগ থেকেই তাৎক্ষনিক আড্ডা জিনিসটা উঠেই গেছে। মাঝে মাঝে নিজেরা সামান্য কিছু উপলক্ষে যখন সাথে সাথে কথা চালাচালি হয় তখন পুরানা ব্লগ দিন গুলোতে ফেরত যাই। ফেসবুকে বসি স্ট্যাটাস দেই। কিন্তু ব্লগের চেয়ে শান্তির জায়গা আর হয় না। বাসায় গ্যাস নাই। দুপুরে বুয়া আসে নাই। মনের সুখে আল মাহবুব থেকে তাওয়া ঝাল ফ্রাই দিয়ে ভাত খেয়ে এরকম আড্ডা দিতে পেরে দিলখুশ। মোগাম্বো খুশ হুয়া
রাত জেগে আড্ডা মারার, কমেন্ট চালাচালি করতে করতে চিপায় চলে যাবার দিনগুলো...হায় !
গ্যাসবিহীন দিন পার করছি। বাসায় রান্না হয়নি। দোকানের খাবার খেলাম। রাতে কি হবে কে জানে !
পাচটার পরে নাকি আসবে গ্যাস! না আসলে জানায়েন। ভালো মন্দ খাবার নিয়ে হাজির হবো এনশাল্লাহ
বড়োই দারুন ছিলো দিনগুলো।একবার বাড়ীতে যাচ্ছিলেন তখন মনে হয় হাইওয়ের জ্যামে পড়ে কোনো পোস্ট লিখছিলেন। তখন অবশ্য আপনার পোস্ট পড়ে ধারনা করেছিলাম আপনি অনেক ভাবের লোক। কথা হতো মাপা মাপা। কিন্তু মিশে দেখি আপনি আমগো মতোই ডাল ভাত
গ্যাস আসলে চিন্তা কি! না আসলে দেখি কি করি।
হ্যাঁ, ফেনী যাবার পথে জ্যামে বসে পোস্ট দিয়েছিলাম।
দেখছেন আমার স্মরন শক্তি শার্প ব্লেডের মতোই শার্প
কেউ নোয়াখাইল্লা বললে মনে হয় যেন আমার গালে চপেটাঘাত করলো। যদিও নয়াখাইল্লা হয়েও নয়াখাইল্লা লাইক করি না। তবুও চড় খাই
ভাইয়াকে নিয়ে একটা পোস্ট লিখতে বসেও চায়ের দোকানের আলাপ। মাইর না দেয়া পর্যন্ত তোমারে মানুষ করা যাবে না শান্ত। J
তোমরা এসেছিলে বলে কত যে খুশি হয়েছি বলে বোঝাতে পারবো না। শুভ, বিমা, জয়িতা, জেবীন এবং তোমাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ। রাসেল-লিপির সঙ্গে দেখা হয়নি। তাদেরকেও ধন্যবাদ।
[সবাই আমন্ত্রণ/নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে না, জানোই তো। এমনকি আসতে না পারার জন্য একটু 'সরি'ও বলে না! এই নীরব প্রত্যাখানকারী আর সরব গ্রহণকারীদের মধ্যে বোধহয় শ্রেণীগত পার্থক্য আছে। একদল অভিজাত, অন্যদল আমার মতো সাধারণ! আজকে আর সেসব না বললাম। ]
না খেয়ে চলে এসেছো শুনে খারাপ লেগেছে। আমি তো নানা ফর্মালিটির কারণে বেরুতেই পারছিলাম না। যখন বেরুলাম তার অনেক আগেই চলে গিয়েছ।
যাকগে, ওদের কর্পোরেট খাবার না খেয়েই ভালো করেছ। এবার ভাইয়ার কাছ থেকে খেয়ো। পেটপুরে ও মনভরে।
আপনাকে ভালোবাসি আমরা তাই যাওয়া। খাওয়া দাওয়া তো এমনিতেই চিল্লাপাল্লা করা আসল তো আপনার সাফল্যের সময় সংগে থাকা। আপনি যে স্নেহ ভালোবাসা অনুভব করেন আমরাও সেই একি স্নেহ ভালোবাসা অনুভব করি। এইটাই এই ব্লগের সাথে অন্য ব্লগের ডিফারেন্স। আমাদের বন্ধুত্ব লোক দেখানো না অন্তরের টান। ভালো থাকবেন ভাইয়া। সামনেই ব্যাপক খানাদানা হবে সেই আশাতেই আছি।
আর চায়ের দোকানের কথা না বলতে চাইলেও এসে যায়। সামনে আরো কম আসবে কারন যাচ্ছি না আগের মতো। সেই চা বিলাসও আর নাই!
সবার কমেন্টের উত্তর দিছে, আমরা গরীপ বলে আমাদেরটার উত্তর দেয় নাই!!
(
দিলাম তো আপু। ওই যে কোটেশন সহ তুলে দিছি!
কয়েকবার প্রস্তুতি নিয়েও যেতে পারলাম না। মিস করলাম কামাল ভাইয়ের দুর্দান্ত বক্তৃতা আর বাজী সাহেবের ভিমরতিবচন।
আপনি আসলে খুব ভালো হতো ভাইয়া। মিস করছে সবাই। আর আমি মিস করছি কাজী সাহেবের বক্তব্য এবং এতো ভবন ফাটানো হাততালি শুনে আপনি দারুন একটা ব্যাখা দিতেন তা আর কামাল ভাই খাওয়ায় নাই সেই দুঃখে আপনে খাওয়াইতেন। জনগন আশা ভরসা পাইতো!
আরে! এইখানে তো দেখি বিশাল আয়োজন!
অনেক কিছুই মিস করলাম।
মিস তবে খুব বেশী কিছু না!
"পাশে সুন্দরী মেয়ে বাদাম খায় আর আড়চোখে তাকায় কেউ তার দিকে তাকাচ্ছে নাকি। ইয়াং মেয়েদের এ এক আজব সাইকোলোজি। কেউ তাকালে বিরক্ত হবে আবার না তাকালে আশেপাশে দেখবে কেউ দেখছে কিনা।" ...... observation টা বেশ, প্রকাশটাও হলো বেশ!!!
এই ধরনের উপলব্ধি থাকুক দিনলিপিতে, থাকুক তার প্রকাশও .. যা ঘটলো তা যেমন লেখেন, যা ঘটতে পারতো তা নিয়েও লেখেন .. নিজেকে নিয়ে যেমন লেখবেন, লেখবেন পারিপার্শিকতা নিয়েও .. নিজের অনুভূতির প্রকাশ যেমন থাকবে, থাকবে অনুভূতির বিকাশ প্রক্রিয়ার সারাংশও ..সাহিত্যের কি কোন ছক আছে? এক একটা দিনলিপি, এক একটা সাহিত্যই বৈকি!!
ভালো থাকেন, আরামে থাকেন ।
অনেক দিন পর আসলেন এই ব্লগে। ভালো আছেন ভাইয়া?
আপনিও আরামে থাকেন ভাবীর হাতে দারুন খাবার খেতে খেতে। আমি আছি পরিবর্তহীন আগের মতোই!
কামাল ভাইয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে এবির খাই খাই লোকজনের কপালে উচিৎ শিক্ষা জুটছে দেখে ভালো লাগলো। হাজার হলেও আঙ্গুর ফল টক।
লেখা বরাবরের মতো চমৎকার হয়েছে
এইটা দারুন অবজার্ভেশন।
আপনারা সারা বছর ভালো মন্দ খান বলে আমগোর খাই খাই ভাব নিয়ে খোটা দিবেন পুরা ব্লগ জাতি তা মেনে নিবে না!
থ্যাঙ্কস ভাই। অনেক দিন লিখেন না। নিয়মিত ব্লগে চাই!
মন্তব্য করুন