বলিউড হলিউড ভেরী ভেরী জলি গুড!
ইচ্ছা করেই দুই তিন দিন পোস্ট লিখি নাই। কারন টানা পোস্ট লেখার কিছু নাই। আমি তো ওতো মহান লেখক না যে লিখতেই হবে। লিখি সাদামাটা দিনলিপি তা মিস গেলেও কিছু করার নাই। আর যাদের লেখার কথা তারাই যদি না লিখে তবে কারোর কিছু আসলেই করার থাকে না। আর একটা লেখার পরে যখন দেখি মাত্র তিন চারটা কমেন্ট তখন খুব কস্ট লাগে। তবে এতো কস্ট জীবন নস্ট। তাই এখন আর কস্ট পাই না। ধরেই নেই অনেকেই পড়বে লেখাটা, হয়তো ভালোও লাগবে, কিন্তু কেউ কমেন্ট করবে না। তবে কমবেশী পড়ে যে অনেকে লেখা তা আমি মানি। নয়তো কবে কি লিখছি তার রেফারেন্স মাঝে মাঝেই এমন মানুষদের কাছ থেকে শুনি যাদের আমার লেখা পড়ার কথা না। অনেকেই বুকমার্কড করে ফেলছে চেনা জানা শুভাকাংখীরা তারা নিয়মিতই জানায় মন্দলাগা ভালো লাগা। আমি কতো কস্ট করে পোস্ট লিখি তা নতুন করে বলার কিছু নাই। আপনারা যখন এই পোস্টটা পড়ছেন তা লেখার জন্য আমাকে সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠে ভাবতে হইছে কিন্তু তখনই তো আর লেখা যায় না। লেখার সময় ফিক্সড হয় ভাত খাওয়ার পরে। বুয়া আসে নাই লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে মামা রান্না করলো। আমি মনের সুখে ওয়ান্স আপন টাইম মুম্বাই এগেইনের কাওয়ালী সুফী মিক্সড একটা গান বারবার শুনতে শুনতে সময় যায়। জাভেদ বশির গলায় প্রীতমের মিউজিক ডিরেকশনে গানটার এক মোহে পড়ে গেলাম। ভাত খাওয়া শেষে যখন ল্যাপটপ অন করি তখন সময় বারোটা। কিছুক্ষণ ফেসবুকে চ্যাট করাকরি লাইক বিনিময়ে সময় কাটে। তারপর একটার দিকে যখন লেখা শুরু করি কারেন্ট যায় আবার। ২৫ মিনিট পর আসে। আবার শুরু করি। একটু আগে লেখা লাইন গুলোকে ফালতু লাগে। কিছুসময় লিখতে লিখতে আবার চলে যায় কারেন্ট। আজ দুপুরে বাসায় এসে গোসল করে যে ঘুম দিছি তাতে কাপড় আর ধোয়া হয়নি। সন্ধ্যা বেলাই সেই এক গাদা কাপড় পানি আর সার্ফ এক্সেলে ভিজিয়ে রাখি বালতিতে। এই মাঝ রাতে অন্ধকারেই কাপড় ধুই। কোমড় লেগে যায় তাও সকাল বেলা দেখবো ওতো পরিস্কার হয় নি। মোটের উপরে চলে যায়। আমি নারী জাতিকে স্যালুট জানাই। কারন বছরের পর বছরজুরে নিজের কাপড় পরিবারের কাপড় কিভাবে তারা এতো দারুন ওয়াস করছে তো করছেই। ভাবতেই আম্মুর জন্য চোখে পানি এসে যায়। কারন আমার জীবনে যতোদিন আম্মু বাসায় ছিলো ততদিন একটা কাপড়েও আমি হাত দেই নাই। কাজটা যে খুব ভালো হইছে তা না। তবে আমি দেখছি এই দেশে মায়েরাই খালি যতো পরিশ্রম যতো ত্যাগ সব বিনা বাক্যে করে ফেলে আর সেইটাকে সবাই ডিউটি বলেই ধরে নেয়। যাই হোক কারেন্ট আসে আড়াইটায়। তারপর ভাবি ঘুমাবো নাকি লিখবো? ভেবে টেবে ধরে নেই কাল তো হরতাল পাঞ্জাবী পড়ে শাহবাগে লাইব্রেরী যাওয়া আর হবে না। লেখি তারপর ঘুমাই। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তিনটার সময় এই নিশুতি মাঝরাতে লেখতে বসলাম। আমার লেখা ভালো না তা আমি জানি। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে আমার এই ব্লগ লেখার ডেডিকেশন দেখে নিজেই নিজের পিঠ চাপড়ে দেই।
আজ আর দিনলিপি লিখবো না। এই সুবহে সাদিকের সময় আর সকাল বেলা নাস্তা করি নাই, দুপুরে রাতে দারুন খাইছি, নান্নুর নতুন দোকানে আড্ডা মারছি এইসব আলাপ করতে ইচ্ছা করছে না। বরং আলাপ করি হিন্দী সিনেমা নিয়া। রিসেন্ট কয়েকটা হিন্দী হিট সিনেমা নিয়ে আলাপ করে ঘুম কাটাই। কারন মাথায় আর কিছু আসছে না। ভাবছিলাম এই কয়দিন যে ভীষন পড়ছি লাইব্ররীতে সেগুলা নিয়ে লিখবো। এতো রাতে তা সায় দিচ্ছে না মন। আর ইচ্ছা না হলে আমি জোর করে লিখি না কিছু। তবে লিখবো। কারন গত তিন চারদিনে মেলা বই পড়লাম। আরো পড়বো সামনে। কারন চায়ের দোকানে চেনা পরিচিত মানুষের সাথে আলাপ আড্ডায় আর শান্তি পাই না। এবার বইয়ের সাথে সময় কাটাই। তবে এখন বই পড়ে আর আগের মতো মনে রাখতে পারি না। ব্রেইন মনে হয় মাইর খেয়ে গেলো। আগে আমি কোনো প্রবন্ধের বই পড়লে একমাস পড়েও ঐ বইতে কি কি প্রবন্ধ আছে? লেখক কি কি বুঝাইতে চাইছে? তা হুড়হুড় করে মনে পড়ে যেতো। এখন আর কিছুই মনে পড়ে না। খালি মনে পড়ে বইটা পড়ছিলাম। তাই এখন কি কি পড়ছি তার ভেতরে কি কি আছে তা লিখে রাখার চেস্টা করি। কিন্তু সব কি আর লেখা যায়! তাই সামনে বই নিয়ে লিখবো। অন্তত একটা কাজ হবে যে বইটা পড়ছিলাম এবং তা নিয়ে ব্লগেও চাপা পিটাইছি!
সিনেমা দেখি না গত দুই সপ্তাহ ধরে। তাই আজ যা লিখছি তা জুন মাসে দেখা ও স্মরনশক্তির উপর নির্ভর করেই। আমার আলোচনার প্রথম ছবি ইয়ে জাওয়ানী হে দিওয়ানী। ছবিটা যে ভালো ব্যাবসা করবে তা আমি আগেই ব্লগে লিখছি। এবং আমার ধারনার চাইতেও ছবিটা অনেক ভালো ব্যাবসা করছে। উইকিপিডিয়া দেখাচ্ছে ১৮৫ কোটি রুপির মতো ব্যাবসা করছে। হিন্দী ছবির বাজার খালি বাড়ছে। ইউরোপ আমেরিকায় নানান হলে হিন্দী ছবি দেখানো ও স্ক্রিন শেয়ারিং অনেক বাড়ছে। হিন্দী ছবির এই সম্প্রসারন দেখে অবাক হই। এতো লেইম লেইম ছবি এতো হিট খায় এবং তা সারা দুনিয়ার মানুষ দেখে। আমাদের দেশে সিনেপ্লেক্স বলাকা মধুমিতায় বারো পনেরো সপ্তাহ চলছে এমন শেষ নজির সম্ভবত মনপুরা। ছবির ব্যাবসাই যদি না হয় তাহলে বানাবে কারা? সিনেমা তো মাদ্রাসা না যে ইহকালে টাকা লগ্নি করলে, পরকালে পাওয়া যাবে। যাই হোক প্রসঙ্গে থাকি। ইয়ে জাওয়ানী হে দিওয়ানী হিন্দি সাধারন ছবি গুলার মতো লেইম না। অয়ন মুখার্জীর সেকেন্ড ছবি। রনবীরেরে কাপুরের টানা তিন নাম্বার ব্লকব্লাস্টার হিট ছবি। রকস্টার ও বরফির মতো অসাধারণ না হলেও এই ছবিটা মোটামুটি চলে যায়। অনেকটা ইংলিশ রোমান্টিক কমেডী মুভি গুলার মতোই। তার সাথে আইটেম গান, ডিস্কো গান, সুফী পপের মিশ্রনে দারুন হইছে গান গুলা। গান হিট হবার কারনেই ও অনেকদিন পর রনবীর-দিপীকার হিট কেমেস্ট্রি দেখার প্রত্যাশা সবারই বেশী ছিলো। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ছবিটা হালি খানেক রেকর্ড ব্রোক করলো। কাহিনী সিম্পল চার বন্ধুর গল্প। দীপিকা মেধাবী ছাত্রী মেডিকেল স্টুডেন্ট। বাবা মায়ের কথা শুনে আর পড়াশুনাতেই তার বাধা ধরা জীবন। তার বন্ধু কল্কি কোয়েচলিন(বাস্তব জীবনে যে বিখ্যাত পরিচালক অনুরাগ ক্যাশপের বউ) তার সাথে দেখা হয় এক শপে। এক মোনালী ট্রিপে যাচ্ছে তার ইনভাইটেশন জানায়। ফ্যামিলীকে চিরকুট দিয়ে এই সফরে যোগদান করে নায়িকা। দেখে রনবীর কাপুর আর তার বন্ধু আদিত্য রয় কাপুরের ফ্ল্যাটিং ময় হাসি ঠাট্টার জীবন। যা হয় নায়িকাদের। অযথাই প্রেমে পড়ে যায়। গান হয়। মাউন্ট ট্রাকিংয়ের উসিলায় দুইজন ওয়াইন ভাগ করে খায়। কিন্তু নায়ক তো আর এতো সহজে প্রেমে পড়বে না। তার দুনিয়া বেড়ানোর সখ। নায়িকা যখন ভালোবাসার কথা বলবে বলবে তখন নায়কের বন্ধু তার শিকাগোর স্কলারশীপের চিঠি দেখতে পারে। নায়কের বিদায়। নায়িকা তার বেকুবগিরি প্রেম নিয়ে ডাক্তারি জীবন যাপন করে। মধ্যে চলে যায় আট বছর। কল্কির বিয়ে ঠিক হয় কুনাল রয় কাপুরের সাথে। সে উপলক্ষে দীপিকার আগমন বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবেই আর রনবীরের কাপুরের আগমন সারপ্রাইজ দিতে। বাবা মারা যাওয়ার সময় যেই ছেলে আসে না বন্ধুকে সারপ্রাইজ দিতে সে লাগেজ লুগেজ ছাড়াই ধেই ধেই করে নাচা শুরু করে। তারপর আর কি আবার প্রেমে পড়ে। তবে এবার জানিয়ে দেয় রনবীর। দীপিকা এবার বাস্তববাদী মাস্টারজী হিসেবে আবির্ভুত হয়। বলে তুমি দুনিয়া ঘুরতে চাও সামনের মাসে তোমার ট্রাভেল শো উপস্থাপনা শুরু। প্রেমে যদি পড়ো তবে এখানেই থাকো। নায়ক ক্যারিয়ার বনাম প্রেম ভাবনায় পড়ে। এদিকে নায়কের বন্ধু খালি জুয়া খেলে হারে আর মদ খেয়ে বেড়ায়। তার সাথেও তার ইগোটিক ক্ল্যাশ এতো অনুপস্থিতির কারনে। কল্কির বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু প্রেমের সুরাহা হয় না। ব্যাগ ট্যাগ গুছিয়ে নায়ক যেদিন প্যারিস যাত্রা করবে সেদিন সে আট বছর আগের শিকাগো যাওয়ার স্মৃতি তুমি বেদনা স্মরন করে। ঘরে ফিরে যায় সব বাদ দিয়ে। তার বাবার কথা খুব মনে পড়ে। এবং শেষে থার্টি ফাস্টের নায়িকাকে প্রপোস করে। ফোনে ফোনে চার বন্ধুই তা তিন জায়গায় বসে জেনে যায়। শেষে দুই জনের ঠোটের মধুর মিলন। এক কাহিনী কতোক্ষন বললাম। এর পরে আর ছবিগুলার কাহিনী বলবো না তেমন। ছবিটা দেখতে ভালো রনবীর কাপুর দীপিকার অভিনয় খারাপ করে নাই। কল্কি আর আদিত্যর অভিনয়ও বেটার। তবে সব চেয়ে ভালো হলো রানী মুখার্জীর কাজিন অয়ন মুখার্জীর ডিরেকশন। ছবিটা প্রেডিক্টেবল কাহিনীও সাদামাটাই কিন্তু পরিচালকের কারনেই তা মন ছুয়ে যায়। প্রীতমের গান গুলাও বৈচিত্রময় তাই ছবিটার এতো সফলতা। আরেকটা ফিল্ম ফেয়ার রনবীর পেলেও অবাক হবো না।
পরের ছবি আশেকী টু। শেষ কবে এতো আজাইরা ছবি দেখছিলাম মনে পড়ে না। তাও গানের কারনে আর আলোড়ন তোলার কারনেই ছবিটা ভাট গ্রুপের সব চাইতে ব্যাবসা সফল ছবি। গান গুলা তো হিট, এবং তা আরো বেশী হিট করছে ঢাকার পাড়া মহল্লায় তা দিনে ১০০-২০০ বার বাজিয়ে। গানগুলো হিট করানোর জন্যই তারা তিনজন মিউজিক ডিরেক্টরকে ইস্তেমাল করছে। তবে কাহিনীটা অতি লেইম। কি কাহিনী এক লাইনে বলি। এক পাড় মাতাল শিল্পী যে এককালে খুব জনপ্রিয় ছিলো তার সাথে বারে পরিচয় হয় এক গরীব সুন্দরী শিল্পীর। তাকে আশা ভরসা দিয়ে মুম্বাই আনে। ঘটনার ঘনঘটায় তাকে তালিম দিয়ে বড় শিল্পী বানায় সেই মাতাল। তাকে ইন্ড্রাস্টিতে স্টাবলিশড করে প্রেমে হাবুডুবু খায়। প্রেম হয় যখন দেখে সে তার বোঝা, সেই ব্যার্থ শিল্পীর তেমন মাতাল হবার টাকা নাই তখন সে পানিতে ঝাপ দিয়ে মরে। এইসব বেক্কেলময় ভালোবাসা দেইখা মেজাজ খারাপ বৈকি আর কিছুই হয় না। সিনেমাটা টেনে টেনে দেখছি তাও মনে হইছে এক দেড় ঘন্টা সময়ের অপচয়। তবে আশেকী টু নিয়ে ফেসবুকময় দারুন দারুন সব জোক্স আছে পড়লে মজাই লাগে। তবে ছবিটা পুলকের খুব প্রিয় ছবি। ছ্যাকাখোরদের ভালো লাগতে পারে। কিন্তু আমি আজ পর্যন্ত কোনো ছ্যাকাখোরকেই দেখলাম না যে বাপ মায়ের কাছ থেকে পাওয়া প্রান এইভাবে অযথা পানিতে পড়ে বিসর্জন দেয়। হ্যা একটা জিনিস হতে পারে যে দুনিয়াতে যারে পেলাম না তারজন্য কস্ট করে নিজ উদ্যোগে দুনিয়া ছাড়লাম। কিন্তু ভালোবাসা পেয়ে টেয়ে নিজের ক্যারিয়ার নাই, টাকা নাই তাই পথের বাধা না হয়ে পানিতে ডুবে মরার কোনো কারন আমি দেখি না। মহিত সুরীর ডিরেকশন ভালো। কিন্ত নায়ক যেভাবে গলগল করে সিরাপ খাওয়ার মতো করে মদ খায় তা দেখে বেদনা জাগে না হাসি পায়। আমার তখন প্রশ্ন জাগছিলো সিনেমাতে নায়কেরাই কেনো মাতাল হয়? নায়িকারে কেনো ডগডগ করে মদ খায় না। বিষয়টা ফরহাদ মযাহার সাহেবকে জানাতে হবে। বেদের মেয়ে জোতস্না ছবিতে তিনি যেভাবে শ্রেনী সংগ্রামের আলামত পাইছেন আশা করি এই বিষয়েও তিনি ইউরোপীয় রেনেসার নারীবাদী তত্ত্ব খাড়া করে এর একটা হেগেলীয় ব্যাখা দিবেন!
তিন নাম্বার ছবি এক থা ডায়ান। কানান আয়ারের ডিরেকশনে ইমরান হাশমির হরর ফিল্ম। ছবিটাকে আমি এখন পর্যন্ত হিন্দি সেরা সুপার ন্যাচারাল থ্রিলার বলবো। এরকম ছবি হলিউডে গাদা গাদা হলেও বলিউডে প্রথম। কাহিনীতে যাবো না আর। ইমরান হাশমী একজন ম্যাজেশিয়ান। যার উপর ভর করে ডাইনী। কংকনা সেন শর্মার অসাধারণ অভিনয় মুগ্ধ করে। আর স্পেশাল এফেক্টের কাজ গুলাও ভালো হইছে। বিশাল ভরদ্বাজের প্রযোজনা ও মিউজিক ডিরেকশনের কাছে প্রত্যাশা আরো বেশী। তবে ছবির ফাস্ট হাফ দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। টানটান শিহরন। কিন্তু সেকেন্ড হাফে গিয়ে কেমন জানি। আর ভালো লাগে না। তবে মীরাক্কেল খ্যাত রজতাভ দত্তের অভিনয়ে মুগ্ধ হইছি। হুমা কোরেশী ভালো করে নি অভিনয় আর কল্কিরটা চলে যায় মোটের উপরে। আর ইয়ারাম গানটাও খুব সুইট। এরকম অন্য ধরনের ছবি ভালোই ব্যাবসা করছে। উইকিপিডিয়ায় যা দেখাচ্ছে ছাপান্ন কোটির কাছাকাছি।
আমার আজকের আলোচনার শেষ ছবি কাই পো চে। এই ছবিটা আমার অসম্ভব ভালো লাগছে। চেতন ভগতের বিখ্যাত উপন্যাস থ্রি মিসটেকস ইন মাই লাইফ থেকে নেয়া। উপন্যাসটা আমার খুব প্রিয়। মুলত এই উপন্যাস পড়েই আমার চেতন ভগত প্রীতি শুরু। তবে সিনেমাতে সেই উপন্যাসটা পুরোপুরি আসে নাই আসবার কথাও না। অভিষেক কাপুরের ডিরেকশন ভালো হইছে। তবে তার চেয়েও ভালো হইছে অমিত সাদ আর সুশান্ত সিং রাজপুতের অভিনয়। ছবিরা কাহিনীটা সাধারন ভারতের। গুজরাটের মধ্যবিত্ত আর সোশাল পলিটিক্স নিয়ে ছবি শুরু। তিন বন্ধু একটা স্পোর্টস কিট আর ক্রিকেট কোচিংয়ের প্রতিস্টান দেয়। টুকটাক ভালোই চলতে থাকে। এক মুসলিম ক্রিকেট প্রতিভাকে তারা পায় যে মুলত এক প্রভাবশালী মুসলিম তাত ব্যাবসায়ীর সন্তান। তারা ব্যাবসা আরো বাড়াতে এক হাইরাইজ শপিং মলে দোকান বুকিং দেয়। সেই ক্রিকেট প্রতিভাকেও সুশান্ত গড়ে তুলে নিখুত ভাবে। এরমধ্যেই ভুমিকম্পে সব পন্ড হয়ে যায়। তাবুতে আশ্রয় অসংখ্য মানুষের। বিবাদ লাগানো শুরু দুই বন্ধুর। এক বন্ধুর আবার তার বেস্ট ফ্রেন্ডের বোনের সাথে পড়ে যায় প্রেমের চক্করে। কাহিনী এগুতে থাকে। ভারত টেস্ট জিতে আবারো তাদের ব্যাবসা চাঙ্গা হয়। এমন সময় গুজরাটে ইলেকশন হয়। এক বন্ধু তার মামার কারনে খুব বড় নেতা হয়ে যায় অচিরেই। কিন্তু অনেক চেস্টার পরেও তারা মুসলিম মেজোরটির কারনে হেরে যায়। এক সপ্তাহ পরেই এই তীর্থ যাত্রায় সেই বন্ধুর বাবা মা ট্রেনে রওনা দেয়। ট্রেনে আগুন দেয়া হয় এবং তা নিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বেধে যায়। সেই ক্রিকেট প্রতিভাকে বাচাতে সুশান্ত অনেক চেস্টা করি। নিজে বন্ধুর হাত মরে গিয়েও সেই মুসলমান ক্রিকেট প্রতিভাবান ছেলেকে বাচায়। মরনের আগে সে জেনে যায় তার আরেক বন্ধুর সাথে তার বোনের প্রনয়। এই নিয়ে বাকবিতন্ডা। তার অনেক দিন পড়ে দেখা যায় মুসলিম ছেলেটার অভিষেক হচ্ছে ওয়ানডে ম্যাচে। তারা গ্যালারিতে বসা দুই বন্ধু আর সেই বন্ধুর বোন অমিত সাদের ওয়াইফ। কাহিনীটা ভালো মতো বলা গেলো না। কিন্তু ছবিটা সাংঘাতিক রকমের ভালো। তবে হিন্দী কম জানলে ছবিটা ভালো মতো বুঝা যাবে না। ছবিটায় ভারতের রাজনীতি সমাজ ধর্ম পালনের জীবন নিয়ে খুব চমৎকার ভাবে দেখানো হইছে। আর অমিত ত্রিবেদীর মিউজিক ডিরেকশনে গান গুলা মোটেও আজাইরা মনে হয় না। অত্যন্ত শ্রুতি মধুর। ছবিটা দেশে খুব প্রশংসিত। তবে বিদেশী সিনেমাওয়ালারা ওতো ভালো বলে নাই। তাও ছবিটা দারুন ব্যাবসা করছে। জানুয়ারী ফেব্রুয়ারী এই মন্দার সময়তেও ছবি্টা ৬২ কোটির কাছে ব্যাবসা করলো। আর সুশান্ত সিং রাজপুত যে অভিনয়টা করছে তাতে যদি নবাগত সেরার পুরস্কার না পায় সমানে তাহলে বড্ড খারাপ হবে। জিটিভির সিরিয়াল করা ছেলে এমন অভিনয় করবে তা ভাবতেই পারি নাই। চেতন ভগতের উপন্যাস টু স্টেট নিয়ে আরেকটা ছবি আসবে সামনের বছর। বিশাল ভরদ্বাজের মনে হয় রাইট কেনা। দেখা যাক কি হয়!
রাত তিনটা থেকে পোস্ট লেখা শুরু করে ভোর হয়ে গেলো। যাক পোস্টটা অন্তত লেখা গেলো। আজ হরতাল ঘুমানো যাবে সকালে। চায়ের তেস্টায় গলা শুকায় আসতেছে। এখন দেখি ঘুমানো যায় কিনা? এই পোস্ট আমি নিজেকেই নিবেদন করলাম। কারন রাত জেগে যে আজাইরা হিন্দি ছবি নিয়ে লিখতে পারে তার পক্ষে আজাইরা অনেক কিছুই করা সম্ভব। মাথা ব্যাথা করতেছে কারন আমি রাত জেগে অভ্যস্ত না। তাও আমি জানি এই পোস্ট তেমন কেউ পড়বে না কমেন্টও তেমন আসবে না। তাও আমি লিখে যাবো নিজের জন্য। আমি নিজের আনন্দের জন্যই লিখি। অন্যরা তা পড়লে ভালো না পড়লে নাই!





একটাও দেখি নাই।
ফেসবুকে ধানুশের নয়া সিনেমা নিয়ে লোকজনের আহাজারি দেখে সেদিন দেখলাম। আমার কোন দিক দিয়েই ভালো লাগে নাই।
বয়স হয়ে গেছে নাকি বুঝতেছি না
রান্জা ছবিটা আমি দেখি নাই। তবে প্রশংসা শুনছি আপনার মতোই। দেখলে লিখবো আশা করি। ধানুশরে দেখলে শান্তি লাগে। এই চেহারা আর স্বাস্থ্য নিয় কতো দাপটে অভিনয় করছে!
একদম হাছা কতা, তোমার পোষ্ট তো কেউ পড়েই না! শুধু এভারেজে ১৫০-২০০ বার ওপেন হয়।
ছবি দেখা হয়না তেমন। প্রথমত সময় ও ধর্যের অভাব আর আমার বাসায় একটাই টিভি, তাও থাকে বেদখল হয়ে।
আহারে। অবশ্য সিনেমা না দেখাও ভালো অন্যকিছুর জন্য সময় পাওয়া যায!
দুনিয়ার সকল আম্মু রক্স! <3
এই লেখাটার ফ্লেভার বেশি হৈছে
কি নিয়া কমেন্ট করব ভাইবা মাথা আওলাইয়া যায়!
কোন গানটার কথা কইলেন?
আমি প্রবন্ধ একদম পড়তে পারি না, মানসিক স্থিরতা পাইনা এতো।
আশিকি ২ এর কাহিনী ফাও আগেই জানতাম সো গানগুলার জন্যই মুভিটা ভাল্লাগছে সামহাও।কাই পো চে দেখার ইচ্ছা আছে। ইয়ে জাওয়ানির ট্রেলার দেইখাই সচলের ব্লগার অণু তারেকের কথা মনে হৈয়া গেলে, উনি কোনদিন আত্মজীবনী লিখলে দারুন লাগবে পড়তে।
উত্সর্গ ভালো লাগছে! আপনের স্পিরিটটা কপি কইরা এই ব্লগের সবার ভিতরে ইনজেক্ট কইরা দিতে পারলে ভালো হইতো।
শুভ সকাল দুপুর। ভালো থাকেন ভাই।
গানটা হলো হিন্দী গান ইয়ে তুনে কে কিয়া, ওয়ান্স আপনে টাইম মুম্বাই দোবারা মুভির গান। আসলেই মায়েরা অসাধারন। পোষ্ট লিখেই তুমাকে মেসেজ দিছিলাম ফেসবুকে। সকাল বেলা ভালো ঘুম হলো না। তাও পোষ্ট লেখে শান্তি!
" সিনেমা তো মাদ্রাসা না যে ইহকালে টাকা লগ্নি করলে, পরকালে পাওয়া যাবে।" ... সেই রকম বলছেন বটে।
সিনেমার কাহিনির summary বর্ণনা বেশ হইছে।
লিখতে থাকেন, নিজের আনন্দের জন্যই লিখেন, "অন্যরা তা পড়লে ভালো, না পড়লে নাই! "
থ্যাংকস ভাইয়া। এতো কষ্ট করে এসে পড়ে যান আপনাদের জন্যই তো লেখা!
এই মরা ব্লগে তুমি যে নিষ্ঠার সাথে পোস্ট দিয়ে যাচ্ছো তাতে তোমার সব পোস্টই নিজেকে উৎসর্গ করা উচিত মনে করি
আর, কোনো একদিন মরা ব্লগের খেতাবধারী ব্লগের পুরস্কার ঘোষিত হলে সেটি এবির গলায় উঠবে বলেও মনে করি
সিনেমা খুব কম দেখি। তাই হালনাগাদ তথ্য ভরা পোস্ট পড়লে লজ্জাই লাগে। তোমার পড়া, মুভি দেখা অব্যাহত থাকুক।
সিনেমা নিয়ে লেখার সময় আপনার কথা ভাবছিলাম আপনি ওতো সিনেমা দেখেন না! তাও যে কস্ট করে এইসব আজাইরা হিন্দী ছবি নিয়ে পড়ে যান তাতে মুগ্ধ হই। থ্যাঙ্কস এ লট আপু। আসলে মাসুম ভাইয়ের মতো সব মিলিয়ে দারুন ভাবে লিখতে পারি না তাই এইসব হিন্দী ছবি নিয়েই লিখেই আত্মপ্রসাদ লাভ করি। আর ছবিও দেখা হয় না ওতো।
ব্লগ লিখি কারন আনন্দ পাই আর ভালোবাসি এই মরা ব্লগটাকে। সামনে হয়তো আরো অনেকেই ভালোবাসতে পারে সেই আশাতেই লিখে যাই!
সিনেমা দেখতে কিন্তু ভালোই লাগে। আসলে একা একা বই পড়া যেমন সাধারণ ব্যাপার, একা একা মুভি দেখা তেমন নয়। মনে পড়ে, ২০০৩-০৬ সাল পর্যন্ত কি আনন্দময় জীবনই না কাটিয়েছিলাম। পুরোনো সব মুভি, কতবার দেখা, তাও দুজনে সেসবই বারবার দেখতাম। ভাবছি মাসুম ভাইর মুভি পোস্টগুলো থেকে তালিকা করে আরেকটি কালেকশন করে ফেলবো। তাহলে তোমাদের মুভি পোস্টগুলো আমার বোধগম্য হবে।
মাসুম ভাইয়ের ছবি পোস্ট গুলা থেকে দেইখেন। আমার গুলা বাদ। আমার হিন্দী কিংবা বাংলা ছবি নিয়ে আলাপ মুলত সাম্প্রতিক দিনলিপির মতোই সাম্প্রতিক বাজার কাটতি ছবি নিয়ে আলোচনা। ২০০০৩-০৬ সাল অবধি আমি মুলত টিভিতেই মুভি দেখতাম। বাসায় পিসি ছিলো না। পিসি ভাইয়ার খুলনার বাসায়
আমিও সিনেমা দেখার লোক না। আমি বই পড়া আর টিভি দেখারই মানুষ। গত আট নয় মাস ধরে টিভি নাই তাই কিছু দেখতে হবে বলে এগুলা দেখে বেড়ানো। মামাকে আদেশ দিয়ে ডাউনলোড করানো!
আসলে এতো এতো সিনেমা দেখা হয় নাই সারাজীবন ভর দেখে গেলেও পিছিয়েই থাকবো। অনেক না দেখা থেকে যাবে তাই আর ওতো ভাবি না!
১. রণবীরের মুভিটাই কেবল দেখি নাই। দেখার ইচ্ছা আছে। দিপীকার কারণেও দেখবো, মেয়েটা গরম আছে। লাইক হার
২. আশিকী -২ সেরম এক পচা মুভি। সময় নষ্ট হইছে। অথচ এই ভাটরা এক সময় সারাংশ আর আর্থের মতো মুভি করছিল।
৩. কাই পো চে অন্যরকম একটা মুভি। উপন্যাসটা পড়া নাই। তাই হয়তো বেশি ভাল লাগছে। হিন্দী সিনেমা বদলে যাচ্ছে, তাই এধরণ মুভি হয়, ব্যবসাও করে।
৪. এক থা ডায়ান, আহা কঙ্কনা, অসাধারণ অভিনেত্রী। আর শয়তানের কাজ কারবার আমার ভাল লাগে। শয়তান নিয়া এরকম মুভি মনে হয় ভারতে তেমন হয় নাই। বিশালের নাম দেখেই দেখার আগ্রহ বাড়ে। সঙ্গে কঙ্কণা। আর গান গুলজারের। ইয়ারাম আমার মোবাইলে আছে।
শয়তান নিয়া সিনেমাগুলা নিয়া একটা পোস্ট লেখার ইচ্ছা আছে।
মরা ব্লগেও লিখি নিজের আনন্দে, আমার নিজের কিছু কথা বলার থাকে বলেই লিখি।
১। ভালো প্রিন্ট দেখলে ভালোই গরম অনুভব করবেন আশা করা যায় তবে সিনেমাটা খারাপ না। টাইম পাস মুভি।
২। আশিকির জঘন্যতা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নাই! ভাটরা এখন ব্যাবসা চিনে গেছে তাই তাদের ওগুলা নিয়ে ভাবতে হয় না!
৩। কাই পো চে দেখে আমি আসলেই মুগ্ধ!
৪। এক থা ডায়ান আমার খুব পছন্দ হইছে যদিও শয়তান নিয়ে মুভি ওতো ভালো পাই না। গুলজার তো গান লিখেই খালাস মিউজিক বিশালের। এই কম্বিনেশনটা দারুন লাগে। পত্রিকায় পড়লাম মিতালী মুখার্জীর গান আর লালনের গান হিন্দী নিয়ে কাজ করবেন সামনে। দেখা যাক কী হয়।
এক্সপার্ট অপিনিয়ন দেখে শান্তি পাইলাম। বুঝা যায় আপনি এই সামান্য হিন্দী ছবি নিয়েও কতো গভীরে জানেন! থ্যাঙ্কস ভাইয়া। ব্লগে লেখা চলবেই!
শয়তান নিয়া দুর্দান্ত কিছু মুভি আছে, তাও রোমান পলিনস্কির, দেখলে বুঝবেন। ভাল না লাইগা উপায় নাই
রোমান পলিনস্কির নাম শুনছি মধ্যে সংবাদ শিরোনামে আসছিলো তখন।
আগে বলছি আবার বলি আমারে তুমি করে বলবেন। ওতো সম্মান দরকার নাই আমার ভাইয়া!
রাঞ্জা না জানি কি নামের ছবিটা দেখছি, ভাল লাগে নাই।
থ্যাংকু ম্যাংকু!
হিন্দী ছবির বাজার বাড়তেছে তার কারন আমেরিকান-বৃটিশেরা দলে দলে হলে গিয়া প্রচুর হিন্দী ছবি দেখতেছে, ব্যাপারটা এরম না ব্রাদার।
আমেরিকা এখন ভারতীয় ডাক্তার/ ইঞ্জিনিয়ার দিয়া ভর্তি। যেকোন বড় শহরেই প্রফেশনালদের একটা বড় অংশ ভারতীয়, এবং এই সংখ্যা চক্রবৃদ্ধিহারে বাড়তেছে। তারা অভ্যাসমতন প্রতি শনিবার সপরিবারে বই দেখতে যায়। এছাড়া খুচরা হিসাবে বাংলাদেশী, নেপালি, পাকিস্তানীরা তো আছেই। জুতমতো দেশের পোলাপানদের সফটওয়ার ইঞ্জি বানাইতে পার্লে মহানায়ক অনন্ত জলিল ছারের ছবিরেও আরামে চালানো যাইতো। কারন বালছাল ছবির জন্য বাজার সারা দুইন্যাই আছে। আপ্সুস!
তা যা কয়েচেন দিদি, একদম খাসা!
মন্তব্য করুন