বন্ধু সামিয়ার বিয়ে!
শিরোনামটা মায়াবতীর বিয়ে লিখলে ভালো লাগতো। কিন্তু ইচ্ছা করেই লিখলাম না। কারন এই ব্লগের একজন মায়াবতী কিংবা তার সিসিমপুর বাহিনীর গল্পের চেয়ে বন্ধু সামিয়াই আমার কাছে বেশী আপন। সামিয়ার অবশ্য নামের শেষ নাই। সবার আদরের ছোটো বোন বলেই তার নাম কেউ ডাকছে স্বর্নালী কেউবা পিংকী। আর ছোট্ট শ্রেয় তার আব্বুর মতো পিংকী বলতে পারতো না তাই ডাকতো পিপু বলে। পিপু নামটা আমার খুব পছন্দের। শতকরা ষাট ভাগ এসেমেসে আমি ওকে পিপু নাম ডাকছি। তবে ভালো নাম সামিয়া সেইটারও আবেদন কম না। জানি এই পোস্ট ও কবে না কবে পড়বে ঠিক নাই! তবে পড়বে যে একদিন তা আমি শিউর। ওর সাথে পরিচয় হবার পর থেকে ও আমার অসংখ্য পোস্টের স্থান কাল পাত্র, কবে কি বলছিলাম কি পোস্টে সব গরগর করে বলে দিতো। আমি অবাক হতাম। কারন তুচ্ছ তাচ্ছিল্য অবহেলা করে লেখা আমার একেকটা পোস্ট কেউ যে মনে রাখবে তা আমি ভাবি না কখনো। তার আগে বলে রাখি সামিয়ার সাথে আমার অফলাইন পরিচয় খুব অল্প দিনের। এই বেশী হলে চার পাচ মাস। পাচ মাস ধরে ১ মাস বাদ দিবো কারন গত ১-২ মাস ধরে সে বিয়াশাদী আর ইন্টার্নি নিয়ে ভয়াবহ ব্যাস্ত। আমি ও তাকে বিরক্ত করি নাই। কিন্তু তার আগে দুই তিন মাস অসাধারণ যোগাযোগে সময় কাটছে। প্রতিটা দিন কি করছি না করছি এবং ও কি করছে না করছে, তা নিয়ে অজস্র খুদে বার্তায় ভরে থাকতো ইনবক্স। কোনোদিন এসেমেস না আসলে মনে হতো আমার মোবাইল সেটেই কোনো সমস্যা হলো কিনা। ডাইরেক্ট ফোনে কথা হতোই না বলা যায়। খালি এসেমেস আর ফেসবুকে চ্যাট এই করেই দারুন চলতো আমাদের বন্ধুত্ব। সমবয়সী হবার কারনেই হোক আর যে কারনেই হোক দুইজনই খুব আন্তরিক ভাবে উপভোগ করেছি এই ফ্রেন্ডশীপ। আর তাতাপু ও সুমি আপুতো আছেই তাদের সাথেও সম্পর্ক আরো আন্তরিকতায় আবদ্ধ হয়েছি।
সামিয়ার যে সামনেই বিয়ে তা আমি অনেক আগে থেকেই জানি। ছেলের কি নাম? কি করে? হাবিজাবি সব তথ্যই আমার ভালোভাবে রাখা। এইসব নিয়ে কম খুচাই নাই ওরে। ও হাসিমুখেই মেনে নিতো আমার আজাইরা সব প্রশ্নের ও তার উত্তর দিতে। একটা জিনিস ছিলো অসাধারণ কোনো কোনো বিষয়ে ওর এতো ডিটেইলসে জানতাম আমার মনে হতো ঘরের লোকেরাও এতো কিছু জানে না। এই জন্যই সামিয়াকে আমার এতো পছন্দ যে অল্পদিনের বন্ধুত্বেও সে আমাকে ভালো বন্ধু মনে করতে ভুলে নাই। আমিও চেষ্টা করছি ভালো বন্ধু হবার। মধ্যে বাড়ীতে গিয়েছিলাম তখন সারাদিনেই অবসর। সারাদিনই ওর সাথে আমার অসংখ্য আলাপ আর আলাপ তবে তা ফোনে না এসেমেসেই। এখন যে আমি চোখ বন্ধ করে মোবাইলে এসেমেস লিখি এই প্রতিভা সেই সময়গুলোতেই রপ্ত করা। তবে সব চেয়ে শান্তি পাইতাম সিসিম্পুর বাহিনীর গল্প শুনতে। ব্লগে লিখতে গিয়ে তা কেমন হয় তা জানি না তবে শ্রেয়, মেঘলা, আরভীন, তাহিয়া, পার্সিয়ার গল্প শুনতে আসলেই মজার। তবে তার চাইতেও মজা সামিয়ার এতো স্নেহময় ভালোবাসা এদের প্রতি। তখন মনে হতো নামটা আসলেই দারুন ওর। একজন মায়াবতী এর চেয়ে ভালো ওর জন্য কোনো নিক হয় না। আমার এই বুয়া আসে না তাই বাইরে খাওয়া দাওয়া, গ্যাস্ট্রিক ব্যাথা- ঠান্ডা লাগা, মন কেনো খারাপ এই সব খুবই পার্সোনাল আলাপ অকপটে করে গেছি অযথাই।
বিয়ের কবুল টবুল বলা কাগজে সাইন এসব তো হয়ে গেছে আরো ঠিক দুই মাস আগেই। তাতাপু দেশের আসার পরে তাদের গায়ে হলুদ ও রিসেপশনের আয়োজন। দাওয়াত দিবে কিনা না দিবে তা ভাবি নাই। যেতে হবে এতোটুকুই। তাই ফেসবুক ইভেন্টেও আমি গোয়িং দেই নাই। এই দেখে তাতাপুর ধারনা হইছিলো আমি পল্টি মারতে পারি! তাই আল্টিমেটাম ছিলো না আসলে খোদা প্রদত্ত ঠ্যাং ভেঙ্গে দেওয়া হতে পারে এমনও হুমকি ছিলো। তাই কেউ যাক কিংবা না যাক আমার যেতে হবেই। তবে ফেসবুকে এতোজন গোয়িং দেখে মনে আশার সঞ্চার হয়েছিলো যে দারুন আড্ডা হবে এবির। কিন্তু ফেসবুক যে আজাইরা বুক তা বারবার প্রমানিত। জ্যোতি আপু জেবীন আপুকে অনেক রুপচাদা বাটারওয়েল দিলাম যাবার জন্য। কাজ হলো না। কারন এক বর্ণ আর অদিতি আপু ও সায়কা ছাড়া আর কেউ আসে নি গায়ে হলুদে চেনাজানা। ঘোষিত সময়ের অনেক পরে গিয়েও দেখি লোকজন ওতো আসে নাই। গিয়েই তাতাপু সুমিপু আর সামিয়ার মুখোমুখি হয়ে কুশল বিনিময়। বর্ণ আসলো। ফেসবুক, ব্লগ আর দিনকাল এইসব নিয়ে অনেক প্যাচাল পারলাম। সেইদিন বুয়া আসে নি তাই দুপুরের খাবার খেতে খেতে বিকেলে এবং তা আলমাহবুবে শিক নান। মাত্র বারো মিনিটে আমার এই শিক নান খাওয়া দেখে পাশে বসা হিজাবওয়ালী খেতে ভুলে গেছে। আমি ইচ্ছা করেই তাকাই নি। তাই আমার গায়ে হলুদের ফুচকা জিলাপী খাওয়ার কোনো ইচ্ছাই ছিলো না। দারুন একটা ভেন্যু সাম্পান। এতো আলোর পাশে লেকের দিকে তাকালে কেমন জানি মায়া মায়া লাগে। অনুষ্ঠানটাও হইছে মনোমুগ্ধকর। তাহিয়া নাচলো, আরেকটা মেয়ে নাচলো, তাতাপু আর মেঘলা নাচলো সব কটাই দারুন। দুলাল ভাইয়ের গানের গলাও সুন্দর। আগে তাতাপুকে কোনো গান দেয়ার পরে উনার পছন্দ না হলে বলতো তোমার দুলাভাই এর চেয়ে ভালো গান গায়। আসলেই দুলাভাইয়ের গলা ভালো। কিন্তু আগের পোস্টেই বলছিলাম যে আমার যে স্বভাব তাতে বসে থাকাই কাজ। খাবার বুফ্যে সিস্টেম তাই নিতে দেরী হলো সবাই একসাথে নিতে আসছে বলে। সেই ফাকে দেখলাম এক নাটিকা একটু বড় পিচ্চিদের দিয়ে করানো। খুব মজা পেলাম। খেয়ে দেয়ে দেখলাম ব্যাপক পার্টি মুডে আছে সবাই। আমার এইসব টানে না। তাই বিদেয় হলাম রিক্সা দিয়ে বাসা।
আজ যে ট্রাস্ট মিলনায়তনে প্রোগ্রাম তা আমি জানতাম রাতে। কিন্তু সকালে সামিয়াকে এসেমেস করতে গিয়ে জানলাম প্রোগ্রাম দুপুরে। চায়ের দোকান থেকে বাসায় গিয়ে পান্জাবী একটা জড়িয়েই রওনা দিলাম। যেতে মন টানছিলো না। কারন আমার সাথে আড্ডা মারতে দুই বন্ধু আসছে তাদের বসিয়ে রেখে যাচ্ছি। একজন আবার আসছে সেই চিটাগাং থেকে। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এক্সাম দিতে। ইংরেজী তেমন কিছুই পারে নাই তা জানিয়ে আপসেট। এতো কিছুর মোহ ত্যাগ করে আমার জন্য আসা কঠিন। তাও সিএঞ্জি পাওয়া গেল স্ট্রাইক সত্তেও। সিএঞ্জি ওয়ালা গল্পের মানুষ। তিনি আমার সাথে উত্তম ব্যাবহারের দুনিয়াবী ফায়দা নিয়ে আলাপ করলেন। এবং আমার ব্যাবহারে তা দেখে তিনি আনন্দিত। জুম্মার নামাযের সময় তাই রাস্তা ফাকা। পনেরো মিনিটেই ট্রাস্টে। গিয়ে দেখলাম ভালোই লোকজন তবে কাউকে চিনি না। এমন সময় দেখে ফেললাম অদিতি আপুকে। ব্যাস আর কি লাগে? কেউ আসে নাই তা নিয়ে আপসোস করলাম সমানে। আর আপুর সাথে কথা বলতে খুব মজা লাগলো। দুইজনের ক্ষুদার্ত। তাই আগে ভাগেই আসন দখল করে বসে থাকলাম, নানান কিছু নিয়ে আলাপ তার ফাক দিয়ে পরিচিত তাতাপু সুমি আপু দুলাল ভাইরা হেটে যায়। সামিয়ার সাথে কথা হয় নি। ওকে আজ অসাধারণ লাগছিলো কনে সাজে। খাওয়া আসলো খেলাম। তার আগে এমকে আনোয়ারকে দেখলাম আসছেন দাওয়াতে। অতি বুড়ো লাগছিলো। টিভিতে যেমন লাগে তেমন না। আরো কে কে জানি আসার কথা তাতাপু জানালো। খেয়েদেয়ে আর সময় নস্ট করি নি। আমি আর খেয়াপু বিদায় নিলাম। উনি আমাকে সিএঞ্জিতে ফার্মগেইট নামিয়ে দিলো। ভাবলাম রিক্সায় যাই কিন্তু রিক্সা নাই তাই লেগুনাতে শিয়া মসজিদ নামলাম। রোদে পুড়তে পুড়তে চায়ের দোকানে গিয়ে রেস্ট নেয়া। আমার অপেক্ষায় আমার বন্ধুরা।
সামিয়া ও দুলাভাইকে অভিনন্দন। নতুন জীবন সুখের হোক আনন্দের হোক। আবার যদি কখনো অবকাশ হয় তোমার আমার তবে আবার সেই এসেমেসে তুমুল আড্ডা হবে!





প্রিয় শান্ত
আপনার লেখা পড়ে আমি কেমন যেন নেশাসক্ত ভাবে চলে আসি। সাদা দিধে কিন্তু দারুন সহজ ভাবে নিজের কথা গুলি এমন ভাবে লিখে যান যেন আমি নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলাম আর সব কিছু চোখের সামনে চলে আসে। এই নাহলে ভাল লাগা? কিপ ইট আপ। ব্লগ মরে গেলেও আমি আছি যদি না আজরাঈল টান না মারে।
থ্যাঙ্কস ভাইয়া!
সামিয়ার জন্য অনেক শুভকামনা। ওদের যুগল-জীবন কল্যাণ আলোয় ভরে থাকুক, মঙ্গলময় হোক সবকিছু, সুখ ও আনন্দ ঘিরে থাকুক ওদেরকে।
সামিয়ার বিয়ের গল্প আরো বিস্তারিত শুনতে চাই। তোমার দিনলিপির কল্যানে যা কিছুটা পেলাম, গোগ্রাসে গিললাম।
সামিয়া সুখী হোক। অনেক শুভকামনা।
বিস্তারিত লিখি নাই ইচ্ছা করেই, বেশী পারসোনাল লিখলে আমার লোকজনেরা মাইন্ড করে তাই!
এই লেখাটার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। বন্ধুর জন্য ভালোবাসা ভালো লাগে খুব।
সামিয়াপুর জন্য অনেক অনেক দোয়া আর শুভকামনা। সুখী হোক নব দম্পতি। আনন্দময় হোক জীবন।
থ্যাঙ্কস বর্ণ!
সামিয়ার জামাইরে হিংসা। এত্ত সোন্দর গানের গলাওয়ালীকে স্ত্রীকে বউ হিসাবে পাওয়ার জন্য।
অভিনন্দন রইলো দুই জনের জন্য।
দাওয়াতের অপেক্ষায় আইজুদ্দিন...
আমি গান শুনি নাই
"সামিয়া ও দুলাভাইকে অভিনন্দন। নতুন জীবন সুখের হোক আনন্দের হোক। আবার যদি কখনো অবকাশ হয় তোমার আমার তবে আবার সেই এসেমেসে তুমুল আড্ডা হবে"
এই পোস্টে কিছু ছবি থাকলে আরো ভালো হতো ।

মিস করলাম সবই । গায়ে হলুদে একজন মেয়েও খুজে না পেয়ে গেলাম না । আমার এসব অনুষ্ঠান খুবই কম যাওয়া হয় । আর বিয়েতে যাব বলে জেবীনকে বিকালে ফোন করে জানলাম দুপুরের কথা
যা হোক, সুখী জীবন হোক সামিয়ার ।
আমি ছবি পাবো কই?
নিয়ত দুর্বল থাকলে মিস হবেই
নতুন জুটির জন্য শুভকামনা...
তাতা'পু নির্ঘাত মাইর দিবে হাতের কাছে পেলে!!
সামিয়ার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা
শুভকামনা
কিউট পোস্ট
থ্যাঙ্কস দিদি!
এতোদিনে
মন্তব্য করুন