ইউজার লগইন

বিস্রস্ত জর্নাল থেকে কিছু জার্নাল! (পর্ব ২)

আজ আমার মনটা খুব ভালো। ভালো থাকার অনেক কারন। প্রথম কারন পুরোনো কেসিংয়ে নতুন পিসির আগমন, মুজাহিদের ফাসীর রায়, আনন্দময় ক্লাস করতে পারা, দুইটা চায়ের দোকানে দুই সিরিজ দারুন আড্ডা, সব মিলিয়ে মন ভালো। তবে এতো দারুন ইফতারী খেয়েও পেটে কেমন জানি খিদা খিদা। এইটা আমি প্রায় সময় দেখছি প্রতি রোজায় বেশী খাই। সংযমের কোনো গন্ধ নাই কোথাও। সেহেরী আর ইফতারীতে এতো খাচ্ছি ক্লান্ত হই না মোটেও। সারাদিন চা খেতে পারি নাই এই দুঃখে এক সন্ধ্যাতেই চা খাই তিন চার কাপ। কপালে যা আছে আর কি! ঘুমেও সংযম নেই উঠি ১ টায়, ঘুমাই পাচটায়। রোজায় এতো ঘুমালে নাকি হালকা হয়ে যায় রোজা। কিন্তু কিবা করার আছে আমি তো অন্য কোনো সময় ঘুমাই না। তাই পুরো সকালটাই যা ঘুমাই। তবে এই অভ্যাস নিয়ে বাড়ীতে গেলে ঝাড়ি আছে নিশ্চিত। আম্মু যখন দেখবে সারা সকাল ঘুম, তখন বলে উঠবো এইভাবে রোজা রাখার মানে কি? তবে বাড়ি যাবো ঈদে, সবাই জিগেষ করে কবে যাবো? অনেকে বুদ্ধি দেয় আগেভাগে চলে যান। আমি বলে উঠি আগেভাগে কিভাবে যাবো? ক্লাস যে চলে! আর এতো আগেভাগে বাড়ীতে যেয়ে আরাম আছে কিন্তু ভালো লাগবে না। এই আড্ডাবাজির কিছুই হবে না তখন। টিভি, বই, ইন্টারনেট, আম্মু আব্বুর সাথে কথা বলা ছাড়া আর কিছুই করা হবে না। আর আজকেই উনডোজ এইট দেয়া নতুন পিসি পেলাম একটু উপভোগ করি এই খুশী্তে। আর বাড়ীতে গিয়ে এখন আমার বারবার মনে হয় কেন যে এখনো কিছু করতে পারলাম না। যদিও আব্বু আম্মু কিছুই বলে না। তাও নিজের কাছেই প্রেশার। তাই এতো আগে বাড়ীতে যাবো না। ক্লাস টাস করে, মানুষের ঠেলা গুতা খেয়ে, জ্যাম গেঞ্জামে প্যাকেট হয়ে বাড়ী ফিরবো। তবে বাড়ী থেকে এসে আমার চেহারায় একটা সুন্দর ভাব আসে। বন্ধুরা খুব প্রশংসা করে তার। বলে উঠে দশদিন বাড়ীতে থেকে মায়ের হাতের রান্না খেয়েই আপনার দেখি চেহারা ফিরে পান। আমি মনে মনে ভাবি চেহারা পেয়ে লাভ কি! সেই তো আবার মেস লাইফ আবার রোদে রোদে ঘুরে বেড়ানোর দিন শুরু। তবে এই দুই তিন খুব চিটাগাং যেতে ইচ্ছা করছে। টাকা নাই। টাকা থাকলে হুট করেই চলে যেতাম। রোজার দিন বড়ই আনন্দ চিটাগাংয়ে।সারা রাত বন্ধুদের সাথে চাপা পিটিয়ে কাটানো যায়। আর আমি গেলে ব্যাপক সমাদর পাই। নিজেরা নিজেরা ঝগড়া করে এমনিতে, কিন্তু আমি গেলে পাচ ছয়জন মিলে দারুন আড্ডা। এক বছর ধরে যাওয়া হয় না মুলত নিজের ভাবনাতেই। যে বেকারের শিরোমনী বারবার আনন্দ ভ্রমন করার কোনো মানে হয় না। আর গেলে ফিরতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু ফিরতে তো হবেই। এইটাই সমস্যা। যাই হোক অযথা অনেক কথাই লিখে ফেললাম। এবার সায়ীদ স্যারের বইটা থেকে লাইন টুকে দেই!

১১২। গতানুগতিক মানুষ যৌনতা করে শরীরের সঙ্গে, সহৃদয় মানুষ শ্রেয়ের সঙ্গে। ১৯-৬-৯০

১১৩। যে কোনো দাম্পত্য সম্পর্কেই-- দুজনের মধ্যে যে অধিকতর অমানুষ- শেষ পর্যন্ত সে-ই জয়ী। ১১-৭-৯০

১১৪। বার্ধ্যকের বউকে নিয়ে দীর্ঘদিন কাটানো যেতে পারে, কিন্তু যৌবনের বউকে নিয়ে..? ১৭-৭-৯০

১১৭। যে জীবন নিয়ে এতকাল এত খেদ আর অনুযোগ করেছি, অনুযোগ করার মতো সেই জীবনটাকেও তো একদিন পাওয়া যাবে না। (খুব প্রিয় লাইন) ১-৮-৯০

১২৪। সবাই যার যার জীবনের সত্য মানুষটাকে খুঁজে বেড়ায়, কিন্তু ফিরে ফিরে কেবলই ভুল মানুষটার মুখোমুখি হয়। ১৬-৯-৯০

১২৮। আমরা যারা পৃথিবীর ট্যারা চোখ আর খোঁড়া ঠ্যাংগুলোকে ভালোভাবে দেখতে পাই না, সেইসব নির্বোধদেরকেই লোকে বোধোহয় 'আশাবাদী' বলে।(প্রিয় লাইন) ২৩-৯-৯০

১২৯। আজ দেশের প্রতিটা প্রতিষ্ঠানই এনজিও; রাষ্ট্র বৃহত্তম এনজিও। ২৭-৯-৯০
(এনজিও বলতে এখানে বিদেশী সাহায্যপুষ্ট প্রতিষ্ঠান বুঝানো হয়েছে)

১৩৩। জনগনের আত্মাহুতি আর নেতৃত্নের ব্যর্থতা-- এই ছিল আমার কালের বাংলাদেশ। ২২-১০-৯০

১৩৫। হয়তো সবই মিথ্যা আর ভুল ছিল। তবু যত তুচ্ছই হোক এইটাই তো আমার জীবন।২৭-১০-৯০

১৩৬। আমাদের পত্রপত্রিকার জগৎ থেকে শিল্প সাহিত্য দর্শন বিজ্ঞান- সব বিদায় নিয়েছে। এখান আছে কেবল দুটো জিনিসঃ পর্নোগ্রাফি আর পলিটিক্স।

১৩৮। আমার কেন জানি মনে হতে চায় আমরা বাঙ্গালীরা এখনো 'আমরা' শব্দটার মানে ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারি নি। আমরা 'আমি' শব্দটাকে ঠিকমতোই বুঝি, কিন্তু 'আমরা', 'সবাই', 'সকলে', 'রাষ্ট্র', এসব শব্দের একটা মানেই আমাদের কাছে বোধগম্যঃ আমার পকেটে যা আছে আমাদের কাছে তা-ই হচ্ছে রাষ্ট্র, যা আমার পকেটে ঢোকানো হচ্ছে তা-ই জাতি। ২৭-১০-৯০

১৩৯। আমাদের জাতীয় নায়কদের ব্যর্থতা আজ আমাদেরকে সব ব্যাপারে নিন্দুক করে তুলেছে। আমাদের পরনিন্দাগুলো আসলে এক ধরনের কান্না। ২৭-১০-৯০

১৪৩। এরশাদ পতনকে কেন্দ্র করে প্রায় দু 'দুটো সপ্তাহ ধরে সারাটা জাতি এমন উত্তাল বিরতিহীন উৎসবে মেতে রয়েছে কেন? দুর্বল মানুষের এত আনন্দ দেখলে আমার ভয় হয়।
১৯৯১

১৪৬। আমরা এমন এক সময়ে বেঁচে আছি যখন যোগ্যতা হচ্ছে সব চেয়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ১৫-১০-৮৮

১৪৭। যে মানুষ প্রতিনিয়ত আমাদের পরাজিত করে যেতে পারে, সেই তো আমাদের প্রিয়তম। ২১-১০-৯০

১৫২। অনেকদিন তোমাকে দেখি নি। এই না-দেখার ছায়াগুলোকে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে সমস্ত বাস্তবকে ঢেকে ফেললেই সবকিছুর অবসান। ২৬-১০-৮৪

১৫৫। একাত্তরে এত রক্ত দিয়েছি আর আজ দেশের এমন আশংকাকর পরিস্থিতিতেও কেউ কিছু করতে পারছি না। 'দেবার মতো রক্ত' আমাদের কি তবে শেষ? ৬-৯-৮৫

১৫৬। ভালোবাসায় দুজনকে দুজনের কিছুই জানাতে হয় না। অপার্থিব পুলকানুভুতির ভেতরে তারা টের পায়ঃ পরস্পরের দিকে তারা অবারিত শুধু আসছে...। ২৩-২-৮৪

১৫৭। যাদের কিছুই দেবার নেই, তাদেরকেও আমার কিছু দেবার আছে। ২১-১-৮৪

১৫৮। আমারও একটা যৌবন ছিল একদিন। তোমাদের অনেকের চাইতে সুন্দর! ২৫-২-৮৫

১৫৯। শামসুর রাহমান লিখেছিলেনঃ 'বেগম পেতে চায় বাঁদীর সুখ'। আমাদের যুগটা সম্পর্কে কথাটা আশ্চর্যভাবে মেলে। সবাই রাজমুকুট ফেলে 'গোলাম'- একটা পরিতৃপ্ত সুখী গোলামের 'জীবন' খুঁজে গেল? নিজের প্রানকোষের আগুনকে বিশ্বাস করতে সাহস করল না। ৩-৩-৮৪

১৬৪। জীবন তো একগুচ্ছ প্রদীপ- এর সব উকিতেই আলো। শুধু একটাকে হারিয়ে আরেকটায় জ্ব্লে উঠা। (খুব বলি কথাটা অন্যদের) ৭-৪-৮৪

১৬৭। আমার রাশিয়াও নেই, আমেরিকাও নেই। নিজের মাতৃভূমিটাও নেহাতই কর্পদকশুন্য। কঠিন একটা কিছু হলে বিনা ভাড়াতে 'নক্ষত্রপল্লী'। ২৪-৪-৮৪

১৬৮। প্রতিটা জন্মদিন একেকটা ছোট্ট মৃত্যুকে পায়ের সামনে ফেলে রেখে যায়। ২৫-৪-৮৪

১৭০। ভালোবাসার কাছ থেকে তিনটি মুল্যবান জিনিস প্রায় অবধারিতভাবেই উপহার পেয়ে এসেছি সবসময়ঃ
অকথ্য সুখ, অসহ্য যন্ত্রনা, আর একটা বিশাল সুপরিপক্ব ব্যর্থতা। ৮-৯-৮৫

১৭৫। বুঝে কি কেউ ভুল করে? যদি কেউ বলে সে বুঝে ভুল করেছে, তা হলে কি বুঝতে হবে না তার ওই বোঝাটাই ভুল? ২৯-১২-৮৬

১৮২। দুইটি জায়গায় আমরা খুব লক্ষ্যভেদীঃ পরশ্রীকাতরতায় আর পরস্ত্রীকাতরতায়। ১০-১০-৮৮

১৮৩। কোনো দেশে যখন নতুন টাকা ছাপে তখন ওই টাকার বিপরীতে বিশেষ পরিমান সম্পদ গচ্ছিত রাখতে হয়। নইলে ওই টাকা কাগজ হয়ে যায়। প্রতিটা কথার বিপরীতে তেমনি দাড়িয়ে থাকতে হয় সমপরিমান কাজের পৃথিবী। নইলে ওই কথা কেবলই 'আওয়াজ'। ১৫-১০-৮৮

১৮৪। ওহে সলিমুল্লাহ, তোমরা যারা তরুণ মৃত্যুকে অনুভব কর আমাদের চেয়ে বেশি, কিন্তু চেন অনেক কম... ১৬-১০-৮৮

১৮৮। রোজ রোজ চর্বচোষ্য মেলে না।
প্রতিদিন যা দিয়ে আমাদের জীবন বাঁচে তার নাম ভাত।
প্রতিদিন যাকে নিয়ে আমাদের ঘর সাজাতে হয় তার নাম বউ। ৩-৮-৮৯

১৮৯। জ্ঞান মতবাদ নিরপেক্ষ। মতবাদসাপেক্ষ জ্ঞানের ব্যাবহার। ১৮-১০-৮৯

১৯৪। যাকে ক্লেদাক্ত করতে পারায় অকথ্যতম সুখ, সেই কি আমাদের প্রিয়তম? ২২-৫-৯০

১৯৯। যে তোমাকে বিত্তের কথা বলে সে তোমার শরীরকে চায়, যে নিঃস্বতার কথা বলে সে হৃদয়কে। ২৩-১০-৯০

২০৩। প্রতিক্রিয়াশীলতার সুবিধা দুটোঃ তার সামনে যাবার জায়গা নেই, পেছনে যাবার দরকার নেই।

২০৫। কাউকে ভালোবাসা বঞ্চিত করে আমরা যে আসলে মানুষটাকে রিক্ত করে বসি সে তো আমি।

২০৮। যৌবন অত্যাচার করে হৃদয়ের ওপর, বার্ধক্য শরীরের ওপর।

২১০। মননে উপলব্ধিতে ওদের চেয়ে কম ছিলাম না। অপরাধ হয়েছিল বাড়তি কিছু ছিল বলে। ওদের বিরাট আর গুরুগম্ভীর কথাগুলোকে হালকা হাসিতে সহজ করে বলতে পারতাম।
বুদ্ধিজীবির শিরোপা থেকে তাই বঞ্চিতই থেকে যেতে হলো সারা জীবন।

২১২। সাহিত্যের মতো মানুষও দু রকমঃ সাম্প্রতিক আর চিরায়ত।

২১৩। টাকা আর ভালোবাসা একই জিনিস। বেঁচে থাকার জন্য খুব জরুরী, কিন্তু অনির্বচনীয় জীবনের শত্রু। ওই জীবনকে পাবার জন্যে যা সবচেয়ে দরকারি তা হচ্ছে অভাব।

২১৬। রাশফুকোর লেখায় পড়েছিলাম, ঈর্ষা প্রেমের সঙ্গেই শুরু হয় কিন্তু প্রেমের সঙ্গে শেষ হয় না। সে ইর্ষাও বোধহয় আজ শেষ।

২১৭। মানুষ দু রকম। এক, যারা এষনা করে; দুই, যারা গবেষণা করে।

২১৯। আত্মোৎসর্গের ব্যর্থতা নেই- কি প্রকৃতিরাজ্যে কি মানুষের জগতে।

২২৩। শিক্ষা বিনোদনের চেয়ে অনেক বড়। আমরা সারাক্ষণ নাচি না কিন্তু সারাক্ষণ ভাবি।

আজ এতোটুকুই থাক!

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

টোকাই's picture


টিপ সই

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস ভাইয়া!

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আমার বেশি ভাল্লাগছে ১৭৫।

নয়া পিসি মুবারক!
কনফিগ কি এখন?

আরাফাত শান্ত's picture


তাই?
কনফিগারেশন মোটামুটি। পুরোনো বোতলে নতুন জিনিস পায়াই আমি খুশি Smile

লীনা দিলরুবা's picture


গ্রেট।
সায়ীদ স্যার। (কিছুটা অপছন্দের বিষয় থাকলেও)
শান্ত।( শতভাগ শুদ্ধ)।

আরাফাত শান্ত's picture


Sad

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


দারুণ পোষ্ট। প্রিয়তে রাখলাম, কাজে লাগবে। Smile

আরাফাত শান্ত's picture


ধন্যবাদ ভাইজান!

পাভেল's picture


সুন্দর পোষ্ট!

১০

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস Laughing out loud

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!