ইউজার লগইন

ইত্তেফাকের ঈদসংখ্যা ২০১৩ পাঠ প্রতিক্রিয়া

সবাই মোবাইল দিয়েই পোষ্ট লেখার কথা বলতেছে জোরেসোরে। আমি আবার মাটির মানুষ কারো কথাই খুব একটা ফেলতে পারি না। আর আমার লেখা পড়তে যারা চায় তাদের জন্য এই চোখে হাতে অসহনীয় ব্যাথা করে হলেও লেখার চেষ্টা করা যেতে পারে। গুটি কয়েক মানুষও যদি আমার লেখা পড়ে ভালো লাগা মন্দ লাগা কাজ করে- তাহলে এরচেয়ে সুখের আর কী। রাতে তো জেগেই থাকি। সময়টাকে কাজে লাগানো যাক। তবে কাল মোবাইলে লিখতে গিয়ে নতুন এক সমস্যা আবিস্কার করলাম, তা হলো স্পেস টিস্পেস সহ মাত্র পাচ হাজার ক্যারেক্টার টাইপ করা যায়। খুব বেশি কিছু চাইলেও লেখা যায় না। পাচ হাজার যদি লিখিও দেখা যাবে আউট অফ মেমোরী। তাতে পুরো জিনিসটাই পন্ডশ্রম! যাক লেখা শুরু করি। ঝুকি তো থাকছেই আদৌ পোষ্টটা প্রকাশ করতে পারি কিনা!

আমি অন্য বই পড়া নিয়ে ব্যাস্ত ছিলাম। আর বাড়ীতে কারেন্টের খুব সমস্যা ও দিনে ঘুমাই রোজার দিনে তাই পড়ার সময় কম। তার ভেতরে মোবাইলে গুতাগুতি, আম্মু আব্বুর সাথে কথাবার্তা বলা, একটু কারেন্ট থাকলেই মোবাইলে চার্জ দিয়ে টিভি দেখতে বসা- সব মিলিয়ে ব্যস্ত দিন পার করা। এক গাদা বই আনছি বাড়ীতে এবার, তার কেবল দুইটা শেষ তাও একটা শেষ কারন ট্রেন লেইট করছিলো তিন ঘন্টা তাই পড়ার মত কিছু ছিল না। এই দুই তিন দিনে ইত্তেফাক ঈদসংখ্যাটা শেষ করলাম মোটামুটিভাবে। মোটামুটি বললাম এই কারনে যে আমি বিদগ্ধ পাঠক না যে এইসবকিছু ভুষি মাল গিলে গিলে পড়তে হবে। দাম ১৮০ টাকা। শপিং ব্যাগে দেয় তা, রংচংয়ে প্রচ্ছদওয়ালা ম্যাগাজিন। তবে ওতো দৃষ্টি নন্দন কিছু না। আমি কবিতা পড়ি না তাই কবিতা নিয়ে কিছু বলা আমার শোভা পায় না। প্রচুর প্রতিষ্ঠিত অপ্রতিষ্ঠিত কবির কবিতায় ঠাসা। কত নাম দেখতেই সুখ। কাব্যরস আস্বাদনের সুখ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েই পাঠ শুরু করি। ছয় ছয়টা উপন্যাস আছে এই সংখ্যায়। কোনোটাকেই খুব একটা উপন্যাস বলা যায় না। মনে হবে ফরমায়েশী লেখা। একটা ঘটনা কিংবা আইডিয়াকে নিয়ে অযথা টানাটানি করেই লেখক দায় মিটিয়েছেন। সেলিনা হোসেন ও ইমদাদুল হক মিলনের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক। মিলন সাহেবদের লেখা এভোয়েড করি সবসময়। তবে এবার রিভিউ লেখার খায়েশ আছে বলেই পড়তে শুরু করি। তেমন ভালো লাগে না। মিলন টিভিতে আপসোস করে বলে উঠেন পশ্চিম বাংলার মত এদেশে এক হাজার পেইজের উপন্যাস লেখার জায়গা নেই, আনন্দবাজার বা দেশের মত পত্রিকা নেই। উনি যা লেখেন আমার মনে হয় নাটক বা সুরসুরিময় লেখা তা লেখাই ভালো। তাতে তার আসল পাঠকরাই উপকৃত হবে। তার এই উপন্যাসটা পুরাই বেকার। সেলিনা হোসেনের উপন্যাসটা পড়া যায়। তবে উনাকে আমার সবসময়ই ওভাররেটেড মনে হয়। পড়ে যুত পাওয়া যায় না। তাও পড়লাম মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উপন্যাসটা। সময় থাকলে পড়া যায় আর কি! তবে মঈনুল আহসান সাবেরের উপন্যাসটা ভালো। ভালো লেখার সত্‍ প্রচেষ্টা ছিল। লেখার ভিতরে একটা আকর্ষন তিনি ধরে রাখতে পারেন। তেমন জাকির তালুকদারের উপন্যাসটাও খারাপ লাগে না। সেলিনা মিলনদের চেয়ে ভালো। নতুন একটা হুমায়ুন আহমেদ নাজিল হইছে বাংলার বুকে। নাম তার আন্দালিব রাশদী। আজাইরা এক লেখকে পুরা দেশের ঈদ সংখ্যা ছেয়ে গেছে। এইখানে তার উপন্যাসটা ফালতু। তা নিয়ে বলার কিছু নাই। চাইলেই যে কেউ হূমায়ুনের মত লিখতে পারবে ঠিকই। কিন্তূ হু আহমেদ হতে পারবে না। কারন ব্রান্ড ভ্যালু একটা বড় জিনিস। তুষার কণা খন্দকারের উপন্যাসের প্লটটা আগ্রহ উদ্দীপক কিন্তু তেমন একটা ভালো কই?

এবার আসি গল্পে। অনেক গল্প তবে খুব কমই গল্প হয়ে উঠছে। পড়তে গেলে মনে হবে স্রেফ টাইম পাস। শুভাশিস সিনহা, মনিহায়দার, সালেহা চৌধুরী, শান্তনু কায়সার ও নাসরীন জাহানের গল্প গুলো মোটামুটি। মোটামুটি বললাম এই কারনে যে পড়া যায়, গল্প হিসাবে মানা যায়। এজএ বড় ভাই বন্ধু কামাল ভাইয়ের লেখাতে আমি বরাবরই মুগ্ধ। তা উনার সাথে চেনা জানা হবার আগে থেকেই। এই গল্পটাও দারুন। একটানে পড়ে ফেলেছি। আর মনে হয়েছে কামাল ভাই তো এমনই লিখে। অন্য লেখকদের মত ফাকি দেয় না গল্প লেখার ছলে। মেহের শাওনের লেখাগুলো বিবৃতি মুলক। নুহাশ পল্লী নিয়ে স্মূতি কথাটা তাই প্রেস ব্রিফিংয়ের মতোই পড়ে ফেলা যায়। ওয়েষ্টার্ন বা তিন গোয়েন্দা উপন্যাস আমি কখনোই পড়ি না। ছোটবেলাতেও পড়ি নাই। তাই বলতে পারবো না কেমন হলো। অসীম সাহার আত্মজীবনীমুলক লেখাটা খুব ভালো। সহজ ভাবে তিনি তার সময় ও তার পরিচিত সেই চেনাজানা লোকদের নিয়ে বলে গেছেন মমতার সাথে। তার কবি হয়ে উঠা, ঢাকার জীবন, ছফার সাথে আন্তরিকতা ও দুরত্ব এবং ছফার চরিত্র নির্মোহ ভাবে বলেছন। ভ্রমনকাহিনীর লেখা হিসেবে লেখাগুলো ভালোই। বড় গল্প হিসাবে যা ঢুকানো হইছে তা সব ফালতু। কিশোর উপন্যাসটাও জমে নি। বেলাল চৌধুরীর মুক্ত গদ্য ছোট হলেও ভালো। উত্‍পল কুমার বসু. শক্তি দের সেই সময়ের বখাটেপনা আর মাতাল হবার গল্প পড়তে খারাপ লাগে না। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে মাসুম ভাইয়ের লেখাটা খুব ভালো। একেবারে অসাধারন ভাবে তিনি বাংলাদেশের ইকোনমিতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে আদোপান্ত ছোট পরিসরে তুলে আনছেন। প্রভাষ আমিন, বিধান রিবেরু ও হোসেন সোহেলের লেখা গুলাও ব্যাতিক্রমী ও ভালো। শামসুজ্জামান খানের ঈদ উত্‍সব নিয়ে যে টেনে এনেছেন তা খারাপ না পড়তে। তবে এই একি লেখা আমি জনকন্ঠ ঈদ সংখ্যাতেও দেখছি। এমন কেন হবে তার কারন জানি না! এই হলো গিয়ে আমার ইত্তেফাকের ঈদসংখ্যা নিয়ে প্রতিক্রিয়া। যা মনে আসছে তাই লিখছে। মতামতের দায় শুধু আমার। বছর দুই তিন আগে লীনাপু এই ব্লগে ঈদ সংখ্যা নিয়ে রিভিউ লিখেছিলো দারুন করে। তখনই আমার মনে হয়েছিলো আমি যে কবে লিখবো! অবশেষে লিখলাম। রাত জেগে হাতে ব্যাথায় প্রায় অবশের মত হয়ে এই লেখাটা লেখা শেষ হলো। তাই এই শুভ যাত্রা নিবেদন করলাম আপুকেই!

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


কালি ও কলম পাইছেন?

এই লেখা গুলিতে একটু প্যারা করে দেওয়া যায় না?
তাহলে পড়ার ক্ষেত্রে চোখের এবং ভাবার জন্য মনের আরাম হয়।

এইবার লীনাপু ঈদ রিভিউ লেখতেছে বইপড়ুয়াতে, মিসিং হার হিয়ার। Sad

আরাফাত শান্ত's picture


মোবাইলে প্যারা কি আসমান থেকে দিবো? চেষ্টা করছি কত! আর প্যারা দিতে পারলে আমার চেয়ে খুশী আর কেউ হতো না। কালি ও কলম পাই নাই!

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


ঠিকাছে। পাইলে কিনে রেখে দিব নে আপনের জন্য। ভালো থাকেন।

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাংকস এ লট। ভালো থাকেন!

চিন্তক's picture


রিভিউ লিখতে গেলেই কাউকে হেয় করাটা জরুরী?

আরাফাত শান্ত's picture


জরুরী না। তবে আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া যেহেতু তাই যা যা ভালো লাগে নাই তা বলে ফেলছি অকপটে। আর আমি কোন পত্রিকায় লিখছি না যে সবার মন যুগিয়ে বলতে হবে। পোষ্টেই বলা আছে মতামতের দায় শুধুই আমার।

চিন্তক's picture


মানে কি?
কারো লেখার সমালোচনা করা আর একজন লেখকের লেখকত্বকে অপমান করা এক বিষয় নয় স্যার। আপনি যে সব লেখকের কথা বললেন তাদের বেশিরভাগকেই আমি চিনি না, ঈদ সংখ্যাটিও আমি পড়িনি, কাজেই এইসব লেখকের প্রতি আমার কোন ব্যক্তিগত সহানুভূতি নেই। অন্যান্য বিষয়গুলো বাদই দিলাম, কিন্তু স্যার, আপনি একজন লেখকে সরাসরি "ফালতু" উপাধি দিলেন? সমালোচনা করারও তো একটা এপ্রোচ থাকে স্যার। সেটা নিউইয়র্ক টাইমসেই করুন আর ব্লগেই করুন। কারো মন যুগিয়ে চলুন আর নাই চলুন,কাউকে অপমান করার অধিকার আপনার নেই স্যার।

আরাফাত শান্ত's picture


ধন্যবাদ জানানোর জন্য। তবে স্যার না ডাকলেই খুশী হবো।

তানবীরা's picture


ঈদসংখ্যা কিছু অনলাইনে ছাড়বে। পড়ার সময় পাবো কি না জানি না। তুমিই ভরসা।
মঈনুল আহসান সাবেরের আমি অনেক আগে থেকেই ফ্যান। রিভিউ পিসি থেকে লিখলে আরো অনেক কিছু জানতে পারতাম। নাই মামা থেকে কানা মামা

১০

আরাফাত শান্ত's picture


আচ্ছা ঠিক আছে আপু। ভালো থাকবেন!

১১

আরাফাত শান্ত's picture


আচ্ছা ঠিক আছে আপু। পড়ে দেইখেন। ভালো থাকবেন!

১২

মীর's picture


লীনা আপুকে মিস্ করতেসি Sad

আপনার রিভিউ ভালো হইসে শান্ত ভাই।

১৩

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাংকস মীর ভাই। নতুন লেখা চাই!

১৪

শওকত মাসুম's picture


রাশদী সাহেবের লেখা পুরাই আবর্জনা, ঈদসংখ্যার মান নষ্ট করার মতো লেখক

১৫

আরাফাত শান্ত's picture


এক্কেরে হক কথা বলছেন ভাইয়া!

১৬

জ্যোতি's picture


ঈদ সংখ্যা সমকাল শুধু পড়েছি তাও নেট থেকে । বাড়ী এসে জনকন্ঠ পেলাম । তৃমি সবগুলির রিভিউ লিখো, দুধের সাধ ঘোলে মিটাই ।

১৭

আরাফাত শান্ত's picture


জনকন্ঠ পড়ছি, বোগাস ইদ সংখ্যার র শিরোমনী এদের টা। দেখি পড়া হয়ে গেলে লিখবো ইনশাল্লাহ। বাড়ীতে আনন্দে থাকেন!

১৮

শাশ্বত স্বপন's picture


আরাফাত ভাই, আমার কাছে সমকাল ঈদ সংখ্যা, দাম ১৮০ টাকা । না, কিনতে হয়নি, সৌজন্য কপি পেয়েছি। বিগ্গাপন(এড..) এর বন্যায় বাংলার '৮৮ এর বন্যা ফেল। কপাল আর কারে কয়, জিল্রুর রহমান সিদ্দিকী এর মুক্ত গদ্যের পর শাওনের হুমায়ুন কাহিনী 'কর্কট সময়'। চিন্তা করে দেখলাম, আসলেই তো সময় খারাপ। টুটুল ভাইরে জানান দরকার।

কবিতা একটাও ভাল লাগে নাই। প্রচুর প্রতিষ্ঠিত অপ্রতিষ্ঠিত কবির কবিতায় ঠাসা। কত নাম দেখতেই সুখ। কাব্যরস আস্বাদনের সুখ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েই পাঠ শুরু করি। কোনোটাকেই খুব একটা উপন্যাস বলা যায় না। মনে হবে ফরমায়েশী লেখা। সৈয়দ সাহেবের( সামসুল হক) উপন্যাস। উনার আজকাল কার লেখা পড়েলে হরিপদ দত্তের কথা মনে পড়ে, 'এরা তো বাক্যই লিখতে পারে না...।' আমি কিন্তু কিছু কই নাই।

জাকির তালুকদার এর লেখাটা ভালো লেগেছে। উনি পিতৃগণ এর মত এথানে ভালগার আনার অহেতুক বাচ্চামি করেছেন।
সব শেষ করার পর আপনার মত কিছু লিখব।

১৯

আরাফাত শান্ত's picture


ধন্যবাদ ভাই। আপনার মন্তব্যটা পড়ে খুব ভালো লাগলো। আমি সমকাল কেবল পড়া শুরু করলাম। আপনার ওভজারভেশন ভালোই!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!