ইউজার লগইন

শেষ বলে কিছু নেই!

ভেবে ছিলাম টানা অবরোধ ও হরতালেই দিনগুলো কেটে যাবে সামনের সময়, কিন্তু তা হলো না অসীম অবরোধেরও একটা আপাত শেষ ঘটলো। অবরোধহীন এই দিনগুলো কেমন যেনো ম্যারমেরে লাগছে। যদিও আমার জন্য সবই একই রকমের দিন, অবরোধ হতে হতে কেমন জানি আমড়া কাঠের অলসতা ভর করেছে শরীরে। ভুড়ি বাড়ছে শুধু, অবরোধ নেই, আগুন নেই তাও কোথাও যাই না খালি ঝিম মেরে বাসায় বসে থাকি আর দুবেলা করে চায়ের দোকানে চার ঘন্টা, এই আপাতত এক্টিভিটি। আবীর ছিল বাসায়, দিন গুলো কাটলো আনন্দেই। শনিবারে যখন চলে গেল এবার আর তুলে দিতে যাই নি, বাসে তুলে দিয়ে এসে মন খারাপের সেই উদাসী রিকশা ভ্রমন ছিলনা, সিএঞ্জি খুজে চলে গেলো কমলাপুর আর আমি বাসাতে। সেই শনিবার ব্যাপক হাসাহাসির ভেতরে ছিলাম সারাদিন, সন্ধ্যায় আদনান জন্মদিনের পার্টি দিল ক্যাম্পে- ব্যাপক খেলাম। ক্যাম্পে দলবেধে গেলে বিপদ। রিকশা থামালেই ছেকে আসে পোলাপাইন, মামা আমাদেরটায় আসেন, ভাইয়া আমাদেরটায় আসেন, কেউ বলে উঠে এতো আমাদের ভাই আসেন ভাই মুসলিমে, কেউ বলে সারাজীবন মুসলিম মুস্তাকিমে তো বহুত খাইলেন এবার আমাদেরটায় খান রহীম নতুন আসছে। ডিসিশান নেয়া খুব বিপদ হয়ে যায়, তবে দেখা গেছে ঘুরে ফিরে সেই মুসলিমের দোতালাতেই চলে যাই। চিপা সিড়ি ঠেলে চিপা রুম শীতের দিনেও গরম লাগে। তার ভেতর দেখি ব্যাপক নারীর উপস্থিতি। ভালোই আগে কোনো কালেই আমি ক্যাম্পের চাপ খেতে এত নারী সমাগম দেখি নাই! খেয়ে দেয়ে হাসি আড্ডার পরে আবীর বারো ঘন্টায় চলে গেল ট্রেনে চিটাগাং আর আমি তার পরের দিন বিসিএস মেডিক্যালে!

সেই দিন দুপুরেই রেদোয়ান ভাইয়ের সাথে লাঞ্চ করার কথা, কিন্তু প্ল্যান মতো হলো না আমাকে ডাকা হলো জেনেটিক প্লাজায়। ফ্রাইড রাইস ও ফ্রাইড চিকেন মার্কা লাঞ্চ আমার পছন্দ না তবুও অসাধারণ সময় কাটলো ভাইয়া, ভাবী আর জিসানের সাথে । অনলাইনে যাদের সাথে দীর্ঘদিনের আলাপ আলোচনা হৃদত্তা তাদের সাথে প্রথম দেখাতেই কেমন জানি আপন আপন লাগে। মনে হয় ইনাকে তো আমি কত দিন ধরে চিনি, অনেকে বলে ভার্চুয়াল সম্পর্ক ঠুনকো হয় আমি তো দেখি ভার্চুয়ালী যাদের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক তাদের সাথে রিয়েল লাইফেও একধরনের ভালো বন্ধুতা দাঁড়িয়ে যায়। রেদোয়ান ভাইয়ের সাথেও কতো কতো বিষয় নিয়ে কথা হলো। কিন্তু সময় কম তাই বিদায় নেয়ার সময় হয়ে গেল অল্পতেই। বাসায় ফিরলাম একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে, আসলেই শেষ বলে কিছু নেই। অঞ্জন দত্ত এই নামে একটা সিনেমাও বানাচ্ছে নতুন- শুভশ্রীকে নিয়ে, গানটা তো অনেক আগে থেকেই অসাধারণ!

অনেক দিন পর সেই রবিবারেই ভার্সিটি গেলাম, সব কিছু নতুন নতুন লাগে। চায়ের দোকানে ফিরে এসে দেখি ফাকা ফাকা সব। পুলক আসলো, শান্ত ভাই আসলো, জুয়েলের সাথে গ্যাজাইলাম। ও আচ্ছা জুয়েলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই, জুয়েল হলো বারেক সাহেবের ছেলে। ক্লাস সিক্সে উঠলো এবার, বারেক সাহেব আমাকে হাজারবার বলেছিলো জূয়েল যদি পিএসসিতে পাশ করে তাহলে নাকি টেবিল চেয়ারও পাশ দিবে। জুয়েল ভালো মতোই পাশ দিছে কিন্তু সমস্যা হলো তার সে বাংলা ইংরেজী কোনো বানানই শুদ্ধভাবে লিখতে পারে না। তাকে ২০ টাকা দিয়ে একটা আদর্শ লিপি কিনে দিয়েছে বানান ঠিক করতে। তার ছোট বোন ক্লাস টু তে পড়ে সে সব পারে, জুয়েল কিছুই পারে না। জুয়েল তাহলে কি পারে? জুয়েল পার্টাইমে তার বাপের দোকানে বসতে পারে আর হিন্দী গান মুখস্থ নাচ সহ গাইতে পারে। আমার আর পুলকের মন খারাপ থাকলে জুয়েলরে ইয়ো ইয়ো হানি সিংয়ের গান গাইতে বলি। হানি সিং যতো অসহ্যই হোক জুয়েলের মুখে শুনতে আরাম। আর গল্পে গল্পে শোনা যায় কে কারে ঘাড়াবে? তার দোস কে কে? স্কুলে কোন স্যার কোন ভাষায় বকা দেয় তার ব্যাঙ্গ ,এইসবে জুয়েলের বয়ান অদ্বিতীয়। ক্যাশ থেকে সে মাঝে মধ্যেই ১০-২০ টাকা সরিয়ে তার বন্ধু বান্ধবরে খাওয়ায়। তাতে তার বন্ধুরা জুয়েল বলতে অস্থির। তাও অবশ্য বারেক সাহেব হাল ছাড়ে নাই পড়াচ্ছে এখনো। আগের জামানা থাকলে এই ধরনের ছেলেরা চায়ের দোকান থেকেই নিজের কর্মজীবন শুরু করে দিত, এখন বাংলাদেশে যত দরিদ্রই হোক সবাই পড়াতে চায় সন্তানকে, যতই অমনোযোগী হোক।

হলিউড রোমান্টিক কমেডী সিনেমা দেখা আর ঢাকা নিয়ে মুনতাসীর মামুনের বই, এই নিয়েই চলছে গত দুই তিন দিন। ঢাকা শহর বিশেষ করে পুরান ঢাকার নবাব ও ইংরেজ সাহেবদের নিয়ে পড়তে জোশ লাগছে। আগের মত স্মরনশক্তি নাই থাকলে নানান জায়গায় এইসব নিয়ে বয়ান দিলে বিখ্যাত হয়ে যেতাম। মুনতাসীর মামুন ব্যাপক পরিশ্রম করছে এই বইটা লিখতে গিয়ে। ভাত খেতে বসে কিংবা ঘুমানোর আগে র‍্যান্ডমলি এই বইটার পাতা উল্টানো এখন আমার কাজ। আর মাসে ১২ জিবি ইন্টারনেট চালাই নয়শো টাকায় তাই সিনেমা দেখি অনলাইনে। অন্য কোনো সিনেমা দেখার প্রতি আমার আগ্রহ নাই, দেখি শুধু রোমান্টিক কমেডী। একটা সাইট পাইছি সেখানে টপ ১০০ ব্যাবসা সফল রোমান্টিক কমেডীর সিরিয়াল দেয়া তা থেকে লিস্ট করি আবার মাঝে মাঝে কোনো নায়ক নায়িকা ভিত্তিতে তার অভিনীত রোমান্টিক কমেডী খুজে নেই। আজ দেখলাম 'মাই বিগ ফ্যাট গ্রীক ওয়েডিং' আর টিভিতে দেখা সিনেমা তাও আবার 'ডেফিনেটলী মে বি'। এইভাবে প্রতিদিনই একটা দুইটা রোমান্টিক কমেডী সিনেমা দেখার উপরে আছি!

কাল দেখলাম এই বছরের দুটো হিন্দী সিনেমা। নাম ইয়ারিয়া আর দেড় ইশকিয়া। ইয়ারিয়া নিয়ে নতুন করে কি বলবো। এই সিনেমা 'যো জিতেগা ও সিকেন্দারে'র ২০১৪ ভার্সন। সেখানে থাকে আমীর খানের অসাধারণ অভিনয় আর এখানে আছে নতুন কিছু বলদের বলদামী। বলিউড মাসালা ক্যাম্পাস বলতে যেমন হয় তেমন কলেজের গল্প। ডিস্কো, পার্টি, ড্যান্স, ফ্ল্যাটিং এইসবের নামই নাকি কলেজ? যাই হোক এইসব করতে করতেই কলেজ বাচানোর নামে তাদেরকে অস্ট্রেলিয়ার সাথে প্রতিযোগীতায় নামিয়ে দেয়া হয়। থার্ড ক্লাস গল্পের ফিফথ ক্লাস অভিনয়। তাও নাকি সিনেমাটা ভালোই ব্যাবসা করছে। আমার ধারনা ভারতে আম আদমীরা এইসব মাসালা কলেজ খুব পছন্দ করে যেখানে খালি পিয়ার আর নাচাগানার জায়গা। মানুষের ফ্যান্টাসী নিয়েই তো সিনেমা তাই এসব অখাদ্যও দিব্যি চলে যায়!

এর চেয়ে দেড় ইশকিয়া কতো অসাধারণ একটা সিনেমা। 'ইশকিয়া' সিক্যুয়েল। আগেরটার মতো না হলেও এইটা অন্য রকমের ভালো। নাসিরউদ্দীন শাহ আর আরশাদ ওয়ারসির অসাধারণ সেই ক্যামেস্ট্রি। সাথে অনেকদিন পরে মাধুরীকে দেখা, হল প্রিন্টেও দারুণ লাগছে দেখতে। অভিষেক চৌবের ডিরেকশন আর বিশাল ভরদ্বাজের মিউজিক ডিরেকশন দুটোই গতানুগতিক হিন্দী সিনেমার বাইরে। ব্ল্যাক কমেডী, উর্দু খিস্তি, সাসপেন্স সব মিলিয়ে সিনেমাটা আমার খুব পছন্দ হইছে।

বাংলা সিনেমাও দেখলাম একটা 'মাটির পিঞ্জিরা'। সিনেমা না বানিয়ে নাটক বানালেই পারতো। এইসব গল্পে নাটক অহরহ বিটিভিতে দেখছি ছোটবেলায়। ২০১৪ সালের এক টিভি নাটক দেখলাম। নবাগত ডিরেকটরের নাটক নাম মনে হয় 'আউট অব রুলস'। হিন্দী চুলের নাটক বানাইছে হুমুন্ধীর পুত। এর চেয়ে মাঝে মধ্যে মোশারফ করীমের একটা নাটক দেখি- সেরকম চা খোর। খুব মজা পাই নাটকটা দেখলেই!
http://www.youtube.com/watch?v=v6cxhiqm6FA
এইভাবেই দিন গুলো যাচ্ছে শেষ হয়ে। তাও হয়তো শেষ হয়না কিছুই, কারন শেষ বলে কিছু নেই!

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জ্যোতি's picture


অবরোধ শেষ হতেই শীত ঝাকিয়ে আসলো। অবরোধের কারণে শীতও আটকা পড়ে ছিলো মনে হয়। এই মীতে সকালে বের হতেই দুঃখে মরে যেতে মন চায়।
ভার্চুয়াল রিলেশন গুলা নিয়ে মনে যে কত কথা!
সিনেমাও দেখা হচ্ছে না, কেউ যদি বলে কি করি আমি। আমারও আজব লাগে যে আসলে করি কি!
তোমার মত লিখতেও যদি পারতাম! তুমি লিখো তাই পড়তেও ভালো লাগে। Smile

মীর's picture


মীত!!!

জ্যোতি's picture


মানে শীতের বস্ আর কি! Tongue
লুকজন বানাম্ভুল ধরে কেন?

আরাফাত শান্ত's picture


আরাফাত শান্ত's picture


ধন্যবাদ আপু, আপনারা পড়েন বলেই লিখে যাই!

তানবীরা's picture


আমি মাধুরীর আজনম ফ্যান, দেড় ইশকিয়া দেখবো ফেবুতে --- লেডিস নাইটে Big smile

আরাফাত শান্ত's picture


দেইখা ফালান জলদি, পারফিউম ও মিশর রহস্য দেখেন উইকেন্ডে, আরাম করে!

মীর's picture


লেখাটাই সবচেয়ে অনবদ্য।

আরাফাত শান্ত's picture


প্রিয় মানুষদের মুখে প্রশংসা শুনতে স্বর্গীয় শান্তি!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!