বইমেলা থেকে পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ একদিন অহনার অভিবাসন
এত অপেক্ষার বইমেলাও ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। জীবন থেকে তরতর করে খালি দিন গুলো চলে যাচ্ছে, ভাবতেই মন খারাপ হয়ে যায়। অনেকে বলে সময় তাদের কাটে না, আমি তো দেখি সময় থাকেই না কোনোক্রমে। যেভাবেই থাকি, যাই করি সময় দ্বিগুন গতিতে চলে যায়। সে কথা যাক, সময় নিয়ে হতাশা আগের অসংখ্য পোষ্টে করেছি। এখন বাদ দিয়ে অন্য কথা বলি। ধুলোর সমুদ্রের যে বই মেলা, যাচ্ছি নিয়ম করে। কিন্তু সমস্যা হলো- মেলায় কোনো কাজ থাকলে তা মিস করে ফেলি, অথচ এমনিতে মেলায় যাই প্রায় প্রতিদিনই। যেমন কালকের কথাই ধরুন না, বাংলাদেশের খেলা দেখতে দেখতে মনে হয়েছিল, মেলায় আর যাবো না। কিন্তু কি মনে হলো হুট করে বাসায় আসলাম, বুয়া রান্না করে নাই গোটা গোটা অক্ষরে লিখে গেছে চাল নাই। আমি বের হয়ে গেলাম সাথে সাথেই। রহীমকে ফোন দিলাম, রহীম হলো গিয়ে সেই রিকশাচালক যার ফোন নাম্বার আমার মোবাইলে সেইভ করা আছে, দূরে কোথাও যাবার নাম নিলেই রহীমকে ফোন দেই। পুলক ও আসলো রিকশায় রওনা দিলাম মেলার উদ্দেশে। রহীম দুর্দান্ত রিকশা চালায়, এতো দারুণ চালানোর স্মুথনেসের কাছে বাকী সব যানবাহন ফেইল। কিন্তু রাস্তায় ভয়াবহ জ্যাম, সময় লেগে গেল অনেক। মেলায় এসে দেখি তানবীরা আপুর বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষ, বর্ণকে খুজছিলাম তার আগেই পেয়ে গেলাম অদিতি আপুকে। উনি বলে উঠলেন কই ছিলা মিয়া? আসছো- তাতেই ভালো। পরসমাচার হলো একটা বই নাকি মিসিং, কি কেলেঙ্কারি কান্ড। সুমি আপুর সাথে দেখা হলো। ঘোষক নাকি টাকা চাইছে, হাসতে হাসতে আমি শেষ, ভাগে লাড্ডু পেলাম শুধু, মুখ ফসকে বলেই ফেললাম খালি এই মিস্টি, আর কিছু নাই? উনারা ভেতরে ঢূকলেন, আমি হারিয়ে ফেললাম। বর্ণ আসলো, জেমস আসলো কথা বার্তা চলতে থাকলো।
আমি আর জেমস মেলার ঐ সাইডে ঢুকলাম। গেটের কাছেই একটা চায়ের দোকানে চা চপ টপ খেলাম,সেখানে সংহতির কৌশিকের সাথে দেখা হলো, কিছুক্ষণ আলাপ সালাপ হলো মেলা নিয়ে, শেষে মেইন মেলায় দেখি গিয়ে যত মানুষ তত ধুলা। তবে ভালোজিনিস হলো প্রচুর বই কিনছে মানুষ, জেমসকে বই কিনে দেয়ার কথা কিন্তু তাকে পুলকের কাছে পাঠিয়ে আমি কামাল ভাইয়ের সাথে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিলাম। কত কত মানুষ দেখলাম,, সবাইকেই চিনি কিন্তু কারো সাথে সেধে কথা বলা হয় নাই। শুধু ভাইয়ার সাথেই আলাপ। আলাপ শেষে সবাই যার যার মতো ড্রাইভারকে ফোন দিচ্ছে। আমার তো তেমন কেউ নাই, আমি হাটতে হাঁটতে ছবির হাট, সেখানে দেখি ব্যাপক আড্ডা জমেছে। পুলক, জেমস, রবিউল, রাজীব, রাসেল ভাইরা সব বসা। আসলো অভি, ক্লোজ বন্ধু এক সাথে কলেজ, ঢাকায় একই জায়গায় থাকা, ইভিনিং এমবিএতে ছিলাম, আইবিএ র এমবিএ ভাইবা দিয়ে ফিরলো। আমি আর অভি ফিরলাম এক রিকশায়, অজস্র গল্প শুনতে শুনতে। মানুষের গল্প শুনতে আমার খুব মজা লাগে। আমার জীবনে এত গল্প থাকলে আমি তা সব উগলে দিতাম ব্লগে, কিন্তু সেরকম চমকপ্রদ গল্প কই?
এবার আসি একদিন অহনার অভিবাসন নিয়ে, বেশী কথা বলবো না। কয়েক প্রস্থ কথাই বলার আছে। তানবীরা আপুর সাথে আমার কেমন- দহরম মহরম তা নিয়ে নতুন করে বলার দরকার নাই, ব্লগে সবাই জানে। তবে মানুষ হিসেবে তিনি অতি উত্তম শ্রেনীর সে ব্যাপারে অনেকেই জানে না। তিনি আমাকে ফেসবুকে জানিয়েছিলেন, বই কেনার দরকার নাই। আমার নাম নিয়ে একটা এনে পড়া শুরু করে দে, তোকে উপহার দিলাম। আমি হাসতে হাসতে বলি তা কি হয়? যেদিন কিনলাম সেদিন একাই তিন কপি নিলাম। এক কপি দিলাম এক বন্ধুকে, আর দুই কপি রেখে দিলাম নিজের জন্য। শুদ্ধস্বর থেকে এই বই কেনার আগে কমচে কম সাতদিন যেয়ে জিগেষ করে আসছি বইয়ের খবর কি? উত্তর একই- জানি না, প্রসেসে আছে। এত প্রতীক্ষিত বই তা পড়ার জন্য সময় লাগালাম বেশী না। যেদিন নিয়ে বসলাম শরীফ ভাইয়ের বইয়ের মতো একটানেই শেষ করে দিলাম। এই বইটা লেখিকার আগের গল্পগ্রন্থ বইয়ের চেয়ে গুনে মানে সব দিক থেকেই অনন্য। একজন সাধারন উচ্চমধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে অহনার নেদারল্যান্ডের চরম বৈরী পরিবেশে অচেনা স্বামীর সাথে হাসি কান্নাময় জীবন, এই হলো মুলত উপন্যাসের প্লট। ব্লগে আমরা গল্প আকারে পড়েছিলাম, এখন তা বিস্তৃত ভাবে উপন্যাস আকারে। আপুর এবারের উপন্যাসের একটা জিনিস খুব ভালো তাহলো ভনিতা ছাড়া নিখুত ডিটেইলিং। অতি চমৎকার ভাবে এবার উনি তা 'একদিন অহনার অভিবাসন' বইতে দেখাতে পেরেছেন। নামটাই খুব ক্যাচি, অনেক লোককে দেখলাম শুদ্ধস্বরে নাড়াচাড়া করছে বইটা। ফ্ল্যাপে লাস্যময়ী আপুর ছবি দেখছে, অচেনা কেউ কেউ কিনছেও। যেহেতু উপন্যাসিক আমার খুবই আপনজন, তাই পড়তে বসে বারবার আমার লেখিকাকে অহনার ভেতর দিয়েই খুঁজে পেয়েছি। প্রশ্নটা করেছিলাম। অহনার সাথে আপনার মিল কতটা? উত্তর পাই নি। তবে কিছুটা মিল থাকার কারনেই এই উপন্যাস লিখতে লেখিকার তেমন রুপক কিংবা কল্পনার আশ্রয় নিতে হয় নাই, যাপিত জীবনের ঝরঝরে গদ্য পড়তেও সুখ। তবে বইয়ের সমস্যা একটাই সেটা হলো দাম, আমার ধারনা অন্য যেকোনো প্রকাশনীতে হলো এই বইয়ের দাম ২০০ থাকতো। এখন যা ২৮০ টাকা, কমিশন বাদে। পরিচিত কয়েকজনকে কিনতে বললাম তাঁরা দামের কারনে আর কিনে নাই আর বইয়ের দাম ২০০র উপর থাকলেই লোকজন সেই বই কিনতে কেমন জানি অনীহা প্রকাশ করে। আমি অবশ্য এর কোনো কারন দেখি না, কারন একটা ভালো হোটেলে একজন মানুষের আয়েশ করে লাঞ্চ করতেই চলে যায় ৩৫০ প্লাস টাকা সেখানে একটা বই অনেকদিন বাসায় থাকবে ও পড়া যাবে তার মুল্য ২০০ হলেই মনে হয় মানুষের অনেক টাকা চলে গেল। আমরা সবাই বইকে টেলিভিশনের মত- অবসর বিনোদন হিসেবে দেখি বলেই এই অবস্থা, বই পুস্তক জিনিসটা নিছক আমোদ প্রমোদের জিনিস না। তা আমাদের ভাবার সময় মনে হয় এসে পড়েছে, এই বইয়ের কৃতজ্ঞতার লিস্টের ছয়জনের নামে আমার নাম আছে, আবার উৎসর্গতেও বেনামে আছে আমাদের সবার উপস্থিতি। তাই বইটা ব্যাক্তিগত ভাবেও আমার অনেক কাছের জিনিস, আশা করি যারা কিনবেন তারাও হতাশ হবেন না পড়ে। তানবীরা আপুর লেখা আরো দারুণ হোক, আমাদের নামে আরো বই উৎসর্গ হোক, কারন আমরা আমরাই তো। আমরা আমরা মিলেই তো এই ব্লগ আমরা বন্ধু!





স্বজনপ্রীতি রিভিউ পড়ে আনন্দিত হয়েছি
স্ব্জনপ্রীতি ব্যাপার না, ব্যাপার হলো ভালোবাসা। যেখানে ভালোবাসা থাকবে সেখানে তো একটু পক্ষপাত থাকবেই
আমি গত সপ্তাহজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গেলেও বইমেলায় যায় নি। আপনার আলোচনা পড়ে বইটি কেনার ইচ্ছা জাগছে। প্রকাশকের নাম দিয়েছেন। সাথে যদি স্টল নম্বরটা্ও দিয়ে দেন তাতে পাঠকের বইটি খুজে পেতে সবিধা হত।
থ্যাঙ্কস ভাইয়া!
শুদ্ধস্বরের স্টল নাম্বার ৩৯,৪০,৪১তে পাওয়া যাচ্ছে কমিশন বাদে ২৮০ টাকায়!
আমি লাকিলী প্রথম কপিটা পাইয়া গেছি
শুদ্ধশ্বরে যাইয়া জিগাইলাম টুটুল ভাইরে... কয় খাড়ান.. আইতাছে... ১০ মিনিটের একটা চক্কর মাইরা আইসা পাইয়া গেলাম
এই কথাগুলো পড়তে জানতে শুনতে ভাল লাগে
দারুণ!
এই দারুণ লেখাটা কালই পড়েছি।
সুইটু তাতাপুর লেখা বই নিয়ে প্রিয় শান্তর দারুণ লেখা 
' একদিন অহনার অভিবাসন' বইটার সাফল্য কামনা করি। পাঠক হৃদয়ে লেখিকা আর লেথা জায়গা করে নিক।
থ্যাঙ্কস আপু, আপনিও ভালো থাকেন!
গতবারের বইমেলায় এই লেখিকার "পাহাড় আর নদীর গল্প" কিনেছিলাম। ভাল লেগেছিল। এবার কেনা হয়নি এখনো। "একদিন অহনার অভিবাসন" কেনার ইচ্ছা আছে।
বইটির সাফল্য কামনা করছি।
থ্যাঙ্কস ভাইয়া, এবারের উপন্যাসটা আগের বইয়ের চেয়ে সবদিক থেকেই ভালো হইছে!
আমার সামান্য একটা কথা আছে। উপন্যাসের প্রধান দুই চরিত্রের নাম অর্ন আর অহনা। নাম পড়লেই মনে হয় দূরের কেউ, আমাদের চারপাশের কেউ না। আর এসব অতি আনকমন নাম, বিশেষ করে অর্ন, থাকলে মনে হয় একটু আরোপিত। এর চেয়ে একটি সাধারণ নাম হলে মনে হয় একটু স্বস্তিদায়ক হতো
সব মতামত গুরুত্বের সাথে নোট রাখা হচছে, পরের লেখার জন্যে

আপনার মতামতটা সাদরে তাতাপু গ্রহণ করেছে!
তানবীরা'পুর বই বলে বইটা কিনার এবং পড়ার এমনিতেই অনেক আগ্রহ ছিল।এবার শান্তর রিভিউ পড়ে তা আরও বহুগুণ সম্প্রসারিত হলো।

চট্টগ্রামের বাতিঘরে পাওয়া যাবে "একদিন অহনার অভিবাসন" ?
আপনার বইটা কেনা হয় নাই আপু
বইটা ধার নিবো আপনার থেকে!
আইচ্ছা!
বইমেলায় যাওয়ার সুযোগ হয়নাই। কিন্তু বইটা পড়তে চাই। উপায় কি?
আমার কাছ থেকে নিয়েন!
মন্তব্য করুন