এখন চৈত্র মাস!
পত্রিকার দোকানে গিয়ে দেখি ঝলমল করছে ম্যাগাজিন মৌচাকে ঢিল, তাদের চৈতালি ভালোবাসা সংখ্যা নিয়ে, দোকানদার আলাউদ্দীন ছেলেটা কোনো অদ্ভুত কারনে আমাকে খুব ভালো পায়। আমার জন্য আনন্দলোক, ক্রীড়ালোক, কালি ও কলম রেখে দেয়, যখন তখন পত্রিকা বাকীতে দেয়, রাস্তা ঘাটে যেখানেই দেখা হোক দাঁড়িয়ে কথা বলে। আমিও ভালো পাই তাই দিনের নিউএইজ কিংবা ঢাকা ট্রিবিউন সেখান থেকেই কিনি। জিগেষ করলাম আজ, মৌচাকে ঢিলের বেচা বিক্রি কেমন? বলে উঠে খারাপ না, তবে আগে আপনাদের মত অনেক শিক্ষিত ভালো লোকজন কিনতো এখন কেউ তেমন কিনে না তবে মাদ্রাসার ছাত্ররাই বেশী কিনে। আমি মৌচাকে ঢিল কখনোই কিনি নাই, কিশোর বয়সে 'যায় যায় দিন' পড়েছি লোকজনের বিচিত্র চাপাবাজীর ইতিহাস জানতে। আমি যখন তা কিনতাম তখন নানান গল্প থাকতো চটি টাইপের, আর বাকী আশি ভাগ ভরা থাকতো আজাইরা চাপাবাজি ময় ভালোবাসার গল্পতে। আমি গল্প পড়লেই বুঝে যেতাম, যে লেখকের চাপার সীমানা কতদুর। এত এত মিথ্যা কথা মানুষ কিভাবে নিজের নামে চালিয়ে দেয় তখন আমার কাছে বিস্ময়কর লাগতো। একবার এক লোক মনের হাউশ মিটিয়ে চাপা মেরেছে যে রাবির অমুক হলের এক শ্রেষ্ঠসুন্দরীর সাথে তাঁর পিরীতি ছিল, আমার এক বন্ধু খোজ নিয়ে বললো ভদ্রলোক যে সময় দিছে তার নিদেনপক্ষে একযুগ পরে হলটার নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। বুঝেন অবস্থা, নিজের নামে ছাপিয়ে করছে ভালোবাসার চাপাবাজি। আমি গত ছয় বছর ধরে কিনি না এ জিনিস, কারন প্রেম ভালোবাসা নিয়ে এইসব সেন্ট্রিমেন্টাল চাপাবাজি পড়ার সময় এখন আর নাই। তবুও জামালপুর রেল স্টেশনের পত্রিকার দোকানের মত দোকানগুলোতে মৌচাকে ঢিলই বেস্ট সেলার ম্যাগাজিন। এক ছেলের সাথে গত বছর পরিচয় হয়েছিল, বগুড়া মেডিকেলের ছাত্র, তাঁর লেখা ছাপানোর পর নাকি মোবাইলে ফোনের বন্যা, তাঁর সেই সময়ের রানিং গার্লফ্রেন্ডও নাকি এই উসিলায় প্রাপ্ত, আমি বললাম বাহ দারুন তো, এক লেখার এত প্রভাব। আগে জানলে মৌচাকে ঢিলেই লেখতাম, ন্যাকা ন্যাকা প্রেম কাহিনী। খামাখা ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালায়লাম কেন?
আজ সকালে বের হয়েই আরেক মজার কান্ড দেখলাম। নাটক সিনেমায় দেখি দলবেঁধে কিউট কিউট বাচ্চারা প্রার্থনা সংগীত বা শিশুতোষ গান গায়। আজ দেখলাম চারটা রিকশায় করে ভর্তি ছোট্ট ছেলের দল গান গাইছে, কিউ কি তুম হি হো- বড়ই নিষ্ঠার সাথে। আমি মনে মনে কবিতা আওড়ালাম,' স্বার্থক জনম আমার সকাল বেলা ঘর থেকে বাহির হইয়া'। তবে মানুষ সবাই আবার এরকম না, ব্যাতিক্রম আছে তবে সংখ্যায় অতি নগন্য। এরকম এক লোকের সাথে পরিচয় হলো, সেই লোক আবার ভালোর ভেতরে বেশী ভালো। জাতিতে বিহারী, এক খুব বয়সের মুরুব্বীরে সাথে আনছে চায়ের দোকানে, কথায় কথায় জিগেষ করলাম ইনি কে? আপনার বাবা? উনি হেসে বললেন বাবাই বলতে পারেন তবে আপন না, ৬৩ তে আমার বাবা যখন ফ্যামিলী সহ সৈয়দপুরে আসেন তখন ইনার বাসায় আমরা মাস চারেক ছিলাম, টাকা পয়সা নাই তখন দয়া করে আমাদেরকে রাখছিলেন। গত এগারো বছর যাবত উনার কেউ নাই, তাই আমি আমার কাছেই রেখে দিছি, নিজের বাবার মতোই যত্ন নেয়ার চেষ্টা করি। এই কথা যখন বলছেন আমাকে তখন দেখলাম সেই অতি বুড়ো লোকটার চোখে পানি। কে জানে, চার মাস এক পরিবারকে আশ্রয় দেয়ার উসিলায় বারো বছর ধরে একজনের কাছে এত যত্নে থাকা যাবে। ব্যাপারটা আমার কাছে খুব মজা লাগলো, মোহাম্মদপুর নিবাসী মানুষদের নন বেঙ্গলী পাকিস্তানীদের প্রতি এক ধরনের ভয়াবহ বা্জে ধারনা আছে, যত চাপ কাবাব খাই আমারো তা আছে, এই ঘটনার পর থেকে মনে হলো সবাই একরকম না।
কামাল ভাইয়ের বই 'সংশয়ীদের ইশ্বর' পুনঃপাঠ করছিলাম। সেখানে একটা প্রবন্ধে উনি কালেকটিভ কনসাসনেস নিয়ে বলছিলেন, মনোবিজ্ঞানী ইয়ুং এর রেফারেন্স দিয়ে। দুপুরে তা পড়তে পড়তে ভাবছিলাম, কত ধারনাই তো এর আওতায় পড়ে যায়। কত কিছুই তো যুক্তিহীন ভাবে আমাদের মননে মগজে চিন্তা ধারায় জন্মসুত্রেই পাওয়া। পুরো সমাজের প্রত্যেকটা মানুষের ভেতরেই কম বেশী এই চিন্তাভাবনা পূর্বপুরুষ থেকে সঞ্চিত হয়ে হয়ে বিদ্যমান। কালেকটিভ কনসাসনেস কিনা জানি না, আমার কেন জানি সমকামিতা ভালো লাগে না, অগ্রহনযোগ্য মনে হয়। আমার গ্রহন বর্জনে বয়েই গেল তাঁদের তাও আমার ভালো লাগে না। এখন এ কথা কেন বললাম, সিনেমা দেখছিলাম বিকেলে কলকাতার নাম সিক্সটিন জুলাই, । সেখানে নায়ক নায়ক গে, নায়িকা আর তাঁর বান্ধবী লেসবিয়ান, উদ্ভট সব সিন। দেখেই গা গুলিয়ে আসছিল। ৩৩ মিনিট দেখেই আর দেখার সাধ মরে গেছে। জানি না তারপর ছবির গল্পে কি হলো। তবে আমার এইসব জিনিস ভালো লাগে না। যারা দুই দিকেই ব্যাটিং করে, করুক তারা তাঁদের মতো করে, তা সিনেমায় এনে তকমা দেয়া- সম্পর্কের নতুন ঠিকানা। কি আজব আইডিয়া! আমি এখনো অতোটা উত্তর আধুনিক মানুষ হয়ে উঠি নি।
তবে সেইসব সাইটেও সিনেমা দেখা কোনো সুখকর ব্যাপার না। একটু পর পর নানান হারবাল প্রতিষ্ঠানের উদ্ভট সব সমাধান মুলক বাংলা বিজ্ঞাপন। ইবনে বতুতা যদি এই যুগে বঙ্গদেশে আসতো তাহলে তার ধারনা হতো এই অঞ্চলের প্রত্যেক মানুষ যৌনরোগে ভারাক্রান্ত। তা সহ্য করে হলেও সিনেমা দেখি কারন এত ডাটা সময় মাত্র একমাস। শেষ তো করতে হবে। পুলকের সাহায্যের জন্য আজ একটা সাইবার ক্যাফেতে বসছিলাম অল্পসময়। হিস্ট্রি আর কুকিতে দেখি খালি উত্তেজক ভিডিও দেখার সব এড্রেস। আমি পুলককে বলছিলাম-- এই হলো নেট জাতির অবস্থা, পুলক অবশ্য লিবারেল সে বলে উঠলো যে যা দেখে বিনোদন পায়। তবে এই প্রায় ওপেন জায়গায় এইসব জিনিস দেখে কি করে? সাহস আছে পোলাপানের। পুলকের কথা শুনে আমার ২০১২র চিটাগাং ট্যুরের গল্প মনে পড়লো। এক সাইবার ক্যাফেতে বসছিলাম, দেখি নেটের দেখা নাই, আশেপাশে সবাই দেখি হেডফোন কানে লাগিয়ে স্ক্রীনে তাকানো। আমি ভাবছিলাম করে টা কি, ডেক্সটপটা চেক করলাম, দেখি এক ড্রাইভ ভর্তি শুধু পর্ণে, পোলাপান ২০ টাকা ঘন্টায় এসব দেখবে না তো দেখবে কি?





মিক্সড ইমোশোনাল লেখায় মন্তব্য করা খুব কঠিন একটা ব্যাপার!
আমরা প্রত্যেকেই নানা বিষয়ে একটু আধটু রেসিস্ট, সে হিসাব ধরলে জেনারেলাইজেশনের বিষ তো কিছুই না।
কলকাতাও অনেক আগায়া যাইতাছে, আর আমার আপনের মত কিছু মানুষ দিনে দিনে আরও পুরানো দিনের হৈয়া যাইতাছি। তাতে মনে হয় না কিছু মন্দ আছি, সো যেমন আছেন ভালো থাকেন।
এত ব্লগিং করে কোন গতিই হলো না তোমার । পুরাই আফসুসময় জীবন ।
দোয়া করি জীবন মধুরই হোক অবশেষে ।
কথা সত্য!
এখন চৈত্র মাস। চারদিকে খালি হাহাকার আর সর্বনাশ।
তবুও শুভকামনা থাকলো, ভালো যাক আমাদের সবার দিন!
মাথা আউলে গেছে, কী কমেন্ট করবো বুঝতেছি না
(
পড়ছেন তাতেই খুশি!
মন্তব্য করুন