ইউজার লগইন

আই হ্যাভ ট্রাইড ইন মাই ওয়ে টু বি ফ্রি!

শিরোনামটা আমার না, মহাত্মা লিওনার্ড কোহেনের। এরকম অসাধারণ সংরাইটার, সিঙ্গার, আমার চোখে আর পড়ে নাই। তাঁর গান না শুনে, শুধু লিরিকস পড়লেই সুখ। মনে হবে সুনীলের কবিতা পড়ছেন। আমি অবশ্য উনার নাম শুনেছি বন্ধুবর জেমসের মুখেই। সে আবার এই কানাডা নিবাসী মহাত্মার নাম শুনেছে কবীর সুমনের কোন লেখায় পড়ে। রাত তিনটাতেও আমার ঘুম আসে না যখন, তখন আমার সংগী লিওনার্ড কোহেনের বারোটা গান। কি যে অসাধারণ লাগে মনে হয় আমার মনের শান্তির জন্যই লেখা। উনার সিস্টার অফ মার্সি গানের সুর ও কথার অনুপ্রেরনাতেই অঞ্জন দত্তের অসাধারণ গান 'শুনতে কি পাও'। তার 'বার্ড ওন দ্যা ওয়ার; এর কিছুটা প্রভাব পাবেন অঞ্জন দত্তের আরেক বিখ্যাত গান 'আমি বৃষ্টি দেখেছি' তেও। আর কবীর সুমনের গানেও দেখবেন কিছুটা কোহেনের নিরাসক্তিময় ছন্দময় শব্দের ব্যাপার গুলো আছে। তা থাকুক, আমি লিওনার্ড কোহেনের সব গান শুনি নি এখনো। যে গোটা দশেক শুনছি তাতেই আসক্তি হচ্ছে, শুনে বুঝে পরে বিস্তারিত ভাবে একটা লেখা লিখতে বসবো, যেখানে শুধু কোহেনের গান কাব্যময়তা ও অসাধারণ সব উপলব্ধি নিয়ে কথা বলা যাবে!

ইংরেজী গান শুনতে বসলেই আমি সিক্সটিস আর সেভেনটিজে আচ্ছন্ন থাকি। আমার এই বাতিকের কারন সম্ভবত অঞ্জন দত্ত। কারন উনি কিছু সুর সেই সময়ের গান গুলো থেকে অনুপ্রানিত হয়ে আমাকেও অনুপ্রেরনায় আটকে ফেলেছেন। তবে সেই সময়ের সব গানই যে ভালো লাগে তা না। অনেক গান আছে শুনতে শুনতে মনে ধরে যায়। আর আমার এইসব একদম ফ্রিক লেভেলের শোনার অভ্যেস গড়েছি মাইস্পেস আর ইউটিউবের কারনে। ওলো নেট কোম্পানীর কাছে আমি খুবই সেটিসফাইড যে ৫১২ স্পিড নিয়েই আমি বাফারিং ছাড়া সব হজম করতে পারি নির্বিঘ্নে। বব ডিলান, বিটলস থেকে শুরু করে লেইড জ্যাপলিন, ডাস্টি স্প্রিংফিল্ড, জেনিস জপলিন থেকে জনি মিশেল, জুডি কলিন্স থেকে জোয়ান বায়েজ সব দেদারসে শুনে যাই। আগের মত গান মুখস্থ করার প্রেশার নেই না। কারন আমি কোথাও পারফর্ম করবো না, খালি লিরিক পড়ি আর শুনে যাই। আমার এই বাতিকে অসন্তুষ্ট এক বন্ধু, সে ফোন করলেই বলে 'ভালো তো, সরকারী কর্মকর্তাদের যত ধরনের অভ্যেস আছে জয়েনিং দেবার আগেই তোর রপ্ত হয়ে যাচ্ছে'। আমি বলে উঠি 'হ তুই তোর বাসা থেকে বেরিয়েই আলমের দোকানে যা, এক পোয়া মুড়ি খা কিনে'!

দুপুরে বসে বসে পড়ছিলাম মেলায় কেনা বই রক্ষী বাহিনীর সত্যমিথ্যা, মুখ খারাপ করে বলতে হয় বালের বই। কোনো নতুন তথ্য নাই, কোনো ইন্টারেস্টিং বর্ণনা নাই, খালি আছে সাফাই আর সাফাই। লেখক এই বাহিনীর বড় চাকুরে ছিলেন, তাই তিনি নানান কিছুর শুধু সাফাই গেয়ে চলেছেন সমানে। বইটা পড়তে পড়তে আপনার ধারনা হবে, যে এই বাহিনী না থাকলে দেশ ধবংস হয়ে যেতো তখন। আর রক্ষী বাহিনী নিয়ে কমন যে কিছু ব্লেইম আছে তা নিয়ে তেমন কথাই বলা হয় নাই। দুপুর থেকে সন্ধ্যা চার ঘন্টা টানা পড়ে বইটা শেষ করেছি। শেষ করে মনে হলো টাকা নষ্ট করলাম বেহুদা। এত ভালো প্রিন্ট, এত দারুন বইটার প্রোডাকশন, কন্টেন্টের বেলায় জবর জং। তাও এই বই মানুষ সমানে কিনেছে আর অনেকেই হয়তো আমার মত কিনে পড়ে ভেবেছে- খামাখা সময় আর টাকা নষ্ট। আমার বাসা ভর্তি 'সর্বজন' নামের একটা ম্যাগাজিন,সলিমুল্লাহ খানের সম্পাদিত, শাহবাগের দিন গুলোতে এইটা চালু হয়, ইন্টারেস্টিং সব ব্যাখা আর বিশ্লেষণ। আমি পড়ি আর ফেলে দেই। বই এত বই, বাসায় জায়গা নাই। ভেবেছিলাম বাড়ীতে গেলে কিছু রেখে আসবো, যাওয়াই তো হচ্ছে না। মামা কত সাধলো, আমি গেলাম না এই শনিবারেই। মামার সাথে বাড়ী গেলে সুবিধা অনেক, পুরাই ফ্রী সফর। কিন্তু আমার বাড়ীতে যেতে ভালো লাগে না এই বেকার বেকার দিনগুলোতে, যদিও এক বিখ্যাত জরিপ বলছে, বাংলাদেশের ৫৭ ভাগ স্নাতক করা তরুনই নাকি বেকার, আমিও কিছুটা তাঁদের দলেই এখনো, কিন্তু আর কত? এমবিএ তো শেষ হতেই চললো, তাও আমার দিন একই রকম। দুর্দান্ত আছি এখন, কিন্তু সব সময় কি আর বিরিয়ানী ভালো লাগে? জীবনে ভাত ডালের খুব দরকার।

আমার এক দুরের বন্ধু ব্লগ পড়ে রায় দেয়, তোর যা ভালো লাগে না তাই নিয়েই তুই বেশী মেজাজ খারাপ করে লিখিস। যা ভালো লাগে তা নিয়ে কথাই বলিস না। ডাহা ভুল অপবাদ, তাও মেনে নিলাম। আমি আজকাল খালি মানুষের কথা শুনে যাই, মানুষের কথা সিরিয়াসলি নিলেই বিপদ এই জিনিসটা এতদিনে বুঝেছি। কারন কথা বলার সময় আমি আর তুমি নাই সবাই একশোতে একশো, কাজের বেলায় দশ কিংবা পাঁচ। তাই মানুষের কথা শুনে মনে মনে হেসে উঠি, পারেও এরা। যাই হোক দুখান সিনেমা নিয়ে দু তিনটা কথা বলবো। কাল রাতে বসে বসে দেখলাম' তিন ইয়ারি কথা'। আমার দেখা অন্যতম ভালো একটা সিনেমা রিসেন্ট টাইমের। সিনেমাতার কাজ শেষ করেছিল মনে হয় বছর সাতেক আগে। মুক্তি পেয়েছিল গত বছর। সেন্সর বোর্ডের ঝামেলা ছিল সাথে প্রডিউসারেরও। তিন বন্ধুকে নিয়ে গল্প। পরমব্রত, রুদ্র, নীলের সিনেমা। এই তিনজনই সময়ের ব্যাবধানে কলকাতার তিন ভালো অভিনেতা এখন। গল্প, ভাষা, লোকেশন, ডিরেকশন সব দিক থেকেই সিনেমাটা দারুন। আঠারো প্লাস কথাবার্তা, বাদরামি, উদ্ভট সব কাজকারবার এমন সিনেমা অনেক দিন দেখি নি। সাউথ সিটির ঝলমলে সব শপিং মল আর ফ্ল্যাটবাড়ী এখানে দেখায় নি, দেখিয়েছে কলকাতার শহরতলীর আশে পাশে কোনো জায়গার, যেখানে যুবকেরা খালি স্বপ্নই দেখে কিন্তু বাস্তবে অতি নিম্নবিত্তের জীবন। শশ্মান, হাসপাতাল, মেসবাড়ী, সস্তা মদ খাওয়া সব কিছুই খুব রিয়েল ভাবে দেখাতে পেরেছেন সুদেষ্ণা আর অভিজিৎ গুহ। আমার খুবই মনে ধরেছে সিনেমাটা। আরেকটা দেখলাম হিন্দী ছবি আজ সকালে। বুয়ার বানানো পরোটা আর ডিম ভাজি খেতে খেতে। সিনেমা ২০১২ সালের মধুর ভান্ডারকারের 'হিরোইন'। সিনেমাতে প্রথমে করার কথা ছিল ঐশরিয়ার, সে প্রেগন্যান্সির কারনে করতে পারলো না, করলো কারিনা। হিট হয়নি সিনেমাটা, মোটামুটি ব্যাবসা করেছে। সিনেমাটা আমার ভালো লাগছে। আমার ধারনা ছিল সিনেমাটা ফ্যাশন আর ডারটি পিকচারের খিচুড়ি হবে। কিন্তু দেখে মনে হলো -আরে এতো দারুন ছবি। একজন সেলিব্রেটির উত্থান পতন, অদ্ভুত সব কাজ কারবার, প্রেম ও সম্পর্কের অনবদ্য একটা ছবি। কারিনা যে অভিনয়টা করেছে, একটা ফিল্ম ফেয়ার সে ডিজার্ভ করে, কিন্তু পায় নি। সিনেমার শেষটাও হয়েছে একদম ভাবনার বাইরে। আই লাইক ইট! কারিনার জব উই মেট বাদে আর কোনো সিনেমাই এর আগে আমাকে এমন ভালো লাগাতে পারে নাই। আমি সিনেমা দেখা শেষে ভাবছিলাম হিপোক্রেট আমিও কম না, এই মার্চ মাসে ভারতের সিনেমা দেখি তো দেখি, তা নিয়ে লেখিও। আমি সত্য স্বীকার করে নেই, সারাদিন ভারতীয় চ্যানেলে হজম করে আমি ভারত বিদ্বেষী ভাব নেই না আলাপে আড্ডায় কিংবা ফেসবুকে। আমার এত প্রিয় ফেলে আসা কলেজ একটা ফ্ল্যাশ মব বানাইছে, আমি শেয়ারের ধারে কাছে নাই তা, কারন আমি যে জিনিস পছন্দ করি না সেই জিনিস সময়ের ব্যাবধানে আমি ভালো বলবো এমন লোক আমি না।

শিরোনাম যে লাইনটা লেখা তা যে গান থেকে নেয়া তাঁর লিরিক শেয়ার দিচ্ছি। পড়ে আর শুনেই বুঝবেন গানটা নেহায়েত মন্দ না--

Like a bird on the wire,
Like a drunk in a midnight choir
I have tried in my way to be free.
Like a worm on a hook,
Like a knight from some old fashioned book
I have saved all my ribbons for thee.
If I, if I have been unkind,
I hope that you can just let it go by.
If I, if I have been untrue
I hope you know it was never to you.

Like a baby, stillborn,
Like a beast with his horn
I have torn everyone who reached out for me.
But I swear by this song
And by all that I have done wrong
I will make it all up to thee.
I saw a beggar leaning on his wooden crutch,
He said to me, "You must not ask for so much."
And a pretty woman leaning in her darkened door,
She cried to me, "Hey, why not ask for more?"

Oh like a bird on the wire,
Like a drunk in a midnight choir
I have tried in my way to be free.

https://www.youtube.com/watch?v=FwnAg2tZKFk

পোস্টটি ১৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নিয়োনেট's picture


বার্ড অন দা অঅ্যার গানটার সাথে একটা গানের খুব মিল আছে। সেটা হল সারারাত। মহিনের ঘোড়াগুলির গান।

আরাফাত শান্ত's picture


মহিনের ঘোড়াগুলির এই গানটা শুনা হয় নি। পরশু দিন শুনে দেখি আশ্চর্য মিল!
থ্যাঙ্কস ভাই Smile

তানবীরা's picture


আমি সিনেমা দেখা শেষে ভাবছিলাম হিপোক্রেট আমিও কম না, এই মার্চ মাসে ভারতের সিনেমা দেখি তো দেখি, তা নিয়ে লেখিও। আমি সত্য স্বীকার করে নেই, সারাদিন ভারতীয় চ্যানেলে হজম করে আমি ভারত বিদ্বেষী ভাব নেই না আলাপে আড্ডায় কিংবা ফেসবুকে।

মাইর মাইর মাইর

আরাফাত শান্ত's picture


Smile

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


চমত্‍কার। ভালো কিছু গান শোনা হবে মনে হচ্ছে। সাথে, এক দুইটা মুভিও। থ্যাঙ্কুস। Smile

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস এ লট
ওয়েলকাম এ লট!

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


Tongue Laughing out loud

আরাফাত শান্ত's picture


রাতে ঘুমাও না?

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


সাড়ে তিনটা/চারটার আগে না। বেকার ছাত্র মানুষ, সকালে উঠার তো কোন তাড়া নাই!

১০

আরাফাত শান্ত's picture


সেইম টু ইউ!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!