ইউজার লগইন

অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না বলে!

শিরোনাম দেখে কেউ অবাক হবেন না, আমি আজ কামাল ভাইয়ের এক গল্পগ্রন্থের রিভিউ লিখতে বসি নাই। যদিও বইটা আমার ভীষন প্রিয়, অনেক কাল আগেই বইটা নিয়ে লিখতে বসে আর লেখা হয় নি। কিন্তু আজ তা লিখছি না, লিখছি অন্ধকার ঘরে নিজের এই আকস্মিক রাত্রী যাপন নিয়ে। বাসায় আসলাম সাড়ে দশটায়, এসে দেখি বাতি জ্বলে না। সম্ভবত সুইচ নষ্ট। মোম জ্বালিয়ে ভাত খেলাম, মোম শেষ এখন তাই নোটবুকের অল্প আলোই ভরসা। এই অল্প আলো প্রায় অন্ধকারই বলা চলে। কিবোর্ডের কিছুই দেখা যায় না, অন্ধকারেই হাত চালাচ্ছি, চোখে কেমন জানি ব্যাথা করছে স্ক্রীনে তাকাতে, তার ভেতরেই লিখতে বসলাম। কারন এই অন্ধকারে সিনেমা দেখতে ইচ্ছা করছে না। ওলরেডি আজ দুখান সিনেমা দেখা শেষ। খালি কমার্শিয়াল সিনেমা সমানে গিললে হজম নাও হতে পারে। আর সিনেমা দেখা এক সময় নষ্ট, শেষ না করে উঠা যায় না।

কাল অবশ্য দিন কাটলো খুব দারুন। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই উত্তরা গিয়েছিলাম। মামাকে দেখতে, মামীদের বাসায়। হুট করেই। যে প্যান্ট আর টিশার্ট পড়ে ঘুমিয়ে ছিলাম তা পড়েই গেলাম মামীদের বাসায়। বাসায় যখন সিড়ি দিয়ে উঠবো তখনই মনে হলো এত ক্যাজুয়াল না পড়লেও চলতো। অত্যন্ত একটা ইস্ত্রী করা পাঞ্জাবী পড়ে আসা উচিত ছিল। যাই হোক ঐসব ভেবে কাজ নেই, যা হবার তাই হবে। কেই সারা সারা, হোয়াট উইল বি উইল বি, ডরিস ডে র এই গানটা আমি খুব বিশ্বাস করি। তবে অনেক দিন পর গতকাল মামার সাথে অসাধারণ সুন্দর সময় কাটছে। মামী গিয়েছিলো এক কাজে বাইরে, আমি আর মামা কত গল্প যে করলাম শুয়ে শুয়ে। তার ভেতরে মামীর মা এসে কত আদর আপ্যায়ন। অনেকদিন পর মামাকে এমন অসুস্থতার কারনে একেবারে ফ্রী পাওয়া গেল। মনে হচ্ছিলো বন্ধের দিন, এমন ছুটির দিন গুলোতে আমি আর মামা এরকম ভাবে কত আলাপ করেছি। মামী আসলো, এসেই রান্না বান্নায় ঝাপিয়ে পড়লো। গ্যাস থাকেনা সেই এলাকায় দুপুরের দিকে, তা সত্তেও কত খাবারের আয়োজন। এত খানাদানা দেখে আমিও তাঁদের হতাশ করি নাই, কব্জি ডুবিয়ে খেয়েছি। খানাদানা শেষেও ক্লান্তি নাই মামী বানিয়ে দিলো দারুন এক দুধ চা। এরকম আদর আপ্যয়ন মেলাদিন পাই না। দুপুরেই ছিল আমার বাসায় ফেরার কথা, ফিরলাম সন্ধ্যে বেলায়। বাসে উঠলাম রুপকথায়, শেষের দিকে সিট, টুজি ইন্টারনেটেই ইউটিউবে মোবাইল দিয়ে গান শুনে চলছি। আমার পাশের লোকটা ভাবছে শো ওফ, তিনিও তার মোবাইল সেট সম্ভবত গ্যালাক্সি গ্রান্ড আমাকে দেখানোর জন্য ফেসবুক ব্রাউজিং শুরু করলেন। আমি মনে মনে বললাম এইসব কম্পিটিশানে আমি নাই, কারন আমি সারাজীবনই পরাজিত মানুষদের দলে। আস্তে করে সেটটা বন্ধ করে আমি জানালার দিকে দেখে বনানীর নানান সাইনবোর্ড দেখছিলাম, এমন একটা ভাব নিলাম যেন জীবনের প্রথম ঢাকায় আসছি।

অন্ধকার ঘরের কথা ভাবলেই আমার শুধু কবরের কথা মনে পড়ে। আমি কখনোই মানুষের কবরের আশেপাশ দিয়ে থাকি না। জানাযাতে গেলেও দাফনে দূরে থাকি। কেন জানি আমার এইসব পলায়নপর মানসিকতা। আসল কথা ভালো লাগে না, যে কোনো মানুষকে চির বিদায়ে মাটির গর্তে রেখে আসতে। তাও একদিন নিজেকেও যেতে হবে, নিজের প্রিয় মানুষদেরও রেখে আসতে হবে। সেইদিনের ভাবনা সেইদিনই করা যাবে। আমার আম্মুকে দেখেছি মরনের কথা আসলেই কেমন উদাস হয়ে যেত, বলতো জীবনে কি করলাম। আমিও উদাস হই, তবে জীবনে কি করলাম তা নিয়ে মন খারাপ হয় না। ৮-১০টা মানুষের জীবন যেমন ছিল আমারটাও হয়তো তাই হবে। উল্টো অন্যদের চেয়ে বেশী হাসি আনন্দে থেকেছি এই ছোট জীবনে। আর জীবন মরন কোনোটাই মহান কিছু না। দিন চলে যাক বেশী কিছু আশা না করেই, এটাই আমার জীবন সমন্ধে মতামত!

হেফাজতের শফী হুজুর আজ বলে বসলেন, আওয়ামীলীগ তাঁদের বন্ধু। বন্ধুত্বের নিদর্শন আগেই দিয়ে রাখছে সরকার। মাদ্রাসা শিক্ষা উপযোগী বাংলা মাধ্যমের বইয়ের সংস্কার আনছে। কি অদ্ভুত সব দাবী দাওয়া তাঁদের। হিন্দু লেখকের নামে তাঁদের আপত্তি, হিজাব ছাড়া ছবিতে সমস্যা, লালন- জর্জ হ্যারিসনে সমস্যা। এত সমস্যা যাদের তাঁদের লেখা পড়া করার দরকারটা কি। আমি এককালে মাদ্রাসা ছাত্রদের প্রতি এক ধরনের সহানুভুতিশীল ভালোবাসা অনুভব করতাম। ভাবতাম সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ, এখন মনে হয় এই ভালোবাসা কাজের কিছু না। কারন সময় শেষে তারা সবাই শফি হুজুরের মধ্যযুগীয় ডাবল স্ট্যান্ডার্ড মতামতেরই অন্ধ ধারক বাহক। এই যে সরকার -বিরোধী দল- সবাই মিলে যে আমরা সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষে পানি সার দিচ্ছি না চাইতেই। একদিন না সেই গাছ আমাদের ভুমিকেই না খেয়ে ফেলে। দিন যত যাচ্ছে আমরা কেমন জানি সব অন্ধকারে যাচ্ছি। জানি না এই অন্ধকারে কিছু দেখা যাবে কিনা, তবুও এই অন্ধকারে খোদা না করুক আমাদের বিবেক বুদ্ধি যেন অন্ধ না করে দেয়। কারন সেটাই একমাত্র পাথেয়!

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


কিছু বলার পাইতাছি না।

কি আর করার,
তবুও বলি - আমিই ফার্স্ট! Tongue

আরাফাত শান্ত's picture


কনগ্রাচুলেশন! Laughing out loud

জ্যোতি's picture


আমি মনে মনে বললাম এইসব কম্পিটিশানে আমি নাই, কারন আমি সারাজীবনই পরাজিত মানুষদের দলে।

আমিও পরাজিত মানুষদের দলে Sad

আরাফাত শান্ত's picture


আমরাও করবো জয় একদিন!

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


ইনশাল্লাহ Smile

আরাফাত শান্ত's picture


Smile

তানবীরা's picture


আমার পাশের লোকটা ভাবছে শো ওফ, তিনিও তার মোবাইল সেট সম্ভবত গ্যালাক্সি গ্রান্ড আমাকে দেখানোর জন্য ফেসবুক ব্রাউজিং শুরু করলেন। আমি মনে মনে বললাম এইসব কম্পিটিশানে আমি নাই, কারন আমি সারাজীবনই পরাজিত মানুষদের দলে। আস্তে করে সেটটা বন্ধ করে আমি জানালার দিকে দেখে বনানীর নানান সাইনবোর্ড দেখছিলাম, এমন একটা ভাব নিলাম যেন জীবনের প্রথম ঢাকায় আসছি।

Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud

এত সমস্যা যাদের তাঁদের লেখা পড়া করার দরকারটা কি। আমি এককালে মাদ্রাসা ছাত্রদের প্রতি এক ধরনের সহানুভুতিশীল ভালোবাসা অনুভব করতাম। ভাবতাম সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ, এখন মনে হয় এই ভালোবাসা কাজের কিছু না। কারন সময় শেষে তারা সবাই শফি হুজুরের মধ্যযুগীয় ডাবল স্ট্যান্ডার্ড মতামতেরই অন্ধ ধারক বাহক। এই যে সরকার -বিরোধী দল- সবাই মিলে যে আমরা সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষে পানি সার দিচ্ছি না চাইতেই। একদিন না সেই গাছ আমাদের ভুমিকেই না খেয়ে ফেলে। দিন যত যাচ্ছে আমরা কেমন জানি সব অন্ধকারে যাচ্ছি। জানি না এই অন্ধকারে কিছু দেখা যাবে কিনা, তবুও এই অন্ধকারে খোদা না করুক আমাদের বিবেক বুদ্ধি যেন অন্ধ না করে দেয়। কারন সেটাই একমাত্র পাথেয়!

Sad Puzzled Sad(

আরাফাত শান্ত's picture


আপনি যে কত ব্যাস্ত তা তো আমার অজানা নয়, তাও এত যত্ন নিয়ে পোষ্ট পড়েন দেখে মুগ্ধ হই। অনেক ভালো থাকেন আপু!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই পয়সার মানুষ।চায়ের দোকানেই দিন পার করি তাই!