টূ স্টেটস!
বিজেপির এক নেতা বাংলাদেশের জমির বিশাল অংশের মালিকানা দাবী করেছেন, তা নিয়ে নানান মানুষের প্রতিক্রিয়া ফেসবুকে দেখে হাসি পেল। কোথাকার কোন হরিদাস পাল দাবী করলো আর ওমনি সব দখল শুরু হয়ে যাবে এমন যারা ভাবে তাঁদের মাথায় আদৌ কিছু আছে নাকি তা নিয়ে আমি সন্দিহান। আমিও তো চাইলে কত কী দাবী করতে পারি, যেমন কাল ভাবছিলাম আলিয়া ভাটের মতো গার্লফ্রেন্ড পাইলে জীবনটা রঙ্গীন হতো, এখন মহেশ ভাটের কন্যা কি এই দাবীতেই আমার বউ হয়ে যাবে। পুলকের একটা ব্যাপার আছে, যেই মেয়েকে ওর ভালো লাগে তাকেই এক নায়িকার নামের আশ্রয়ে মিলিয়ে দেয়। একদিন আমাকে জিগেষ করলো, নেহা শর্মার মতো নায়িকা কি বউ হিসেবে পাবো? আমি হেসে উত্তর দিয়েছিলাম, পাবেন আপনার বাপের টাকা পয়সা আছে- নিজেও উঠতি লইয়ার, খোজ খবর করলে নেহা শর্মার তিন বা চার নাম্বার ভার্সন জীবনে পেতেই পারেন। এই কথা পুলকের খুব মনে ধরছিলো, কিছু হলেই বলতো শান্ত ভাই বলে দিছে নেহা শর্মার তিন চার নম্বর ভার্সনের একটা কে পেয়েই যাবো। আমি অবশ্য এইসবের ভেতরে নাই, এইসব নারী বা নায়িকা নিয়ে ফ্যান্টাসাইজ হবার বয়স শেষ, বরং এখন একা একাই নিজের নানান কিছুর ভেতরে আনন্দ খুঁজে পাই। দিনে দিনে নার্সিজমের চাষ ভালো মতোই করে চলছি!
চেতন ভগতের লেখা কম বেশি সবারই ভালো লাগে যারা পড়েছে। আমার কাছে অবশ্য কিছুটা হুমায়ূন আহমেদের মতো লাগে। পড়তে আরাম, ঝরঝরে সহজ ইংরেজী, আর গল্পে অসাধারণ কিছু চমক। অবশ্যই, সহজ লেখা মোটেও সহজ ব্যাপার না। এ আর রেহমান চেতন ভগতের লেখা নিয়ে একবার বলেছিলেন,'অনেকেই ভালো লিখে, কিন্তু তার মতো অন্তর দিয়ে চরিত্রকে ভালোবেসে কেউ লিখে না'। আমার অবশ্য ওতো মহান মনে হয় নি, তবে পড়তে নিঃসন্দেহে অমিতাভ ঘোষের লেখার চেয়ে ভালো লাগে, এমনকি সবাই কাইট রানার-কাইট রানার করে আমার ভালোই লাগে নি সেই লেখকের লেখাও। তবে চেতন ভগতের উপর আমার পক্ষপাতিত্ব আছে, থ্রি ইডিয়টসের পর থেকেই। যদিও থ্রি ইডিয়টস সিনেমায় মুল উপন্যাসের অনেক কিছুই রাখে নি তাও ভালো লাগে আমার ব্যাক্তিগত আমির খান প্রীতির কারনেই। এরপরে উনার 'থ্রি মিসটেকস ইন মাই লাইফ' নিয়ে যখন 'কাই পো চে' বানানো হলো তখন সত্যি অবাক হলাম। কারন সিনেমাটা বইয়ের চেয়েও ভালো ছিল, সুশান্ত সিং রাজপুত আর রাজকুমার রাও য়ের কি দারুন অভিনয়। সেই সিনেমাটা মনে ধরে ছিল অনেক দিন। তারপর শুনলাম একদিন বিখ্যাত টু স্টেটস নিয়েও সিনেমা হবে সামনে, করন যোহরের ধর্ম প্রোডাকশনস রাইট কিনে বসে আছে। ভারতের সিনেমার এইসব স্বত্ত তত্তের ব্যাপার গুলা খুব মজার, বুদ্ধিমান যতো প্রডিউসার আছে তারা সমানে এখন দক্ষিণী সিনেমার স্বত্ত কিনে রাখে, কেউ কেউ বড় লেখকের বেস্টসেলিং উপন্যাসের রাইট নিয়ে রাখে, ভালো ব্যাবসা সফল সিনেমা বানানোর আশায়। অমলেশ ত্রিপাঠী নামের এক ইংরেজী ভাষার ভারতীয় লেখক আছে, তার কোন সিরিজ উপন্যাসের রাইট রেকর্ড মুল্যে কিনে রেখেছে এক প্রডিউসার। এই জিনিস আমাকে আনন্দ দেয় যে সমানে হলিউড বা কোরিয়ান সিনেমা থেকে গল্প মেরে দিতে যারা সিদ্ধহস্ত তারাই আবার নিজের দেশের রাইট নিয়ে কত চিন্তিত!
টু স্টেটস সিনেমাটার ডিরেক্টর ছিলেন অভিষেক বর্মণ, সিনেমাটা কাস্টিং জটিলতার জন্য ভালোই নিউজে ছিল গত বছর দুয়েক, প্রথমে শাহরুখ খান- অশ্বিনকে দিয়ে করানোর কথা তারা আর করে নাই, তারপর রনবীর কাপুর-ইমরান খান এরাও মানা করে দিলো, অনেক হাত ঘুরে শেষমেষ পেল শ্রীদেবীর সৎ সন্তান বনি কাপুরের ছেলে অর্জুন কাপুর আর আলিয়া ভাট। মিউজিকে ছিল শংকর এহসান লয়। আরো অভিনয়ে ছিল- অমৃতা সিং, রেবতী, রনিত রয়। অমৃতা সিংয়ের জন্য আমার মনটা বিষণ্ণ হয়। এককালের সফল নায়িকা, সাইফ আলী খানের লম্বা সময়ের এক্স ওয়াইফ এখন কিনা অভিনয় করে নায়কের মায়ের চরিত্রে। আসলেই এই শোবিজ দুনিয়াটাই বড়ই অদ্ভুত। আসল কথায় এসে যাই, টু স্টেটস সিনেমাটা রিলিজ হলো এই শুক্রবার। এই বছরের থার্ড সব চাইতে বড় ওপেনিং ডে পাইছে সিনেমাটা। সমালোচকেরা মুঠো ভরে এই সিনেমার প্রশংসা লিখে গেছেন রিভিউয়ে। বড় বড় ট্রেড এনালিস্টরা অবাক হচ্ছেন সিনেমাটার গ্রোথ দেখে। আমিও সেই খুশিতে অনলাইনে ডিভিডি প্রিন্ট পেয়ে আজ দুপুরে দেখে ফেললাম সিনেমাটা।
সিনেমাটা আমার মোটামুটি লাগলো। আসলে উপন্যাসটা এত ভালো লেগেছিল তার তুলনায় সিনেমাটা এভারেজই। আসলে লেখকদের একটা সুবিধা আছে তারা লেখার সময় এক ইচ্ছার বাদশাহর মতো স্বাধীন থাকে। যা ইচ্ছে হয়, যেভাবে চরিত্র নিয়ে ভাবেন তাই লিখতে পারেন। কিন্তু সিনেমাতে লিমিটেশন অনেক, চাইলেই অনেক কিছু দেখানো সম্ভব না আবার অনেক কিছু নতুন করে দেখাতে হয়। আর এইসব বহুল পঠিত উপন্যাসের সিনেমা নিয়ে মানুষের আকাশ সমান এক্সপেকটেশন থাকে, যথারীতি সিনেমাতে তার অর্ধেকও ফুলফিল হয় না। আর যারা সিনেমা বানায় উপন্যাস থেকে তাদেরও কিছু সমস্যা আছে, তারা উদ্ভট সব কাষ্টিং সিলেকশনে অবাক হওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকে না। যেমন পারভীন আপুর বাসায় চা আর ফুচকা গিলতে গিলতে শুনলাম, শেষের কবিতা নিয়ে বাংলা সিনেমা হবে, অভিনয় করবে কংকনা সেন আর রাহুল বোস, শুনে মনে হলো কি অসাধারণ বালের কাস্টিং। এইজন্যেই হলিউডের সিনেমায় একজন করে কাষ্টিং ডিরেক্টর থাকে। টু স্টেটসের কাস্টিং মন্দ হয় নাই। আলিয়া ভাটের জায়গায় শুধু অন্য নায়িকার দরকার ছিল, এছাড়া অর্জুন কাপুর, অমৃতা সিং, রনিত রয় ফাটিয়ে অভিনয় করেছে। যা দরকার ছিল নায়কের, সব কিছুই অর্জুন কাপুর পারফেক্টলি সিনেমাতে আনতে পারছে। পরিচালক কিছুটা বেশী কমেডির দিকে ঝুকেছেন তাতে সিনেমাটা বোরিং একেবারেই লাগে না। আই আইএম তে পড়তে আসা দুই ভিন্ন রাজ্যের ছেলে মেয়ের প্রেম ও পরিনয়ই সিনেমার মেইন প্লট, বইয়ে প্রচুর স্টেরিওটাইপ ধারনা নিয়ে আলোচনা ছিল সিনেমাতে তেমন কিছুই নাই। আমার কাছে সিনেমাটা ভালোই টাইমপাস মুভি । তবে তা 'কাই পো চে' মানের হয় নাই। হয়েছে গড়পরতা হিন্দি মাসালা মুভির চেয়ে অনেকটা ভালো সিনেমা হিসেবে। আর এই সিনেমার গান গুলো দুর্দান্ত। অনেকদিন পর হিন্দি সিনেমায় এক সাথে তিন চারটা দারুন গান আছে। যারা ভিসিয়ারের আমল থেকে হিন্দি সিনেমা দেখেন তারা খুব ভালো পাবেন গান গুলো। ভিসিয়ারের গল্প শুনলে আমার পুলকের আব্বার গল্প মনে পড়ে। উনারা অমিতাভ বচ্চন রাজেশ খান্নার সিনেমার ছিলেন দিওয়ানা, এক সিনেমা দেখতে আশায় থাকতেন সাত আট মাস, এক সিনেমা দেখতেন ছয় সাতবার যতক্ষণ ডায়লগ না মুখস্থ হয়। আমাদের কত সুবিধা, রিলিজ পাওয়ার একদিনের মধ্যেই অনলাইনে সিনেমা দেখে সেকেন্ড দিনে ব্লগে রিভিউ লিখে দেই। তাই টু স্টেটস সিনেমাটা দেখতেই পারেন তবে কম আশা নিয়ে। কারন হিন্দী সিনেমার থেকে বেশী আশা করাই ভুল, আর সব সিনেমা লাঞ্চবক্স কিংবা ভাগ মিলখা ভাগ না। আশা করি আমার মতোই মুগ্ধ হবেন টু স্টেটসে!





খুক খুক
গল্প, উপন্যাসের সাথে নাটক সিনেমা পুরোপুরি মেলে না আসলে।
টু স্টেটস দেখতে মন চাচ্ছে। তোমার থেকেই নিতে হবে চা ফুচকা খেতে খেতে 
নিয়েন
ভালো লেখছেন, ইজুয়ালের চাইতেও বেশি ভালো।
লাঞ্চবক্স ভাল্লাগে নাই।
ইদানিং দুইটা মুভি ভাল্লাগছে।
এবাউট টাইম
আর
মিঃ মর্গান'স লাস্ট লাভ।
এবাউট টাইমটা দেখছি, ভালোই!
দেখে ফেলবো, কী আছে জীবনে। পেমের সিনেমা আমি আবার ভালু পাই
পেমের কাহিনী কম কিভাবে বিবাহ করিলো দুই রাজ্যের দুই ছেলে মেয়ে তা নিয়ে গপ্পো বেশী!
পেম নাই!!!! বিয়ে দেখে কী হবে, বিয়েতো ঘরে আছে একটা, রোজ দেখি
(
পেমের জয়ের জন্য যে বিয়ে করতে হয়- কত দুর্গম পথ জিতে তাই দেখানো হয়েছে। আপনি তো বিজয়ী মানুষ সবসময়ই!
টু স্টেটসের ডায়ালগগুলো সুন্দর।
আমার দুয়েকটা লাইনই শুধু ভালো লাগছে, তার চেয়ে গান গুলো অনেক বেশি শ্রুতি মধুর!
মুভিটা দেখবো। তবে সেরা পরিনীতি চোপরা, আহাহাহাহাহা
ডিট্টো
কোন নায়িকাকেই আমার খারাপ লাগে না!
সিনেমাটা সেদিন দেখলাম। ভালোই খারাপ না।
ভালোইতো!
মন্তব্য করুন