ইউজার লগইন

ষোলো আনা জীবন!

লিখতে বসছি মুড অফ নিয়েই, লিখতেও কেমন জানি আলসেমী লাগে তাই নোটবুকের সামনে হা করে বসে থাকি। ফেসবুক ইউটিউব আর নিউজ সাইটে অস্থির পায়চারী করে রাত বেড়ে যায় কিন্তু লেখা আর হয় না। অথচ লেখা আমার জন্য খুব আনন্দের বিষয়, তা যাই লেখি না কেন ! তাও আজ ভালো লাগছে না। সৈয়দ হকের মার্জিনে মন্তব্য বইটায় একটা ছোট চ্যাপ্টার আছে, নাম- ভাব আছে ভাষা নাই। আমার ভাব- ভাষা সবই আছে কিন্তু আগের মতো সেই লিখে ফেলার অদম্য অস্থিরতা নেই। কেন জানি মনে হয় না লিখলেই ভালো, কি দরকার ঘুরে ফিরে একই কথা লিখে বেড়ানোর। যে কারনে শেলী সাহেব প্রতি রাত মদ খায় আর সকাল দুপুরে হাজী সাহেব সাজে সেই কারনেই আমার বিরক্ত লাগলেও লেখতে ভালো লাগে। শেলী সাহেবের কথা আসলো, তিনি প্রতিরাতেই মদ খান বাইরে তাতে নানান সিনক্রিয়েট হয়। আজকেরটা দুনিয়ার সেরা, তিনি ও তার ফুফাতো বোন রাস্তায় গড়াগড়ি করে করে মারপিট করলো। ভাবেন দুইজন পয়তাল্লিশের উপর বয়সী মানুষ বাচ্চাদের মতো মারপিট করছে, অশ্রাব্য গালাগাল দিতে দিতে। চায়ের দোকানের সামনেই ঘটনা, আমার খুবই নিজেকে ছোটলোক মনে হচ্ছিলো এইসব জায়গায় আমি বসে থাকি বলে। বের হয়ে মনের দুঃখে রাস্তায় হাঁটছিলাম। আমি শেলী সাহেবের পক্ষে কারন উনি পঞ্চাশ বছরের ব্যাচেলর কোটিপতি পুরুষ। যা খুশী তাই খাক বাইরে, বকা দেয়ার কি। আর যে বোন বকা দিচ্ছে তার এত বিত্ত বৈভব হয়েছে শেলী সাহবের কারনেই। খামাখা মাতালের সাথে বোনগিরি ফলায়া লাভ কি? আর শেলী সাহেব তো এমনি। আজ মারপিট শেষে কাল সকালেই তিনি সে বাসায় থাকবেন, আমাকে দেখলে জিগেষ করবেন, শান্ত আজ এত দেরীতে আসলা যে? বিপরীত মুখী চরিত্রের এক ব্রান্ড এম্বাসেডর হলেন তিনি!

চুলোয় যাজ শেলী সাহেবের আলাপ। তিনি থাকুক তার প্রভাব আর বিষয় সম্পত্তি নিয়েই! আমার কি। আমি কখনোই তেমন বিপদে আপদে পড়ি নাই যে এদের সাহায্য নিতে হবে। যত আদর করে করুক। আদর স্নেহ তো আমাকে কতজনই করে। যেমন আজ ভাবীদের বাসায় গেলাম। আংকেল আন্টির কি আদর যত্ন, দেখে অবাক হতে হয়। অথচ আমি উনাদের বাসায় এমনিতে যাই ই না। সকাল এগারোটায় গেলাম বাসায় আসলাম দুটোয়। দাওয়াতের সিডিউল ধরিয়ে দিলো কিন্তু জোর করলো না, কাজ বাদ দিয়ে আংকেল সারাক্ষণ আমার সাথেই গল্প করলো। সব চেয়ে মজা পেয়েছিলাম হরিয়ানায় পানি খাওয়ার গল্প আর সিস্টেম জেনে। ব্যাপক খানা দানা শেষে যখন চলে যাবো তখনও আংকেল আন্টি বলে --থেকে যাও শান্ত, কই যাবা রোদ্রে। রেষ্ট নাও। আমি অবাক হই না। খালি ভাবি কতজন কত ভালোবাসলো আমাকে কিছু না করতেই তাও তাঁদের ভালোবাসার মুল্য দিলাম কই?

রং করা বাসায় খালি রংয়ের গন্ধ, বিটকেল লাগে খুব। ঘুমাতো চেষ্টা করলাম, কালি ও কলম ম্যাগাজিন পড়তে পড়তে। ম্যাগাজিন শেষ হতে চললো কিন্তু ঘুম আর আসে না। উঠে নোটবুক নিয়ে বসলাম। ইউটিউবে সিনেমা দেখবো কিন্তু খুজতে ইচ্ছা করলো না। জাজের এক ডিজিটাল মুভি দেখলাম, 'কি দারুন দেখতে।' সিনেমাটা দেখতে কোনো দারুনই নাই, উদ্ভট স্টোরি তার চেয়েও আজব এর চিত্রনাট্য। এই জামানায় এসে কোটিপতি মেয়েরা পড়ে শাহাদাৎ ডিগ্রী কলেজে, থাকে গুলশানেই, গাড়ী চালায় প্রিমিও এফ, ক্যানসারের চিকিতসায় লাগে কোটি টাকা। একটা জিনিস বুঝি না সিনেমায় সেইও আদিকাল থেকেই নায়ক নায়িকার মা বাবাদের কেন এত বেশী দুরারোগ্য ব্যাধি হয় আবার তা চলেও যায়। মাহির ডায়লগ থ্রোয়িং এত বাজে হেডফোন দিয়ে শুনলে কানে চিনচিন করে। নায়ক হিসেবে বাপ্পী খারাপ না কিন্তু ইউটিউবে যে প্রিন্টে মুভিটা দেখলাম তা নরমাল কোনো মানুষের সহ্য হবে না। আড়াই ঘন্টার মুভি টেনে টেনে সোয়া এক ঘন্টা দেখতেই জান খারাপ দশা। এক ঘন্টা দেখলাম জয়া-শাকিবের-- পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী। এইটাও মোটেও যুতের না। জয়া আহসানকে মনে হয় যাত্রায় নাচাবে কি উদ্ভট সব ড্রেস আর আজাইরা এক চরিত্র এই সিনেমায়। এত ভালো অভিনেত্রীর কত বড় অপচয়। সিনেমায় ভালো লাগে গান আর আরেফীন শুভর প্রানবন্ত অভিনয়। তাও মন টানে না। এক ঘন্টাতেই এই সিনেমা দেখা শেষ টেনে টেনে। আবার বই নিয়ে বসলাম, মাগরিবের আজান দেয়। তখনি ঘুম আসলো উঠলাম সাড়ে সাতটায়। কাল এইসময় বিএফসিতে জেমস যে খানাটা খাওয়াইলো। ১৫ পিস চিকেন ফ্রাই চারজনে শেষ করলাম। লোকজনের যে ভাব নিয়ে যায় খেতে, তার তুলনায় আমরা বড় সাদামাটা। ওয়েটারের সাথে মশকরা করি, হিন্দি গান নিয়ে মেজাজ বিগড়াই, আর পারস্পারিক পচানীর যে খেলা তাতো আছেই। খেয়ে দেয়ে আমি এসে পড়লাম একা রিকশা দিয়ে। ওরা গেল বারে, আমি খাইওনা তাই ওসবের গন্ধতেও পা মাড়াই না। যে যা খেয়ে মজা পায় পাক, আমার কি! আমার এইসব বালের সংস্কার নিয়ে আমি থাকি। জানি তাতে ফায়দা নাই কিন্তু ক্ষতিও নাই।

চায়ের দোকানে চা খেলাম এক কাপ। ভালো লাগছিল না। ঘুম থেকে উঠে মেজাজ খারাপ তারপর আবার শেলী সাহেবের এইসব পার্ট। ভাত খাওয়ার সময় দেখলাম এক মুভির কিছু অংশ, মনে ধরে নাই। দেখলাম এরপর বাকীটা ব্যাক্তিগত, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার প্রাপ্ত কলকাতার ছবি। দারুন সিনেমাটা, দেখতে পারেন। সিনেমাটা মুলত নানান মানুষের ভিতর দিয়ে কোনো একটা সত্য মিথ্যার অবস্থানে যাওয়ার। আমার খুব ভালো লাগছে। এত বিচিত্র সব ক্যারেক্টার এক সিনেমায় তা আসলেই বিরল। আনন্দময় এক অভিজ্ঞতা এই সিনেমাটা দেখা। তা শেষ করেই এই লেখা লিখতে বসলাম, কিন্তু বসেই থাকলাম অনেকক্ষণ আলসেমীতে!

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


মাঝে মাঝে মুড অফ থাকা ভালো,
মুড অনের মাজেজা বৃদ্ধি পায়!

বাসায় রং করান ক্যান?
সামনে কি মনে রং লাগানোর চান্স আছে নাকি? Tongue

ঢাকায় গরুর দুধের সাপ্লাই কইমা গেছে মনে হয়। কালকে চায়ের দোকানে চা ছিল না, আজকে দোকানই বন্ধ। পুদিনা চা আর লেবু শরবত কয়বার খাওন যায়, কন?! কিস্যু ভাল্লাগে না.. Stare

আরাফাত শান্ত's picture


আমাদের তো খেয়েদেয়ে কাজ নাই যে বাড়ী রং করাবো, বারীওয়ালার কাজ কারবার এগুলা। বাসায় কত সমস্যা সে দিকে খেয়াল নাই তিনি বাড়ী করালেন রং!

পুদিনা চা খেতে কেমন? খাই নি আগে!
মোহাম্মাদপুরে দাওয়াত রইলো!

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


লিকার-চিনি আদা লেবুর সাথে পুদিনা পাতার অনুপাত ঠিক থাকলে, অসাধারন। Smile

এদিকে আসলে কল দিয়েন, টেস্ট কইরা গেলেন না হয়।

আরাফাত শান্ত's picture


ঐদিকে গেলে আমি বাসেই থাকি, নামা আর হয় না বাস থেকে!
নামলে ফোন দিবো!

জ্যোতি's picture


কাল এইসময় বিএফসিতে জেমস যে খানাটা খাওয়াইলো। ১৫ পিস চিকেন ফ্রাই চারজনে শেষ করলাম।

খাইতে মন্চাইতেছে Sad
মুড ভালো হইছে? দেখো কি দারুণ ওয়েদার!

আরাফাত শান্ত's picture


আপু মুড ভালো খারাপের ভেতরেই আছে। এখন ভালো। সকাল বিকেল টানা ছয় সাত ঘন্টা গরমে কাহিল ও কারেন্ট ছিল না, বৃষ্টি বাতাসে সন্ধ্যায় আড্ডায় মন ভালো!

তানবীরা's picture


জাতিস্বর দেখলাম। দারুন লেগেছে আমার। "বাকীটা ব্যাক্তিগত" দেখে নিবো। এতো মুভি দেখি তাও অনেক মুভি জমে যায়

কালকে সপরিবারে মুভি দেখতে গেলাম "নোয়া" --- খারাপ না, দেখতে পারো।

আরাফাত শান্ত's picture


যাক ভাইবোনের পছন্দে অপছন্দে মিলে যাচ্ছে!
নোয়া দেখবো!

প্রিয়'s picture


সারাদিন সিনেমা দেখার বদলে সিনেমা বানানোর একটা প্রজেক্ট হাতে নিলে ক্যামন হয়? Smile আমার খুব ইচ্ছা শুধু লোকজনের অভাব! Smile

১০

আরাফাত শান্ত's picture


আমারও ইচ্ছে ছিল, কিন্তু সময় সুযোগ- উপায় উপকরন নেই, যোগার যন্ত্রও নেই!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই পয়সার মানুষ।চায়ের দোকানেই দিন পার করি তাই!