ডিলাইটফুল ডিসেম্বর
সেই ক্লিশে কিছু কথা দিয়েই লেখা শুরু করতে হয়। প্রথমেই আসবে, ব্লগে লেখি না অনেকদিন। লেখার সময় পাই না খুব একটা। আর যা সময় পাই তখন অন্য ডজনখানেক কাজে ব্যস্ত থাকি। ব্লগ লেখাটাও আর মিস করছি না। তবুও নিজে নিজে লেখি সময় পেলে- অবশ্যই তা ডায়রীতে, সেইজন্যেই লেখা আমি ভুলি নাই, লেখা যদি ভুলে যেতাম তাহলে হয়তো ব্লগ মিস করতাম। ব্লগ লেখার জন্য মন উশখুশ করে না আর। উপলক্ষ্য ছাড়া ব্লগে লেখা আর হয়ে উঠে না। আজও লিখছি বিশেষ কারনে। দ্বিতীয় কথা হলো এখন ব্লগ পড়িও না। ফেসবুকেই থাকি। ট্যাবে অটোমেটিক ওপেন হয়। কিন্তু আগে যেমন এক পোষ্ট ছয় সাতবার পড়তাম তেমন পড়াই হয় না। আর নিজের লেখা তো পড়ি না খুব একটা। কারন প্রতিটা লেখা পড়লেই মনে হয় ট্রেন ধরার তাড়া নিয়ে লিখেছিলাম, অজস্র ভুল, আরও গুছিয়ে-ভালো করে লেখা যেত। কিন্তু হলো না। কি আর করা যাবে। সবার সব কিছু হয় না। তাই ব্লগের চার্ম হারিয়ে ফেললাম আবার। সামহ্যোয়ার ছাড়ার পর অনেকদিন লিখি নাই, এবিতে লিখলাম সমানে, গত এক বছর ধরে এবিও টানে না। এইটাই জীবন, সব সময় একরকম চাইলেই থাকা যায় না।
তাহলে পোষ্ট লিখতে আসা কেন? আসলাম কারন, ১৪ তারিখ লীনাপু আর কামাল ভাইয়ের জন্মদিন। ছয়দিন পর জেবীন আপুর জন্মদিন। চার তারিখ ছিল মামার সন্তান সাইকের জন্মদিন, নয় তারিখ আমার ভাতিজি মৌনিয়ার জন্মদিন, বারো তারিখ আমার ক্লোজ ফ্রেন্ড আবীরের জন্মদিন। এত জন্মদিনের খবর যদি কাউকে না জানাই তাহলে চলবে কিভাবে? তাই লিখতে বসলাম। শুরু করি লীনা আপাকে দিয়েই। আমার প্রিয় মানুষ, উনাকে নিয়ে আগেও লিখেছি নতুন করে কি লিখবো? লীনাপুর সাথে আমার দেখা হয় না অনেকদিন। কথাও হয় না অনেকদিন। উনি ফেসবুকেও নাই। আমি উনাকে ব্লগে মিস করি তারচেয়ে বেশী মিস করি ফেসবুকে। ফেসবুকে উনি থাকা মানে দারুণ কিছু রিভিউ পড়া, আর আমার নানান স্ট্যাটাস নিয়ে উনার রিভিউ জানা, অনেক কিছু নিয়ে উনার সাথে আলাপ করা, উনার মতামত আমার খুব কাজে দেয়। ফেসবুক যখন বন্ধ ছিল আমার মনে হতো উনার কথা। ভাবতাম ফেসবুকে লীনাপু নাই, ভালোই হইছে বন্ধ হয়ে। নিজে অবশ্যই ফেসবুক ছাড়তে পারি নাই কারন আমি অন্যমাত্রার ফেসবুক এডিক্ট, মুক্তি পাচ্ছি না সহসাই। কিন্তু লীনাপু আমার আইডল, স্বপ্ন দেখি উনার মতো একদিন ফেসবুক বন্ধ করে দিবো। এই লাইনে আমার আরেক আইডল রন্টি ভাই, উনি তো মাস ধরে ধরে ১ দিনের জন্য আসে ফেসবুকে। ফেসবুক আমিও ছাড়বো সামনের কোনও দিন। লীনাপু খুব মিস করি, উনার লেখা পড়ি না অনেকদিন। প্রিয় লেখকদের লেখা না পড়ার যে বেদনা তা আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। তবুও উনার যা ইচ্ছা তাই করুক, ভালো থাকুক, নামিরা শ্রেয়া সবাই বড় হোক, সবার সাথে আপুর সময় কাটুক আনন্দে।
কামাল ভাইয়ের লেখা সেই তুলনায় মিস করি খুব কম। উনার লেখা যেখানেই পাই, গোগ্রাসে আগে গিলি। 'শব্দঘর' ম্যাগাজিনটা আমি কিনি শুধুমাত্র উনার লেখা পড়ার জন্য। উনি কত বড় লেখক নতুন করে উনাকে নিয়ে বলার কিছু নাই। তবে উনার সাথে মিশে আমি বুঝেছি, মানুষ হিসাবে তিনি আরো অনেক বড়। এই অদ্ভুত কম্বিনেশনটা খুব কম লোকই পায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উনাকে নিয়ে আমি বড় চিন্তায় থাকি, যে নাজুক ভঙ্গুর সময়ে আমরা আছি। কখন কার কি মুসিবত নেমে আসে বলা মুশকিল। দীপন হত্যা, শুদ্ধস্বরে প্রকাশক লেখকদের উপর আক্রমন, বিদেশী হত্যা, মাসে মাসে ব্লগার খুন, প্রতিদিনের অজস্র খুন জখম মনকে বিষিয়ে তুলছে। দোয়া করি সবসময় আমার প্রিয় মানুষরা যেন এইসব এড়িয়ে ভালো থাকতে পারে। এত এত পশু এই ভুখন্ডে, বেঁচে থাকাটাও বিশাল কৃতিত্বের ব্যাপার। জন্মদিনের শুভেচ্ছা প্রিয় লেখক। শত বছর বেঁচে থাকেন। যেমন আছেন তেমনই থাকেন। এই মার্জিত ও নির্জন লেখক জীবনই আপনার জীবন। ফেসবুক থেকে দূরে থাকেন যতটা পারা যায়।
শুনলাম জেবীন আপু বেড়াতে শেন ওয়ার্ণের দেশে, আছেন বাবা মা সহ। আজকাল তেমন কথাই হয় না উনার সাথে। জেবীন আপুর কারনেই আমার এবিতে লেখা শুরু এই কথাটা আমি সবসময় বলি। তার আগে সামহ্যোয়ার থেকেই উনি আপন লোক। আমার সামহ্যোয়ারের শেষ পোষ্টখানাও উনাকে নিয়ে লেখা। আজ থেকে ৫ বছর আগে। সময় খালি চলেই যাচ্ছে। থামানো যাচ্ছে না কিছুতেই। জন্মদিনের শুভেচ্ছা আপা। ভালো থাকেন। টেনশন কম করেন। গ্রামীনফোনের বিজ্ঞাপনে বলে, সময়টা এখন নাতাশার, আমি বলি সময় সামনে আপনার। খালি অপেক্ষা করেন।
সাইকের জন্মদিন নিয়ে কি আর লিখবো। ১ বছর হলো। আমার খুব প্রিয় বন্ধু, সারাদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরে আমার কাজ একটাই, সাইকের সাথে সময় কাটানো। ওর সাথে খেলা। কোলে নিয়ে টিভি দেখা। দোড়ঝাপ করা সাথে সাথে। বাচ্চারা আসলেই অসাধারণ। তাঁদের একেকটা অনাবিল হাসির দামই অমুল্য। সাইকও আমাকে ভালো পায়। দরজা খুললেই যে হাসিটা দেয়, আমি না থাকলে আমার রুমে আমার নাম ধরে ডাকাডাকি করলেই আমাকে খুঁজে। চোখের সামনে সাইক বড় হচ্ছে, প্রতিদিন নতুন নতুন জিনিস করে। এ এক অন্যরকম আনন্দের বাসা। সাইক জীবনে বড় হোক। তার বাবা মানে আমার মামার মতোই অসাধারণ মানুষ হোক। খুব ঘটা করে সাইকের জন্মদিন পালন হলো এবার। ভালো আয়োজন। যদিও এসবে আমার অসস্তি লাগে তাও সাইকের জন্মদিন বলেই ভালো লেগেছে। বাসায় মানুষে মানুষে গিজগিজ তাও আনন্দ পেয়েছি খুব।
মৌনিয়া মাহাদীয়া তো আমার কলিজার টুকরা। এই প্রথম মৌনিয়াকে আমি দেখলাম জন্মের পর। ভাবী আসলো ঢাকায়। স্বপ্নের মত কাটছে ডিসেম্বর। ছবিতে যেমন বাস্তবেও মৌনিয়া একটা আদরের ডিব্বা। মাহাদীয়া মৌনিয়ার সাথে সময় কাটানো কি যে প্রশান্তিময় তার তুলনা সম্ভব না। মনে হয় বেঁচে থাকাটা মন্দ কিছু না। আর মাহাদীয়া তো আমাকে খালি বিস্মিত করে। মাহাদীয়া অন্য বাচ্চাদের মতো না। এত ভালো কল্পনা শক্তি আমি বড়দেরই দেখি না। মাহাদীয়াকে নিয়ে আমি শিউর, বড় হয়ে সে ব্যাপক বিখ্যাত এক প্রতিভাবান মানুষ হবে। আর মৌনিয়া এখনই সুপারস্টার। যে কাউকে ওর ছবি দেখালে বলে-- মাশাল্লাহ ডল একটা। শান্ত তুমি লাকী খুব, কেউ কেউ আবদার করেছে দেখা করাতে পারবো কিনা? আমার আটপৌরে দিনযাপনকে পুরো রঙ্গীন করে দিয়েছে এরা। বছরের সেরা কিছু সময় কাটাচ্ছি। জানি চলে যাবে সময়, তারাও চলে যাবে বরফের দেশে। তবুও এইসময় মুগ্ধ হয়ে উপভোগের। দারুণ কাটছে সময়।
শেষ করবো লেখা। আবার কবে কোন উপলক্ষ্যে লিখবো জানি না। ভালো থাকেন সবাই। একান্তই নিজের জন্য লেখা, নিজের প্রিয় মানুষদের নিয়ে লেখা, বিরক্ত করার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। বুদ্ধিজীবি হত্যা দিবসে,সকল শহীদদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।





লীনাপা আর কামাল ভাইকে টাটকা
আর জেবীনাপুকে এডভান্স
জন্মদিনের শুভেচ্ছা,
সকলের মঙ্গল হোক।
আমিও অনেকদিন পর ব্লগে আসলাম শান্তর লেখা পড়তে।

তোমার ডিসেম্বর তো পুরাই আলোকিত
প্রিয় লীনাপু, কামাল ভাইকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা, ভালোবাসা আর শুভকামনা। খুব মিস করি ব্লগের আড্ডা, আনন্দ
জেবীন বৈদেশী মানুষ। তারে বৈদেশী ভালুবাসা জানানোর তরিকা জানতে হপে আগে।
সাইককে এত্তগুলা আদর
ভালো থাকুক তোর প্রিয় মানুষগুলো। তুইও ভালো থাকিস। অহরহ।
জীবন আনন্দময় হোক। তোর। সক্কলের।
১৪ ডিসেম্বর তোমাকে মনে পড়েছে। ব্লগে দেখলাম, ছিল না তোমার শুভেচ্ছাবার্তা। কেমন আছো আরাফাত?
মন্তব্য করুন