ইউজার লগইন

মহানগরীতে এলো বিবর্ণ দিন আলকাতরার মত রাত্রি...

শরীর খারাপ থাকলে যা হয়। কিছুই ভালোই লাগে না। আমি পেসিমিস্ট থাকি সবসময়, শরীর খারাপ থাকলে দুয়ে দুয়ে চার মিলে নিজেকে শেষ করে দেয়। তেমন বড় কিছুতে না, বড় বড় সমস্যা আমি স্নেহ করে শরীরে পুষি। আমি আক্রান্ত হই সামান্য সমস্যায়, যেমন প্রতি দু তিন মাস পরপর আমি পায়ে ব্যাথা পাবোই। হালকা মচকাবে তাতেই আমি দুদিন শেষ, পুরাই কাহিল লাগবে। সব কিছুতেই অরুচি লাগবে। বন্ধুদের সাথে ক্যাটক্যাট করবো। পেইন কিলার খাবো কিন্তু ভাত মাছে রুচি আসবে না কিছুইতেই। এক যাতা অবস্থা। দু তিন দিন শেষ, পা নরমাল, আমিও নরমাল, সব চলবে আগের মতো। এরকম শুধু পায়ে ব্যাথা না, একদিনের জন্য ঘাড়ে ব্যাথা, চারদিনের জ্বর, ছয়দিনের ঠান্ডা লাগা ও মাথা ও গলা ব্যথা আরো অনেক গুলো প্যাকেজ আছে। যা বিভিন্ন মেয়াদ ঘুরে ফিরে ফিরে আসে। তখন বিশেষ মিস করি আম্মু আব্বু আর ভাইভাবীকে। আমার এই সামান্য অসুখবিসুখকে তারা অত্যন্ত সিরিয়াসলি নিতো। নিজেকে তখন নগরপিতা মনে হতো।

লিখতে গিয়ে মনে হলো এইসব কথা আগেও লিখেছি বহুবার। নতুন করে আর কি বা বলার আছে? সবার কাছের মানুষরাই এমন। তবে আমি অসুস্থ হলে সবাই ভাবে অভিনয় করছি। কারন সারাবছর আমি ডায়লগ মেরে বেড়াই, রোগে শোকে শুয়ে থাকাকে আমি পাত্তা দেই না। অসুস্থ হলেও আমি বের হই, জোর করে ভালো লাগার চেষ্টা করাই। টিকতে না পারলেই কেবল চলে যাই বাসায়। যেহেতু আমার বাসায় শুধু আমি থাকি, তাই শুধানোর লোক নাই যে আমি অসুস্থ কিনা? আম্মু ফোনে গলা শুনেই বুঝে যায় আমি অসুস্থ। হিতপদেশ ও আমার লাইফ স্টাইল নিয়ে অনেক জ্ঞান প্রাপ্তি ঘটে। আব্বু জানায় কোন ট্যাবলেট খেলেই এই সমস্যার সমাধান। যেই শুনে কেউ কিছু না কিছু উপদেশ দেয়। আগে সমাজ বইতে দেখতাম বাংলাদেশে মাথাপিছু ডাক্তারের হার কত কম, অসুস্থ হলেই বুঝি দেশে ১৬ কোটি লোকই চিকিৎসক। হুজুরদের কথাও ভাবি, তারা কালিজিরা মধু আর হোমিওপ্যাথিতেই সব সমস্যার সমাধান দেখে। ভাবছিলাম কমেডি এক স্কেচ বানাবো, দ্যা ফল্ট ইন আওয়ার স্টারস মুভিটার, সেখানে শেষ সিনে দেখানো হবে, নায়িকা নায়ককে ঠেসে কালিজিরা খাওয়াচ্ছে। পুরাই অস্থির।

ডকিন্সের দ্যা গড ডিলিউশান পড়ছি। বইটা একজন দিলো। ডকিন্সের সাইন করা বই। ইংরেজী পড়া বাংলার মতো প্রশান্তির নয়। কিন্তু ভালো বই পড়ার পাচ্ছি না, তাই ইংরেজী এখন ভরসা। কারন ইংরেজী বই পাওয়া যায়, আর নীলক্ষেতের কারনে পাইরেটেড বই অত্যন্ত সহজলভ্য। সবাই পড়ে অরুন্ধতীর উপন্যাস, আমিও শেষ করলাম। ভালোই লাগলো। তবে সবার মত বেশী বেশী মুগ্ধতা নাই। বাংলা অনেক উপন্যাস আছে এরচেয়ে আমাকে বেশী মুগ্ধ করেছে। রাইটারের নাম শুনেই দোড় ঝাপ করা আমার পছন্দের না।

প্রথম আলোয় এক লেখা চোখে পড়লো। লেখাটা অদ্ভুত। স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ শুনে আসার পথে স্বামীর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু। ফারুক ওয়াসিফ কলামটা লিখেছে ভালো। ওয়াসফিয় এক রেফারেন্স সিস্টেম আছে উনার, অনেকটা সেই টানে। তবে লেখাটা পড়ে আমি দুঃখিত হবার বদলে আশাবাদী হলাম। যাক এই পাথরের পৃথিবীতে এরকম হীরার টুকরো হৃদয়, সত্যিই অমুল্য। প্রিয়জনের মৃত্যু আমাদের শোকাতুর করে তোলে। দু চারদিন কাঁদলেই অনেকে ঠিক হয়ে যায়। কেউ কেউ আছে এরকম অসাধারণ। প্রিয়জনকে একা রেখে আসেন না।কাছের মানুষের নিথর শবদেহ দেখার আগেই চলে গেছেন অন্য জগতে। অনেক জায়গায় প্রেমিক প্রেমিকা যৌথ ভাবে স্বেচ্ছায় মরে যায়, প্রেমের পরিসমাপ্তি সুখের সম্ভব নয় বলে। এটা এরচেয়েও অনেক ভালো। অনেকটা মিরাকলের মতো, আমাদের সবার ভাবনার বাইরে এরকম ঘটনা। এখনো তাহলে এ অঞ্চলের মানুষ এরকম মরনঘাতি দুরারোগ্য ব্যাধির মতো প্রেম করে।

আমার এক বন্ধু আসছিলো বাসায়। সে খুবই উচ্চমানের নেগেটিভ মানুষ। খুব কম ব্যাপার নিয়েই সে ইতিবাচক। কেডস হারানোর কারনে তার মেজাজ খারাপ দশা। হুট করেই সে বললো, 'যাক যা গেছে গেছে। কত জায়গায় যাই, একটা এক্সিডেন্টে যদি পায়ের কিছু হতো তাহলে কেডস দিয়ে কি করতাম'। এটাই মানুষ, মনে মনে নিজেকে প্রস্তুত করে। প্রথমে হারানোর বেদনায় ধাক্কা খায়, পরে সামলে উঠে। সামলে উঠতে কষ্ট হয় নিম্নবিত্তের। সুমন নামের এক পরিচিত লোকের নতুন ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা একজন কিসের জানি গন্ধ শুকিয়ে নিয়ে গেছে। গত পোষ্টেই বলেছিলাম। চোর যেহেতু এলাকারই তাই ধরা পড়েছে। কিন্তু চোরকে চোর বলা যাচ্ছে না, কারন চোরের বাড়ী ভোলা। এখন ভোলায় জন্মগ্রহনকারী কমিশনার তার এলাকার সাপোর্ট টানবে, তার আশেপাশে সব ভোলার লোক। বিচারের আশা গুড়েবালি। চোর উল্টো লোকজন জমায়েত করে বলছে, সে একজন সম্ভ্রান্ত ঘরের ছেলে। এটাই আজকের বাংলাদেশ। আগে যাই হোক, চোরকে চোর বলা যেত। এখন চোরকে বলতে হয় হাজী সাহেব। চোরের সাথে কথা বলতে হয় আদব লেহাজের সহিত।

ফেসবুকটা ডিএক্টিভ্যাট করেছি দুদিন আগে। ফেসবুক আমার ভালো লাগে, তা বাদ দিয়ে থাকা আসলেই কষ্টের। ইশ যদি অনেকের মতো মাসের পর মাস যদি ফেসবুক ছাড়া থাকতে পারতাম তাহলে খুব ভালো হতো। কিন্তু তা আর হচ্ছে কই। আমি ফেসবুক বন্ধ করি মুড অফ সাথে বিরক্ত লাগলে। বিরক্ত লাগছে খুব। যদি ইব্রাহীম নবীর মতো প্রিয়বস্তু কোরবানী করতে পারতাম তাহলে সেই হতো। ফেসবুকে না থাকলে সারাদিন স্মার্ট ফোন কুমন্ত্রনা দেয়, লগইন কর, দেখতো কি অবস্থা। মোটামুটি নিজের সাথে নিজের যুদ্ধ। দেখা যাক এবার কদিন পারি?

পোস্টটি ১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


ফেসবুক নিপাত যাক - ব্লগ প্রাণ ফিরে পাক

মীর's picture


একমত Day Dreaming

আরাফাত শান্ত's picture


ফেসবুক ডিএকটিভেটেড, রাতে ব্লগিং ছাড়া আর কিছুই করার নাই।

জাকির's picture


এইজন্যই গত কয়েক দিন আপনার কোন স্ট্যাটাস নাই ফেসবুকে। আসলে হঠাৎ করে ফেসবুক ডিএক্টিভেট করলে সত্যিই খারাপ লাগে, আর আমরা ফেসবুকে মাত্রার অতিরিক্ত থেকেও বেশি সময় ব্যয় করি এটাও সত্য।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!