টুকটুক গল্প-৬
কথায় বলে মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত। আমার দৌড় ঢাকা-নরসিংদী। একা মানুষ তেমন কোথাও যাওয়া হয়ে উঠে না। অবশ্য আমার মত আমজনতার জন্য এখন খেয়ে পরে মাস পার করার পর ভ্রমনবিষয়ক বিনোদনের কথা ভাবা এখন বিরাট বিলাসিতা। প্রয়োজন বলি, বিনোদন বলি, আর বিলাসিতা বলি সেটা হলো ইন্টারনেট।ইন্টারনেট ছাড়া আমার চলেই না!আবার আমি তো এমনি এমনিই ইন্টারনেটে বসে থাকি। যেহেতু নরসিংদী যাওয়ার সময়ে ইটাখোলা পর্যন্ত রাস্তা এখনও আস্ত আছে, এর পরেরটুকু ভাঙ্গা হলেও কোরান খতম হওয়ার আগেই দোয়া দুরুদ পড়তে পড়তে বাড়ী চলে যেতে পেরেছি এখনও পর্যন্ত। তবে সবসময়ই সবার জন্যই আতংক লাগে, এই দেশের রাস্তাঘাটকে এতটুকু বিশ্বাস করা যায় না, নিরাপদ ভাবা যায় না। যোগাযোগ ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীর প্রমোশন হলো। যোগাযোগের সাথে যোগ হলো তথ্য ওপ্রযুক্তি। আমার মত কপালপোড়াদের কপাল বুঝি এইবার ফাটলো! গরীবের একটুখানি বিনোদনেও নজর পড়লো বুঝি! যোগাযোগ ব্যবস্থার ঘন্টায় বিদায়ের বেল বাজিয়ে এবার তিনি আসলেন মহাসমারোহে। কবে জানি দেখবো ব্লগ নাই, ফেসবুক নাই, মেইল নাই। তিনি হয়ত বলবেন, যোগাযোগের জন্য এসব কেন? বাচ্চালোগ লেখাপড়া কর, সময় বাঁচাও, ঘুমাও।
সারাদিন ধরেই গানটা মনে পড়ছে...দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইলো না। মুরুব্বিরা বলেন কিছু ঘটার আগে মন কুগান গায়। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। ফি আমানিল্লাহ।
২। গত শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গেলাম প্রজাপতি মেলা দেখতে এবং ফটোগ্রাফাররা ছবি তুলবে তাদের সাথে ঘুরতে। ফার্মগেট থেকে বাসে জাহাঙ্গীরনগর। বাসে আমি বেশীরভাগ সমযই ঘুমিয়ে কাটাই। সেদিন ঘুমাইনি। চোখ বড় বড় করে পথের দুপাশ দেখছিলাম। দেখলাম, এই দেশের এক শহীদ প্রেসিডেন্টের ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে প্রচুর পোস্টার, সাইনবোর্ড লাগানো একটু পর পর। অবাক হইনি, তবে ভাবছিলাম কি দুর্ভাগা আমরা! একটা পোস্টোরে সেই রাজপুত্র(!) একটা হাত এমনভাবে বাড়িয়ে আছে যে নায়ক সাকিব খান হলে বলা যেতো যে, নায়িকাকে বুকে আসতে ডাকছে। কিন্তু এই ছবি দেখে মনে হলো তিনি বলছেন, আমি আসিতেছি, এইতো আর কয়টা দিন। একটু পরেই দেখলাম একটা বোর্ড। লেখা, আর কতদিন রবে বাঙলা তোমার অপক্ষোয়, সেই রাজপুত্রের ছবি পাশে। আহারে কি হাহাকার! সেই হাহাকারে আমারো চোখে পানি আসলো। কি এমন উপকার করলো তিনি দেশের যে তার জন্য এই দেশ অপক্ষোয় আছে? তার পদধুলিতে কি এমন পূণ্য হবে এই দেশের? উনারা তো নিজের রাজত্ব বাড়াতে বাড়াতে সীমা পরিসীমা ভুলে গেছেন সেই কবেই।
৩। দুই বান্ধবী গেলাম এক মিটিংয়ে। মিটিং শেষ হতে হতে রাত ৯ টা। এমন জায়গা যে রিক্সা চলে না, সি এনজি পাওয়া তো দুষ্কর। এক গাড়ীওয়ালা বন্ধুকে অনেক অনুরোধ করলাম আমাদের পৌঁছে দিতে কিন্তু আমার বান্ধবী কেন উনার অপছন্দের কবির বই ব্যাগে নিয়ে ঘুরছে সেই রাগে আমাদের বন্ধু আমাদের এই গভীর সন্ধ্যায় একাকী চলে আসতে বললো। আমার বান্ধবীর না হয় গাড়ী আছে, আমার তো নাই। বন্ধুরা যদি এমন নিষ্ঠুর হয় তাহলে কিভাবে আমরা সহজে পথ চলবো?(বিরাট দুঃখের, চিন্তার ইমো হবে।)





আমি সেই কতোক্ষণ ধরে ভাবছিলাম বাড়ি পৌঁছিয়ে দেবার জন্য কেউ আমাকে বলে কিনা! বললে তো আমিই দিয়ে আসতাম।
আপনি তো আগেই ফুটছেন। নিষ্ঠুর।
১) উনার চেহারায় একটা বেকুব ভাব আছে। যে-কোন দুর্ঘটনার জন্য তৈরী হন ম্যাডাম
২) ... কিন্তু এই ছবি দেখে মনে হলো তিনি বলছেন, আমি আসিতেছি, এইতো আর কয়টা দিন ... জটিল বলছেন গো দিদি
৩) আমার বান্ধবী কেন উনার অপছন্দের কবির বই ব্যাগে নিয়ে ঘুরছে সেই রাগে আমাদের বন্ধু আমাদের এই গভীর সন্ধ্যায় একাকী চলে আসতে বললো।
আমি একটা কবিতা বলবো
আবার কবিতা বলবেন? সেই সন্ধ্যা আজো ভুলিনি।শেষ পর্যন্ত সিদ্দিক মিয়ার সিএনজি।
নেট ছাড়া জীবন টারে পুরাই জাহান্নাম মনে হয়।মোবাইলের নেটে যখন বাড়ীতে চালাই তখন খালি মনে হয় জীবনটা কত নেট নির্ভর হয়ে গেলো!
এইটা বাংলাদেশ বলেই আবুলরে এখনো মন্ত্রীসভায় রাখছে।
নাকি বলতে হবে, এইটা আওয়ামী লীগ বলেই আবুলরে এখনো মন্ত্রীসভায় রাখছে।
যাক্ এইসব নষ্টদের চেয়ে আপনের টুকটুক গল্প অনেক ভালো। সুখপাঠ্য।
আপনার বান্ধবীকে বলবেন গাড়ীওয়ালা বন্ধুটির পছন্দের কবির একটা বই যেন সবসময় সাথে রাখেন!

"ইন্টারনেট ছাড়া আমার চলেই না" সুপার লাইক
~
দুঃখ কইরেন না। এইটাই জীবনের লীলাখেলা

আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। ফি আমানিল্লাহ
কি হবে আমাদের?
ইন্টারনেট ছাড়া আমারও চলে না 
হায়! হায়! জয়িতার বাড়ি নরসিংদী? মাই গড! রোজ রোজ রোড অ্যাক্সিডেন্ট। আল্লাহ তোমার সহায় হোন।
জাহাঙ্গীরনগরের গল্প অঅরো বিশদ হতে পারতো। কিপটা মাইয়া!
মরে গেলাম তো বাঁচলাম।
দোযা কইরেন আপা।
আমি কিপ্টা না, আইলসা। আপনে কি? লেখেন না যে!
রশীদা আপা, ব্লগের প্রকাশিতব্য বইয়ের জন্য আপনার লেখা পাঠিয়ে দেন তাড়াতাড়ি...
জা-বি যাওনের পথে একটা পোস্টারে দেখলাম লেখা আছে
আমি বুঝলাম না, আমারে এত্তবার তারেক ভাইয়ারে গিফট দিতে কইলো কেন?
আর কেউরে পাইলো না গিফট দেওনের লাইগা? 
মন্তব্য করুন