টুকটুক গল্প-৭
রায়হান ভাই মাঝে মাঝেই বলে আড্ডাটা আমাদের এডিকশনের পর্যায়ে চলে গেছে। দুই/একদিন পর পর কোন না কোন উছিলায় একটা আড্ডা। কোন উছিলা না থাকলে এমনেই আড্ডা আর অফিস ফাঁকি দেওয়ার পায়তারা। যে অফিস ফাঁকি দিতে পারে না তাকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য উস্কানো এবং ফাঁকি দিতে না পারলে ধিক্কার দেওয়া...এই চলছে। আড্ডা শেষে কখনও লীনাপার সাথে রিক্সায় ফিরলে প্রায়ই জোর করে বাসায় যেতে, রাতে থাকতে অথবা রাতে বাসায় পৗঁছে দিবে এমন বলবেই। যাওয়া হয় না, বলি-যাব একদিন। একদিন বললাম, কাল বৃহস্পতিবার, কাল যাবো। সকালেই লীপনাপা ফোন করেছে যে না গেলে আর কথাই বলবে না, উনার বাসার খালাকে ফোনে ধরিয়ে দিলো। খালাও বলে, আসেন, আমি রান্না করব। শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর যাব বলে আর গেলাম না সেদিন, বললাম পরের সপ্তাহে যাব।
এর মধ্যে মৌসুমের সাথে কথা হলো, সেও যাবে। জাহাঙ্গীরনগর যেদিন গেলাম সেদিন মিথিলার সাথেও কথা হলো । সে বললো সে ও যেতে পারে। নাজের ডিসেম্বরে মাসব্যাপী পরীক্ষা। রশীদা আপাকে বললাম কিন্তু উনি যেতে পারবেন না জানালেন ,তবে রাতব্যাপী আড্ডার গল্প শুনতে চাইলেন। এই প্ল্যান আর কাউকে বললাম না। একদিন গ্রুপ চ্যাটিং এ মৌসুম আর আমি বৃহস্পতিবার যাওয়ার কথা বলছিলাম, কি মুভি দেখব এসব আলোচনা চলছিলো, হঠাৎ বৃত্ত প্যাঁচাইতে থাকলো কই যাবো, কি কাহিনী। তাকে বললাম, এটা সিক্রেট, পরে জানাবো কিন্তু সে নাছোরবান্দা (ছোঁচা), আমরা যেখানে যাব সেখানেই যাবে।লীনাপা আবার উনার জানি দুস্তদের সবাইকেই যেতে বললেন। সবাই ব্যস্ত, বিমাকে খুব রিকোয়েস্ট করলাম মিথিলাকে নিয়ে আসতে। শুভ আর মৌসুম লীনাপাকে মোটামুটি এক পাতার মেন্যু ধরিয়ে দিলো তারা কি কি খেতে চায়।বেচারী লীনাপা অফিস না গিয়ে বাজার করলো সারদিন। সন্ধ্যায় এসে আমাকে,মৌসুম, আর বৃত্তকে রাইফেলস্ স্কয়ার থেকে বাসায় নিয়ে গেলো।বিমা মিথিলাও আসলো। বাসায় পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হলো খাওয়া। গান শোনা, গল্প।
বিমা চলে যেতে চাইলো কিন্তু অনেক পটিয়ে বিমা , মিথিলাকে রাখা হলো। গল্প আর শেষ হয় না, টপিক ফুরায় না। মিথিলা মেয়েটা খুব গল্প করে না কিন্তু সে আমাদের গল্প, আড্ডা খুব পছন্দ করে। আর শ্রেয়া, রিমঝিম তো মিথিলাকে পেলে ভাবে মিথিলা তাদের বন্ধু। অত্এব মিথিলা শ্রেয়ার সাথেই বেশীরভাগ সময় গল্প করে, খেলে কাটালো। এরই ফাঁকে রাতের খাবার খেতে টেবিলে বসে দেখি এলাহী কারবার। চিংড়ী মাছ, কাঁচকি মাছ, বাটা মাছ, শোল মাছ দিয়ে সবজি, গরু মাংস ভুনা, ডাল। একচোট খেয়ে খালার হাতের বেহেসতী লাল চা। মোবাইল দিয়ে ফেসবুকিং , ব্লগ পড়া চলছেই। তারপর পিসিতে ব্লগে ঢুকে রায়হান ভাই এর বানানো বন্ধু বেঈমান, এক ব্লগারের গুলনাহার কবিতা, কমেন্ট পড়ে হি হি হাসা হাসতে হাসতে একেকজনের গড়াগাড়ি অবস্থা। মিথিলা, মৌসুম এসব ব্লগ আগে দেখে নাই। দুজনেই মুগ্ধ। দলবদ্ধভাবে ব্লগে কমন্টে করা, তাতাপু, কামাল ভাই এর সাথে ফেসবুকে আড্ডা, মাসুম ভাই কে এস এম এস করে হিংসিত করা,শুয়ে বসে গল্প করতে করতে ভোর হয়ে গেলো। মাঝখানে চা বিরতি চললো কিছুক্ষণ। মৌসুম আদা, রসুন, তেজপাতা, গরমমসলা দিয়ে খালার মত চা বানাতে চেষ্টা করে সেটা বিমা , বৃত্তকে খাইয়েছে ও নিজে খেয়েছে ।মুভি দেখার সময়ই পেলাম না। লীনাপা বারবার ঘুমাতে যেতে চায় কিন্তু কেউ তাকে যেতে দেয় না। তারপরও চারটার পর লীনাপা বাইম মাছের মত পিছলাইয়া ঘুমাতে চলে গেলো। একটু পর আমিও গেলাম। বাকীরা সকাল পর্যন্ত আড্ডাইলো।একটু সময়ের জন্য শুতে গেলা। সকালে লীনাপা উঠার পর আমিও উঠে এসে গল্প করতে বসলাম আবার একে একে সবাই চলে আসলো। শ্রেয়া ঘুম থেকে উঠে অবাক হয়ে বলে "আড্ডা কি শুরু হয়ে গেছে আবার!"
মজাদার খিচুড়ী-মাংস দিয়ে নাস্তা করে, চা খেয়ে বেলা ১২ টায় আড্ডার আসর ভেংগে যার যার ঘরে ফেরার জন্য বের হলাম। কিন্তু মন পড়ে থাকলো সেই আড্ডায়। কে বলবে একসময় আমরা কেউ কাউকে চিনতাম না! মনে হয় আমরা আর জনমে একই পরিবারের সদস্য্ই ছিলাম। সেদিন যারা ছিলো না বাবারবার ঘুরেফিরে তাদের কথাই বলছিলাম। পরিবারের সদস্যরা দূরে থাকলে গেট টুগেদারে যেমন কেউ একজন অনুপস্থিত থাকলে তাকে বারবার স্মরণ করা হয় তেমনই। মনে মনে বলি , চাই -- এই বন্ধনটা থাকুক, ভালোবাসার আলোয় আলোকিত হোক। আজকের চন্দ্রগহণে চাঁদটা যেমন ঢেকে যাচ্ছিলো এমন করে কোন অন্ধকার ছায়ায় ঢেকে না যাক।





আমারে ছোঁচা বলায় তীব্রতর দিক্কার...
আর সন্ধ্যার খাওনের কথা কৈলেন্না কেনু? কেনু কেনু কেনু???



লীনাপু তো পার্লে সন্ধ্যা থেকেই ঘুমাতে যায়
শ্রেয়া নতুন বান্ধবী পেয়েতো দারূণ খুশি, আর তার এই ডায়লগ
মিথিলা'র জন্য, তুমি এত লক্ষ্মী কেন বোন? আমাদের মত খানিক্টা বান্দর হয়ে ওঠো
লীনাপু'রে থেংকু ফেংকু দিমু না, দোস্তবন্ধুগোরে আমি থেংকু কই না
চাইনিজ ক্রেন বানানির টিউটোরিয়ালের কথা তো কইলেন্না জ্যোতি?
চাইনিজ ক্রেন বানানির টিউটোরিয়াল!
টিউটোরিযালের কথা ভুলে গেছিলাম। মিথিলা মনে হয় পাখি বানাইতেছে। ১০০০ হলে কি ইচ্ছা পূরণ হবে কে জানে! মেয়েটা খুবই লক্ষী। আমার বেশী ভালো লাগে সে যখন আমাদের হয়ে বিমাকে ঝাড়ি দেয় কেন আমাদের কথা মানে না সেজন্য।

আর সব লিখতে গেলে সারারাত লাগবে। আপনি তাড়া দিলেন বলে কাজ ফেলে পোষ্ট লিখতে বসছি মিয়া।
শুভ তোরে পোস্ট লিখতে কইছে ক্যান? ব্যাটা নিজে কি করে? ওরে দৌঁড়ের উপরে রাখতে হৈব
আমি ইদানীং লিখতি টিখতি পারি না, খালি
দিতারি 
গুলনাহার পড়ার সময় মৌসুমের আঁতকে ওঠা
সবাই বিভিন্ন জায়গায় ছড়ায় ছিটায় কবিতা শুনতে শুনতে শেষের দিকে লাফালাফি ঝাপাঝাপির জায়গায় কোরাসে বলে উঠা
এইটা ছিল সেরা 
আপ্নে ভিত্রে নাকি ইমো দেখা যাইতেছিলো?
মাইনাস! আমাকে কেউ জানাইলোও না।
এটা তো ছিলো আসলে মেয়েদের আড্ডা।
আপনি ঢাকায় ছিলেন না।
বৃত্ত আর বিমা তাইলে মেয়ে?
আমি তো কপেই ঢাকায় ছলে এছেসি!
দাদা, এ্ইটা ছিল আঁতকা নারী আড্ডা। শুভ আর বিমা মেয়ে মেয়ে চেহারারতো সেজন্য ওদেরকে চান্স দিছি
ইয়ে মানে তুমি এই কমেন্ট দেইখা ফেলছো
তুমি না ডিনারে! 
আমার ডিনার কর্তে আর কয় মিনিট লাগে?
অপরের দুঃখে হাসতে হয়না ভাইয়া
গিয়ানি কথা
গিয়ানী কথা কইয়া ফেল্লুম নাকি?
ভাইয়া-টা কি ঢঙ করে বললেন?
ঢং বলতেছেন কেন
আপ্নেরে 'দা' কই সেইটার প্রতিশব্দ কইছি আর ঢং হয়া গেল? 
ঢং খালি মেয়েরা করবে ক্যান, তুমিও করো
কপাল ভিজিয়া গেলো নয়নের জলে
ঠ্যাং দু'টো বাঁধা ছিলো তমালের ডালে
এসপ কইয়া লাভ নাই শুভ। আপনি বুবুর মত জনগনের দৃষ্টি অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করতেছেন। দিক্কার
ঠিক ধরছেন। শুভ না আজকাল খুব ঢং করে
তাইতো কই শুভ ভাইরে কেন সবাই ভালোবাসা দিতে চায়??

================
নাম পাল্টাইলেন আকিকা দিছেন?
রাসেল, দেশে থাকলে কত 'লাভ' দেখছো?
নাম তো দুইজনে পাল্টাইছে। শুভ-জয়িতা।
হ তাইতো দেখতেছি দেশে লাভের ছড়াছড়ি

আমার বাংলা বা ইংরিজী "লাভ" কিচ্ছু নাই
এ জেবন না রাখার চিন্তা কর্তেছি 
আপনার মধ্যে এমন কিছু আছে যার জন্য বাকীরা লাভ দিতে চায় আপনে না চাইলেও লুকজন দিবে।

আকিকা আপনেরা দেন।
আকিকা রাসেল দিবে। কোরিয়ায় এসব খুব সস্তা
শুভ ভাইয়ের ভালোবাসার লুকজনরে কন? আমারে কন কেন?
জ্যোতি!!! বাহ্ নতুন মানুষ।
ভেরী নাইস টু মীট য়ু ম্যা'ম।
গুড মর্নি

তেজপাতা পরে পাইছিলাম। চুলার নিচের তাকে।
আরে! ভুললাম কেমনে? এটা তো ভাবছিলাম। যোগ করে দিলাম পোষ্টে।
ব্যাপক আড্ডা দিছেন
মানুষের সুখ দেখতেও সুখ


আকিকা কবে?? আমি দাওয়াত না পাইলে কিন্তু
জ্যোতি মানে কি জয়িতা? মানে কি? লিঙ্গান্তর হইলে শুনছি নামান্তর হয়। এইখানে ঘটনা কি?
ব্লগে দেখি, বিভিন্নজন বিভিন্নজনরে পোস্ট উৎসর্গ করে, যেহেতু এই আড্ডার গল্প আমি শুনতে চাইছিলাম, আমারে কি উৎসর্গ করতে পারতে না?!
একজনের সাথে আমার বিশেষ খাতির ছিল, তিনি তার একটা বিশেষ সৃষ্টি আমার হাতে প্রথম তুলে দেবেন বলে ঠিক করলেন, সেই সৃস্টিকার্য সম্পন্ন হবার আগেই আমাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেল। আফসোস!
আড্ডার গল্প পড়ে মন ভরে গেল।
হুমমম সবাইরে

রাজনকে শুভ ভাইয়ের শিষ্য বানানো হোক।

লিনা'পু বাসার আড্ডা মজারই হয়! আগেরটাও ভালো ছিলো। আর এটাতো পুরা রাতব্যাপী!
আমি আর জেবীন আসতেছি জুলাইতে সে পর্যন্ত তোমরা প্র্যাক্টিস করতে থাকো রাতভর আড্ডা
মনে মনে বলি , চাই -- এই বন্ধনটা থাকুক, ভালোবাসার আলোয় আলোকিত হোক।
হেলু ম্যাডাম, নতুন পুস্ট কুথায়? আছেন-টাছেন কেমন? বিয়ার দাওয়াত দেন্নাই ক্যান?
কি হৈল? আপনে ব্লগে এসে কিছু না লিখেই বের হয়ে যান কেন? কি সমস্যা?
কেমন আছেন? আপনার গল্প পড়ি তো প্রত্যেকটাই। কার বিয়ে হলো? আমি তো দাওয়াত পাইনি!
ও আপনার বিয়া হয় নাই? যাক্ খুবই ভালো কথা
আমি তো ভাবলাম, আপনের মনে হয় বিয়া-শাদি হচ্ছে; তাই ব্লগে আসার সময় পাচ্ছেন না।
মন্তব্য করুন