চিঠি
তুমি
আজকাল মনে হয় আমি ঘুমিয়ে গেলেই বুঝি রাত শেষ হয়ে যাবে। কেন যেন রাতটাকে ধরে রাখতে ইচ্ছে করে। তাই না ঘুমিয়ে রাতকে পাহারা দেই। অন্ধকার, নিসঙ্গতা, শূণ্যতায় ডুবে একাকার হতে মন চায়।তুমি ভাবছ সারারাত কাঁদি? না গো! স্মৃতিগুলোতে যেন একবিন্দু ধূলো না পড়ে তাই গভীর মমতায় স্মৃতিগুলোকে হাত বুলাই। স্মৃতি আর স্মৃতি ঘেরা কষ্টগুলোই যে আমার সবচেয়ে অপন , কখনো একমুহুর্তের জন্য ছেড়ে যায় না আমাকে, জড়িয়ে থাকে অনুক্ষণ।
কত কি মনে পড়ে! কত কি! একটা সময় ছিলো তোমাকে একদিন না দেখলে অস্থির হয়ে যেতাম, বুকের ভিতরটা যেন কেউ খুঁচিয়ে দিত। মনে আছে! কয়েকদিন পার গয়ে গেলে যখন দেখা হতো আমি গাল ফুলিয়ে থাকতাম, তুমি একটু হেসে খুব আদর নিয়ে মাথায় হাত রাখতে। জমে থাকা অভিমান, কষ্টরা বাঁধ ভেঙ্গে গড়িয়ে পড়ত। তুমি হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে থাকতে। তোমাকে ছুঁয়ে থাকার কি প্রচন্ড লোভ ছিলো আমার। বলতো কতদিন তোমাকে দেখি না! কেমন আছ তুমি? জানো বাবু, খুব একা লাগে, সবার মাঝে, সবকিছুর মাঝেও খুব একা আমি। অনেক কোলাহলের মাঝেও হঠাৎ মনে হয় তুমি নেই কোথাও... আজ ফাল্গুনে নেই, বইমেলায় নেই..পূর্ণিমার রাতে আমার পাশে নেই। খুব ইচ্ছে করে দূরে কোথাও চলে যাই, গভীর রাতে সমূদ্রের সামনে গিয়ে বসি। বিশাল শ্যূতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে দেখি আমার শূন্যতা কি এর চেয়ে একটুও কম? কষ্টের ঢেউগুলো কি এর চেয়েও মৃদু শব্দে আছড়ে পড়ে?
এখন আর পূর্ণিমা হলেই কাউকে অস্থির করি না ঘুরতে যাব বলে। লাইট নিভিয়ে বারান্দায় বসে থাকি সারারাত। তোমাকে কি কেউ বলে ” যদি সব লাইট অফ হয়ে যেত!জোছনা দেখতাম।” তুমি কি কাউকে বলো ”সব বাতি নিভে গেলে আমি ড্রাইভ করতে পারব না, সারারাত রাস্তায় বসে থাকব, তুমি জোছনা দেখবা।” আমি কি ভীতু ছিলাম তাই না? ভয় পেয়ে বলতাম, ”থাক চলো বাসায় ফিরব।” এখন আমি অনেক সাহসী। তুমি যখন ফিরে আসবে আর একবারের জন্যও ভয় পেয়ে হাত ছেড়ে দিব না। তোমাকে ধরে থাকব শক্ত করে।
আচ্ছা তুমি আসবে কবে? কত আয়োজন করে রেখেছি তোমার জন্য! তোমাকে আর জ্বালাব না। অনেক লক্ষী হয়ে গেছি আমি। হাত ভরে চুড়ি পরি না, রাগ হলেই চুড়িগুলো চেপে ভেঙ্গে যন্ত্রনায় ডুবি না। ফুলের দোকান দেখলেই দাঁড়িয়ে থাকি না। কিছুই করি না। তোমাকে অনেক জ্বালিয়েছি বলে রাগ করে চলে গেলে? তোমার কাছে যেতে ইচ্ছে করে। মনে হয় ছুটে চলে যাই, খুব কাচে গিয়ে চুপপপ করে বসি। যেতে পারি না যে! তুমি ফিরে এস। আবার আমরা বিকেল বেলায় নদীর পাড়ে গিয়ে বসব, উষ্ণতা ছড়িয়ে দিব মনে। এবার সব বাধাকে পিছন ফেলে শুধুই ভালোবাসব, মমতায় জড়িয়ে থাকব। ভালো থেকো। তোমার জন্য, আমার জন্য তো থাকবেই।





পাঠাইছো ?
না পাঠাইলে ব্লগে আসলো কেমনে?প্রকাশ করুন বাটনে টিপ দিলাম....চলে আসলো।
পড়তে পড়তে অতীতে চলে যাচ্ছিলাম। দিলেন তো মন খারাপ করে।
কমন পড়ছে?অতীতে চলে গেলে মন খারাপ হয় কিন্তু তাই বলে সেই অতীতকে মনে করতে খুব কি খারাপ লাগে?
আকাশের ঠিকানায় চিঠিটা ভালো হয়েছে.......
শুকরিয়া।
এত আবেগ কিভাবে ধরে রাখো?
অদ্ভুত!!!!
টুটুল, আবেগ যদি হারিয়ে ফেলি তাহলে ত নির্জীব মানুষ হয়ে যাব রে! আমি কখনো নির্জীব হতে চাই না। আবেগি বলে কষ্ট পেলেও আবেগী থাকতে চাই সবসময়।
ও এই কেস !!! তাইতো কই !!!
কি কেস?এইখানে কেস হইলো কেমনে?ডরাইছি।
'না'
-লাল দরজা (প্রিয় হেলালভাই, আপনার অনুমতি ছাড়াই কোট করছি, ক্ষমা প্রার্থণীয়)
এ
শহরের কোথাও
আর,
ছেলেটি
নেই!
পায়ে হেটে
নেই
রিক্সায় চেপে
নেই
বাসে ঝুলে
নেই।
স্কুলের গেটে
নেই
সিড়ির ঘরে
নেই
বিকেলের ছাদে
নেই।
পাড়ার গলিতে
নেই
শাহাবাগে
নেই
নীল ক্ষেতে
নেই।
কোথাও
নেই,
কোথাও
নেই।
বৃষ্টিতে ভীজে
নেই
রোদে পুড়ে
নেই
দুপুরে
নেই
সন্ধ্যায়
নেই।
কোথাও
নেই,
কোথাও
নেই!
আশ্চর্য্য!
এ্যত্তো বড়ো শহরে
লম্বা/ মাঝারি/ শ্যামলা/ ফর্সা
কত্ত মানুষের দেখা মিলল,
ছেলেটিকে আর
কোথাও
কখনো
দেখা গেল না!
ছোট্ট একটা শব্দ 'না'
এমন নির্মম শোনাবে,
মেয়েটির তা
জানা ছিল না!
(http://www.somewhereinblog.net/blog/lalblog/28780156)
নুশরো'পু আপনাকে কি বলব বলেন তো? নির্বাক হলাম.....
এইটা লালুদা'র একটা অসাধারণ সৃষ্টি। আমার খুবই প্রিয়। ধন্যবাদ নুশেরা'পু।
লাজবাব কবিতা ঠিক জয়িতার চিঠিরই মতো।
চিঠিটা পাঠায়ে দেও, সব সময় নিয়ম মেনে না চলে, মাঝে মাঝে একটু বেতাল কান্ড করে দেখো...
বেশ কয়বার পড়লাম চিঠিটা...
কাকে পাঠাব?যাকে কোথায়ো খুঁজেই পাই না --তাকে?যার ঠিকানা জানি না...তাকে কল্পনায় অনেক কিছু বলা যায়...
সময়কালে আমারে যদি কেউ এমন একটা চিঠি লিখত!
আপনার দুখে চোক্ষে পানি চলে আসলো।চিঠি পেতে পারেন হয়ত ।কে জানে!সময় কি চলে যায় রায়হান ভাই?
রায়হান ভাইয়ের কপাল দেইখা হিংসিত হলাম
হিংসা ভালু না রে টুটুল।ভাবী বাপের বাড়ি বেড়াইতে গেলে রাযহান ভাইরে এমুন চিঠি লেখতে পারে। আবার ব্যাংকক থেইকা কেউ লেখতে পারে।ঘটনা কোন দিকে যাবে কে জানে!
আরি !!!! ম্রাত্মক লেখা ...
মাঝকখানে বাবু নামটা ব্যাবহার করায় একটু কনফ্যু.....পরে অবশ্য ঠিক হৈয়া গেছে....
এইসব দু:খ দু:খ লেখা সত্য না হৈলেই ভালো, শুধুই গল্প হৈয়া থাক....
হুমমম।তবে এটা ভালোবাসা, আবেগ।ভালোবাসা জীবনে থাকুক।
হুমম
ইমোশনে বড়ই হিট করলেন জয়িতা দি...আর নুশেরা দি তোমার কোট করা কবিতা টাও বেশ সুন্দর......আর একটু হিট করলে তো কাইন্দাই দিতাম...
কানলে মাইষে কি কইব?কান্দে না।কানলে গোপনে কাইনদেন।মাইনষেরে কইয়েন না।পরে জাতি কান্দার কাহিনী জানতে চাইব।
উপ্প্স!!
সবাই এত সুন্দর সুন্দর রোমান্টিক কথা লেখে ক্যামনে??
লাইকর্লাম।
উপ্প্স!! থ্যাংকু।
অতি অতি অদ্ভুত। ভালোই লাগলো, লাগতেই থাকলো। জয়িতা'পু এইরকম করে লেখেন না কি? আজ-কাল পাই না ক্যান?
টুটুল ভাইকে বলেছেন দেখলাম। আমার অনুরোধ যে কথাগুলো ভুলে যাবেন না কখনো। এরপরে বাদ-বাকীটা ওস্তাদের হাতে।
ভালো থাকুন, বিন্দাস্ থাকুন।
সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
কথাটা সত্যি শতভাগ। আপনার মতো কেই যখন বলে ভালো লাগে তবে কি জানেন! এত আবেগ ভালো না বোধ হয়। আমি একেবারেই আবগসর্বস্ব মানুষ একটা। এমন মানুষেরা ঠকে, কষ্ট পায় বেশী। তবে আবারো কোন জন্ম থাকলে আমি এমনই হতে চাই, এটাও সত্যি।
খাইছেরে ! এই লেখা কেম্বা কৈরা আমি মিস করলাম ? আমারে তেব্র ধীক্কার !
তো, এই চিঠিটা পাইয়া পোলাটায় কী কৈছে ? অবশ্য আমার সন্দেহ
আছে, মূর্খটায় কিছু বুঝলো কীনা...
মন্তব্য করুন