আমার বাবা
নজরুল ভাই এর পোষ্ট পড়ার পর থেকে মনটা কেমন অস্থির লাগছিলো। পৃথিবীটাই যেন ভুলে গেলাম, শুধু বাবাকে ভাবছি।বাবাকে ঘিরে জীবনের সব স্মৃতি জড়ো হয়েছে বুকের মধ্যে।সব লিখতে গেলে লিখা কি যাবে?যাবে না। বাবাকে ঘিড়েই বুঝতে শিখেছি, বেড়ে উঠেছি, বড় হয়েছি।আমার সবকিছুতে আমার বাবা। বাবা আমার প্রথম বন্ধু। সবচেয়ে কাছের বন্ধু্। আমার বাবা, আমার আদর্শ।আমি জন্মানোর আগে আমার একটা বড় বোন ২ বছর বয়সে মারা যায়। আমার বাবা-মায়ের কলিজা।দুনিয়া অন্ধকার হয় তাদের কাছে। তারপর আমি। আমি বুঝতে শিখার পর দেখেছি সবাই বলতো এত সুন্দর পরীর মতো মেয়ে ছিলো আর এই মেয়েটা তো একেবারে উল্টা। আমার বাবা বলতো, "এ তো আমার মতো হয়েছে। আমি খুব খুশি।"সবাই বলতো, আরেকটা সন্তান দরকার।একটা ছেলে তো দরকার। আমার বাবা বলতো -"কেন? এ আমার ছেলে, মেয়ে, সবকিছু। আমি আল্লাহকে বলেছি আমার মেয়েকে নিয়েছো, আমাকে আরেকটা মেয়ে দাও। আমি এখন খুশি।"সবাই হাসতো। আমি কোথাও একা যেতে পারতাম না। বাবা আমাকে নিয়ে যেতো সব জায়গায়। সব কিছুতে বাবা থাকতো্।
আমার জন্মদিন, পহেলা বৈশাখে কখনো এমন হয়নি যে বাবা আমার জন্য নতুন ড্রেস আনেনি, আইসক্রিম আনেনি।সেই ছোটবেলা থেকে কলেজ পর্যন্ত বাবার হাত ধরে পহেলা বৈশাখে মেলায় গিয়েছি।ঘুরেছি। স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তিতে সারাদিন ঘুরেছি, মনচ নাটক, সিনেমা দেখেছি বাবার সাথে।
ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় প্রথম আমি পহেলা বৈশাখে বন্ধুদের সাথে বেড়াতে গেলাম। কিন্তু আমার বাবার সে কি টেনশন!আমার এক বন্ধু বাসা থেকে এসে নিয়ে গেলো আমাকে। বাবা, চাইছিলো না খুব বেশী সময় বাইরে থাকি, তাই চালাকি করে বললো আমি আসলে দুপুরে খাবে একসাথে।আমাকে ফিরে আসতেই হলো। বাসার সামনে রিক্সায় বসেই দেখলাম, জানালার পাশে বাবা বসে আছে। অফিস থেকে ফিরে যদি দেখতো আমি আসিনি ক্বাসায়,জানালার পাশে বসে থাকতো।আমাদের দুজনের রুমের মাঝখানের দরজাটা রাতে খোলা থাকতো। আমি যদি ঘুমের মধ্যে ভয় পাই, যদি রাতে গায়ের চাদর সরে যায়, যদি বেশী ঘেমে যাই!
প্রায়ই টিভি দেখতে গিয়ে সোফায় ঘুমিয়ে যেতাম। ডাকলে উঠতাম না। আমার চোখ থেকে চশমা খুলে, সোফার সামনে চেয়ার দিয়ে দিত যাতে পড়ে না যাই। পরীক্ষার সময় খেতে চাইতাম না। বাবা ভাত মেখে মুখে দিয়ে পানি হাতে ধরে থাকতো। আমি সবসময় গাইগুই করতাম। মাছের কাঁটা বাছতে পারি না বলে এখনও কাঁটা বেছে দেয় যাতে একটু মাছ খাই।কখনো সেহেরী খাই না রোজার সময়ে। প্রতিরাতে নিজে খেয়ে গ্লাসে দুধ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, আমি চোখ বুঁজে খেয়ে আবার ঘুম।
অনার্স পড়ার সময়ে একবার আমার ভয়াভহ জন্ডিস হলো। ডাক্তার বললো, হাসপাতালে ভর্তি হতে, রেস্ট নিতে হবে, স্যালাইন দিতে হবে। আমার বাবা বললো, আমাকে বাসায় রাখতে চায়।বাবা-মা দুজনেই ছুটি নিলো।কিন্তু বাবা সারাক্ষণ আমার কাছে। বেশীরভাগ সময় ঘুমাতাম, একটু উঠে বসলেই অস্থির হতো। কেন উঠলাম, কোথায় খারাপ লাগছে। দশদিন স্যালাইন দেয়া হলো আমাকে। বাবা হাত ধরে বসে থাকতো।যাতে নড়লে ব্যাথা না পাই। সলিড কিছুই খেতাম না। সব নিজে খাইয়ে দিতো। পাযের আঙ্গুল টেনে দিতো। এমন কত ঘটনা যে আছে!
আমার চাচীরা বলতো, মেয়েকে বড় হতে দাও, শক্ত হতে দাও। ওকে এমন ডিপেনডেন্ট কেন করছো? বাবা হাসতো।আমার বন্ধুরা বলে, এমন বাবা তোর, তুই তো পৃথিবরি সবচেয়ে ভাগ্যবতী মেয়ে। আমি হাসি। আমার বন্ধুরা প্রায় আসতো বাবার সাথে গল্প করতে, চা খেতে। মাঝে মাঝে বাবা নিজেই চা বানাতো।আমি কখনো কিছু রান্না করলে বাবা সবাইকে বলে, এটা জ্যোতি রেঁধেছে। খুব মজা ওর রান্না। আমার মা হাসে শুনে।
আমার ভাই-বোন রা যখন আমার বাবাকে জড়িয়ে ধরে, আদর দেয়, বাবা ওদের আদর করে দেয় আমি মনে মনে বলি"এটা আমার বাবা। শুধু আমার।" আমার ভাইগ্না -ভাগ্নী, ভাতিজা-ভাতিজিদের বাবা আদর করলে আমি গিয়ে বাবাকে ধরি, ওদের বলি"এটা আমার বাবা।" বাবা হাত বাড়িয়ে আমাকেও ধরে।
আমি আল্লাহকে সবসময় বলি, আল্লাহ যেনো আমার বাবা-মাকে আমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখে, সুস্থ রাখে। আমরা তিনজন মিলেই আমাদের পৃথিবী।
বাবাকে আমি শাসন করি যখন লুকিয়ে মিষ্টি খায়, সিগারেট খায়। খুব রেগে যাই। খুব অপরাধীর মতো বাবা হাসে।আমার চোখে পানি আসে। এমন করেই বোধ হয় একটা মেয়ে বাবা-মায়ের মা হয়।
তবে নিজেও অনুতপ্ত হই বাবা-মায়ের একটা স্বপ্ন আমি পূরণ করতে পারি না।আমার বাবা-মা কখনো জোর করে কোন ইচ্ছা চাপিয়ে দেয় না বলেই হয়ত সুযোগ নেই আমি।যখন কেউ বলে আমার কথা, বাবা বলে - আমার মেয়েটা খুব আদরের, মনটা খুব নরম।ওকে জোর করে কিছূ করাতে চাই না। মনে মনে কত যে ক্ষমা চাই!
এমন কাছের, এত ভালো, এতটা ভালোবাসায় কেউ কি কখনো জড়িয়ে রাখবে?কেউ কি এতটা মমতা, আদর নিয়ে তাকিয়ে হাসবে?
বাবা বলে আমি নাকি মাকে বেশী ভালোবাসি। আমি আসলে দুজনকেই রেখেছি বুকের মধ্যে।তাদের নিয়েই তো আমি। যুগ যুগ বেঁচে খাকুক আমার, সবার বাবা-মা।





চলে যাচ্ছিলাম, আবার লগ-ইন করলাম। অসাধারণ হয়েছে। বাবা-মারা বেঁচে থাকুক আমাদের সারাজীবন। সুন্দর হোক তাদের জীবন, যেমনটা আমাদের জীবন সুন্দর করার জন্য তাদের সারাজীবনের চেষ্টা। রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগীরা।
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28933856
নারু, দোযা তো সবসময় করি। আল্লাহকে সবসময় শুধু বাবা-মা র কথা বলি। সব বাবা মায়েরা ভালো থাকুক।
...অসাধারন স্নেহ পাইয়া বড় হৈছেন দেখি...খুবই চমৎকার একজন বাবা আপনার...বাবা-মেয়ার এইরকম টানটা আধুনিক দিনে বিয়া-শাদী হৈয়া গেলেও থাকে, যেইটা ছেলে আর মা, বা ছেলে আর বাবার মাঝে তুলনামূলক ভাবে কম দেখছি...কারন যাই হোক, এইরম দেখছি বেশি আরকি...
এইরকম কাহিনী পড়লে মনে হয়, আমারো একটা মাইয়া থাকবো,্যে এইরকম ভালোবাসবো আমারে...মনডা টানে...
হ এরাম কাহিনী পড়লে মনে হয় আমারো একটা মাইয়া থাকবো, তারে সারাজীবন আগলাইয়া রাখুম।
পোষ্ট পইড়া মন উদাস হইছে আপা।
দোযা করি শাওন, তোমার মেয়ে যেন হয়, সে যেনো তোমার মা হয়। তুমিও এমন লক্ষী বাবা হও।
হুমম .....................
ঘুম পাইছে কবিপা?অনেক রাইত হইছে।
উহু আমি হইলাম টোটালি মাম্মি'স ডটার । মাইর খাইছি আর আহ্লাদ করছি পুরাই মা'র সাথে । বাপের সাথে মাসে দুমাসে একবার কথা হ্য় - তাও স্টাপ্লারের পিন কই টাইপের
নেন আপনারে একটা গান শুনাই । রুপমের --
http://www.youtube.com/watch?v=7OduM-Izg-g
গানের জন্য ধইন্রাপাতা ৫ কেজি।
আমি তো দুইজনেরই ডটার।একজনের কথা কইলে আরেকজন গাল ফুলাইবো। তবে প্রশ্রয় বেশী পাইছি বাবার কাছে।
আপ্নার কপাল কয় আঙ্গুল?
লেখা দুর্দান্ত হইছে!
সোফা থেকে পড়ার কথায় মনে পড়লো, ছোটবেলায় বিছানা যতো বড়ই হতো, আমি গড়িয়ে পড়ে যেতাম। একেবারে ছোটও না, বয়স আট-দশ এরকম। প্রতিদিন পড়ে যেতাম। ঘুম ছিল অসম্ভব ভারি, কিচ্ছু টের পেতাম না। আমি রাতে ঘুমাতাম বিছানায়, সকালে মা ঘুম থেকে জাগাতো মেঝে থেকে। মশারিও বেশ কয়েকটা ছিড়ে যাওয়ার কথা ছিল, আমার ওজনে মশারি ছেড়া কুলায় নাই:P শেষে এসে মা ড্রইং রুমের সেন্টার টেবল বিছানার পাশে দিত, মাঝে মাঝে চেয়ার। তারপর থেকে আর মেঝেতে ঘুমাতে হয় নাই, চেয়ার টেবিলেই ঘুমাইতে পারছি।
আমার ছোটভাই মাঝে মাঝে খাটের থেকে পড়ে খাটের নীচে ঢুকেযাইত তারপর সকাল বেলা চিল্লাইত আমি কোথায় আমি উঠতে পারি না কেন
খাটের নিচে খেলাধূলা তো আমি অনেক ছোটবেলাতে করতাম
, আরেকটু বড় হওয়ার পর ফলস সিলিং এর ওপরে আমার গোপন আস্তানা ছিল
হা হা হা। এইগুলা খুব মজার ঘটনা। সেই দিন কখনো ফিরে আসবে না। ফলস্ সিলিং এ ও ঘুমাবেন না।
আমি একটা ছিঁড়ছিলাম মশারি। খাটের নীচে আমার নানীজানে নারিকেল রাখছিলেন, ঐগুলিরে মড়ার খুলি ভাইবা দিছিলাম চিৎকার, উঠতে গিয়া খাটের তলার তক্তার সাথে কপাল ফুটায় ফেলছিলাম... উফ্ হরিবল অভিজ্ঞতা
হা হা। আপনার ও তো মজার ঘটনা দেখি। আমি এখনও সোফায় ঘুমায়া যাই। আমার বাবা টেবিল টেনে দেয়, কয়েল জ্বালিয়ে দেয়। আমি যখন দূরে থাকি, আমাকে ফোনে সারাদিনের খোঁজ খবর নেয়। কি করি কই যাই, কি খাই।
ভাইরে, কপাল তো ঠিকই আছে।সাড়ে তিন আঙ্গুল দেখলাম এখন।
আমার কপাল আড়াই আঙ্গুল
আহা তাইলে ত ভালোই। আমার মনে হয় কপালে কিছু চুল কমে কপালে জায়গা বাড়ছে।
আয়তন ঠিক থাক্লেও ঘনত্ব কিন্তুক ঠিক নাই
আমার বাবা বিষয়ক কোন সুখ স্মৃতি নাই...
কি যে বলেন! স্মৃতি তো খাকেই। সুখস্মৃতি ও আছে। মনে করেন।
আইচ্ছা বাবা বিষয়ক একটা সুখস্মৃতির নমূনা দেই...
আমার বাপ গেছিলো ভারতে। আমি তখন এক আকাম কইরা কিছুদিন হাজতবাসী হইছিলাম। খুব বড়ো কোন আকাম করনের হিম্মত হয় নাই, কারণ তখন মাত্র ১৩ বছর বয়স, সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি। শবে বরাতের পবিত্র রাত্রী উদযাপনের লেইগা মরিচ বোম বানানের উপাদানসহ ধরা খাইছিলাম পুলিশের হাতে।
তো আমার বাপ ফিরা আসলো যখন আমরা ছুইটা গেলাম তার পানে। ঐ প্রথম আর শেষবার সে আমাগো লেইগা বই কিনছিলো যদ্দূর মনে করতে পারি। তার হাতে একগাদা পূজা সংখ্যা...আনন্দমেলা থেইকা শুরু কইরা আজকাল পর্যন্ত...আর আমার লেইগা একটা বিশেষ উপহার, একটা ক্রিকেট ম্যাচ ব্যাট। হাসি মুখ তার। কিন্তু যেই মা তারে জানাইলো যে আমি শ্বশুরবাড়ি ঘুইরা আসছি, সে একমুহুর্তের লেইগা না ভাইবা আমারে চটাস কইরা মারলো এক চড়।
আমার বাপের যুক্তি করার ক্ষমতা নিয়া আমার চীরকাল অস্বস্তি ছিলো, এখনো আছে। এতো বেশি বিশ্বাসের জায়গা থেইকা কোন কিছু দেখাটারে আমি অপছন্দ করি। মায়ের শিক্ষা। মা কিন্তু ঐ ইনফো হাসতে হাসতেই দিছিলো, বিষয়টা যাতে কৌতুকপূণর্ থাকে তাই সে একটু রস মিশাইয়া শ্বশুরবাড়ি কইছিলো...কিন্তু আমার পুরুষতান্ত্রিক বাপের কলিজাতে সেইটা হইছে তার বিরোধীতার সামিল।
বাবা মারা গেছে প্রায় ১৩ বছর হলো।
হুমমম। এই অভাব পূর হওয়ার না। তবু ভালো থাক।যারা বেঁচে আছেন তারা বেঁচে থাকুক।যুগ যুগ ধরে।
বাবা কি বুঝার আগেই চলে গেল, যতটুকু স্মৃতি বলে মনে করি , তা আসলে অন্যের কাছ থেকে শোনা গল্প - আমার কল্পনায় ছবি হয়ে ভেসে ওঠার মত কিছু একটা।
আমার কাছে বাবা ছিলেন মেহমানের মত একজন, কাছে যেতে লজ্জা পেতাম, দূরে দূরে থাকতাম বাবার কাছ থেকে । বুঝিনি এত আগে চলে যাবে।
২৬ বছর হল , বাবা নাই।
সত্যি দুঃখজনক। কি আর বলবো! এখানে বলার কিছু থাকে না।তবু বলি ভালো থাকেন।অনেক ভালো।
আপনি ভাগ্যবতী ...
হুমমম। মেয়েরা বাবার অনেক আদর পায়।ভাগ্যবতী হয়।
অনেক মায়াঢালা লেখা জয়িতা।
আমার বাবা আমাকে কম যন্ত্রণা দেন নাই, মাশাল্লা আমিও বিস্তর ভোগান্তি দিয়া পোষায় দিছি সব
নুশেরাপু, বেঁচে থাকাটা সত্যি খুব ভালো লাগে কারণ এত মায়া, মমতা পেয়েছি, পাই যে কি বলবো! সব কথা তো লিখা যায় না। তবে আমি অনেক জ্বালাইছি। এটা আমার দোষ না।আসুস্থ হইতাম আর জ্বালাইয়া শেষ করতাম। এখনও করি।
আপনার অপনা সোনাটা কেমন আছে?আদর দিয়েন।
আপনি ভাগ্যবান/বতী।
আহা! আপনার মত বাবাকে নিয়ে আমিও যদি বলতে পারতাম!!
দুজননের মন্তব্য কোট করলাম:
আমার বাবা বিষয়ক কোন সুখ স্মৃতি নাই...
আহা! আপনার মত বাবাকে নিয়ে আমিও যদি বলতে পারতাম!!
তবে আমি রিমঝিমের কাছে তোমার বাবার মত বাবা হইতে চাই। যদিও এখন পর্যন্ত মাকেই ভালবাসে বেশি। স্বীকার করেনা অবশ্য।
রায়হান ভাই, বিশ্বাস করেন লেখার সময় আপনাদের কথা মনে হইছে। ভাবছি আপনারাও এমন বাবা হন। মেয়ের বন্ধু হন।দেখবেন মেয়ের কাছে এত মমতা যেটা ছোটবেলায় মা এর কাছে পেয়েছেন। দোযা করি রিমঝিম আপনার একটা লক্ষী মা হোক।
আমি সত্যি ভাগ্যবতী বোধ হয়।বাবা-মা এমনভাবে বাড়তে দিয়েছে যে জটিলতা ছুঁতে পারেনি। এটা ঠিক না। এরকম মানুষকে হোঁচট খেতে হয়।
আপনিও লিখেন। আপনার মত করে।
কালকেই দেখেছি আপনার লেখাটা, কিন্তু ইচ্ছা করেই পড়িনি। এমনিতেই কাল খুব বাবাক্রান্ত ছিলাম।
আজ পড়তে গিয়ে আবার আক্রান্ত হলাম। তবু ভালো লাগলো খুব আপনার লেখাটা
ধন্যবাদ নজরুল ভাই। আপনার লেখাটা পড়ার পর থেকেই মাথাটা কেমন লাগছিলো। তারপর বাসা থেকে বের হয়ে এই রাতে হাঁটতে হাঁটতে ক্যাম্পাস পর্যন্ত গেলাম। কিন্তু আর না লিখে পারলাম না।
আপনি নিজে তো এখন বাবা। নিধি সোনার বাবা। আপনার বাবা আপনার মধ্যে থাকুক। আপনি নিধির অমন বাবা হোন।
এত সুন্দর লেখা কেমনে লেখলা? বাবা নিয়ে আমি সারাক্ষণ অবসেসড থাকি, বাবা আমার কাছে এক অন্যরকম ভালোলাগার নাম। তোমাদের বাবা মেয়ের এই সম্পর্ককে স্যালুট।
আবেগে ভরপুর লেখা ।
খুব সুন্দর ।
ভাংগার কমেন্ট পইড়া তো হাহাপগে ।
ভালো থাইকো
কিছু কিছু লেখায় কমেন্ট করার মত শব্দ খুঁজে পাইনা...
আপনি অনেক ভাগ্যবতী, আপনার বাবা ভাগ্যবান
আমার বাবা মাকে হারিয়েছি অনেক বছর। মা ৮৮ সালে আর বাবা ২০০২ সালে। নতুন ২ জন বাবা পেয়েছি। আমার ২ ছেলে... মন খারাপ করা লেখা.... তুই খুব ভাগ্যবতীরে....
সবাইকে ধন্যবাদ। কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে , মন খারাপ হলে তার জন্য আমি দুঃখিত।
আসলে সব বাবা-মা ই ছেলেমেয়েদের ভালোবাসেন। বাবা মা এর কাছে পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রিয় তার সন্তান। সন্তানকে সবসময়ই বাবা-মা বুকে আগলে রাখে। সন্তানেরা কখনো বাবা-মা র কাছে বড় হয় না। তবে একেকজন মানুষ একেকভাবে প্রকাশ করে। কারো প্রকাশ চাপা থাকে। তাই বলে ভালোবাসা কমে যায় না। মমতার কোন কমতি হয় না।
সবাই ভালো থাকুক। সবাই বাবা-মা র মমতায় জড়িয়ে থাকুক।
বাবাকে আমরা চার ভাই বোন ভয় পেতাম। এমনিতেই দেখা হতো কম, অফিস করতেন। বাসায় আসলে আমরা থাকতাম দূরে দূরে। বাবা এই রুমে তো আমরা দ্রুত অন্য রুমে চলে যেতেন। আমাদের সময় বাবাকে ভয় পাওয়াটাই ছিল রীতি।
সে সময়ে বাবারাও কি ভয়ের সম্পর্ক রাখতে চাইতেন? কখনো কখনো সেটাই মনে হয়। বাবা মানেই গুরুগম্ভীর একজন, বাবা বাসায় থাকা মানেই ফিসফাস কথাবার্তা।
আমার মনে আছে আমি তখন এইটে পড়ি, আমার খুব জ্বর হয়েছিল। আমার মা বিছানা ঠিক করছিলেন বলে আমার বাবা আমাকে কোলে নিয়েছিলেন। এর বাইরে বাবা আমাদের চার ভাই বোনকে আর কোলে নিয়েছিলেন বলে মনে পড়ে না।
আমার বাবার ভালবাসার প্রকাশ ছিলো না। প্রকাশ কিভাবে করতে হয় আমার বাবা জানতেন না। ঘুমিয়ে গেলে মাথায় হাত বুলাতেন, আমাদের অসুখ হলে গোপনে কাঁদতেন, কিন্তু আমাদের দেখাতেন না। আর তাই আমাদেরও বাবাকে ভালবাসা দেখানোর সুযোগ ছিল না। বাবা ছিলেন আমাদের জন্য দূরের একজন মানুষ, যিনি শুধু আমাদের জন্যই খাটছেন। বলা যায় ঐ সময় নিয়ম ছিল যেন এরকমই, বাবারা খালি বাইরে কাজ করবেন আর বাসায় এসে শাসন করবেন।
আমার বাবা ভুলো মন ছিলেন। ক্যাডেট কলেজ জীবনে একবার প্যারেন্টস ডে তে আমার ছোট ভাইয়ের নাম লিখে বসেছিলেন। নাম পাঠালেই কেবল যেতে হয় যেখানে প্যারেন্টসরা বসে থাকেন। আমার বাবাকে অনেকক্ষন বসে থাকতে হয়েছিল।
সেই বাবাকে কখনো ভালবাসি বলেছি বলে মনে পড়ে না। বোঝার বয়স থেকে বলিনি, যখন বুঝতাম না তখনও বলিনি। বললে সেই গল্প আমার মায়ের কাছ থেকে শুনতাম অবশ্যই।
আমার বাবা আজ নেই। আমার বাসায় এখন আছে আমার নতুন বাবা। আমার ছেলের বয়স এখন ২ বছর ২ মাস। আমার পাশে শোয়া নিয়ে বোনের সঙ্গে প্রতিরাত ঝগড়া করে এবং জিতে যায়। অফিস যাবো বললে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, যাতে যেতে না পারি।
এই তো চারদিন আগে। ছেলেটা হঠাৎ আমার কাছে এসে আমার কানটা টেনে নিয়ে বললো, 'বাবা, আমি তোমাকে ভালবাসি'।
এই জীবনে এতটো অবাক কখনো হয়েছি বলে মনে পড়ে না। আমি মোটামুটি চিৎকার করে সবাইকে জানিয়ে দিলাম তার কীর্তি। আমি মুগ্ধ, বিষ্মিত। এই বয়সে সে কিভাবে বললো আমি সে রহস্য আবিস্কার করতে পারিনি। তাও আবার কানে কানে।
আমার বাবাকে আমি কখনো বলতে পারিনি, 'আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি'। আমার ছেলের এই আক্ষেপ থাকবে না, আমি রাখবো না।
সামুতে দেয়া এই পোস্টটা ছাড়া আর কোনো ভাল মন্তব্য আমি এখানে করতে পারলাম না।
কি যে বলব!মাঝে মাঝেই আমার মন ভিজে যায়, চোখ ভিজে যায়। আমি বিব্রত হই না তাতে।
মাসুম ভাই, আপনি সত্যি ভাগ্যবান। ভালোবাসায় জীবন টা ভরে থাকুক।
জয়িতা, তোমার বাবার মাঝে আমার বাবার ছায়াও দেখতে পেলাম। বাবারা এরকমই হয় হয়তো।
কয়েকদিন ধরে মনটা ভীষন খারাপ।কেন জানিনা সময় অসময় চোখ ভিজে ঝাপসা হইয়ে যায়। এখানকার বন্ধুবান্ধবে কয় আমি নাকি ভং ধরেছি।ব্লগ ফেসবুক ছেড়ে দিতে কয় তাইলে নাকি সব ঠিক হইয়ে যাবে।।কিন্তু আজ আপনার, তাতপুর লেখা গুলো পড়ে আরেকবার চোখ ঝাপসা করে দিলেন।জানিনা এই ভাবে আর কয়দিন কাটাতে হবে.।
আচ্ছা মানুষের পাখা থাকলে কেমন হতো?
মন্তব্য করুন