ইচ্ছে করে একটা বন্দুক নিয়ে বেরিয়ে পড়তে
এই পোস্টটার কোনো ট্যাগ নেই। মনোভাব নামে কোনো ট্যাগ থাকলে, সেটা ব্যবহার করতাম। চলমান বিভিন্ন ঘটনা দেখে আমার এক প্রকার মনোভাব তৈরী হয়েছে। সেটা প্রকাশের জন্য এই পোস্ট।
আরিফ জেবতিক মনে হয় দ্য ববস্ প্রতিযোগিতায় বেস্ট বাংলা ব্লগ ক্যটেগরীতে জয়ী হতে যাচ্ছেন। তিনি ইতোমধ্যে ইউজারদের ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে নি। যেকোন সময় চলে আসতে পারে। ভাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। ব্লগের এ প্রতিযোগিতায় আরো যে দু'জন জয়ী হলে উল্লাসিত হতাম, তারা হচ্ছেন মেহদী হাসান খান ও অমি রহমান পিয়াল। কিন্তু বেস্ট ইউজ অভ টেকনোলজি ক্যটেগরীতে জিতেছে একটি রাশিয়ান টেকি ব্লগ- রসপিল। এটার বদলে আমাদের মেহদী ভাইএর ব্লগটা জয়ী হতে পারতো অনায়াসেই। সাত শতাংশ ভোট ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। বেস্ট সোশ্যাল এ্যক্টিভিজম ক্যম্পেইন ক্যটেগরীতে জিতেছে মিসরের ফেসবুক পেইজ- উই আর খালেদ সাঈদ। এ পেইজটিকে মিসরের গণআন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে ধরা হয়। ২০১০ সালের ৬ জুন আলেকজান্দ্রিয়া শহরের রাস্তায় ২৮ বছর বয়সী যুবক খালেদ সাঈদকে পিটিয়ে হত্যা করে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দাঁনা বাঁধতে শুরু করে সরকারবিরোধী আন্দোলন। মানুষ দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ নিয়ে নেমে আসে রাস্তায়। সবশেষে এ বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় মিসরের ২০ বছরের স্বৈরশাসক মোবারক। সেই হিসাবে বেস্ট সোশ্যাল এ্যক্টিভিজম ক্যম্পেইন ক্যটেগরীতে এই ব্লগের/ পেইজের বিজয়ী হওয়াটা অপ্রত্যাশিত ছিলো না আসলে। যদিও পিয়াল ভাই আমার খুবই পছন্দের একজন ব্লগার। এ দুই ক্যটেগরী ছাড়াও রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স এ্যওয়ার্ডে বাংলাভাষী ব্লগার আবু সুফিয়ান ভালো সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। এগিয়ে ছিলেন গতকাল রাত পর্যন্তও। তার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে লেখালেখি চারিদিকে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছিল। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর উল্লিখিত তিনজনের কেউ'ই বিজয়ী হতে পারেন নি ঠিকই। কিন্তু বাংলাভাষী ব্লগার হিসেবে আমাদের সবার জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন। অশেষ কৃতজ্ঞতা রইলো এ তিনজনের প্রতি।
দুঃখের কথা হচ্ছে, প্রতিটি ভালো'র সঙ্গে সবসময় খারাপ যুগপৎভাবে মিশে থাকে। ব্লগের এই প্রতিযোগিতায় আরো যে একজন জয়ী হবেন বলে আশা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলাম তিনি হেরে গেছেন। তিনি আমাদের চিটাগাংএর ব্লগার সাবরিনা।
দ্য ববস্ প্রতিযোগিতার খুবই আকর্ষণীয় একটি ক্যটেগরী ছিলো বেস্ট ব্লগ। সাবরিনা এখানে একটি পার্সিয়ান কার্টুনিস্ট মেয়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। গতকাল রাত পর্যন্ত পার্সিয়ান মেয়েটি বেশ পিছিয়ে ছিলো। যে কারণে তার কার্টুনগুলো দেখতে ভালোও লাগছিলো। তবে শেষরাতের মারের কল্যাণে এই মেয়েটি দুই শতাংশ ভোট বেশি পেয়ে এগিয়ে গেছে। অবশ্য তাতে জুরিদের মন ওঠে নি। শেষতক বিজয়ী হয়েছে 'আ তিউনিশিয়ান গার্ল' ব্লগটি।
এখানে একটা আশংকার কথা হচ্ছে, সাবরিনা'র প্রতিদ্বন্দ্বিকে ভোট দিয়েছে অনেক বাংলাভাষী ব্লগার- আজ সারাদিন এমন গুজব বাতাসে ভালোভাবেই ভেসেছে। আমি চাই শেষপর্যন্ত এটা একটা গুজব হিসেবেই প্রমাণিত হোক। আমাদের দেশে '৭১-এ একবার রাজাকার শ্রেণী জন্মেছিলো। তারা ও তাদের স্যঙাতেরা মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদারবাহিনীকে সাহায্য এবং নানাসময় তাদের কাজ করেছে। সরাসরি অংশ নিয়েছে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, কর্ণেল তাহের হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস ঘটনায়। চাই না, এমন আর কোনো শ্রেণী আবারো এদেশে তৈরী হোক। তাহলে জনসমক্ষে তাদেরকে উলঙ্গ করে পশ্চাদ্দেশে বেত্রাঘাতের ব্যবস্থা করা হইবেক।
সবশেষে সাবরিনা'কে অভিনন্দন। তিনি না জিতেও জয়ী। আজ তার কথা ছড়িয়ে পড়েছে দূর-দূরান্তে। চূড়ান্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি যে অসাধারণ সম্মান আমাদের জন্য বয়ে এনেছেন, তা অচিন্ত্যনীয়। তাঁর জন্য বরাদ্দ করা হলো শুভেচ্ছা নিরন্তর।
---





আমার কাছে এই ব্লগ কম্পিটিশনের আইডিয়াটা খুব সুবিধার মনে হয়নাই।
তবে পিয়াল ও জেবতিক এর লেখা পছন্দ করি।
আইডিয়াটা আসলেও সুবিধার না। নানাকারণে।
তারপরেও একটা সিস্টেমের চর্চা চলতে পারে। কারণ শুরুটা শুরু হওয়া দরকার আগে। আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, আগামী দু'তিন বছরের মধ্যেই ব্লগ কম্পিটিশনটা একটা বৈশ্বিক চেহারা নেবে।
গুজবের খবরটা কোথায় পাইলেন?
আরিফ ভাইএর পোস্ট আছে আমার ব্লগে।
সাবরিনার ব্লগ আমি পড়িনি, তবে যারা তাকে ভোট দিচ্ছে বা ভোট চাইছে সবাইকেই মনে হইছে সাবরিনা প্রতিবন্ধী এইজন্যেই ভোট চাইছে। এটা এক ধরণের করুণা প্রদর্শন মনে হইছে আমার কাছে।
লাইক!
নোপ্। আমি এরকম মনে করি না। তার শারীরিক অক্ষমতা লেখার মধ্যে আলাদা কোনো বিশেষত্ব যোগ করে নি। ব্লগ প্রতিযোগিতায় যারা জিতছেন, তাদের চেয়েও ভালো ব্লগার যে বাঙালিদের মধ্যে আছেন; এ কথা স্বীকার করেন জয়ীরাই। সুতরাং সাবরিনার বিজয়ী হওয়াটা আমার কাছে কষ্টকর নয়। সমীচিন মনে হয় না, বেস্ট ব্লগ ক্যটেগরীতে তাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দেয়া।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমি গণতান্ত্রিক ভোটপদ্ধতিতে বিশ্বাসী না, যেমন মাইনরিটিদের অধিকার বা এফারমেটিভ একশান। সেজন্য ব্লগ প্রতিযোগীতাও পছন্দ না। তবুও ভোট দিয়েছি কয়েকজন পছন্দের ব্লগারকে।
সাবরিনাকে নিয়ে ফেসবুকে যে কয়জনকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাইতে দেখেছি, সবাই সে যে প্রতিবন্ধী সেটা উল্লেখ করেছে, অথচ সেটা অপ্রাসংগিক। সাবরিনার বিজয়ী হওয়াটা কেন, কারো বিজয়ী হওয়াই আমার কাছে কষ্টকর নয়। সাবরিনা তার ব্লগের কন্টেন্ট, লেখার মান ইত্যাদির জন্য জয়ী হলে আমি খুশিই হব, কিন্তু প্রতিবন্ধী বলে করুনা করে জিতানোটা আমার পছন্দ না। এতে তাকে সহ সকল প্রতিবন্ধীকে ছোটাই করা হয়।
"সমীচিন মনে হয় না, বেস্ট ব্লগ ক্যটেগরীতে তাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দেয়া।" এটা কেন বলছেন মীর? আমি আপনার এই লাইনটা বুঝতে পারিনি।
কে কি বলসে জানি না, কিন্তু আমি শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে ফ্যক্টর হিসাবে মানতে রাজি না। বেস্ট ব্লগ ক্যটেগরীতে সাবরিনাই জিততে পারতো। হয়তো আমরা আরেকটু চেষ্টা চালালেই।
আর বাঙালি যারা সাবরিনার প্রতিপক্ষকে ভোট দিয়েছে তাদের ব্যপারে আসলে বলার কিছু নাই।
সাবরিনা-র ব্লগের জন্য ভোট চাইয়া ক্যামপেইন যতগুলা দেখলাম সেইখানে তার প্রতিবন্ধীত্ব কেই গুরুত্ব দেয়া হইছে। বাংলাদেশী ব্লগার, দেশের জন্য ভোট দিন এইরকম কোন প্রচারনা চোখে পড়েনাই। আর দেশের জন্য ভোট দেয়াটাও আমি এই ক্ষেত্রে সমর্থন করিনা, কারন দেশী-বিদেশী সবধরনের মানুষের ব্লগ আমি পড়ি, এখন একজন বিদেশী ব্লগারের ব্লগ যদি দেশী কারো ব্লগের থেকে ভাল মনে হয় আমার কাছে, আমি অবশ্যই বিদেশী ব্লগারকেই ভোটটা দিব, এইক্ষেত্রে দেখতে যাবনা কার পাসপোর্ট কোনখানকার। তবে সেইটা আলাদা ব্যাপার, আমার মতে বেস্ট ব্লগের প্রতিযোগীতায় শুধুমাত্র ইংরেজী ভাষার ব্লগের মনোনয়ন দেয়া উচিৎ। বাংলা ভাষার একটা ব্লগের সাথে পারসিয়ান একটা ব্লগ কমপিট করতেছে এই ব্যাপারটাই আজব।
ইহ্ আসছে মহল্লায় একজন ব্লগপড়ুয়া। আপনে আমার সবগুলা লেখা পড়সেন? মাইনষের ব্লগে ব্লগে ঘুইরা বেড়ান

আর সবাইরে নিজের মতো ইংরেজী সাহিত্যের স্টুডেন্ট মনে করেন ক্যান? আপনের ভাষায় এক্টা ব্লগ ছিলো। সেটা জিতে নাই। অন্য ভাষার একটা ব্লগ জিতসে। এখন কার লাভ হইলো?
আবার টান দিসে দেশের কথা। মাথায় বাড়ি দেয়া দরকার
যদিও আমি ইলেকশনে ফেলটু খাইসি তবুও বলি এ ব্যাপারে আমি মীরের সাথে একমত। আমি নিউজিল্যান্ড ভালো ক্রিকেট খেলে জানা সত্বেও যেমন বাংলাদেশের সাপোর্টার তেমন যেই ভালো ব্লগাক আমি বাংগালী ব্লগারের সাপোর্টার। তিনি প্রতিবন্ধী হন আর নাই হন
ব্লগ প্রতিযোগিতা ব্যাপারটা গতবারও ভালো লাগেনি, এবারও লাগছে না ।
গতবার দেখি নাই বস্। আপনি কেমন আছেন?
ভালো আছি বস
গতবার একটা ব্লগ থেকে বিভিন্নভাবে এই প্রতিযোগিতার বিরোধীতা করা হয়েছিলো বলে মনে পড়ছে। এমনকী সেখানের মূল কিছু ব্লগার গতবারের বিজেতা যেন পুরস্কার নিতে না যান, বা পুরস্কার নিলে যে তার আদর্শ চ্যূতি হচ্ছে এমনও কিছু বলেছিলেন। এবার আবার অন্য সিনারিও।
ব্লগের অনেক কিছুই আমি বুঝিই না দুই বছর সক্রিয় থাকার পরেও !
সাবরিনার শারিরীক অসামর্থের কারণে তিনি সিম্প্যাথি ভোট পান, এই আশায় আমি অন্তত উনার ক্যাম্পেইন করিনি। সাবরিনার লেখার মান আমার কাছে যথেষ্ট ভালো মনে হয়েছে, উনি বাংলাভাষার সেরা ব্লগ হিসেবে পুরস্কার পাওয়ার অন্যতম দাবিদার। আমি তালিকা করলে সাবরিনার নাম সে তালিকায় থাকবে।
-
সাবরিনাকে নিয়ে ক্যাম্পেইন শুরু করেছিলাম আমি। সেই ক্যাম্পেইনের কারণটা বলতে চাই। সাবরিনার বিজয়ী হওয়াকে আমি গুরুত্ব দিয়েছি তার 'কজ' এর জন্য। তিনি শারিরীক প্রতিবন্ধকতার জন্য কান্নাকাটি ব্লগ লিখেন না, এবং তিনি ছড়া-কবিতা-ভাত খাইছি-বিলাই মারছি মার্কা ব্লগ লিখেন না।
তিনি লেখালেখিকে আশ্রয় করে শারিরীক ভাবে দূর্ভাগা মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়েন। আই রিপিটি, তিনি সিম্প্যাথি চান না, অধিকার আদায়ের জন্য লড়েন।
তার এই মনোভাবকে আমি স্যালুট জানাই। আমি মনে করি এই উদ্যোগ ও উদ্যম পুরস্কারের যোগ্য।
ব্লগ পুরস্কার কোনো সাহিত্য পুরস্কার নয়, আমি এখানে সাহিত্যমান যাচাই করতে বসি না। সাহিত্য মান যাচাই করতে বসলে আমি চোখ বন্ধ করে আহমাদ মোস্তফা কামালের নাম এই প্রতিযোগিতায় জমা দিতাম।
আমি বিশ্বাস করি সাবরিনা যে অধিকার আদায়ের জন্য লড়েন, অনলাইন থেকে শুরু করে তিনি যখন স্টেডিয়ামে গিয়ে শারিরীকভাবে চ্যালেঞ্জড লোকদের সুবিধা আছে কি না তা সরেজমিনে পরীক্ষা করেন, আরো মানুষদেরকে তার 'কজ' এর সঙ্গে জড়িয়ে নেন অনলাইনকে আশ্রয় করেই, তখন তিনি শুধু ব্যক্তি সাবরিনা থাকেন না, তিনি আসলে নেট এক্টিভিজমের এক অনুপম দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেন।
সাবরিনার এই সংগ্রাম তাই স্যালুটযোগ্য। আমি অন্তত তা-ই বিশ্বাস করি।
আরিফ ভাই আপনে উত্তেজিত হইয়া প্রথমেই একটা ভুল কথা বললেন। ভাত খাইছি-ঘুমাইছি-ব্লগাইছি-ঢিলাইছি ইত্যাদি যা ইচ্ছা নিয়া যে কেউ ব্লগ লিখতে পারে। ব্লগ মানেই এ্যাকটিভিজম হইতে হবে তা কিন্তু না। বলার স্বাধীনতা আছে এইখানে, কেউ নিজের কথা লিখবে, কেউ জনমানুষের কথা লিখবে, কারোটারেই ছোট কইরা দেখার কিছু নাই।
সাবরিনার ব্লগ আমি তেমন একটা পড়িনাই। তবে স্টেডিয়ামের পোস্টটা আমি দেখছি। সে যেইটা বলছে সেইটা একদম ঠিক, বাংলাদেশের কোথাও চলাফেরায় অসুবিধা আছে এমন মানুষদের জন্য কোনরকম সুযোগ সুবিধা নাই। তিনি ব্লগের মাধ্যমে সবাইকে এই ব্যাপারে সচেতন করার চেষ্টা করতেছেন, বাস্তবে কি করেন আমি জানিনা, কিন্তু অনুমান করতে পারি এইরকম সচেতনতা ক্যামপেইনের সাথে তিনি বাস্তবিক-ই যুক্ত।
কিন্তু কথা হইল এই কারনেই তাকে আমি আমার ভোট টা কিভাবে দিব? এইটা বেস্ট ব্লগার নির্বাচন, বেস্ট সোশাল এ্যাকটিভিজম ক্যামপেইন ব্লগ নির্বাচন না। আবার ভাল ব্লগ মানে যদি শুধু এ্যাকটিভিজম ব্লগ হয় (যেইটা আপনার কথা শুইনা মনে হইতেছে) তাইলে এ্যাকটিভিজম নামে একটা ক্যাটেগরি রাখার কারনটা কি? তার লেখা আমি পড়িনাই, তার লেখার কন্টেন্ট ভাল, কিন্তু সেইটা নিয়ে বিরাট কোন এ্যাকটিভ ক্যামপেইনের কথা আমার কানে আসেনাই, তিনি আমার কাছে পরিচিত না। এখন তাকে নিয়ে প্রচারনার শুরুতেই আমি জানলাম তিনি একজন 'প্রতিবন্ধি'। তারপর শুরু হইল সিমপ্যাথি প্রচারনা। আপনি করেননাই বলতেছেন, কিন্তু আপনার নোটের পুরাটা জুড়েই তো প্রতিবন্ধিদের জন্য সিমপ্যাথির ছড়াছড়ি! তবে আপনি বলেননাই যে বেচারী এত কষ্ট করে ব্লগায় তাই ওরে ভোট দিয়েন আপনেরা। কিন্তু এইরকম প্রচারনা চলছে। আর এই প্রচারনায় সাবরিনার কোন ভূমিকাই নাই, যথারিতী কিছু মানুষের অতিউৎসাহে এই প্রচারনা চলছে। তাই যখন বলা হইতেছে সাবরিনার জন্য সিমপ্যাথি ভোট চাওয়া হইছে সেইখানে সাবরিনাকে ছোট করার কিছুনাই। বরং যারা তার জন্য সিমপ্যাথি ভোট চাইতেছিল, তাদের কাজকর্মে সাবরিনা একটু রেগে যাইতেই পারেন বইলা আমার মনে হয়।
১. খিকজ্! না, আমি উত্তেজিত হইনি। ব্লগে যারা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে জানেন, তারা স্বাক্ষী দিবেন যে ব্লগীয় বাহাসে আমি কখনোই উত্তেজিত হই না।
২. ভাতখাইছি-বিলাই মারছি জাতীয় লেখালেখিকে আমি নিরুৎসাহিত করছি না, আমি নিজেও হরদম ওগুলো লিখি।
আমি বলতে চাইছি যে একজন এরকম গড়পড়তা ব্লগিং করে, কিন্তু সে শারিরীক ভাবে অন্যদের তুলনায় কম সক্ষম, এ কারণে তাকে ভোট দেয়ার কথা না এটি। দুইজন কবিতা লিখে, কিন্তু একজনের একটা চোখ নেই, সুতরাং দুই কবির মাঝে চোখ না থাকা কবিকেই ভোট দিলাম; এরকম হলে সিম্প্যাথি ভোট হয় ওটা।
তাঁকে ভোট দিচ্ছি কারণ সে ব্লগের মাধ্যমে একটা জনমত তৈরি করতে চেষ্টা করছে, এই চেষ্টাটার কারণে আমি মনে করি যে তার পুরস্কার পাওয়া উচিত। এখানে ব্লগার নিজে শারিরীক ভাবে সমর্থ কি না সেটার চাইতেও বড় হচ্ছে ব্লগার কী লিখছেন।
আসলে পুরস্কারও না ব্যাপারটা, এই পুরস্কারের সুবাদে তাঁর প্রচারণা পাওয়া উচিত। আমি যদি দুনিয়ার সেরা ব্লগার হই, তাহলে সেখানে লাভ হবে আমার একার; সাবরিনা যদি সেরা ব্লগার হন, তাহলে মিডিয়ায় যে প্রচার পাবেন, সেই প্রচারে লাভ হবে এদেশের প্রতিবন্ধীদের। আমরা তাদের বিষয়টা নিয়ে আরেকবার ভাবব।
এই পয়েন্ট থেকে আমি সাবরিনার ক্যাম্পেইনে জড়িয়েছি।
৩. কথা হচ্ছে আপনি এ কারণে তাকে ভোট দেবেন কেন? সেটা আপনার ব্যক্তিগত মতামত। এক্টিভিজমের বাইরেও যদি বিবেচনা করতে হয়, আমি আগেই বলেছি, শুধু লেখার মানের কারণে তালিকা করলেও আমার তালিকায় সাবরিনার নাম থাকবে।
ব্লগ প্রতিযোগিতা, ভোটাভুটির সিস্টেম মোটেই ভালো লাগেনি।
অনেক কিছু জানলাম।
মন্তব্য করুন