গল্প: বিলের পদ্মফুলের ক্ষেত্রে হয়তো প্রাসঙ্গিক
একটা দারুণ ব্লগ ছিলো। সেখানে ছিলো চাঁদের হাট। এক অনন্ত রাতের গভীর আকাশে বসেছিলো ভরাপূর্ণিমার চাঁদের হাট। আমি ছিলাম সেই ব্লগটার মডারেটর। লোকজনকে বলা ছিলো, কোনো গণ্ডগোল করা চলবে না। লোকজন কোনো গণ্ডগোল করতো না। তারা খুবই মজা করতো। আমি চুপ-চাপ বসে দেখতাম, সবাই কি করে। কারণ এই কাজটাই ছিলো সবচে' সহজ। এটা করতে গিয়ে আমি ভাবনার কাজটাও চালিয়ে নিতে পারতাম পুরোদমে। কোনো কিছু নিয়ে ভাবা হচ্ছে আমার প্রথম কাজ। এবং আমি ঠিক করেছি কখনো জীবনে কোনো কাজ করবো না। কেবল ভাববো। একেকজন মানুষ একেকভাবে চিন্তা করতেই পারে। তাই না? ইনটু দ্য ওয়াইল্ডে কি দেখাইসে?
নিয়া যখন একটা পোস্ট দিতো তখন আমি মাঝে মাঝে কয়েকজনের কমেন্ট সাময়িক বন্ধ করে দিতাম। ওরা আক্রোশে লাফালাফি ঝাপাঝাপি করতো। আমাকে কাঁচা চিবিয়ে খেতে চাইতো। কিন্তু কোনোকিছুতেই আমি ওদেরকে নিয়ার ব্লগে কমেন্ট করতে দিতাম না।
সেইখানে আমি নিজেও ব্লগিং করতাম। ছোট-খাটো গল্প লিখতাম। মানুষ অবশ্য মডারেটর হিসাবে পাত্তা দিতো না। খুবই আফসুসের কথা। নিয়ার লেখাগুলোয় প্রথমে কয়েকটা কমেন্ট আমি একা একা করতাম। ওকে আসলে সবাই'ই ফার্স্ট কমেন্ট করতে চাইতো।
তবে ওর একজন পছন্দের সাহিত্যিক ছিলো। তাকে নিয়ে কেউ একটু খোঁচা দিলেই মেয়েটির মুখ কাঁদো কাঁদো হয়ে যেতো। তখন ওকে অনেক মিষ্টি লাগতো। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করেই কবিকে খোঁচানো হতো। এটা ছিলো আমাদের মজার একটা খেলা। ভালবাসার অত্যাচারটা সবাইকেই প্রায় সমান সহ্য করতে হতো।
আনন্দের ব্যস্ত যজ্ঞে এভাবেই আমাদের কেটে যেত একেকটি দিন। এ যেন বাস্তব জীবনের কোলাহল থেকে বেরিয়ে এসে এ্যকুরিয়ামের সোনালী মাছেদের জগতে মিশে যাওয়া। আমরা খুবই এনজয় করতাম সময়টা। সবাই সবসময় সময় দিতে পারতো না। কিন্তু তাতে কোনো অসুবিধা হতো না। বরং কেউ একটু ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলেই তার সঙ্গে দুষ্টামী করার একটা উপলক্ষ্য মিলে যেতো।
সেখানে একবার নোংরা একটা লোক এসে ঢুকে পড়লো। এসে নিজের ব্লগ থেকে নোংরামির বিষবাষ্প ছাড়তে লাগলো। যখন টেকা মুশকিল হয়ে গেল, ইতরটা ব্লগের মেয়েদের যা তা বলা শুরু করলো; তখন তাকে ঘাড় ধরে বের করে দিলাম।
তাতে আপদ গেলো না। সে পরপর আরো দুইটা নিক নিয়ে হাজির হয়ে একই কাজ করেছিলো। দুই নম্বর নিকটাকেও ব্লক করে দেয়ার পর আমি ক'দিন ব্লগের সদস্যপদ বিতরণে একটু কড়াকড়ি করেছিলাম।
কিন্তু ওপেন প্ল্যটফর্মে কি আর সেটা পারা যায়? কত মানুষের ইচ্ছে করে আমাদের চমৎকার পরিবেশটায় এসে জিরিয়ে নেয়ার জন্য। প্রতিদিন তাদের আবেদনগুলো আমার ইনবক্সে জমা হওয়া শুরু করে। অনেক যাচাই-বাছাই করে একেকটা নিককে অনুমতি দেয়ার কাজটা তাই আস্তে আস্তে কঠিন হয়ে আসছিলো।
এই সময়ে নোংরা লোকটা অন্যান্য ব্লগে গিয়ে আমাদের ব্লগটার দুর্নাম রটাতে লাগলো। তাতে লাভ হলো না। সব জায়গায় ওই নিকটা ধীরে ধীরে অপাঙক্তেয় হয়ে উঠলো। এক সময় দেখলাম ধীরে ধীরে সেটা ইনএ্যকটিভ হয়ে পড়েছে। আমি তখন আমাদের ব্লগে রেজিস্ট্রেশনের কড়াকড়ি উঠিয়ে দিলাম।
সে সময় নিয়ার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বেশ ভালো যাচ্ছিলো। আমরা দু'জনের ব্লগে খুব গোপন একটা কাজ করতাম। প্রায় বাম হাতও জানে না এমন গোপনে। মাঝে মাঝে তো কাজটা যে আমি করতাম সেটাই বিশ্বাস হতো না। নিয়া নিজেও হয়তো আমার মতোনই ধাঁধাঁয় পড়ে যেতো মাঝে মাঝে।
অবশ্য অন্যরাও সবাই কিছু না কিছু করছিলোই। কেউ হয়তো অনবরত গল্প আর গদ্য লিখে লিখে হয়রান হয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু কারো ভ্রুক্ষেপ ছিলো না তার প্রতি। আবার কেউ হয়তো কবিতাই লিখতো, আর সারাদিন কেবল কবিতাই লিখতো। তার কবিতাগুলো পড়ে পড়ে সবাই মুগ্ধ হয়ে থাকতো। সিরিয়াস ধরনের কবিমানুষ। আমি তার সঙ্গেও দু'চারটে পর্যন্ত কথার পিঠে কথা চালিয়ে যেতাম। আসলে আমি ছোটবেলা থেকেই ছিলাম বাচাল প্রকৃতির ছেলে। কারো সঙ্গে কথা বলার সুযোগ সহজে ছাড়তাম না। একবার কথা শুরু হলে সহজে থামতামও না। এটা ছাড়া আমার আর কোনো বড় ত্রুটি নেই।
নতুন নিবন্ধন পাওয়া একটা লোককে সে সময় দেখতাম ছোট ছোট লেখা দিতো, বেশ ভালোই। একটু রোম্যান্টিক, একটু ডিসক্রিপটিক, ছোট ছোট মেটাফরের মোক্ষম প্রয়োগ- বেশ ভালো লাগতো পড়তে। কিন্তু লেখা খুব বেশি বড় হতো না। এবং ওর ব্যপারে প্রাথমিক এ্যনালিসিস-লগে আমি যা লিখে রেখেছিলাম সেটা অনেকদিন পড়ে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। একটা মানুষ কেমন সেটা ফার্স্ট ইম্প্রেশনে চোখে পড়বেই। কোনো না কোনোভাবে। আমি লিখেছিলাম, লোকটা কমেন্টের জবাবও দিচ্ছে ছোট ছোট। যেন কিসের একটা ভয়, সবসময়; কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। এমন বিনীত থাকা উচিত ছিলো নোংরা লোকটার।
ইন দ্য মীন টাইম, বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেল। প্রথম লেখা লাইনগুলো আমি ভুলেই গেলাম ব্লগ চালানোর চাপে। আর প্রতিদিনই সবার সম্পর্কে কিছু না কিছু নোট করছি। তার সবগুলোয় চোখ বুলানোর সময়ই তো পরে আর পাই না। একটা বিশেষ বিষয় ছিলো, আল্লার ২৪টা ঘন্টাই ব্লগে কোনো না কোনো ব্লগার থাকতোই। এক মূহূর্তের বিরাম ছিলো না যন্ত্রটার। আমার লোক-বল অনেক কম ছিলো। তাই চাপ সামলানোর দায়িত্বটা অনেক বেশি ছিলো।
এরই মধ্যে নতুন লোকটা একদিন আমাদের ব্লগীয় আড্ডায় দেখা করতে আসলো। আসলে লোকটার লেখালেখি দিন-দিন সবার কাছেই অল্পবিস্তর পছন্দসই হয়ে উঠছিলো। সেগুলোকে প্রেমের ভেলায় ভেসে ভেসে লেখা পোস্ট বলে মনে হতো। অথচ তার প্রেমের পোস্টগুলোর কোথাও নারী-পুরুষের কথা বলা নেই। মাঝে মাঝে ধোঁকা খেয়েও আমি নিশ্চিত জানতাম, কোনো এক সার্বিক প্রেমের কথা বলে যাচ্ছে এই ব্লগার।
লোকটা দেখতে মন্দও ছিলো না, ভালোও ছিলো না। মাঝামাঝি টাইপ একটা লোক, যাকে দেখে আলাদা কোনো অনুভূতি জাগে না। আবার তার উপস্থিতি বিশেষ কোনো সমস্যাও তৈরী করে না। সেবার পরপর দু'দিন ব্লগারদের আড্ডা হলো। দু'দিনই লোকটা এসেছিলো। হাসিমুখে সবার সঙ্গে আড্ডা দিয়ে গেছে। দ্বিতীয়দিন আড্ডার পর রাতে বাসায় এসে ব্লগে খুট-খাট করছি, হঠাৎ একটা বিষয় চোখে ধরা পড়লো। নতুন লোকটার আইপি আর নোংরা লোকটার পুরোনো একটা আইপি'তে মিল দেখা যাচ্ছে।
সাধারণত পূর্ণ সদস্যপদ দেয়ার ক্ষেত্রে একজন ব্লগারের একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যবহৃত আইপিগুলোর একটা তালিকা করতাম। সেটায় খেয়াল করতাম, পুরোনো কোনো তাড়িয়ে দেয়া সদস্যের আইপি থেকে- নতুন কোনো নিক এন্ট্রি করছে কি না।
সেরকম মিল একটা পেলেও আর অনুমতি দিতাম না। নতুন লোকটা অনেকদিন পর্যন্ত পুরোনো আইপি ব্যবহার করে নি। আজ ও কেন সেটা ব্যবহার করেছিলো কে জানে। কিন্তু আমার চোখ থেকে বিষয়টা এড়ালো না। আমি নিশ্চিত হওয়ার জন্য নতুন লোকটার ই-মেইল হেডার চেক করলাম। ই-মেইল এড্রেসটা ভালো করে খেয়াল করতে গিয়েই একটা মিল পেয়ে গেলাম।
আমি রাতের প্রায় শেষ প্রহরে পুরোনো একটা আইপি থেকে লগ ইন হয়ে থাকা নোংরা লোকটাকে নতুন গ্রহণযোগ্য একটা নামে দেখতে পেয়ে একটা বিপজ্জনক কথাই কেবল ভাবছিলাম, অন্তর্জালে কি সবাই'ই শেষ পর্যন্ত বন্ধু হয়ে উঠতে পারে?
---





মাত্র একটা গল্প লিখে মন উঠলো না। এবার একটা প্রিয় কবিতা দিই।
যদি ভালোবাসা পাই
রফিক আজাদ
যদি ভালোবাসা পাই আবার শুধরে নেবো
জীবনের ভুলগুলি;
যদি ভালোবাসা পাই ব্যাপক দীর্ঘ পথে
তুলে নেবো ঝোলাঝুলি
যদি ভালোবাসা পাই শীতের রাতের শেষে
মখমল দিন পাবো
যদি ভালোবাসা পাই পাহাড় ডিঙ্গাবো আর
সমুদ্র সাঁতরাবো
যদি ভালোবাসা পাই আমার আকাশ হবে
দ্রুত শরতের নীল
যদি ভালোবাসা পাই জীবনে আমিও পাবো
মধ্য অন্ত্য মিল।
যদি ভালোবাসা পাই আবার শুধরে নেবো
জীবনের ভুলগুলি
যদি ভালোবাসা পাই শিল্প-দীর্ঘ পথে
বয়ে যাবো কাঁথাগুলি।
অডিও'ও হোক।
এই কবিতার মাজেজা কী
এইটা দারুণ কবিতা--দারুণস বলা উচিত।
আমার পছন্দের একটা কবিতা।
এ তো দেখি ব্লগের গল্প!!!! ম্রাত্মক
আমি জানি কীসের গন্ধ্য পাচ্ছি...
কিছুই বুঝলাম না ।
বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদুর।
গল্পের আবডালে সত্যকথন ভালো হয়ছে।চালিয়ে যাও।
গল্পের আবডালে সত্যকথন... হ.
...
গল্পটা চমৎকার হইছে...
গল্প চমৎকার হইসে।
ব্লগের ব্যাপার স্যাপার বুঝি না, তাই গল্পও বুঝিনি। তবে পড়তে ভালো লেগেছে...
পোস্টের নীচে 'চলবে' না পাইয়া মন খারাপ হইল
.
=======
" " প্রায় বাম হাতও জানে না এমন গোপনে।" " ... চাক্কু মাইরা দিলেন

তুমি যে মডু সেটা আমার আগেই ক্যান জানি সন্দ হইতেছিল
তুমি যেটা ভাবতেছো, সেটা আমারও ক্যান জানি মনে দুলা দিচ্ছিল, তবে কেউ ভালু হইতে চাইলে তারে সুযোগ দেয়া যাক, পাপকে ঘৃনা করিও, পাপিকে নয় ..................
এটার পরের পর্ব কবে আসপে?
কাহিনী কী?
মজার কাহিনী। মীরকে
---পারে না।
মন্তব্য করুন