ইউজার লগইন

কবিতা: বিষয়বস্তু মৃত্যু

বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল '৭১-এর নির্বাহী প্রযোজক তানভীর জাহিদ নয়ন, তার বন্ধু জামিল লিপু ও বন্ধুপত্নী আসমা আক্তার হীরা পুকুরে ডুবে মারা গেছেন। সঙ্গে থাকা সুবর্ণা সেঁজুতি টুসি (নয়নের স্ত্রী) বেঁচে গেছেন। কিছুদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় অপার সম্ভাবনাময় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ মারা গেলেন। পাশে থাকা স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ বেঁচে রইলেন। এই বেঁচে থাকা মানুষগুলোর কষ্ট অবর্ণনীয়। দেখলে চোখ ভিজে আসে। এই অনুভূতির নাম ভয়। এই অবস্থার নাম, নিজের আশপাশে এমন মত্যুর ছোবল কিভাবে সহ্য করবো- সে ভয়ের আঁকড়ে ধরা।
মৃত্যু কখন কিভাবে কার দরোজায় টোকা দেবে তা আমরা কেউ জানি না। এই একটা ঘটনা মানুষের আশপাশে মহাজাগতিক স্প্ল্যাশ-এর মতো আলোড়ন তৈরি করে। প্রতিনিয়ত সে ফোঁটাগুলো পড়ছে। পৃথিবী নামক পুকুরটিতে। যার দু'চারটা এসে ঝাপটা দিয়ে যায় আমার চোখে-মুখেও। মনে করিয়ে দিয়ে যায়- আজ না হোক, কাল আমিও চলে যাবো এখান থেকে।
তবুওতো অপরাধবোধ কমে না। এ পৃথিবীর কারো কারো চেয়ে একটা দিনও বেশি বেঁচে থাকতে চাই নি আমি। তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেন আমার আগে চলে যাবে? সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার একটি প্রশ্ন আছে; মানুষকে জীবন কেন দিয়েছিলে ঈশ্বর, যদি পূর্ণতা না দাও?
স্বাভাবিক অবস্থায় মানবমনের মৃত্যু মানার একটা সীমা আছে। চারিদিকে এত বেশি মৃত্যুর হানা পড়ছে আজকাল, যে ভীষণ ভয়ে ভয়ে থাকি। এরপরের খবরটা কি আসবে? সেটা কোনদিক থেকে আসবে? কত তাড়াতাড়ি আসবে? প্রশ্নগুলো চলতে থাকে মস্তিষ্কের ভেতর।
কিছু কিছু মৃত্যু চকচকে ছুরির ফলার মতো একেবারে ভেতরটা চিড়ে রেখে যায়। তখন দাঁতে দাঁত কামড়ে কেবল পড়ে থাকি। কারণ আর কিছু করার থাকে না। স্টিভ ছিলো তেমনই একজন। তার বিদেহী আত্মা শান্তিপ্রাপ্ত হোক। শান্তিপ্রাপ্ত হোক পৃথিবীর প্রতিটি মৃত মানুষের আত্মা। আমরা ভীষণ কষ্টে এই চলে যাওয়া'গুলো সহ্য করে বেঁচে আছি। যে কষ্ট পাওয়ার চাইতে মৃত্যুই আমাদের কাছে কাঙ্খিত ছিলো। স্টিভের মৃত্যূতে আমার কেমন লেগেছে, তা লিখে বোঝানোর সামর্থ্য নেই। তারপরও একটা অপচেষ্টা..

বিষয়বস্তু মৃত্যু,
আরাধ্য বিদায়।
আর
হৃৎপিণ্ডে পেরেক ঠোকার জন্য আগেভাগেই চাই একটা হাতুড়ি
কারণ ওটার ভেতর বাসা বানাবে ঘূণপোকা
এবং আমিও আমার বিষয়বস্তুতে মিলাবো একদিন।
কারণ ঘূণপোকাদের শক্তি অপরিসীম
আর
স্বপ্ন তাদের প্রিয় খাবার।

পটভূমি বাদ্য,
তখন বাদ্য কখন নিনাদে
মাতে শিখছিলাম,
তখন এপি'র কপি
দেখেও আমি ঠিক ছিলাম।
আর হাতের কাজ সব ক’টাকেই সেরেছিলাম।
আমি জেনেছিলাম
ঘূণপোকারা এগিয়ে এসেছে কাছে।

তারপর নেমেছে পর্দা,
আমার চোখে বিকল যন্ত্র
তার পানি তোলার মন্ত্র
মিলিয়ে গেছে পরে,
যখন মস্তিষ্কটা ভরে
তথ্য চেপে ধরে
ঠুকেছে পেরেক জোরে
অনেকগুলো ওয়েবসাইট।

তাদের মৃত্যুদণ্ড দিলাম।
আমি আবার হারিয়ে গেলাম
কোনো সাতের-আটের মাসে,
আমার ঠিকঠাক মনে নেই
কেন হারিয়েছিলাম খেই,
আমি কেবল বলতে পারি
তুমি আমার ধরে নাড়ি
সেই যাত্রা বাঁচিয়েছিলে।

তোমার বিন্দু জোড়া দেয়া
আমায় গল্পছলে বলে,
কঠিন বড় মানুষ হওয়া
আগে মানুষ হও হলে।

আমি চোখ মেলে দেখি ভোর
এবং কেটে যায় বহু ঘোর,
যারা অমানিশা হয়ে এসে
আমায় বানিয়েছিলো বিবর।

আমি ইটের আঘাতগুলো
শিখি মাথায় পেতে নিতে
শিখি তবুও এগিয়ে যেতে,
চলে ভালবাসাকে খোঁজার
এক ভালোরকমের চেষ্টা।
কিন্তু সহজ হয় না আমার
যাত্রাপথের শেষটা।

বিষয়বস্তু মৃত্যু,
আজ স্বপ্ন লুটায়
শঙ্কাধুলায়,
কাজগুলো সব
ছেলের খেলায়,
রূপ নিয়ে নেয় দ্রুত।
ওরা সবাই আবেগতাড়িত।

তাও তুমি যেখানেই থাকো
প্লীজ পৃথিবীটা ধরে রাখো
তোমার স্বপ্নভরা চোখে,

তুমি আরো ছবি আঁকো
প্লীজ আকাশটাকে দেখো
তারার ঝিলিক তোমার মুখে।
---

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জ্যোতি's picture


Sad

মাহবুব সুমন's picture


কোনো মৃত্যুই আমাকে স্পর্শ করে না

টুটুল's picture


চারিদিকে এত বেশি মৃত্যূর হানা পড়ছে আজকাল, যে ভীষণ ভয়ে ভয়ে থাকি। এরপরের খবরটা কি আসবে? সেটা কোনদিক থেকে আসবে? কত তাড়াতাড়ি আসবে? প্রশ্নগুলো চলতে থাকে মস্তিষ্কের ভেতর।

Sad

আরাফাত শান্ত's picture


মাঝে সাঝে খুব মরে যেতে ইচ্ছা করে আমার।তখন ভাবি আমি না হয় গেলাম কিন্তু যেয়ে সেই পারে কি জবাব দিবো?আর এই পারে আমার শোক কিভাবে হজম করবে প্রিয় জনেরা!তাই বেচে থাকি মরে মরে আর নানান অসময়ে মৃত্যু খবর শুনতে শুনতে!

শওকত মাসুম's picture


মৃত্যু নিয়ে ভাববো না বলে ভাবি, কাজ হয় না।

লাবণী's picture


প্রতিদিন নিউজপেপার খুললেই এমন মর্মান্তিক খবর! প্রতিদিনই ভাবি...আজ যেন কোনো মৃত্যুর সংবাদ না থাকে। কিন্তু হায়! ভাবনা কেবলই ভাবনা! Sad
কখন আসবে সেই দিন...যখন নিউজপেপার খুলে কোনো মৃত্যুর সংবাদ পাবো না?

ভাস্কর's picture


নয়নের মৃত্যুদিনে একটা ফেইসবুক স্টেটাস দিছিলাম

যেহেতু শরীর কিম্বা মন কখনো বার্ধক্য মানবে না, তাই আমাদের মৃত্যু হবে অপঘাতে। আজকে নয়নের মৃত্যু হয়েছে জলের ঘেরাটোপে। আগামীকাল হয়তোবা কেউ মরবে সুতীব্র রোদ্দুরে...

তৌহিদ উল্লাহ শাকিল's picture


প্রতিটি মৃত্যু আমাকে অনেক পীড়া দেয়। যেমন দিয়েছিল কিছুদিন আগে সৌদি আরবে ৮ জনের শিরচ্ছেদে ।

একজন মায়াবতী's picture


Sad

১০

জেবীন's picture


কিছু কিছু মৃত্যূ তো একেবারে চকচকে ফলার মতো ভেতরে ঢুকে যায়। তখন দাঁতে দাঁত কামড়ে কেবল পড়ে থাকি। কারণ আর কিছু করার থাকে না।

Sad

১১

শামান সাত্ত্বিক's picture


ভাল। লিখুন। আমরা পড়ি।

১২

প্রিয়'s picture


এ পৃথিবীর কারো কারো চেয়ে একটা দিনও বেশি বেঁচে থাকতে চাই নি আমি।

আমিও তাই।

১৩

নরাধম's picture


হিরোজ শুড ডাই ইয়াং!

১৪

সুদূরের পিয়াসী's picture


এর নাম জীবন ? মরণ আসে প্রতিক্ষণ !!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!