ইউজার লগইন

তার আদলে মন খেলে

রান লোলা রান (১৯৯৮) দেখলাম। মুভিটা দেখতে বলেছিলেন আহাদ স্যার। বেশ ক'বছর আগে। এতদিন সুযোগ হয় নি। আজ হলো। আমার প্রিয় স্যার আজকের এই ক্ষণে, কেমন আছেন জানি না। ঘুমিয়ে থাকার কথা। কিন্তু তাঁর ছাত্র আমি এখন, নির্বাক মুগ্ধ হয়ে মনিটরের সামনে বসে আছি। মুভিটা দেখে।
এইটা টম টাইকারের আরেকটা মাস্টার-পিস্। এক সিনেমা ব্যাটা তিনবার দেখায়ে ছাড়ে। ২০ মিনিটের মধ্যে এক লাখ ডয়েশ মার্ক নিয়ে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পৌঁছুতে হবে লোলাকে। নাহলে ঘটে যাবে বিরাট অঘটন। বয়ফ্রেন্ড হয়তো কোনো শপিং মল লুটপাট শুরু করে দিতে পারে, যার পরিণতি আসলে নির্মম হতেই বাধ্য। কারণ উন্নত বিশ্বের আইন-শৃংখলায় আছে বিপুল কড়াকড়ি।
মুভির প্রথম দফায় যখন ১৭ মিনিটেও লোলার নিরর্থক দৌড়-ঝাপ আর তার বাপের আলগা পিরীতি শেষ হয় না, তখন একবার আশা ছেড়ে দেবো কিনা ভাবছিলাম। কিন্তু তারপরে যা কিছু ঘটলো, কোনোকিছুই স্বাভাবিক চিন্তারেখার মধ্যে ধরা পড়ে না। আবার সেসব যে খুবই অবাস্তব বা অতিকথন- এমনও না। ঘটতেই পারে মানুষের জীবনে এমন সব ঘটনা। এমনকি একাধিকবারও।
নায়িকাটার যেমন তীক্ষ্ণ প্রেম, তেমনি তীক্ষ্ণ তার চিৎকার। এক সিনেমার মধ্যে কত যে গ্লাস ভাঙলো! চিৎকার করেই তিনি ক্যাসিনো থেকে জিতে ফিরলেন এক লাখ মার্ক। আর নায়কও ব্যপক ভালোবাসেন তার নায়িকাকে। যদিও প্রথম প্রথম মনে হচ্ছিলো, ব্যাটা একটা চরম গাড়ল। তবে দ্বিতীয় দফায় যখন সে অ্যাম্বুলেন্সের নিচে চাপা পড়ে, তখন থেকে তাকে ভালো লাগা শুরু হয়। আর কাবিল পোলাপাইনের কীর্তি-কলাপ দেখার ভিন্ন মজা আছে। আমাদের দেশে তো পড়াশোনা ছাড়াও যে ‘কাবিলিয়ৎ’ অর্জন সম্ভব সেইটাই মানুষ বুঝতে চায় না। জীবনটা একেকজন ফানা ফানা করে ছাড়লো পড়তে পড়তে।
যাক্ পড়েন ভাই আপনারা সবাই। পড়াশোনা করে যে, গাড়িঘোড়ায় চড়ে সে। তবে আমি এইসবের মধ্যে নাই, বরং চুপচাপ বসে মুভি-টুভি দেখতে আর দু’একটা বিড়ি টানতে রাজি আছি। আর কালকে পর্যন্ত টিকতে যতটুকু দরকার, ততটুকু কামাইও আজকের দিনে করা যেতে পারে। কিন্তু তারপর, দিনের বাকি জীবনটা আমার। অবশ্য সেই জীবনটা যে কত অর্থহীনভাবে ব্যয় করছি, তার একটা প্রমাণ তুলে দিলাম এখানে। যদিও অর্থহীনতা কোনো ভিন্নতা নিয়ে ধরা দেয় না আমার কাছে। শুভ গভীররাত্রি সবাইকে।

আদলে মন খেলে তাই
তাকে আদরই করে যাই;
ওর আদুরে ভাবেতে মন
মজে গেছে, পুরোপুরি মজে
গেছে, একদম মজে
গেছে, মন।
তুমি
শৃঙ্গায় ফুঁক দাও
না হয় উঠিয়ে নাও;
অন্তত করে দাও
একটা কিছু, এমন একটা
কিছু, সামান্য একটা
কিছু, বাঁচি।
চন্দন শুষে নিলো
আমাকে পোষ মানালো
তারপর অচল করে
ছেড়ে দিলো, আজ।
তুমি
আমারই জন্য একটা;
ঘর বানাও, না হয়
কুঁড়ে বানাও, নাহলেও
গাছতলা দাও, আমি
মাথা গুজি।
সে শুধু রাতে আসে
করে যায় সর্বনাশ;
তারচে তুমি বরং
সূর্যকে বেঁধে দাও,
না হয় মিটিয়ে দাও
আমার বাঁচার আশ।
সে যে শুধু
স্মৃতিতে শুধু শুধু
ভাসে আর হাসফাঁস
আমি করে যাই,
প্রায়শই মরে যাই
তবু কি মুক্তি পাই?
সুপ্রিয় প্রিয়তমা
তুমি ’বারে মুক্তি দাও
শৃঙ্গায় ফুঁক দাও,
একটা ঘর বানাও,
না হয় মিটিয়ে দাও,
আমার বাঁচার আশ।
আদলে মন,
খেলে তাই
তাকে আদরই করে যাই।
---
(লেখাটা টিনটিনকে উৎসর্গ করলাম। ৮৩ তম জন্মদিনে প্রিয় রিপোর্টারের জন্য রইলো একরাশ লাল গোলাপের শুভেচ্ছা। Smile )

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সামছা আকিদা জাহান's picture


আমি দেখব সিনেমাটা। ধন্যবাদ ভাই। প্রথমে সিনেমার নামটা পড়তে যেয়ে খটকা লাগল। ছোট বেলায় একটা সিরিয়াল দেখতাম বিটিভিতে নাম ছিল রান জো রান। আমি বার বার পড়ছি রান লোলা রান আর বলছি রান জো রান আবার ঠিক করে পড়ছি। খুব প্রিয় ছিল জ নামের কুকুরের এই সিরিয়ালটি।

লীনা দিলরুবা's picture


জীবন অর্থহীন নয় মোটেও, এখনো সময় আছে বন্ধু Smile

রায়েহাত শুভ's picture


রান লোলা রান আমার দারূণ লাগছে। একই ঘটনা, কিন্তু কি হইবো কি হইবো নেক্সটে এরম উৎকন্ঠা সারা মুভি জুইড়া...

ভাস্কর's picture


রান লোলা রান ছবিটা সিনেমার ইতিহাসে একটা মাইলস্টোন। বাটারফ্লাই ইফেক্ট নিয়া এতো সরল আর ঠিকভাবে বানানো সিনেমা তার আগ পর্যন্ত মনে হয় না আরেকটা দেখা গেছে। এইটা যদ্দূর মনে পড়ে টম টাইকারের প্রথম ফীচার লেংথ সিনেমা। এর বাইরে অ্যানিমেশন আর রিয়ালিস্টিক ইমেজের এতো ভালো কম্পোজিটিং! অসাধারণ!

শাফায়েত's picture


এই ধরনের লেখাগুলোকে আমি ঠিক বুঝতে পারি না। সিনেমা বর্ণনা মনে করে পড়া শুরু করেছিলাম। পরে দেখি দার্শনিক কথাবার্তাও আছে। আছে কবিতাও। (কবিতা হিসাবেই তো লিখেছেন, নাকি?) সবশেষে টিনটিনকে উৎসর্গ করে দিলেন সবকিছু। আমার কাছে যেটা ধরা পড়ছে, সেটা হলো একধরনের অস্থিরতা। এভাবে একই সময়ে অনেকগুলো বিষয় নিয়ে কাজ না করে প্রত্যেকটা বিষয়কে আলাদা আলাদা সময় দিলে মনে হয় আরো ভালো হতো। Smile
তবে সিনেমাটা দেখবো। একটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে ভেতরে।

রশীদা আফরোজ's picture


মুভিটা দেখতে চাই।

শওকত মাসুম's picture


এই মুভি বার বার দেখা যায়। কবিতাটাও পড়া যায় বার বার।

শাপলা's picture


মুভিটা দেখতেই হবে। রিভিউ লিখেছে মীর, সার্টিফিকেট দিয়েছে গুরু স্বয়ং এবং অনেকে।

কবিতাটা কি মীরের লেখা?

যদি তাই হয়, তাহলে বলতেই হয় অসাধারণ হয়েছে...।

শুভেচ্ছা মীর, ভালো থেক।

একজন মায়াবতী's picture


লেখার শিরোনাম, কবিতা ভালো লাগসে। Smile
মুভি রিভিউ পড়ে মুভিটা দেখার ইচ্ছে হচ্ছে। যদিও দেখা হবে কিনা জানি না Sad

১০

একজন মায়াবতী's picture


আর দুইটা পোস্ট তারপরে পার্টি

১১

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


কে যে বাঙ্গালীরে শিখাইছিলো "পড়াশোনা করে যে, গাড়িঘোড়ায় চড়ে সে" ...তারপর থেকে বাঙ্গালী শুধু গাড়ি চড়ার জন্যই পড়াশোনা করে।

~

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!