গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (১)
আমি মীম। পেশায় ব্যবসায়ী। কিসের ব্যবসা করি বলেন তো? এক অর্থে আদম ব্যবসা। আবার ঠিক আদম ব্যবসাও না। ঝিক ঝিক টাইপের ব্যপার-স্যপার। বুঝতে কষ্ট হচ্ছে তো? রাখেন, একটু সবুর করেন। সব খুলে বলবো। যদি চান সব খুলে দেখাতেও পারি। দেখতে চান? চাইলে আগেই বলে ফেলেন। কারণ আমার কথা শেষ হবার পর আপনার সেটা চাওয়ার ইচ্ছে নাও থাকতে পারে।
মীম নামের যে ঝকঝকে সুন্দরী ২৮ বছরের তরুণীটির সামনে আমি বসে আছি, তার সমস্যা কি ধরতে পারছি না। পাকে-চক্রে এমন বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় এই আধপাগলের সামনে বসে সময় নষ্ট করতে হচ্ছে। কি যে দিনকাল পড়লো। এমনকি মালটাকে একটু রগড়ানিও দিতে পারবো না। কারণ এইটা আসলে বসের মাল। আমার ওপর কড়া নির্দেশ আছে। ফিঙ্গারনেইল দিয়েও টাচ করা যাবে না। অথচ আমার হাইজেনিক ফিঙ্গারনেইলের টাচ, বসের গ্যাদগেদে ময়লা ধরে থাকা নখের আঁচড়ের চেয়ে ভালোই হওয়ার কথা। আমি সেসব ভাবনাতেই বেশি করে মনোযোগ দিলাম। আবোল-তাবোল বকতে থাকুক মীম। যেদিক থেকে বেলাশেষে প্রাপ্তির খাতায় কোনো যোগচিহ্ন বসানোর উপায় নেই, আমি সাধারণত সেদিকে বেশি ভ্রুক্ষেপ করি না।
আচ্ছা, আপনি কি জন্য এসেছেন? আমাকে গার্ড দেবার জন্য? আপনার বস পাঠিয়েছে? মামুন সাহেব? ও আপনি তো আবার ওকে 'মামুন স্যার' বলেন। আমি কিন্তু মামুন বলি, জানেন। বয়সে আমার পাক্কা দ্বিগুণ। তাও আমি মামুন বলি। এই যে আমার বয়স ২৮, সেটা নিশ্চই আপনি জানেন। মামুনটা না, যেন কেমন। সবার কাছে আমার বয়সটা ফলাও করে বলে দেয়। ২৮ কি বলার মতো কোনো বয়স, বলেন? আচ্ছা আপনার বয়স কত? ২৮ হয়েছে? আপনার মামুন স্যার কখন আসবেন? আপনার তো বোধহয় মাদাম তুঁসোর জাদুঘরে গিয়ে ডিউটি দেয়া শুরু করার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। হালকা রসিকতা করলাম। আপনি যেমন চুপ করে আছেন, তাতে আপনাকে ওই জাদুঘর থেকে পালিয়ে আসা কোনো মূর্তিই মনে হচ্ছে, জানেন?
কি যেন বলছিলাম, ব্যবসার কথা? আমি কিন্তু আসলেই লাইসেন্সধারী আদম ব্যবসায়ী। তবে আমার ব্যবসাটা অন্যরকম। গন্ডায়-পিন্ডায় গ্রাম থেকে লোক ধরে ধরে দুবাই-কাতারে পাঠাই না। হু হু বাবা, আমি বৃটেনের একটা বাঙালি কমিউনিটিতেও আছি। এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে। আমাকে যা তা মনে করবেন না যেন। ও আচ্ছা, আপনি তো আবার আমাকে যা তা মনে করার এখতিয়ারই রাখেন না। আপনার বস্ নিশ্চই আপনার ফিঙ্গারটিপকে আমার শরীর থেকে তিন গজ দূরে স্টিল রাখতে বলেছে পুরোটা সময়? হাহা ওটা নিয়ে চিন্তা করা ছেড়ে দিন। ও ওই কথাটা সবসময় বলে। আমার শরীরে কারো ফিঙ্গারটিপ লাগলেও নাকি ওর বুকে চিন চিন করে। ঝিক ঝিক টাইপের চিন্তা-ভাবনা। চলেন আমরা একটু ওয়াইন ট্রাই করি। আমার কাছে ভালো ব্র্যান্ডের শাদা ওয়াইন আছে। খেতে চান?
আসলে এসব রাখতে হয়। কখন কি ধরনের সিচুয়েশন ক্রিয়েট হয়, বুঝেন না? এই যে আপনার মামুন স্যারই তো, সেদিন রাতে বৃষ্টির মধ্যে ভিজে ঠক ঠক করে কাঁপতে কাঁপতে আমার ফ্ল্যাটের বেল টিপলেন। আমি কাঁপা হাতের বেল শুনেই বুঝতে পেরেছিলাম, যে টিপেছে তার ফ্রস্টঅ্যাটাক হয়ে গেছে। দরজা খুলে আমি তো ওকে দেখে, হাঁ। সেদিন তাড়াতাড়ি দুই পেগ গলায় ঢেলে দেয়ার পর সে বলতে পেরেছিলো, হাই! এর আগ পর্যন্ত গলা দিয়ে কুই কুই ছাড়া আর কোনো শব্দ বেরোচ্ছিলো না! চিন্তা করেন। আর ক্লায়েন্টরাও তো মাঝে মাঝে এক্সপেক্ট করে। এক্সপেক্টেশন ফুলফিল করার মধ্যেই তো আমার সার্থকতা। বুঝেন না কেনু?
মেয়েটির গলার স্বরে এক ধরনের আহ্বান আছে। সেই আহ্বানে আপনার শরীরের ভেতর থেকে আত্মাটা বের হয়ে চলে যাবে, আপনি নিথর শরীর নিয়ে পড়ে থাকবেন; কিন্তু টের পাবেন না। এহেন সিচুয়েশনে পেটে যদি মালপানি পড়ে তাহলে কি হবে, সেটা ভেবে আমি আতংকিত হয়ে পড়লাম। ছাপোষা চাকরীটা আমার মাসাকাবারি খরচ, সিগারেটের টাকা, বন্ধুদের সঙ্গে মৌজ-ফূর্তি আর অন্যান্য জরুরি পার্সনাল কাজগুলোর একমাত্র অবলম্বন। বস্ ব্যটা এসে যদি দেখে তার ডার্লিংয়ের সঙ্গে আমি শাদা ওয়াইন হাতে ঢলাঢলি করছি, তাহলে আমার সম্বল কেড়ে নেয়ার যে সামান্য অধিকারটুকু সে রাখে; সেটা খাটাতে নির্ঘাৎ বিপুল বিক্রমে ঝাপিয়ে পড়বে।
(চলবে)





tarpor ki holo?
Etodin kothai chilen?dekhi na je!
আমি তো ছিলাম, আপনাকে তো দেখি না। আছেন কেমন? দিনকাল কেমন যায়? অনেকদিন লিখেননি কেন?
পরের পর্ব জলদি দেন।
পরের পর্ব তাড়াতাড়ি দিবেন... অপেক্ষায় থাকলাম
আচ্ছা। পরের পর্ব কেমন লাগলো জানায়েন। অপেক্ষায় থাকলাম।
জিনিস্টা যে কৈ যাবে !!!!
জিনিস্টা অনেক দূর যাবে...
'জিনিসটা' থেকে নিরাপদ দুরত্বে থাকুন
) তার বান্ধবী ২৮ বছরের মীমের সাথে 
চাকরীটা আছে না গেছে... বলছিলাম, মামুন সাহেবের আসার আগে আর যা যা ঘটেছে (যা পরের পর্বে জানাবেন
সেইটা নাহয় পরের পর্বেই জেনে নিয়েন
কিরামাছুইন ভাইজান? লেখালেখি করেন না কেন?
'মন বসে না পড়ার টেবিলে' বাংলা ছবিটা সেদিন দেখলাম কোনো এক চ্যানেলে...
সেই থেকে আমার এই অবস্থা...
আসলে সিনেমাটার নামেই সমস্যা আছে। কোনো কিছু বসানোর জায়গা হচ্ছে চেয়ার, নট টেবিল। কিন্তু সেইটা ভুটকিরে বুঝাবে কে বলেন!
ভুটকি ?


তারমানে আপনেও দেখছেন ?
কিন্তু সিনেমার নামতো ভুটকি দেয় নাই
সিনেমার নাম না দিলেও বাকী কাম-কাজ তো সব সে'ই করসে। তাই আমার ওরে নিয়া চিন্তা।
টু বি কনটিনিউ ....
কনটিনিউ হচ্ছে। আপনার একটা সাজা হইসে। আপনে আমার প্রত্যেকটা পোস্টে আইসা হাজিরা দিয়ে যাবেন।
জলদি লেখেন
জলদিই লিখছি মাসুম ভাই
জলদি লেখেন
জলদি পড়েন
মামুন সাহেবরা আগে গল্পে সিনেমায় ছিলো এখন বাস্তব জীবনেও অনেক বেশী।
=============
ঝিক ঝিক বাবু আপনার অচল পয়সার জবানবন্দীর শেষ পর্ব কই?ঐটা তাড়াতাড়ি দেন। আমি জমিয়ে রেখেছি একবারে পড়বো বলে।
শেষ পর্ব যে কই, আমিও খুঁইজা পাইতেসি না ঝিক ঝিক বাবু।
এই লেখাটা প্রথম পাতায় নাই ক্যান ?
কারণ আমি কখনো ফার্স্ট পেইজে নিজের দুইটা পোস্ট রাখি না
ও....পারফেক্ট ব্লগার আর কী ! আপনি মহান, আপনি উদার, আপনি (যেহেতু পুলিশ নন) একজন ভালো মানুষ

যা বললেন জনাব, অতীব সত্যকথন! ধনেপাতা সহকারে এইসব সত্যকথন গৃহীত হইলো।
তবে পুলিশেরা যে সবাই খারাপ, এইটা আমি মানতে রাজি না। জোবায়েদ রহমান নামে আমার পরিচিত এক পুলিশ অফিসার আছে। সে অতিশয় লোক ভালো।
লেখার ধরন ভাল্লাগতেছে, চলুক।
মীমের ক্যারেক্টারটা ইনারেস্টিং লাগতেছে।
মীর ভাইয়ের লেখার আমি সবসময়ই ভক্ত
এই পর্ব পড়লাম।
থার্ড পার্টটা পড়ে সোজা এখানে এ্লাম। সুপার্ব।
মন্তব্য করুন