অহেতুক
ব্লগে ঢুইকাই দেখি কি জেসন বর্ণ খাড়ায় আছে। টেনশনে পড়ে গেলাম, যাব্বাবাহ্ এ কি কান্ড। এমনিতে বর্ণ লিগেসী মুক্তি পাইতেসে ম্যাট ডেমনরে ছাড়াই, তাই কয়দিন ধরে মনের মধ্যে উথাল-পাতাল; তার উপরে ব্লগে বর্ণ! অবশ্য একটু পরেই বুঝতে পারলাম, এইটা হইলো আমাদের বাউন্ডুলে বর্ণ (এখন বোধহয় সে আবার নাম চেঞ্জ করসে)। যাহোক জেরেমিরেও ভালো পাই। যদিও মিশন ইম্পসিবল ৪: ঘোস্ট প্রোটোকল ছাড়া তার আর কোনো সিনেমাই দেখি নাই। বিশেষ করে দ্য হার্ট লকারে নাকি ব্যটায় এ পর্যন্ত সবচে' ভালো অভিনয় করসে। সিনেমাটা কেন দেখা হয় নাই, ওস্তাদই জানে ভালো। তবে মিশন ইম্পসিবল দেইখা ব্যটারে আমার দারুণ লাগসে! বিশেষ করে হুটহাট দর্শকের চোখে পড়ে যাবার অদ্ভুত একটা ক্ষমতা আছে তার। এই ব্যটার আরো একখান হিট মুভি আছে, কিন্তু সেইটার ভালো প্রিন্ট এখনো নেট-এ আসে নাই। দ্য অ্যাভেঞ্জার্স।
আমি এই অ্যাভেঞ্জার্স, দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস আর দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার ম্যান- মুভি তিনটা দেখার জন্য ওয়েট করতেসি আজ দুই-তিন মাস ধইরা। এই তিনটা দেখতে না পারলে কি হবে জানি না, তবে এটুক জানি যে আর কয়দিনের মধ্যে মাদাসকার ৩: য়ুরোপ'স মোস্ট ওয়ান্টেড আর আইস এইজ: কন্টিনেন্টাল ড্রিফ্ট্ দেখতে না পারলে মারা যাবো। নির্ঘাৎ নিখুঁতভাবে মারা যাবো। দুইমাস-তিনমাস পার হয়ে যাচ্ছে, এতদিনেও এই মুভি দুইটার একটারও ভালো প্রিন্ট নেটে আসে নাই!! আমি বুঝি না, অ্যাক্সো মিয়া আজকাল করেটা কি!
অবশ্য চোরদের আসলে দিনই শেষ হয়ে আসতেছে আস্তে আস্তে। কিছু করার নাই। মিনিনোভা তো অনেক আগেই গেছে, কয়দিন আগে বন্ধ হয়ে গেলো ডেমনয়েডও। পাইরেট বে যদিও এখনো টিকে আছে, কিন্তু কয়দিন থাকতে পারবে আল্লাই জানে। মেগাআপলোড নিয়া কত্ত কাহিনী হইলো। দেইখা-শুইনা আমার খালি একটা গানই গাইতে মন চায় মাঝে মাঝে- আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম আম্রা, আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম!
এই সুযোগে ভারতের মুভি দেখা হলো বোধহয় তিনটা বা চারটা। রকস্টার ছাড়া আর কোনোটা চিন্তারাশি পর্যন্ত পৌঁছাইতে পারে নাই। রকস্টার পারসে। ভালোভাবেই। তারপরেও সেদিন রাত্রে অজয় দেবগন্রে নিয়া কিছুক্ষণ ভাবলাম শুয়ে শুয়ে। কালে কালে এই ব্যটার কিন্তু অনেক বেলাই পার হয়ে গেলো। সেই 'ফুল ওউর কাঁটে'র আমল থেকে শুরু। আজকাল অবশ্য তামিল নায়কদের মতো লাগে তারে। বোল বচ্চন- কি সিনেমার নাম রে বাবা! মাঝখানে কয়দিন ধরসিলো পুলিশ অফিসারের ভাব। গঙ্গাজল। আমার মনে আছে, সঞ্জয় দত্তও মাঝখানে একবার সৎ পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করা শুরু করে দিলো। সে এক কঠিন পুলিশ অফিসার আর মহিমা-টাইপের কোনো এক নায়িকা হচ্ছে তার সতী-সাবিত্রী স্ত্রী। পুরো সিনেমায় নায়িকার খালি একটা গান আর ঘরে দুইটা সীন ছাড়া কোনো পার্ট নাই। সেই সব সিনেমা ডিশ এন্টেনার লাইনের বদৌলতে এক সময় প্রচুর দেখা হইসে। আমার ধারণা, ভারতের সব অ্যাকশন হিরোরই জীবনে একবার করে পুলিশ পিরিয়ড যায়। আর একবার যায় কমেডি পিরিয়ড।
যাক্ বিনোদন নিয়ে ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির চিন্তা-চেতনা অনেকদূর আগাইসে সত্য, কারণ আজকালকার ভারতীয় সিনেমা দেখতে বসলে বিনোদন পাওয়া যায় নিশ্চিতভাবেই। কিন্তু পুরোপুরি বিনোদননির্ভর হয়ে পড়ার যে বাণিজ্যিক মানসিকতা, সেইটা শেষ পর্যন্ত তাদেরকে কতটা সাহায্য করবে আর কতটা ক্ষতি; সেই প্রশ্নের উত্তর তাদেরকে একদিন খুঁজতেই হবে। মাঝখানে ভারতীয় সিনেমাকে একটা বন্ধ্যাকাল পার করিয়ে দিয়েছিলো একটা সিনেমা একাই। দিল চাহতা হ্যায় (২০০১)। সে ধরনের কোনো সিনেমা গত ১১ বছরে চোখে পড়ে নি। বরং ওরা খানিকটা উল্টা দিকে আগাইসে বলে মনে হইলো কেন জানি।
ভাল্লাগতেসে এই ভেবে যে, জেসন বর্ণের প্রথম তিনটা পার্ট দেখার পরে করা দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষ পর্যন্ত শেষ হতে যাচ্ছে। যদিও এখন নেটে একটা সিনেমার ভালো প্রিন্ট আসতে লাগে চার মাস! তারপরেও যে কথাটা না বললে নয় সেটা হলো, সেদিনের ম্যাট ডেমন কালে কালে অনেক বড় অভিনেতা হয়েছেন। আরো বড় হবেন আশা করি। কিন্তু বর্ণ ভক্তরা আমার মনে হয় আজীবন তাকে মিস্ করবে। আহা সেই দূতাবাসের ভেতরের মার-পিট, নায়িকার চুল কেটে দেয়া বা একেকবার 'টেক সাম রেস্ট প্যাম, য়ু লুক টায়ার্ড' ডায়লগ থ্রো করা- আমার খুব প্রিয় সীন ছিলো সেগুলো! পুরো বর্ণ সিরিজে এরকম পছন্দের সীন আছে অনেকগুলা। এখনো সময় পেলে মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখি।
যাক্ নতুন পর্ব, নতুন নায়ক, দেখা যাক আশা কতটা পূরণ হয়। শুভকামনা জানাইতে তো আর সমস্যা নাই। শুভকামনাই জানাইলাম প্রিয় সিক্যূয়েলের চতুর্থ পর্বটাকে। শুভেচ্ছা জানাইলাম জেরেমিকেও। বক্স অফিসে হিট করুক। ওরা প্রচুর টাকা আয় করুক। আমার চাহিদা অতীব সামান্য, নেটে তাড়াতাড়ি একটা ভালো প্রিন্ট চলে আসুক। তাহলেই হবে।
ধন্যবাদ সবাইকে।
---





ধন্যবাদ
স্বাগতম সাঈদ ভাই
বস্, এভেঞ্জারস তো চলতেছে!
ওইদিন দেইখা আসলাম স্টার সিনেপ্লেক্সে!
মাস্টারপ্রিন্ট না পাইলে দেখতে পারি না,
তাই যে কোন মুভি দেখতেই আজকাল ৩/৪ মাস লেট হইয়া যায়।
একটা গোপন কথা বলি,
খুব সম্ভবত ঈদের দিন স্টার সিনেপ্লেক্সে আসতেছে দ্য এমাজিং স্পাইডারম্যান!
তাও আবার খুব খুব সম্ভবত ইন থ্রিডি!
দেন লাইনে আছে ব্যাটম্যান,
দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস!
খুশ?!
এখন আমার খুব প্রিয় একটা মুভি দেখতেছি, মে বি শততম বারের মত!
নাম, ফিফটি ফার্স্ট ডেট!
ম্যাট ডেমন ছাড়া বর্ন সিরিজ, ভাবতেই মন খারাপ হইয়া যাইতাছে।
আপনের লেখাটা দুর্দান্ত ভাল্লাগছে।
সামনে আমার ভাল লাগা কিছু মুভি আর গান নিয়া একটা কিছু লেখমু ভাবতেছি।
ভাল থাকেন, সুপ্রিয় মীর ভাই।
অনেক ভাল, প্রতিটি দিন - প্রতিটি ক্ষন!
ফিফটি ফার্স্ট আমারো খুব বেশি রকমের পছন্দের মুভি। ড্রিউ-এর পাঙ্খা আমি এই মুভিটা দেখার পর থেকেই। আপনে কনফেশনস অফ আ ডেঞ্জারাস মাইন্ড দেখসেন? আপনারে এইটা দেখার কথা বারবার বলি কারণ আপনেও তো বেটির পাঙ্খা, তাই
সিনেপ্লেক্সে আমি এখনো কোনো মুভি দেখি নাই। জীবনে কত ছোট-বড় কিছু যে করার বাকি! যাউক্গা, ওইখানে মুভি দেখার বিষয়টা কিরাম?
খুজসি, পাই নাই।
বাংলাদেশে মুভি দেখার বেস্ট যায়গা। সাউন্ড সিস্টেম সেরকম!
টিকেট দুই রকম; রেগুলার ২০০ আর প্রিমিয়াম ২৫০ টাকা।
ঈদের পর এবি'র সবাইরে নিয়া একটা কিছু দেখার প্ল্যান করেন।
দারুণ একটা মুভি দেখলাম এতক্ষণ---DOR। না দেখে থাকলে আজই দেখেন। কি অসাধারণ! আর গাণের কথাগুলি!আহা!
ইদানিং কালের খুব ভাল হিন্দী মুভিগুলার একটা..
মুভিটা মাসুম ভাই এর থেকে নেওয়া। উনাকে মাইকে ধন্যবাদ দেওয়া দরকার ছিলো একটা পোষ্ট দিয়ে। মুভিটা নিয়ে কিছু না লেখা পাপ। কিন্তু মুভি নিয়া লেখে কেমনে? এত্ত দারুণ মুভি!! গানের কথাগুলি, সিনেমান সবটুকু কাহিনী...সবকিছুই যেন ফিল করতে পারছিলাম।
ডর দেখসি। আইশা তো আমার বিয়াপুক প্রিয়। ওর সানডে মুভিটাও ভাল্লাগসিলো। যদিও নকল কাহিনী হবার সম্ভাবনাই বেশি।
"মুভি নিয়া লেখে কেমনে" এইটা হইলো একটি উৎকৃষ্ট তৃতীয় হাত। এইসব ছাড়েন। ভালো হন। নতুন একটা লেখার জন্য আপনারে কয়দিনের আল্টিমেটাম দিমু, আপনে নিজেই কন।
আপনাদের আলাপ আলোচনা শুনে কাল ''ডোর'' দেখলাম। কাহিনী আহামরি কিছু না। কিন্তু ১০৭ মিনিট বোরিং লাগে নাই।
আপনাদের আলোচনা শুনে গুগুল মামারে জিগাইলাম এই সিনেমা দেখি বছর ছয়েক আগের ছবি। প্রথমে তো আমি শাহরুখের সিনেমা মনে করেছিলাম
জেরেমি রেনারের আরেকটা ভালো একশান মুভি আসে " The Town" , ব্যাংক ডাকাতি নিয়ে । আর " The Hurt Locker " খুবই ভালো মুভি ।
kickasstorrents সাইট টা খারাপ না । এখান মুভির কালেকশন বেশ ভালই আসে ।
দ্য টাউন- হ্যাঁ এইটার কথাও শুনসি ম্যালা। জেরেমির মূল বিশেষত্ব নাকি সাইড রোলে। তয় সাইড থিকাই সে এত বেশি নজর কাড়ছে যে, এখন সবাই তারে সামনে নিয়ে আসতে চাইতেছে।
যাহোক্ ধইন্যাপাতা রানা ভাই। এক-দেড় বছরের ব্লগিং ইতিহাসে মোটে কমেন্ট করসেন চাইরটা। তার একটা আবার আমারে। আমি তো খুশিতে অস্থির।
মাঝে-মইধ্যে এইরাম দেখা আরো দিয়েন গো ভাইজান। অন্তর থিকা খুশি হমু 
আমি শুধুই পাঠক । secret পাঠক । কমেন্ট করলে যদি সবাই চিনে ফেলে তাই আর কমেন্ট করা হয়না ।
বর্ণ আর ম্যাট ডেমন এর উসিলায় আমার ৫ নম্বর কমেন্ট আপনাকে অগ্রিম ঈদ উপহার ।
ম্যাট ডেমন ছাড়া বর্ণ?? মানি না। আলাদা মুভি হিসেবেই এটি আসছে।
জেরেমিরে এমআই-৪ এ ভাল লাগছে।
হার্ট লকার ভাল লাগে নাই।
আলাদা মুভি? কি শুনাইলেন বড় ভাই? মিষ্টিমুখ করতে চাই তাইলে আপনারে নিয়া। দিলটা খুশি করায় দিলেন এই রোজা-রমযানের দিনে।
সামনের পর্বে কি তাইলে বস্এর আবার ব্যাক করার চান্স আছে? পারলে একটু খোঁজ নিয়া জানায়েন তো..
সেহেরী খাবার পরে ঘুম আসছিলো না তখনি মোবাইলে পড়ে নিছি!
ঘুম আসে না কেন? বিছনায় শুইয়া কার কথা ভাবেন? হিজাবওয়ালি নাকি?
নারে ভাই এমনিতেই ঘুম আসে না। আর দিনে অনেক ঘুমাই তাই ভোরটা দেখতে খুব ভালো লাগে!
দিনে ঘুমানো ভালো কাজ। আর হিজাবওয়ালিরে নিয়া ভাবাটাও খারাপ হবে বলে মনে হয় না। সে তো আপনারে ভালোবাসছিলো বলেই কলম চাইসিলো, তাই না?
থাকি মেস বাসায় তাই ভালোবাসা ভেবে কাজ কি! ভাবনা ভাবার জন্য চেহারা মনে রাখা জরুরী তাই ভুলে গেছি।
amaro ghum ase na.mobile dia apnader apnader kormokando kheyal kori.mobile e bangla likhte pari na
ডার্কনাইট বাদে বাকী দুইটা দেখেছি একটা ৪ডি আরেকটা ৩ডি। অসাম মুভি।
পড়িলাম।
পড়িলাম এবং জানিলাম কত কিছু ! জানিবার কি আর শেষ আছে ?
দেখিবার বাকী কত কি !
মন্তব্য করুন