একজন সাধারণ জনতার মনের কথা
প্রথম পাতায় একাধিক লেখা জমে গিয়েছিলো। এটাসহ ৩টা হয়ে যেতো। তাই আগেরগুলোকে আমার পাতায় পাঠিয়ে দিলাম।
আজ দুপুর ৩টা থেকে মহাসমাবেশ। এই মহাসমাবেশটা কেমন হবে, সেখান থেকে কি ঘোষণা আসবে- সবকিছু নিয়ে উৎকণ্ঠিত সবাই। কাল সন্ধ্যার পর থেকে অনেক রাত পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা বৈঠক করেছেন। কি সিদ্ধান্ত হয়েছে জানি না। ফাঁসির রায়, জাশি নিষিদ্ধ আর রাজীব হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আল্টিমেটাম দেয়া হতে পারে সরকারকে। সেই সঙ্গে প্রজন্ম চত্বরের অবস্থানকাল সংকুচিত করে প্রথমে রাজধানীর সর্বত্র এবং পরে দেশের সব জেলায় আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার রূপরেখা ঘোষণা হতে পারে। এ সবই আসলে শোনা কথা। সত্যিকার অর্থে কি হবে, তা এখনো সাধারণ জনতা জানে না। কিন্তু সাধারণ জনতা তার নিজের মনের কথা জানে।
কোনো কোনো গণমাধ্যমের মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যানজটটি লেগেছিলো চীনের ন্যাশনাল হাইওয়েতে। ১৪ আগস্ট ২০১০ সালে। সেই জটে ১০০ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলো। ১০ দিনের বেশি সময় লেগেছিলো সেই জট ছাড়াতে।
ঢাকায় এখনো তেমন কোনো যানজট লাগে নি। লাগার মতো উপায়ও খুব কম। ওরকম হাইওয়েই নাই এখানে। ছোটখাটো যেসব জট লাগছে শাহবাগ অবরুদ্ধ থাকার কারণে, তারচেয়ে বেশি জট শাহবাগ খোলা থাকলেও লাগে। ঢাকার রাস্তায় যাদের নিয়মিত চলাচল, তাদের এ তথ্য পরিস্কার জানার কথা। আজ ৪২ বছরের জাতীয় জট খোলার যে ২৪-ঘন্টা-চলমান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা সামান্য ৪২ মিনিটের যানজটের কথা ভেবে সংকোচন করা কতটুকু সমীচিন হবে; সেটা আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে পরিস্কার হচ্ছে না।
আরেকটা যে কথা চালু তা হচ্ছে- জনসমাগম কমে যাচ্ছে। আসলেই কি তাই? একটি অহিংস আন্দোলনের ১৭ তম দিন পার হচ্ছে আজ। আজানের বিরতি ছাড়া কখনো ১ মিনিটের জন্য বন্ধ থাকে নি মাইক। একবার বৃষ্টির কারণে লোকজন বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছিলো মাত্র। কাগজ-পেপার ইত্যাদি পানির সঙ্গে মিশে চার আঙ্গুল উঁচু মণ্ড তৈরি হয়ে গিয়েছিলো, যার মধ্যে বসা যাচ্ছিলো না। বসা গেলে তখনো মানুষ উঠে দাঁড়াতো না। ওই বৃষ্টির ক্ষণটি ছাড়া আর এক মুহূর্তের জন্যও কণ্ঠে যাদের আগুন ঝরে, সেই অগ্নিকন্যা-অগ্নিপুত্রদের ঘিরে শাহবাগ মোড়ে বসার লোকের অভাব হয় নি। আশপাশে হাঁটাচলা, গোল হয়ে বসে স্লোগান দেয়া, গাঁদাফুল দিয়ে বাংলাদেশের ম্যাপ বানিয়ে প্রতিবাদ জানানো লোকের অভাব হয় নি। সংখ্যা লাখ থেকে কমে হাজারের ঘরে এসেছে বলে যারা ভয় পাচ্ছেন, তারা ভুল করছেন।
কারণ, মানুষ বড় কঠিন একটা জীবন যাপন করে। জীবিকার তাগিদে, পরিবারের তাগিদে তাকে ২৪ ঘন্টা দৌঁড়ে বেড়াতে হয়। সেই মানুষ এবার পণ করেছে। সবকিছুর আগে সে আন্দোলনকে গুরুত্ব দেবে। সে অনুযায়ী কাজ করছে। চাকুরীজীবী চাকুরী করে এখানে আসছে। স্কুলের বাচ্চারা স্কুল শেষে এখানে আসছে। হলের আবাসিক ছেলেরা দিনে ঘুমিয়ে রাতে আসছে। ক্যম্পাসের অনাবাসিকেরা ক্লাস শেষ করে এখানে আসছে। মোট কথা; যে যেভাবে পারছে, সে সেভাবে করছে আসলে। তারা স্বাভাবিক জীবনের একটা পার্ট করে ফেলেছে প্রজন্ম চত্বরকে। এখানে সারাক্ষণ হয়তো লক্ষ মানুষ থাকছে না। কিন্তু লক্ষ মন পড়ে থাকছে। যেকোন জরুরি ডাকে তারা সব ফেলে এখানে ছুটে আসতে রাজি হয়ে আছে। কারণ এটাই হচ্ছে রণাঙ্গন। এখানে যোদ্ধারা আছে। প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে হবে। মানুষের জন্য এই বার্তাটিই তো এখন যথাযথ। এর উল্টোদিকে, প্রজন্ম চত্বরে একটি নির্দিষ্ট সময় যোদ্ধারা থাকছেন; সেই সময় বুঝে সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে হবে- কথাটা কতোটা যৌক্তিক শোনায় একটু ভেবে দেখুন সবাই।
আর আন্দোলনকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য যোদ্ধাদেরকে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার কোনো দরকার আছে, এমনটা এখনো আমি মনে করতে পারছি না। এখান থেকে যে ঘোষণাটিই দেয়া হচ্ছে, সেটিই সারাদেশের মানুষ মানছে। এরপরে জেলায় জেলায় সফর করে আর কি উদ্দেশ্য হাসিল করা সম্ভব, তা আমার বোধগম্য নয়।
কথা শেষ করে ফেলি। এখন ঘরে ফেরা মানে চূড়ান্ত পরাজয়কে ইনভাইট করা। যেটা করতে হবে, সেটা হচ্ছে- কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় এবং জাশি নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয়ার জন্য সরকারকে খুব ছোট্ট সময়সীমার আলটিমেটাম দিতে হবে। সেই সময় পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলন চালাতেই হবে। জনগণকে আরো বেশি এখানে সম্পৃক্ত হবার আহ্বান জানাতে হবে। আমরা রণাঙ্গন না ছাড়লে সরকার দাবি-দাওয়া মানতে বাধ্য। আর রণাঙ্গন ছাড়লেই শুরু হবে বহুমাত্রিক নেগোসিয়েশন। টাকা ও ক্ষমতার খেলা। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, টাকা ও ক্ষমতার বিরুদ্ধে খেলতে নামলে ব্যক্তি কখনো জিততে পারে না। কিন্তু ব্যক্তি যতদিন একজোটভাবে জনতা হয়ে থাকে ততদিন তাদের সঙ্গে এই খেলা, খেলা যায় না। আজ সরকারের এই মন্ত্রী আসবেন, কাল সেই উপদেষ্টা আসবেন। তারা শুরু করবেন; জনপ্রশাসনে ওরা ঘাপটি মেরে বসে আছে, অর্থনীতির কলকাঠি সব ওদের হাতে- এমন অনেক আলতু-ফালতু কথা। ব্যস্ বিষয়টা তারপর ঝুলে যাবে। জাশি নিষিদ্ধের ব্যপারটি ঝুলিয়ে দিতে পারলে, ওদের ফাঁসির রায় ঝুলিয়ে দেয়াও কঠিন থাকবে না। আবার ফিরে আসবে সেই পুরোনো ভোটের রাজনীতি। শকুনের, লোভের ও পলিটিক্সের রাজনীতি। এই রাজনীতি একবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিজামীর কাছে পাঠিয়েছিলো দোয়া চাওয়ার জন্য। আমরা ভুলি নি। এই রাজনীতি এরপর কোন আজব ভেলকি দেখাবে, তা আমরা জানি না এবং জানতেও চাই না। আমরা ১৭ দিনে এক মহাসমুদ্রের অর্ধেক পাড়ি দিয়েছি। পথ খুব মসৃণ ছিলো না, তবে সামনের পথের চেয়ে মসৃণ ছিলো। ভবিষ্যতে আরো উত্তাল-বিক্ষুব্ধ পথ পাড়ি দিতে হবে জানি। জেনেও বলতে চাই, আমরা এখানে যাত্রাবিরতি দেবো না। হয় ওই পাড়ে গিয়ে পৌঁছুবো, কিংবা আমাদের সলিল সমাধি ঘটবে। কিন্তু রণাঙ্গন ছাড়বো না। একদম কোনোমতেই না।
একজন সাধারণ জনতা হিসাবে এই ছিলো আমার মনের কথা।
---





------ আমারও তাই ধারণা, মতামত।
এখন ঘরে ফেরা মানে চূড়ান্ত পরাজয়কে ইনভাইট করা। যেটা করতে হবে, সেটা হচ্ছে- কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় এবং জাশি নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয়ার জন্য সরকারকে খুব ছোট্ট সময়সীমার আলটিমেটাম দিতে হবে। সেই সময় পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলন চালাতেই হবে। জনগণকে আরো বেশি এখানে সম্পৃক্ত হবার আহ্বান জানাতে হবে। আমরা রণাঙ্গন না ছাড়লে সরকার দাবি-দাওয়া মানতে বাধ্য। আর রণাঙ্গন ছাড়লেই শুরু হবে বহুমাত্রিক নেগোসিয়েশন। টাকা ও ক্ষমতার খেলা।
সহমত।
আমরা সবাই সাধারণ জনতা, এগুলো আমাদেরও মনের কথা।
আজকের ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী এবার আন্দোলন মার্চ করুক ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এবং লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে আন্দোলন সচল থাকুক।
আমরাও আছি আপনাদের সাথে
মন ঠিক কথাই বলছে এখন শেষ রখখা হবে কি না কে জানে। তবে এই জাগরন শুধুও কিনতু ফেলনা নয়। এটাও একটা বিরাট ম্যাসেজ
সবগুলো লেখা পড়া হচ্ছেনা। যে কয়টা পড়লাম, এইলেখাগুলো গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।
তরুণেরা নিজেদের দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমেছে এটা অনেক বড় ব্যাপার,
তবে এখন রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ নিজেদের শক্তি সম্বন্ধে হতাশ না করে দেয় এটাই চিন্তার বিষয়।
মন্তব্য করুন