ইউজার লগইন

গল্প: যখন আরো কয়েকশ' বছর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে অকারণে

কবি টং-এর ওপর বসেছিলাম অবন্তী আর আমি। মৃদুমন্দ বাতাসেই টংটা বিপজ্জনকভাবে দুলছিলো আর আমরা দু'জন ভয় পাচ্ছিলাম। কখন যে কাঠের গুড়ি-তক্তি সবসমেত আমাদের কবি টং উড়ে যায়, তাই নিয়ে চিন্তা হচ্ছিলো। ঝিরঝিরে বৃষ্টি বাতাসের মতো ভেসে বেড়াচ্ছিলো। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০ ফুট উঁচুতে, এই টংটা যে কে বানিয়েছে, জানি না আমরা কেউই।

ওখানে উঠলে একপাশে নাইক্ষংছড়ির পাহাড় আর অন্যপাশে বঙ্গোপসাগর চোখে পড়ে। একদিকে ঘন সবুজ, আরেকদিকে নীল। হালকা নীল। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ শোনা যায় কান পাতলে আর সমুদ্রের বিলম্বিত লয়ের গর্জন শোনা যায় সারাক্ষণই। এটা বোধহয় পৃথিবীর একমাত্র গর্জন যা মানুষের কানকে আতঙ্কিত করে তোলার বদলে শান্তি দেয়। ১৭ ইসিবি কন্টিনজেন্ট পাহাড় কেটে একটি রাস্তা বানিয়েছে। তার একদিকে পাহাড় আর একদিকে সমুদ্র। সেই রাস্তার ধারেই একটা ঢিবির ওপর ওই কাঠের তৈরি দোতলা কবি টংটা অবস্থিত। অবন্তী আর আমি সেখানে বসে বসে ১৭ ইসিবি কন্টিনজেন্টের প্রশংসা করছিলাম। আর ডালমুট সহযোগে ভদকা পান করছিলাম।

ঝিরঝিরে বৃষ্টির কারণেই বোধহয় আজ ট্যুরিস্টরা হোটেল থেকে খুব একটা বের-টের হয় নি। ওরা যেসব দিনে বের হয়, সেসব দিনে আমাদের খুব বিরক্ত লাগে। শত শত রুগ্ন, ভগ্ন, দরিদ্রমনা মানুষের ভীড়ে নিজেদেরকে খুঁজে পেতেই কষ্ট হয় আমাদের। তারপরও বছরের প্রায় পুরোটা জুড়েই এ এলাকায় ট্যুরিস্টের আনাগোনা লেগেই থাকে।

সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নং বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে এ মস্ত সুযোগের খবর শুনতে পেয়েই আমাদের দু'জনের মন খুশি খুশি হয়ে উঠেছিলো। তারপর আর দেরি করতে ইচ্ছে হয় নি। এমনিতে যতই বলি সকাল সকাল, আসলে ঘুম থেকে উঠেছি বেলা ১১টায়। গোসল করতে করতে খানিকটা আনমনা হয়ে পড়ার ফলে বের হয়েছি সাড়ে ১২টায়। কিউবান ড্রীম আর কিউবা- ভদকার সঙ্গে এই পার্ফিয়ূমের কম্বিনেশনটা বেশ মানায়।

সকালের নাস্তার ধার না ধরে একেবারে লাঞ্চ সারলাম। গৃহকর্মীটা দু'টো সুরমা মাছকে খুব ঝাল করে ভেজেছিলো। পরদিন যে মাছটি ভাজা হবে, সেটিকে সে আগেরদিনই মশলা মাখিয়ে ফ্রিজে রেখে দেয়। আমরা দু'জন পেল্লায় আকারের দু'টি মাছ আর সরিষা-শসার সালাদ দিয়ে দুপুরের খাবার সারলাম। সঙ্গে সঙ্গে ছিলো ছোট ছোট লইট্টা মাছের ঝুরি। চানাচুরের মতো স্বাদ ওগুলোর। ভাজার পর একটু গুড়ামরিচ-লবণ ছিটিয়ে গরম গরম খেতে অসাধারণ লাগে।

খাওয়ার পর রহিমকে ফোন করে জানতে পারলাম সে নাকি গাড়ির চাকা পাল্টানোর জন্য গ্যারেজে গেছে। জানতে চাইলাম, গাড়িতে কি স্পেয়ার চাকা নেই? জানালো- য্টো ছিলো সেটাই এবার ফেঁসেছে। আধাঘন্টা বা পৌনে একঘন্টা অপেক্ষা করা ছাড়া গতি নেই।

কি আর করা, স্টাডিতে ঢুকে জিল পেনডারের একটা বই টেনে নিলাম। এই বইটা ক'দিন ধরে পড়ছি। ১৯২০-এর দশকের পটভূমিতে লেখা একটা উপন্যাস। সে সময়ের ফ্রান্সের চিত্র খুব দারুণভাবে ফুটেছে উপন্যাসটাতে। সমসাময়িক লেখক-শিল্পীদের নিজের সম্পর্ককে লেখক কাঁটাছেড়া করেছেন বেশ মুন্সিয়ানার সঙ্গে। যে কারণে বইটা পড়া শুরু করলেই স্টেইন, হেমিংওয়ে, ফ্রিটজেরাল্ড কাপলদেরকে চোখের সামনে ঘুরে-ফিরে বেড়াতে দেখতে পাই। অদ্ভুত লাগে আমার। যেসব লেখকের সংস্পর্শে কেটেছে আমার অনিন্দ্য শৈশবটা, তাদেরকে এভাবে হুটহাট স্টাডিরুমে ঘুরতে দেখলে ভালো না লেগে আর কি ঘটতে পারে তা আমার জানা নেই।

বইটিতে হেমিংওয়ের আগ্রাসী চরিত্রটা বেশ ভালোভাবে ফুটিয়েছেন লেখক। পাবলো পিকাসো, সালভাদর দালিদের সঙ্গে ভদ্রলোকের ওঠাবসা ছিলো বিস্তর। ভালোবাসতেন পিকাসোর এক প্রেমিকাকে। ছবি আঁকার জন্য যাকে ফ্রান্সের কোনো এক অজপাড়া গ্রাম থেকে তুলে নিয়ে এসেছিলো পিকাসো।

অবন্তী স্টাডিতে ঢুকে কোল পোর্টারের লেট'স ডু ইট চালিয়ে দিলো। বাইরে বৃষ্টির ছাঁট ততক্ষণে বেশ বেড়ে গেছে। অবন্তী জানালার কাঁচের সঙ্গে গাল ঠেকিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। আমি নিজের জায়গায় বসে অনেকক্ষণ পর্যন্ত চুপচাপ গানটা শুনলাম আর অবন্তীকে দেখলাম।

রহিম ফিরে আসার পর গাড়ির চাবিটা নিয়ে ওকে ছুটি দিয়ে দিলাম। সে একটু অবাক হয়ে গিয়েছিলো। বললাম, এই বৃষ্টির দিনে বাড়ি গিয়ে বউরে ইলিশ মাছ রান্না করে খাওয়াইতে বলো মিয়া। চাকরি-চুকরির টেনশন বাদ দাও। দুইদিনের দুনিয়া। এ ধরনের একটা ডায়লগ শুধু শুধু দেয়া আর মুখের কথায় চিড়া ভেজানোর চেষ্টা একই ব্যপার। ওর হাতে তাই পাচশো' টাকাও গুঁজে দিলাম কোনো কারণ ছাড়াই।

স্মিনর্ফের বোতলটার তিন ভাগের একভাগ ভরা ছিলো মাত্র। সেবার বেইরুত থেকে একটা বরফ রাখার বাক্স কিনেছিলাম। দারুণ কাজের জিনিস। দেখতে ছোট্ট, ঢাউস আকৃতির পেন্সিল বক্সের মতো। পানি ভরে ডিপে ঢুকিয়ে রাখলেই ষোলটা ছোট ছোট বরফ তৈরি হয়ে থাকে। ছয় ঘন্টা বাইরে ফেলে রাখলেও সে বরফের কিছুই হয় না।

কবি টং-এ বসে বিকেল হওয়া দেখলাম। বৃষ্টি ধরে আসলেও ছাঁট রয়ে গিয়েছিলো। তিনশ' ফুট নিচে হাইওয়ে ধরে বাস, মাইক্রোবাস, কার আর ইজিবাইক চলছিলো। সেগুলোর শব্দ বেড়ে যাওয়া শুনে বুঝলাম, ট্যুরিস্টরা আস্তে আস্তে ঘর ছেড়ে বের হতে শুরু করেছে। আমরা ধীরে ধীরে উঠে পড়লাম।

উঠতে গিয়ে মনে পড়ে গেলো আমাদের পার্কের সে জীবনের কথা। প্রতিদিন রাতেই আমাদের উঠতে খুব অনিচ্ছা দেখা দিতো। যাচ্ছি-যাই-চল চলে যাই ইত্যাদি করতে করতেই রাত একটার বেশি বেজে যেতো। আর পার্ক থেকে বের হওয়ার পর অবধারিতভাবে ইচ্ছে করতো রাতের খাবারটা বাইরে খেতে। আসল উদ্দেশ্য আর কিছুই না। যতটা সম্ভব দেরিতে বাড়ি ফেরা যায়, সেই চেষ্টাই থাকতো আমাদের দু'জনের মাঝে। আমাদের সঙ্গীদের মধ্যে যারা সর্বোচ্চ উড়নচন্ডী, তাদের কেউ কেউ মাঝে মাঝে রয়ে যেতো সে সময় পর্যন্ত। তবে বেশিরভাগ দিন শুধু অবন্তী আর আমিই থাকতাম। সব কিছু শেষ করে যখন বাড়ি ফিরতাম, তখন একরাশ অশান্তি মনটাকে ছেঁকে ধরতো। সেকি অবন্তীর পাশে না থাকার জন্য নাকি বাড়ি ফিরে হজম করা বকা-ঝকাগুলোর জন্য, আমি বুঝতে পারতাম না। অশান্ত মন নিয়েই বিছানায় ছটফট করতাম এবং ভোরের দিকে আযানের শব্দে আমার ঘুম পেয়ে যেতো।

আমার এ সংকটটা আমি অবন্তীকে কখনো বুঝতে দিতাম না। কারণ আমি জানতাম, সে বুঝতে পারলেই কিছু একটা ব্যবস্থা করে ফেলবে। ওকে কোনো প্রেশার দিতে আমার কখনোই ইচ্ছে করতো না। অথচ মেয়েটি একদিন ঠিকই বুঝে ফেললো।

আমার কাছে জানতে চাইলো, তোমার কি বাড়ি ফিরে কখনো অশান্তি লেগেছে মনে?
আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম প্রশ্নটা শুনে। বললাম, হ্যাঁ লেগেছে।
-কখনো ছটফট করেছো সারারাত?
হ্যাঁ করেছি।
-কবে করেছো?
প্রতিদিন করেছি।
-বলো নি কেন আগে?
জানি না।

তার দু'দিন পর সে আমাকে ঢাকা থেকে দূরে এই নির্জন শহরটার নির্জনতম কোণে একটা প্রায় ভুতুড়ে বাড়িতে এনে তুলেছে। শৈশবে স্কুলের কিংবা কলোনীর বার্ষিক ক্রীড়া উৎসবে একটা খুব মজার খেলা ছিলো আমাদের। উঠতি বয়েসীরা প্রায় সবাই সেই খেলাটাতে খুব আগ্রহ সহকারে অংশ নিতো। জীবনটাকে ইদানীং সেই 'যেমন খুশি তেমন সাজো' খেলার মতো লাগে আমার কাছে। সম্প্রতি আমরা জেলে সেজেছি। মাঝে মাঝে বোট নিয়ে মাঝসমুদ্রেও চলে যাই মাছ ধরতে। অবশ্য আমাদের সঙ্গে আরো গোটা চল্লিশেক পেশাদার জেলে থাকে। আর আমাদের কাজ থাকে শুধু বোটে বসে বসে সমুদ্রটাকে পর্যবেক্ষণ করা। সঙ্গে থাকে স্মিনর্ফ বা টাকুইলা, কোনো কোনো দিন অফিসার্স চয়েজ। আমি খেয়াল করে দেখেছি, সমুদ্রের প্রথম ঘোলা পানির স্তরটা পার হবার পর থেকেই ধীরে ধীরে পৃথিবীর সবকিছুর প্রতি এক ধরনের মায়া জন্মাতে শুরু করে। শুধু ডলফিনদের সাঁতারকাটা দেখবো বলেই আরো অন্তত কয়েকশ' বছর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে। আর ইচ্ছেগুলোকেও খুব ভীষণ অমূল্য মনে হয়। কেন এমন মনে হয় সেটা এখনো বুঝে উঠতে পারি নি। হয়তো অবন্তী পাশে থাকে বলেই কিংবা জীবনটাকে যেমন দেখতে চেয়েছিলাম তেমন দেখতে পাচ্ছি বলেই- আমি জানি না।

---

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আহা, কি সুন্দর সুখগন্ধমাখা লেখা। এরকম বর্ণনা পড়লে কেমন জানি নেশা নেশা ঘোর লাগে! এখন সমূদ্রে যাওয়ার জন্য মন আনচান করতাছে।

কবি টং এর নাম কবি টং কেন?

পানাহার একটু সামলে, লিভার সাবধান!

মীর's picture


ধইন্যাপাতা ভাইজান। মন্তব্যে অনেক অনুপ্রাণিত হইলাম। লিভার সামলায় রাখার পরামর্শ যথাস্থানে পৌছায় দিমু নে। ভালো থাইকেন এবং সবাইরে ভালো রাইখেন।

জ্যোতি's picture


মনটা স্মৃতিকাতর হলো। গত বছর গিয়েছিলাম কক্সবাজার। ৩ নং বিপদ সংকেত চলছিলো, হঠাৎ সকালে ঝড়, আমরা গেলাম সমুদ্র দেখতে, উথাল পাতাল অবস্থা..আরো কত কাহিনী!
বৌদ্ম পূর্ণিমার রাতে বিরাট জোসনায় মাখামাখি, রিক্সায় অনেক ঘুরে রাত ১১ টা পর্যন্ত বসে থাকলাম বীচে। আহারে! কত স্মৃতি! পোস্টটা পড়ে মনটা খুবই অস্থির হলো।

মীর's picture


'কাটে না কাটে না এ সময়
অস্থির ভাবনারা জেগে রয়'

গানটা শুনলে অস্থিরতা কাটতে পারে।

যাই হোক, আছেন কেমন ফুপুজান? আজকাল কিভাবে সময় কাটে বলে যান।

সামছা আকিদা জাহান's picture


অসাধারন মীর এক নি:শ্বাসে পড়লাম। যেন বাস্তব আমি বসে আছি কবি টং এ। হাতে রুপালী আগুন মুখে ডালমুড মাথার উপর বৃষ্টি, উত্তাল মাতাল হাওয়া।আমার খুব খুব প্রিয় পরিবেশ।

মীর's picture


ধইন্যা গো আফামনি। ভাল্লাগলো অনেক আপনার মন্তব্যখানি Smile

তানবীরা's picture


অবন্তী হয়ে যেতে ইচছে করছে

মীর's picture


আপনে তো ছয় রুমের ফ্ল্যাট দেখে দিবেন দৌড়। তাইলে আর কেমনে হবে? Tongue out

এ টি এম কাদের's picture


এইতো আমাদের মীর ! মাঝখানে অনেক দিন কেন যে হারিয়ে ছিলেন, বুঝিনি ! লেখা দারুণ হয়েছে ! ভাল থাইকেন ।

১০

মীর's picture


ধন্যবাদ কাদের ভাই। আমি ভালো থাকবো, আপনিও থাইকেন।

১১

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


একটানে পড়ে ফেললাম মীর, দারুণ!
সাগর মনে হয় সবাইকেই টানে, মনে হচ্ছিলো কবি টং এ বসে সমুদ্র দেখছিলাম!
আমার মেয়েটাও পুরোনো ছবি দেখতে দেখতে সেদিন বলল, বাবা আমরা সাগরে যাব কবে? ডিসেম্বরে একবার প্ল্যান করতে হবে ভাবছি।

১২

মীর's picture


থ্যাংকস্ নিভৃতদা'। ডিসেম্বরে প্ল্যান করা হইলে জানায়েন। আর আছেন-টাছেন কেমন?

১৩

আরাফাত শান্ত's picture


দারুন!

১৪

মীর's picture


ওয়াও! থ্যাংক ইউ ভাইয়া। এন্ডলেস থ্যাংক্স...

১৫

উচ্ছল's picture


কবি টং...... দারুন। । ভালো থাকবেন। Smile

১৬

মীর's picture


উচ্ছল ভাই, কেমন আচেন? অনেক দিন আপনার নতুন কোনো লেখা পাই না।

১৭

সাঈদ's picture


গল্প পড়ে আমার ত এখন ঐ কবি টং এ যাইয়া ভদকা পান করতে ইচ্ছা করতেছে Sad

১৮

মীর's picture


শুনে তো খুশি হয়ে গেলাম ভাইজান Smile

১৯

মেসবাহ য়াযাদ's picture


দুর, এইটা কোনো লেখা হৈলো ?
যত্তসব আজাইরা প্যাচাল...
বৃষ্টির দিনে এইসব লেখা পড়তে ভাল্লাগে না।
এখন কে আমারে ছুটি দিব- সমুদ্রের পাড়ে যাইতে ?
মীর একটা যাচ্ছে তাই... Crazy

২০

মীর's picture


আজকে তো খটখটা রোদ চারদিকে। আপনে বৃষ্টি পাইলেন কই?

২১

নাজনীন খলিল's picture


অনে------ক দিন পরে মীরের অসাধারণ লেখা আবার পড়লাম!

কেমন আছ?

২২

মীর's picture


নাজনীন আপু!!! কত শত দিন পর আপনাকে দেখলাম। আমি ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন? এখনো আমাকে মনে রেখেছেন দেখে অনেক চমকেছি। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সেই কবিতার মতো অবস্থা---

অকস্মাৎ কে চেঁচিয়ে উঠল রক্তে ঝাঁকি দিয়ে
"নিলাম নিলাম নিলাম!"
আমি তোমার বুকের মধ্যে উঁকি মারতে গিয়ে
চমকে উঠেছিলাম।

অথচ কেউ কোথায় নেই তো, খাঁ খাঁ করছে বাড়ি।
পিছন দিকে ঘুরে
দেখেছিলাম, রেলিং থেকে ঝাঁপ দিয়েছে শাড়ি
এক গলা রোদ্দুরে।

বারান্দাটা পিছন দিকে, ডাইনে বাঁয়ে ঘর,
সামনে গাছের সারি।
দৃশ্যটা খুব পরিচিত, এখনো পর-পর
সাজিয়ে নিতে পারি।

এবং স্পষ্ট বুঝতে পারি, বুকের মধ্যে কার
বুকের শব্দ বাজে
হায়, তবু সেই দ্বিপ্রাহরিক নিলাম ঘোষণার
অর্থ বুঝি না যে।

"নিলাম নিলাম!" কিসের নিলাম? দুপুরে দুঃসহ
সকাল বেলার ভুলের?
এক বেণীতে ক্ষুদ্ধ নারীর বুকের গন্ধবহ
বাসী বকুল ফুলের?

"নিলাম নিলাম!" ঘন্টা বাজে বুকের মধ্যে, আর
ঘন্টা বাজে দুরে।
"নিলাম নিলাম!" ঘন্টা বাজে সমস্ত সংসার
সারা জীবন জুড়ে।

২৩

নাজনীন খলিল's picture


তোমার লেখার মতোই অসাধারণ উত্তর হয়েছে। Smile

তবে তোমার মতো এমন সুন্দর করে না বলতে পারলেও সহজ কথায় বলি---আমার ভালবাসার মানুষগুলো বুকের ভিতর থেকে কখনো হারায়না।

২৪

মীর's picture


থ্যাংক ইউ ভেরী মাচ আপু। আমার ছোট্ট জীবনে এমন চমৎকার প্রাপ্তি খুবই কম যোগ হয়েছে।

ভালো থাকবেন, সর্বোচ্চ ভালো। শুভেচ্ছা নিরন্তর Smile

২৫

মাহবুব সুমন's picture


বাহ Smile

২৬

দূরতম গর্জন's picture


এক টানে পড়ে ফেললাম। দারুন লেখেন তো আপনি

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!