কবিতা: ভীষণ বাজে
আমরাবন্ধু ব্লগে কবিতা পোস্ট করার একটা ছোট্ট সমস্যা আছে। কবিতা বেশি বড় না হলে, পুরোটা বাইরে থেকে দেখা যায়। বিষয়টা আমার কাছে কিছুটা অশ্লীলমতো লাগে। যে কারণে সাধারণত এ ধরনের পোস্টের শুরুতে কিছু অপ্রয়োজনীয় বাক্য জুড়ে, কবিতা ঢেকে রাখার চেষ্টা করি। তো এবার ভেবেছি, কবিতার শানে নুযুলকে এই অংশে অন্তর্ভূক্ত করে দেবো।
আগের পোস্টেই লিখেছিলাম- গবেষণা চলছে পুরোদমে। দলের মধ্যে আমার কাজের চাপই বেশি কারণ বাকি দুইজনের ওপর ভরসা করার কোনো উপায় নেই। ওদের জন্য এ কোর্সটা ততোখানি জরুরি না, যতোখানি আমার জন্য। তাই ওরা গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কতোটা হাওয়া লাগাচ্ছে সেটা একটা ছোট্ট উদাহরণ দিলেই বুঝবেন। আজ থেকে (সোমবার, ২০ জুলাই) যে সপ্তাহটা শুরু হলো, সেটা এই সেমিস্টারের শেষ অফিসিয়াল সপ্তাহ। এরপর আর ক্লাস হবে না। চলবে কেবল ঘরে বসে পেপার লেখা আর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হওয়ার কাজ। এমন একটা জরুরি সপ্তাহে দলের একজন ডর্টমুন্ডে গিয়ে বসে আছে। কারণ ওখানে নাকি রঙিন পানি পানের বিশাল উৎসব আছে।
যাহোক্ লাইফে ঝঞ্ঝাট থাকবেই। তাই বলে তো বসে থাকা যায় না। সেই কারণে গত কয়দিন ধরে তিনজনের কাজ একজনে উঠিয়ে দেয়ার প্রাণান্ত লড়াই চালাচ্ছি। লড়াইয়ের একটা অংশ শেষ হলো খানিক আগে। কোয়ালিটেটিভ গবেষণার সবচেয়ে বিরক্তিকর এবং সেনসিটিভ পার্ট অর্থাৎ কনটেন্ট অ্যানালাইসিস শেষ করলাম। শেষ হবার পরই কেমন যেন একটা শূন্যতা এসে ভর করলো। গত ক'দিন ধরে আমাদের ইন্টারভিউয়ের ট্রান্সক্রিপ্টগুলো খুব আপনজনের মতো পাশে পাশে ছিল। নানাভাবে নিজেদেরকে ব্যাবচ্ছেদ করতে দিয়েছে। টেক্সট রিডাকশনের জন্য একবার সব ভেঙ্গেচুরে একাকার করেছি। তারপর ক্যাটেগরি বানানোর জন্য আরেকবার, এবং সবশেষে ব্যাক-টেস্টিং এর জন্য তাদের বুকে শাবল চালিয়েছি নির্দয়ভাবে। অথচ কখনও আপত্তি করে নি। হাসিমুখে সব অত্যাচার মেনে নিয়েছে। আজ ওদের সঙ্গে সম্পর্ক এক প্রকার শেষ হলো। যদি কোর্স ইন্সট্রাক্টরের আমার কাজ পছন্দ হয়, তাহলে হয়তো এ জীবনে আর কখনোই ওদের সঙ্গে দেখা হবে না। শূন্যতা তো ভর করারই কথা।
সেই শূন্যতা পূরণ করতেই একটা ধূম্রশলাকা রোল করে ফেললাম এবং সেটাতে অগ্নিসংযোগের সাথে সাথেই মাথায় একটা লাইন বেজে উঠলো- মাঝে মাঝে বুকের ভেতর যন্ত্রণা হয়, ভীষণ বাজে ভীষণ বাজে। যদিও এ লাইনটা এখন আর কবিতায় নেই। পরিবর্তিত হয়ে গেছে। তারপরও এই একটা লাইনকে পূর্ণতা দিতেই আরও কয়েকটা লাইনের আগমন ঘটেছিল বলে, এটাকেও তুলে রাখলাম এই পোস্টে। যাহোক, বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দরের মতো কবিতার চেয়ে ভূমিকা বড় হয়ে যাচ্ছে। কবিতাটা খুব মানসম্মত হলেও হয়তো এত বড় ভূমিকাকে লেজিটিমেট করা যেতো। তাও হয় নি। কেবলি মনের অলি-গলিতে ছদ্মবেশে পালিয়ে থাকার চেষ্টায় থাকা একটা অনুভূতিকে পাকড়াওয়ের অপেচেষ্টা হয়েছে। সেটাই তুলে রাখলাম প্রিয় এই ব্লগের পাতায়। ধন্যবাদ সবাইকে, শুভরাত্রি ও শুভেচ্ছা।
মাঝে মাঝে খুব যন্ত্রণা হয়
ভীষণ বাজে ভীষণ বাজে
হাসির শব্দ, কাচেঁর চুড়ি
গন্ধমাখা শাড়ির ভাজে,
কোথায় যেন পাঁজর ভাঙ্গে
হারিয়ে গেছি অচিন গাঙ্গে,
শ্বাসনালীতে আগুন জ্বলে
মাথার ভেতর ঝনঝনিয়ে
ট্রেন চলে যায় ভয় দেখিয়ে,
অন্ধকারে অতল পতন
হাঁচড়ে হাঁচড়ে ক্লান্ত যখন
ঠিক তখনই দিচ্ছো দেখা
ঝলসানো ওই রুটির মতোন
অনেক দূরে তারার ভীড়ে,
পাই না ছুঁতে, হৃদয় পোড়ে।
মাঝে মাঝে খুব যন্ত্রণা হয়
চাই না আমি, ভীষণ বাজে।
---





গুড আইডিয়া,
আমি অবশ্য হাবিজাবি কিছু মাথায় এলে
তা নিয়ে আর কিছু ভেবে লেখার মত পাই না।
কবিতায়
অনুভূতি গুলি ক্যান জানি অনুবাদ করা মনে হল!
হাবিজাবিগুলা নোট করে রাখতে পারেন। কয়েকটা নোট এক করলে দেখবেন একটা কাঠামো দাঁড়িয়ে যাবে ঠিকই।
কবিতাটা একটু কাটা কাটা হয়ে গেছে, সম্ভবত সেজন্য অনুবাদ করা মনে হচ্ছে। তবে নিশ্চয়তা দিচ্ছি, কবিতাটার কথা কিংবা অনুভূতির কোনোকিছুই কোনোখান থেকে টুকলিফাই বা ট্রান্সলেট করা হয় নাই। ভাবনাগুলো একেবারেই আমার এবং বের হয়েছে খুব দ্রুতগতিতে। এমনকি খুব বেশি ভাবনা-চিন্তাও করা লাগে নাই
কবিতার শানে নযুল এ ব্যাপক আনন্দ পেলাম
আপনাকে দেখে আমিও ব্যাপক আনন্দ পেলাম
আছেন কেমন?
কবিতাটার কোথাও কিছু বেদনাদায়ক সত্যি লুকিয়ে আছে মনে হলো
ছুঁয়ে গেছে আমাকে
আমার মনে হয়,
কবিরা লিখতে চাইলেও;
কবিতা কখনো মিথ্যা কথা বলে না।
মন্তব্য করুন