দি গ্রেট রেড স্পট
১.
ভালার মুরঘালিস্। অর্থ, অল মেন মাস্ট ডাই। ডানেরিস টারগেরিয়েন নামের ছোট্ট রুপালী চুলের মেয়েটির আকর্ষণে 'গেম অব থ্রোন্স' দেখতে বসে আটকে গেছি। আচ্ছা; এখানে একটা ম্যারি, ফাক, অ্যান্ড কিল ট্রিভিয়া দিই। গেম অব থ্রোন্সের ডানেরিস, স্টার ওয়ার্সের রে, আর হ্যারি পটারের হারমিওনি; তিনজনের মধ্যে কাকে আপনি বিয়ে করতে চান, কার সাথে সেক্স, এবং কাকে খুন করতে পারবেন? আমার সিরিয়াল হচ্ছে, বিয়ে- হারমিওনি, সেক্স- ডানেরিস আর কিল- রে। রে-কে কিল করতে চাই শুনে জিমি অবাক হচ্ছিল কারণ ওর সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র হচ্ছে রে, ওই তিনজনের মধ্যে। আমার অবশ্য কাউকেই খারাপ লাগে না। জাস্ট বন্ধুদের প্রায়োরিটি মাথায় রেখে সিরিয়াল সাজাচ্ছিলাম।
২.
ফেব্রুয়ারি মাসে এক সময় ব্লগে বেশ তোড়জোড় দেখা দিতো। কার কি বই বের হচ্ছে, নতুন নতুন বই পড়ার অনুভূতি কার কেমন, বইমেলাটা এবার কেমন হচ্ছে- ইত্যাদি জানা যেতো ব্লগ থেকেই। খুব সহজে। এবার তেমন কোনো লেখা চোখে পড়ছে না। সবাই আমরা খুব দ্রুত বিবর্তিত হচ্ছি আসলে, তাই না? কোনো কিছুই খুব বেশিদিন ভাল লাগছে না। পশ্চিমের ছেলেপিলেদের মধ্যে তো, অলরেডি ফেসবুকের ওপর অধৈর্য এসে পড়েছে। আমাদের ওদিকেও এলো বলে, খুব বেশি দেরি নেই, যা মনে হচ্ছে।
৩.
আজ বনের ভেতরে ঢুকেছিলাম। তুষারপাতের সময়। আমার মূলত ইচ্ছে ছিল 'ইউনিপার্ক' নামের স্টেশনারী শপটার পরে যে ছোট্ট টিলামতো বনের সীমানা প্রান্তরটা আছে, সেখানে গিয়ে নিচের শহরটার একটা ছবি তোলা। গিয়ে দেখি বরফে সবকিছু এত শাদা হয়ে আছে যে, সেই ছবিকে ফুটিয়ে তোলার বিদ্যে আমার জানা নেই। শুরু করলাম বনের ভেতরের পায়ে চলা পথ ধরে ধরে হাঁটার প্রচেষ্টা। প্রকৃতির চেয়ে ভাল শিল্পী আসলে নেই। এক সময় তো যাই দেখছিলাম, তাই ছবির মতো মনে হচ্ছিল। তবে তুষারের কারণে ছবি কম তোলা হয়েছে। অবশ্য আমি বেশি তুলতে চাচ্ছিলামও না। আমি জাস্ট চাচ্ছিলাম দূরে, যতোটা সম্ভব দূরে; সরে যেতে। এই নগরীর বিষণ্নতা মাখা বাতাসটা আসলে কোথা থেকে ভেসে আসছে, খুঁজে দেখতে। কোন সে জাদুকর তার কাঠের কুঁড়েতে বসে অবিরাম মন্ত্রপাঠ করে আর কোন কাঠুরের ঘরের পাশের পাইন গাছে সাতসকালে কাঠঠোকরারা বৈঠক করে, আমার খুঁজে বের করার খুব ইচ্ছা। আচ্ছা, কাঠঠোকরারা কি সকালে কাজে যাওয়ার আগে এলাকার সবাই মিলে বসে ঠিক করে যে, কে সেদিন কোন জায়গায় কাজ করবে?
৪.
অঞ্জন দত্তের 'মালা' গানটা আমার এত্তো পছন্দ ছিল, অথচ তুমি একটুও পছন্দ করতে না। হিসাব ছাড়া টাকা খরচ করতে আমার এত ভাল লাগতো, কিন্তু তুমি কখনও সায় দিতে চাইতে না। কোথাও বেড়াতে গিয়ে পাঁচদিনের জায়গায়, দশদিন কাটিয়ে আসার মতো সুখ- আমি অনেক কম বিষয়বস্তুর মধ্যেই পেতাম, কিন্তু তুমি কখনও সেটা করতে দিতে না। আমরা আসলে একে অপরকে ভালবাসতাম না, কিন্তু আবার ভালও বাসতাম, তাই না? শ্রোয়েডিঙ্গারের সেই বেড়ালের মতো, বাক্সটা খুলে দেখা হয় নি- বেড়ালটা জীবিত কিনা। তার আগেই এক বিরাট সাইক্লোন আমাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দিলো, একে অপরের কাছ থেকে। উইন্টারফেলের এডওয়ার্ড স্টার্ক যখন কিংসল্যান্ডে যাচ্ছিল, তখন কি সে জানতো যে- আর কোনদিন প্রিয়তমা স্ত্রী'র কাছে ফিরতে পারবে না? মনে হয় না।
৫.
বৃহস্পতি গ্রহে একটা সাইক্লোন ঘুরছে; ১৬৬৪ সালে 'রবার্ট হুক' নামের একজন অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট সাইক্লোনটা আবিস্কার করেছিলেন, সেই সময় থেকে। প্রায় ১৭ হাজার মাইল লম্বা এবং নয় হাজার মাইল চওড়া সাইক্লোনটা নাকি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় সাইক্লোন। নাম দি গ্রেট রেড স্পট। সাইক্লোনরা আসলে খুবই অদ্ভুত, তাই না?
---





আমারও ইচ্ছা করে দূরে অনেক দূরে চলে যেতে। সেলফোনের যুগে তা আর সম্ভব হয় না। ফোনটা ফেলে রেখে যেতে পারলে হত। কিন্তু প্রিয়জনের ভালবাসার জোড় এত বেশি, কষ্ট দিতে মন সায় দেয় না।
হাবিজাবি ভাল্লাগে, পুরান দিনের টাচটা এখনও পাওয়া যায়।
মন্তব্য করুন