আমি হয়তো মেনি পোলার ছিলাম, শুধু বাইপোলার না
নিজেকে নিয়ে অনেক বড় একটা রিয়ালাইজেশন হয়েছে সম্প্রতি। সে ব্যপারটা জানানোর জন্যই এই লেখাটা। তবে রিয়ালাইজেশনটা বলার আগে কিছু পরিকল্পনার কথা বলতে চাই। অনেকে এগুলোকে ফ্যান্টাসী বলে কিন্তু আমি পরিকল্পনাই বলি। বলতে পছন্দও করি। পরিকল্পনাগুলোর সাথে আমি সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলাম, এখনও আছি। তবে সেগুলোর কোনোটিই এখনও বাস্তবায়িত হয় নি। কোনটা যে বাস্তবায়িত হবে, জানি না। কোনোটা কি আদৌ বাস্তবায়িত হবে? তাও জানি না।
মংপোয়াকে আমরা ক্যাপ্টেন জ্যাকস্প্যারো বলে ডাকতাম। আর হ্লা মং-কে অন্যকিছু না, হ্লা মং বলেই ডাকা হতো। আমাদের তিনজনের পরিকল্পনা ছিল পাহাড়ে পাঁচ বা ১০ একর জমি কিনে বার্মার আমের চাষ করা। প্লাস কাঠ প্রদানকারী গাছ লাগানো। সেজন্য খোঁজ-খবরও নেয়া শুরু করেছিলাম। পাহাড়ে জমি কেনার কোনো সহজ উপায় নেই। আমার ভরসা ছিল একমাত্র ছেলেবেলার বন্ধু মিশু। যে কিনা তিন পার্বত্য জেলায় আর্মি অফিসার হিসাবে কাজের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ। ওই পরিকল্পনাটার পাশাপাশি দেশের বাইরে পড়তে আসার পরিকল্পনা চলছিল। পাশেরটা বাস্তবায়িত হয়ে গেল কিন্তু আসলটা পড়ে রইলো হাফ-ডান অবস্থায়। মাঝে মাঝে মনে পড়ে, মাতামুহুরী নদীর পাড়ে বসে ঘাসের ডগা চিবুতে চিবুতে এবং প্র্যাং পান করতে করতে; যখন ক্যাপ্টেন জ্যাকস্প্যারো রঙিন স্বপ্নের জাল বুনতো, পাহাড় কেনার পর কিভাবে সেটা সাফ করা হবে, প্রথমে কোন গাছগুলো লাগানো হবে, সেগুলো কোথা থেকে কিভাবে আনা হবে, সবকিছুর ছবি যখন সে এত পরিস্কারভাবে চোখের সামনে ফুটিয়ে তুলতো; তখন আমি মনে প্রাণেই বিশ্বাস করতাম, শ্রীঘ্রই ঘটনাটা ঘটতে যাচ্ছে। আজ যখন জিমি, আর আমি মিলে একটা অস্কারজয়ী সিনেমা বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় টাকা-পয়সার হিসাব মেলাই, তখন আমার কাছে সেটাকেও অসম্ভব মনে হয় না। পাশাপাশি রব যখন তার লন্ডন জীবনের স্বপ্নে আমাকেও টানার চেষ্টা করে, তখন নিজেকে সেখানে প্রতিস্থাপন করতেও সমস্যা হয় না।
অনেক আগে, অনেক অনেক আগে, যখন ছোট ছিলাম, যখন নারী দেহের স্বাদ পাই নি কিন্তু সেটার জন্য লালায়িত ছিলাম; সে সময় একজনের সাথে পরিকল্পনা করেছিলাম পালিয়ে সুন্দরবন চলে যাবার। সেখানে গিয়ে মৌমাছির মধু সংগ্রহের কাজ বেছে নেয়ার। বাস্তবায়িত হয় নি। আজকাল যখন কাউকে আর্জেন্টিনার গ্রামে গিয়ে স্কুলশিক্ষক হওয়াটা কতোটা ইন্টারেস্টিং হতে পারে- বোঝানো শুরু করি, তখনই নিজে বুঝে যাই চিন্তাটা কোথা থেকে আসছে। তারপরে আর বেশিদূর আগাই না।
নিজের কার্যকলাপ বুঝতে পারাটা খুব জরুরি কিন্তু। যেমন, আপনি যদি ব্যাক্তি হিসেবে অসৎ হন কিন্তু সেটা না জানেন, তাহলে অসততার পাশাপাশি অজ্ঞতার মাশুলও গুণতে হতে পারে। নিজের জীবন থেকে নেয়া উদাহরণ। আমি যাকে ভালবাসতাম, তাকে ভালবাসাকালীন সময়েই আরেকজনকে ভালবেসেছিলাম। অল্প সময়ের জন্য। এর ফলে দুইজনকেই প্রতারণা করা হয়েছিল। আমার কাছে তথ্য হিসাবে এ ঘটনাটা জমা ছিল। মস্তিষ্ক ডেটাটা নিয়ে বহুদিন ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে সেদিন আমাকে ফলাফল দিয়েছে। যেটা হলো, আমি একটা খারাপ মানুষ। সত্যি বলতে কি, এই বিষয়টা আমি জানতাম না। আমি ভাবতাম যে, আমি মানুষ হিসেবে আর যাই হই, খারাপ না। বোকা, টিউবলাইট, ভীতু, হুজুুগে অনেক কিছু; তবে খারাপ না। এই ভুল ধারণাটা আমার ভেতরে জীবনের প্রায় প্রথম দিকে কোনোভাবে ঢুকে গিয়েছিল। অর্ধেক জীবন পার করে এসে বুঝতে হলো, আমি মানুষ হিসেবে ভাল না। আমার সঙ্গ বর্জন করা উত্তম।
আগে বোঝা দরকার ছিল, ভীষণ দরকার ছিল। তাহলে এতোটা হেনস্থা হতে হতো না। তবে ক্ষমাপ্রার্থনা করতে তো কোনো সমস্যা নেই। সেটাই করছি এতদিন যাদেরকে কলুষিত করেছি, তাদের কাছে। প্লাস আমি জানি, একটা লেইম স্যরি আসলেই কোনো পার্থক্য গড়ে তোলে না। তোমরা যারা মহৎ হৃদয় নিজ গুণে ক্ষমা করেছো, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। কখনও তোমাদের কাজে লাগতে পারলে বোলো। চেষ্টা অবশ্যই করবো।
---





nice post and great idea
জীবনের মাঝামাঝি এসে নিজেকে চিনতে পেরেছো।অনেক আগেই বুঝতে পেরেছ নিজেকে। অনেকে তো শেষ জীবনে গিয়েও নিজেকে বোঝে না। যাহোক , তোমাকে শুভেচ্ছা যে তুমি নিজেকে বুঝেছ।
আসলেই এইভাবে কখনও ভেবে দেখা হয় নাই
ক্ষমা করে দিলাম ভাইজান। কোনও কাজে আপনারে দরকার হলে ফোন দিবো। তখন টাকি মাছের মত পালাবেন না আশা করি।
মন্তব্য করুন