ইউজার লগইন

যদি তুমি বৃষ্টিতে ভিজতে আর পিনা কোলাডা পান করতে পছন্দ করো

বছরের প্রথম সপ্তাহের মতো সময় আর হয় না। আজ সকালে যেমন ঘুম ভেঙেছে এক অদ্ভুত স্বপ্নে। চোখ মেলে দেখি কেবল সাড়ে সাতটা বাজে। সাড়ে সাতটা মানে আমার কাছে সকালও না। মধ্যরাত বলা যায়। কারণ আমি ঘুমাতে যাই নূন্যতম চারটায়। ইদানীং আবারও পুরোনো রুটিনে ফিরে গিয়েছি। এটা অনুমিতই ছিল। বন্ধু টোসিনের পরামর্শছিল, dude we have been to real life shit for two months. we need a break.

আমাকে কেউ অালসেমী করতে বললে, তাকে আমার ইন্সট্যান্ট ভাল লেগে যায়। আলসেমীর পরামর্শটাতো লাগেই। তাই যা আছে কপালে বলে আলসেমীতে লেগে পড়েছিলাম সপ্তাহের শুরুতে। বলা ভালো বছরের শুরুতে। খারাপ ছিল না অলস এই সপ্তাহটা। আর উইকেন্ডটা তো এখনও পড়েই আছে। ওটাও হালকা-পাতলা আলসেমীতেই কাটবে জানি। তারপর নতুন সপ্তাহ থেকে সিরিয়াসলি অনেকগুলো কাজ হাতে নিতে হবে। Dear god of laziness, you need to stay away from me for a long time. Bitte. I know it will be hard. I know your great love for me flies like a free bird. কিন্তু এই দফায় আমার ওপর ভালবাসার অত্যাচার তোমাকে একটু কমাতেই হবে। নাহলে যে আমার সামনে সমূহ বিপদ। তখন তুমি চাইলেও ছুঁতে পারবে না আর আমাকে। তাই ক'টা দিন ধৈর্য ধরে দূরে থাকো প্লীজ। সময় হলে আমিই আবার তোমাকে খুঁজে নেবো, ওকিজ?

স্বপ্নে দেখেছিলাম তিতির পাখিকে। ওকে কেন যেন উদাস আর কোনো কারণে মন খারাপ মনে হচ্ছিল দেখা হওয়ার পর থেকেই। জীবনের কোনো একটা মোড়ে পৌঁছে কোন রাস্তাটা বেছে নেবো ভেবে ভেবে আমরা যেমন দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়ি খানিকটা সময়ের জন্য, অনেকটা তেমন। আমি তখন ওকে একটা আইসক্রীম কিনে দিয়ে পাশে পাশে হাঁটছিলাম।

এমন এক মরার দেশে এসে পৌঁছেছি, যেখানে আইসক্রীম খেতে মন চায় কেবল শীতকালে। ইদানীং তাপমাত্রা নেমে নেমে মাইনাস ১৬-তে চলে এসেছে। এই সময় আইসক্রীম খেলে কি হবে বলা মুশকিল। অথচ সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে ইচ্ছে করছে গ্যাস স্টেশনে গিয়ে আইসক্রীম খেয়ে আসতে। কাছে-পিঠে ওটাই একমাত্র জায়গা যেখানে আমার পছন্দের একটা আইসক্রীম পাওয়া যায়। ছোট্ট যে সুপারশপটা আছে আমাদের ক্যাম্পাসের ভেতরে, ওখানে যেগুলো পাওয়া যায় সেগুলোর একটাও ভাল লাগে না আমার।

অবশ্য গ্যাস স্টেশনে যাওয়া দরকার সিগারেটের জন্যও। তামাক, পেপার, ফিল্টার সবই শেষের পথে। কিন্তু বাইরে এক হাঁটু বরফ জমে আছে রাস্তায়। ঘরের উষ্ণতায় বসে কিছু না করা ছাড়া আর কিছু করার মোটিভেশন পাচ্ছি না। হালকা একটা স্যূপ হয়তো কোনো এক সময় রান্না করবো। রাতের আহার। ক্লোন ওয়ারের চার-পাঁচটা পর্বও হয়তো দেখা হবে বিছানায় শুয়ে। এখনও গোটা কয়েক সিগারেট বানানোর রসদ মজুদ আছে। সেগুলোকেই ধীরে ধীরে ব্যাবহার করা হবে। আর শোনা হবে মূলত গার্ডিয়ান অফ দি গ্যালাক্সি সিনেমার গান। অওসাম মিক্স ভল্যূম ওয়ান।

ইতোমধ্যে লাখখানেক বার বোধহয় শোনা হয়ে গেছে সবগুলোই। বিশেষ করে গত দু'মাস কাজে যাওয়া আর আসার পথে কানের হেডফোনে ক্রমাগত বেজেছে ডেভিড বাউই, এলভিন বিশপ, রুপার্ট হোমস্, ব্লু সোয়েডরা। I'm an alligator, I've a mama-papa common for you...

আইসক্রীম দেখে অবশ্য তিতির পাখির ভাবান্তর হলো না। উদাস হয়েই থাকলো তারপরও। ভাবছিলাম আর কি করা যায় ওর জন্য। রিকশায় করে ঘুরতে যাওয়া যায়।

যেই ভাবা সেই কাজ। খালি রিকশা পাওয়ার অপেক্ষায় একটু বসতে হলো। আমার বসেছিলাম একটা যাত্রী ছাউনিতে। আশপাশ দিয়ে প্রচুর মানুষ চলাচল করছিল। এক সময় রিকশা পেয়ে উঠেও বসলাম দু'জন। ও তখনও কোনো কথা বলে নি আমার সাথে।

অওসাম মিক্স ভল্যূম টু-টাও ভালো হয়েছে। একদম একই রকমের আরও কিছু নতুন গান। আমার প্রায়ই এই সমস্যা হয়। কোনো একটা প্লে-লিস্ট বা সিঙ্গার বা নির্দিষ্ট গানে এমনভাবে মজে যাই, বার বার না শুনলে হয় না। আবার শোনা শেষ হয়ে গেলেই যে যে সেই গানটাকে বাদ দিয়ে দিই- তাও না। নতুন একটা গানে মুভ করি ঠিকই, কিন্তু একবার যে গানগুলো হৃদয়ে বসে যায়, সেগুলোকে আমি শুনতে পারি সবসময়। কখনও পুরোনো হয় না। যেমন এমি ওয়াইনহাউস। আজও সমান ভাললাগা অনুভব করি ওর গান শুনলে। শুধু এখন আর এমির গান শোনার জন্য তুলির আঁচড়ের মতো টান অনুভব করি না হৃদয়ে।

ধানমন্ডির বেঙ্গল গ্যালারিতে গিয়ে নেমেছিলাম আমরা। কি যেন একটা লোকসঙ্গীতের আসর ছিল সেদিন। টিকিট কেটে ঢুকতে হয়েছিল। ভেতরে ছিল বুফে'তে খাওয়ার বন্দোবস্ত। প্লেন খিচুড়ি আর গরুর ভুনা। সঙ্গে শসা আর টমেটোর সালাদ। ক্ষুধার্ত ছিলাম দু'জনই। তিতির পাখিটা তবুও শুধুই নিয়েছিল এক গ্লাস আপেল জুস।

এমি ওয়াইনহাউসকে কবে প্রথম ভাল লেগে গিয়েছিল আজও স্পষ্ট মনে আছে। ভুলে যাবার আগে লিখে রাখাও দরকার। আমি সর্বপ্রথম ওর যে গানটা শুনি সেটা হচ্ছে ব্যাক টু ব্ল্যাক। একিন সোনমেজের রুমে। এই দেশে এসে আমার প্রথম বন্ধুত্ব হয় ওর সাথেই। যথারীতি দু'জনের কমন ইন্টারেস্টের জায়গা ছিল অ্যালকোহল। আর গান। আর একে অপরের সঙ্গে মীন আচরণ করা। ওর প্লেলিস্টে এমির একটা গানই ঠাঁই পেয়েছিল। তবে ওর রুম থেকে যখন এমি শিফট্ হলো আমার রুমে তখন একে একে ওর সব গানই নিজেদের জায়গা করে নিলো ফাঁকে-ফোকরে। কতোদিন যে টানা শুধু এমির গানই শুনেছি তার কোনো হিসেব নেই। মাঝে মাঝে একটা-দু'টো অন্য গান শোনা হয়েছে ঠিকই। তবে অওসাম মিক্স ভল্যূম ওয়ানের আগ পর্যন্ত ওকে পুরোপুরি রিপ্লেস করা সম্ভব হয় নি। একটা বিশেষ স্মৃতি জড়িয়ে আছে অওসাম মিক্সের হুকড্ অন এ ফিলিং গানটির সাথে। যখন আমি ইলমিনাউ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্টের নতুন শিক্ষার্থীদের টিউটর ছিলাম। সে স্মৃতিটাই ধীরে ধীরে পুরো প্লে-লিস্টটাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে আমার মিউজিক প্লেয়ারে। হুকড অন এ ফিলিং গানের কথাগুলো ফানি। একটা ছেলে গাইছে, আমার মনে হচ্ছে মেয়ে তুমি আমার প্রেমে পড়ে গেছো। ব্লু সোয়েডের গান। এমনিতে এ ধরনের লিরিককে আমার সবসময়ই একটু 'চিজি' মনে হয়।

বেঙ্গল গ্যালারী থেকে ফেরার পথে তিতির পাখির হাত ধরে বসেছিলাম। সে বলছিল, আমার হাত ঘেমে তোর হাত ভিজিয়ে দেবে। ছেড়ে দে।

মাঝে মাঝে ও যে এতো স্টুপিডের মতো কথা বলে! ওর হাতের ঘামে যদি আমার হাত ভিজেই যায়, সেখানে সমস্যা কোথায়? ওর সবকিছুই তো আমার ভাল লাগে। হাত ঘেমে যাওয়ার সুইট ফিচারটাতো স্পেশালি ভাল লাগে। কথাগুলো কি কখনোই বলা হয় নি? ভাবছিলাম ওর পাশে বসে বসে। যদি বলেই থাকি, তাহলে আজ হাত ছেড়ে দিতে বলছে কেন ছুকড়ি?

জিজ্ঞেস করতেই বড় বড় চোখ মেলে আমার দিকে এক মুহুর্ত তাকিয়ে থাকলো। আমিও মন্ত্রমুগ্ধের মতো হারিয়ে গিয়েছিলাম সেই চোখের গভীরতায়। তার শুনতে পেয়েছিলাম ও বলছে, "আমি তো জানিই বাসার সামনে পৌঁছানোর সাথে সাথে এই সবকিছু মিথ্যে হয়ে যাবে। তুই নেমে যাবি রিকশা থেকে। ঠিক সেই সময়ই আমরা ফিরে যাবো আমাদের বাস্তব বর্তমানে। যেখানে আমার দু'জন দু'জনের কাছ থেকে যোজন যোজন মাইল দূরে থাকি। এত দূরে যে যতো উদাসই আমার লাগুক না কেন, তুই কখনও আইসক্রীম নিয়ে আমার মন ভাল করে দেয়ার চেষ্টা করতে আসতে পারিস না। আমি জানি সব, তাই সত্যিকার অর্থে মন খারাপ ভাবটা কখনও কাটিয়ে উঠতে পারি না।" আর তারপরই খুলে গিয়েছিল আমার চোখ, ভেঙ্গে গিয়েছিল সকালের ঘুমটা।

অওসাম মিক্স ভল্যূম ওয়ানের শেষ গানটার নাম- এইন্ট নো মাউন্টেন হাই এনাফ। মার্ভিন গাইয়ার গান। আসলেই যদি হতো এইন্ট নো মাউন্টেন হাই এনাফ, কিংবা এইন্ট নো ভ্যালি লো। কোনো নদী যদি অতোটা প্রশস্ত না হতো, তাহলে হয়তো মার্ভিনের মতো করে বলা যেতো, যদি কখনও প্রয়োজন পড়ে, যেখানেই থাকো শুধু একবার ডেকে দেখো। যতোদূরেই থাকি না কেন- ভেবো না মেয়ে, একবার শুধু ডেকে দেখো, আমি পৌঁছে যাবো পাশে, দ্রুত।

কিন্তু বাস্তবের সাথে কল্পনা, সিনেমা, গান, উপন্যাস সবকিছুরই এত বিশাল ফারাক যে; যত খারাপই লাগুক একসময় বইখাতা-ল্যাপটপ সবকিছু বন্ধ করে, বাতি নিভিয়ে, চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়তে হয়। আরেকটা স্বপ্ন এসে ঠিক একইভাবে হৃদয়ের খানিকটা খুলে নিয়ে যাবে জানার পরও, ঘুমিয়ে পড়তে হয়।

আহ্ তিতির পাখি! ভাল থেকো, যেখানেই থাকো তুমি।

---

পোস্টটি ১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

রশীদা আফরোজ's picture


Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

more efficient in reading than writing. will feel honored if I could be all of your mate. nothing more to write.