ইউজার লগইন

অসমাপ্ত বাস্তবতা... ৪

বগুড়ার গালাপট্টিতে আমার নানাবাড়ি। বাড়ির সামনে এক বিশাল মার্কেট। মূলত সোনা কেনা-বেচা, গলানো, নতুন গয়না তৈরি ইত্যাদি হয়। সোনার গয়না যখন এসিডে ছেড়ে খাদমুক্ত করা হয় তখন সেটা দেখার মধ্যে আলাদা মজা আছে। না পুড়িয়ে সোনাকে খাঁটি করা সম্ভব না। আমরা মানুষেরাও কি একই রকম? যতই পুড়ি, ততই খাঁটি হই? আমারতো তাই মনে হয়। যাহোক্ এটা ছিল ভূমিকা। নিজের কোন জিনিসটা ইদানীং সবচেয়ে পছন্দ করি, কোনটা করি না, এবং মারা যাওয়ার আগে যে একটা কাজ করার ব্যাপারে আমি সত্যিই ভীষণ আগ্রহী; সেটা নিয়েই আজকের লেখা। এই লেখায় সোনা পুড়িয়ে খাঁটি করানোর ভূমিকাটার দরকার আছে। আমার বিশ্বাস দরকারটা লেখা পড়ার পর পাঠকেরা অবশ্যই বুঝতে পারবে।

খেয়াল করে দেখেছি, যখন আমি কোনো বিষয়ে সত্য মতামত প্রকাশ করি, হোক না সেটা অতিতুচ্ছ; কেবল তখনই আমি সেটাকে পছন্দ করি। যেমন কেউ যদি জিজ্ঞেস করে 'কেমন আছো?'; আমি উত্তরটা দেয়ার আগে ভাবার চেষ্টা করি, আসলে কেমন আছি। ভাল থাকলেই কেবল ভাল বলে ভাল বোধ করি। ভাল না থাকলে ভাল বলি না। এমনকি যদি জানিও, যে জিজ্ঞেস করেছে, তার কাছে আমার ভাল থাকা না থাকার গুরুত্ব খুব বেশি না; তারপরও নিজের জন্য আমি সৎ থাকি।

ঠিক তেমনি কনভারসেশনের ক্ষেত্রেও, যতক্ষণ একটা আলোচনা সৎ পথে থাকে, আমরা নিজেদেরকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে মতামত দিই; ততক্ষণ সেটাকে আমার ইন্টারেস্টিং লাগে। যখনই নিজেকে কিংবা অন্য কাউকে মিথ্যা, বানোয়াট বা আরোপিত মতামত দিতে দেখি, তখন আর ইন্টারেস্ট পাই না। আসলে অনেস্ট কনভারসেশনের মতো ইন্টারেস্টিং আর কিছু নেই। তাই একটা আলোচনায় আমি অংশ নেবো কিনা এবং অংশ নিলে আমার ভাল লাগবে কিনা, সেটা নির্ধারণের জন্য সময় নিই। বোঝার চেষ্টা করি কনভারসেশনটা কতোটা অনেস্ট। এই দিকটাকে নিয়ে ইদানীং সন্তুষ্টি বোধ করছি। কনভারসেশনে অনেস্ট থাকার মতো মজা আর অন্য কিছুতে পাই না। নো ম্যাটার অন্যদের কাছে সেটা কতটুকু জরুরি আর কতটুকু জরুরি না।

যে জিনিসটা পছন্দ করি না সেটা হচ্ছে এর-ওর প্রেমে পড়া। খুব সহজেই। কারও মধ্যে একটা কোনো বিশেষত্ব টের পেলেই হয়েছে। আমি তার প্রেমে পড়ে যাই। এই প্রেম সবসময় প্লেটনিক না। তবে অপর ব্যক্তিটি যদি পুরুষ হয়, তাহলে অবশ্যই। তাহলে মূলত যেটা হয় সেটাকে 'প্রেম' বলে উল্লেখ করলে ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর সুযোগ থেকে যায়। সে ক্ষেত্রে মূলত মুগ্ধতা গ্রাস করে। তবে অপর ব্যক্তিটি নারী হলে সাধারণত উল্টো ব্যাপার ঘটে। তার প্রতি সত্যিকারের সেই অনুভূতিটাই বোধ করি যেটা প্রেমিকার প্রতি আমার করার কথা। এটা পছন্দ করি না, যদিও আমার বিশ্বাসে জীবনের দৈর্ঘ্য সীমিত, মন খুলে হাসার, ভালবাসার, এবং মানুষের জন্য সত্যিকারের কিছু করার জন্য খুব বেশি সময় আমাদের বরাদ্দ করা হয় নি; তারপরও হুট-হাট প্রেমে পড়ে যাওয়া এবং সেটা থেকে উঠে আসার যে কষ্ট- তার মধ্য দিয়ে যাওয়াটা আমি পছন্দ করি না। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, যাকে আমি পছন্দ করছি তাকে যখন পছন্দ করছি সে সময়টায় সব বিষয়ে উৎসাহ দিতে আগ্রহী বোধ করি। তার ব্যাপারে জাজমেন্টাল হওয়া যায় না মোটেও। কিন্তু যদি আমরা ভাললাগা বা প্রেমের বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করে ফেলি, এবং যদি সে 'ওইরকম সম্পর্কে' আগ্রহী নয় জানিয়ে দেয়, তারপর থেকে আর আগের মতো সবকিছুতে তাকে উৎসাহ দিতে পারি না। এটা জন্ম দেয় আরেক সমস্যার। কোথায় যেন শুনেছিলাম, সম্ভবত আফ্রিকান বাগধারা হবে কিংবা দক্ষিণ আমেরিকান; কারও প্রতি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দয়ালু হওয়াটা ঠিক না। কেননা একটা সময় আসবে যখন তুমি আর তার প্রতি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দয়া দেখাতে পারবে না। তখন সে ব্যক্তিটি তোমাকে ঘৃণা করবে। এটা আমি বহুবার ঘটতে দেখলাম নিজের সাথে।

আমি যখন আজ থেকে সাত-আট কিংবা তারও বেশি বছর আগে অল্প-বিস্তর করে করে ব্লগে লেখা শুরু করি তখন মনে হতো, ৩৫ বছর সাহিত্যচর্চা করলে একটা বই লেখার যোগ্যতা আমার হবে। আজকাল মনে হয়, অতোদিন লাগবে না। যে গতিতে জীবন চলছে, আর আমার অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে, তাতে আর কিছুদিন পরই একটা বই লিখে ফেলা সম্ভব হবে।

সমস্যাটা হলো, প্রতি বছর বাংলা ভাষায় প্রচুর বই লেখা হচ্ছে। যার অধিকাংশের নামই মানুষের কানে পৌঁছাচ্ছে না। অর্থাৎ অধিকাংশেরই তেমন কোনো উপযোগ নেই। নিজেও একটা বই লিখে সেই উপযোগহীন বইয়ের ডিপোকে ভারী করতে চাই না। সে কারণেই আরও অপেক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যাওয়া দরকার। তবে ব্লগে কেন লিখি সে ব্যাপারে এখন আমি বোধহয় আরেকটু পরিস্কার ধারণা রাখি। এটা মূলত জীবনের সাথে যা ঘটছে তার ট্র্যাক রাখার একটা প্রাইভেট কৌশল। এখানে অভিজ্ঞতাগুলো জমছে ভালোভাবেই। বাকি যেটা দরকার, সেটা হলো একটা এমন কিছুর অপেক্ষা যেটা প্রত্যক্ষ করার পর আমার মাথার খুলি উড়ে যাবে বিস্ময়ে। অন্ধ হয়ে যাবে দু'চোখ। অনুভূতিহীন হয়ে পড়বে ইন্দ্রিয়রা আর অসাড় হয়ে যাবে শরীর। নিজেকে ভালভাবে চিনি বলে বলতে হচ্ছে, যদি সেটা কোনভাবে যে বিষয়টা ইদানীং একেবারেই পছন্দ করি না হিসেবে উপরে উল্লেখ করেছি তার সাথে সম্পর্কিত না হয়ে থাকে, তাহলে ঘটনাটা নিয়ে অবশ্যই আমি একটা বই লিখবো। কেননা ওই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বই লেখার মতো করুণ আর কিছু হতে পারে বলে আমার জানা নেই।

যাহোক্ বইটা অবশ্যই উৎসর্গ করা হবে পৃথিবীকে। এই অসামান্য গ্রহটা আমায় একটা জীবন যাপনের সুযোগ দিয়েছিল। দুঃখ-আনন্দে ভরা, হাসি-কান্নায় ঠাসা, অসমতল কিন্তু উর্বর একটা মানবজীবন। মিথ্যে বলবো না, কখনো কখনো এই জীবনকে এতোটা কষ্টকর লেগেছে যে হতাশারা মাত্র এক সেন্টিমিটার দূরে ছিল তাদের গন্তব্যের। আমাকে সবসময়ই অনেক কষ্ট করতে হয়েছে সেখান থেকে ফিরে আসার। তবে সত্যি বলতে কি, এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হই নি। সামনে কোনো একদিন হয়ে যাওয়ার আগে যা কিছু করে যেতে চাই তার মধ্যে অবশ্যই একটা বই লিখে যাওয়ার বিষয়টা থাকবে। তবে যদি নাও পারি, আমার ব্লগটাতো থাকছেই। এখানে খুঁজলে অবশ্যই আমাকে পাওয়া যাবে। আমার জীবনটা কেমন ছিল, আমি কিভাবে ভাবতাম, কি করতাম, কি করতে চাইতাম- ইত্যাদি থেকে নিয়ে খাদ্যাভ্যাস, জীবন ধারণের ছোট-খাটো কৌশল সবই এখানে লিপিবদ্ধ আছে। ভুল বানান আর ব্যাকরণগত ত্রুটি ওভারলুক করতে হবে যদিও। ছেলেবেলায় বাংলা দ্বিতীয় পত্রে কখনোই আউটস্ট্যান্ডিং টাইপের ভাল ছিলাম না। নাহলে হয়তো বানান-ব্যকরণের ভুলগুলো এড়ানো যেতো।

তবে আমি অখুশি না। মানুষের জীবন তো সঠিক আর ভুলেরই সংমিশ্রণ।
ঠিকঠাকভাবে নিজের সংকটগুলোকে তো এখন পর্যন্ত আইডেন্টিফাই করতে পারছি। এরচেয়ে বেশি আর চাওয়ার আছেই বা কি?

---

পোস্টটি ২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

more efficient in reading than writing. will feel honored if I could be all of your mate. nothing more to write.