ইউজার লগইন

কবিতা: সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ইদানীংকার

সময় ফুরিয়ে আসছে দ্রুত। আজকাল প্রায়ই রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায় অকারণে। বসে বসে ভাবি- কেমনে কি? আর মাত্র ১১ সপ্তাহ। এর মধ্যে পুরো একটা থিসিস পেপার লিখে জমা দিতে হবে। চাকুরীও একটা খুঁজে বের করতে হবে। এই রকম দুইটা চাপ মাথায় থাকলে, দিশাহারা অবস্থা কাকে বলে বুঝতে আর কিছু লাগে না। অথচ আমার আরও অনেক ছোট-খাটো কাহিনী আছে। ভাগ্যটা ভাল যে বড় কাহিনী ওই দুইটাই। আরেকটা কাহিনী ঘটতে যাচ্ছিল। বিশাল ভাগ্য নিয়ে এসেছিলাম পৃথিবীতে বলেই কিনা হয়তো, খাদের কিনারা থেকে ফিরে এসেছি। তবে শিক্ষাটা ভালই হয়েছে। অনিরাপদ যৌনতার মধ্যে আমি আর নেই। নেই তো নেই-ই, একদম নেই।

তেমন কিছু লেখার নেই। জাস্ট নিয়ম রক্ষার্থে লিখতে বসলাম। গত দুই বছরই দেখলাম এই দিনে কিছু না কিছু লিখেছি। হয়তো খুঁজলে জীবনে এমন ধারাবাহিকতা আরও পাওয়া যাবে। সবগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব না। কিন্তু ব্লগ লেখার মতো সহজ একটা ধারাবাহিকতা যদি ধরে রাখা যায় তাহলে সমস্যা কি? আর আমার কেন যেন মনে হচ্ছে এই লেখার শেষদিকে একটা কবিতা বের হবে। দেখি সেটা হয় কিনা।

লাইব্রেরী জীবন শুরু হয়েছে আবার। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আগামী ১১ সপ্তাহের প্রতিটি দিন লাইব্রেরীতে আসতে পারলে উল্লিখিত বড় সমস্যা দু'টিই মিটে যাবে। নিজেকে যতটুকু চিনি তাতে মিটে যাওয়ার কথা। কিন্তু মাঝে মাঝে নতুন নতুন জিনিসও জানা হয় নিজের সম্পর্কে। সেটাই যা একটু দুশ্চিন্তার বিষয়। তবে কাউন্টারে একটা নিশ্চিন্ত হওয়ার মতো ভাবনাও আছে। সেটা বলার আগে একটু অতীত ঘাঁটাঘাঁটি করা যাক।

আমি নতুনকে এক সময় ভালোই ভয় পেতাম। এ সম্পর্কে ভাবতে বসলে সবার আগে যে ঘটনাটা মনে পড়ে, সেটা হচ্ছে সামহোয়্যারইন ব্লগের ইন্টারফেস যখন প্রথমবার পরিবর্তন করা হলো সে সময়কার কথা। গ্রুপ ব্লগসহ আরও কি কি যেন নতুন ফিচার যোগ হয়েছিল আর প্রথম পাতাটা শুধু পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। তাতেই আমি এত ভয় পেয়ে গেলাম যে, ওইখানে যাওয়াই বন্ধ করে দিলাম। যদিও খুব বেশি অ্যাকটিভ ছিলাম না তার আগেও। ছোট ছিলাম বলেই হয়তো। তবে আমার অ্যাকাউন্টটা খুব প্রথমদিকে খোলা একটা অ্যাকাউন্ট ছিল। ইদানীং আর অ্যাকসেস করতে পারি না ওইখানে। কি জানি কি হয়েছে। চুলায় যাক।

যা বলছিলাম, এক সময় নতুনকে ভয় পেলেও এখন আমার প্রিয় শব্দের তালিকায় নতুনত্ব ভালভাবেই রাজত্ব করছে। যা কিছু নতুন, তাই হাতে পেতে লই- টাইপ অবস্থা যাকে বলে। এর মধ্যে আবার সবচেয়ে প্রিয় সাব-ক্যাটেগরী হচ্ছে বান্ধবী। কথাটা কি একটু বিচ-টাইপ শোনালো? আজকাল আসলেই একটা বিচ-টাইপ মেন্টালিটি গড়ে উঠেছে আমার ভেতরে। স্বার্থান্ধ বিচ। এখন নিজের স্বার্থ সিরিয়াসলি যেখান থেকে উসিল হয়, শুধু সেখানেই পা দিই। অন্য কোথাও এক সেকেন্ড সময়ও ব্যায় করি না। হোক না যতো বড়ই অনুরাগী। চুলায় যাক।

আর বন্ধুদের সাথে হুদাহুদি ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে আড্ডা দিতেও তেমন একটা ভাল লাগে না। তারচেয়ে একা একাই এনজয় করি বেশি। রাতে লাইব্রেরী থেকে বাড়ি ফিরে এক পিস মুরগী আর একশ' পঁচিশ গ্রাম চালের ভাত রেঁধে একটা মুভি কিংবা টিভি শো দেখতে দেখতে এক পর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়ার মতো আনন্দ খুব কম জিনিসের মধ্যেই পাই। ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদিতে যতোই বলুক না কেন, "তুমি তখনই বুঝবে শক্তিশালী হয়েছো যখন নিজের সঙ্গ সবচেয়ে বেশি উপভোগ করতে পারবে"; আমার মনে হয় কাজটা কঠিন কিছু না। সবই ইচ্ছার ব্যাপার। ইচ্ছা করলেই নিজের সঙ্গ যেমন আর সবকিছুর চেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়, তেমনি অন্যদেরও অসামান্য সঙ্গ দেয়া যায়। আমার আজকাল কাউকে সঙ্গ দিতে ইচ্ছে করে না।

পরশু লিক হওয়া পর্বটায় ভিসেইরিওন মরে গেছে। শুধু মরে গেলেও হতো, কিন্তু নাইট কিং তাকে হোয়াইট ওয়াকারে রূপান্তরিত করে ফেলেছে। অবশ্য মানুষ মরে যদি ওয়াকার হয়, তাহলে ড্রাগন মরে কি হবে? ড্রাগনরা তো মানুষের মতো হেঁটে বেড়ায় না। এখন রেগা আর ড্রোগোন মিলে কি পারবে ডিনেইরিসকে রক্ষা করতে? নাইট কিংয়ের কাছে তো এখন মৃত ড্রাগনও আছে। জায়ান্টদের কথা না হয় বাদই দিলাম। যদিও এই পর্বের যুদ্ধটায় ওদেরকে দেখা যায় নি। চূড়ান্ত লড়াইটার জন্য তুলে রাখা হয়েছে বোঝাই যাচ্ছে। কি যে হয়! যাক্ জন আবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে। সবচেয়ে ভাল হতো এইবার আর ফিরে না আসলে। সিজনের শেষ পর্বে কি হবে সেটা নিয়ে খুব জল্পনা-কল্পনা চলছে। আমার মনে হয়, সিরিজটার শেষে ল্যানিস্টার আর স্টার্ক পরিবারের মধ্যে থেকেই কেউ এই যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ী হবে। টার্গেরিয়নরা অনেক বেশি কল্পনাঘেঁষা। এইরকম একটা শো'তে কল্পনার জয়জয়কার যতোটা হওয়া উচিত ছিল, তারচেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। আর দরকার আছে বলে মনে হয় না।

রিক অ্যান্ড মর্টি নিয়ে জমাট একটা জেন্ডারভিত্তিক আলোচনা দাঁনা বাঁধার প্রক্রিয়ায় আছে। প্রশ্নটা হলো- মেয়েরা কি আসলেই কৌতুক বোঝে? রিক অ্যান্ড মর্টির মতো জনপ্রিয় একটা টিভি শো'তে যখনই স্ক্রীনপ্লে লেখার দায়িত্ব দেয়া হলো মেয়ে-লেখকদের হাতে, তখন থেকেই শো'টার জনপ্রিয়তা পড়তে শুরু করলো! এখনও সেই পতনপ্রক্রিয়া অব্যাহত। যদিও এখন শো'টাতে সামাজিক মূল্যবোধ, পরিবারের প্রতি দ্বায়িত্বশীলতা ইত্যাদির মতো বিষয়কে সামনে এনে দেখানো হচ্ছে খুব কিন্তু, কথা হচ্ছে এখনকার লেখকরা কি শো'টার মূল সুরটা ধরতে ব্যার্থ হয়েছেন? কেননা সমাজের সব চিরায়ত প্রথাকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ স্টুপিড উপায়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গেই তো আগের দুই সিজনে রিক অ্যান্ড মর্টির ফ্যানবেইজ গড়ে তোলা হয়েছিল। যারা এই শো'র ভক্ত হয়েছিলেন, তারা এখন মুখোমুখি হচ্ছেন সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী প্রথাভিত্তিক ধ্যান-ধারণার। যা খানিকটা ক্লিশেও বটে। যদিও অবশ্যই জরুরি এবং উপকারী। তাই আলোচকদের পাল্লা দুইদিকেই ভারি।

আমি বেশ আগ্রহ নিয়েই বিতর্কটা ফলো করি। আশা করি রিক অ্যান্ড মর্টির পর্বগুলো আবার আগের মতো পেটে খিল ধরানো হাসি নিয়ে ফিরে আসবে। নারীকূলের ওপর আমার অাস্থার অভাব নেই। যদিও তাদের কৌতুক করার ক্ষমতাটা একটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে এখন, কিন্তু আমার ধারণা তারা এখানেও নিজেদের যোগ্যতরই প্রমাণ করবে। দেখা যাক।

অনেক কিছুই লিখে ফেললাম, একটানা লিখতে লিখতে। বেশিরভাগই অদরকারী ছিল, অন্য যে কারও জন্য। কিন্তু আমার জন্য না। আমি যে কারণে লিখি সেটা যদিও অনেকবার বলেছি তাও, আবার বলি। অনেকদিন পর পর আমার নিজের লেখাগুলো বের করে পড়তে ভাল লাগে। মিলিয়ে দেখতে ভাল লাগে জীবনটা এককালে কেমন ছিল আর এখন কেমন আছে। বিভিন্ন বিষয়ে নিজের করা অনুমান আর নেয়া সিদ্ধান্তগুলো কেমন ছিল তা বিচার করতে ভাল লাগে। লেখালেখির মূল কারণ এটাই। এ কারণেই আমার লেখাগুলো মূলত 'আমি'ময়। কারণ এগুলো অন্য কারও জন্য না। এখন একটা কবিতা লিখবো, সেটাও শুধু আমার জন্য। অন্য কারো পড়তে মানা।

খুব ছেলেবেলার কথা মনে নেই কিন্তু,
যে সময় থেকে সবকিছু মনে আছে
সে সময় থেকে দেখে এসেছি প্রাচুর্য,
আমার কখনও হারানোর ভয় ছিল না
জীবনকে পড়ে পাওয়া ভাবতেও
গলার কোথাও দলাবদ্ধতা অনুভব
করতাম না, যতোদিন না তোমায়
হারানোর সেই মহার্ঘ সুযোগ পেয়েছিলাম।
ওই একটা হারিয়ে ফেলা আমার ভেতর
হারানোর ভয়, জীবনের প্রতি ভালবাসাসহ আরও
অনেক ভাল ভাল গুণের জন্ম দিয়েছিল, কিন্তু জানো
যেটা আমায় সবচেয়ে সুখী করতে পেরেছে সেটা এগুলোর
কিছুই না। তোমাকে হারানোর কষ্টে নীল হতে হতে একসময়
যখন আর নীল হওয়া সম্ভব ছিল না, তখন জানতে পেরেছিলাম
তোমার রঙিন নতুন জীবনের কথা। সেদিন থেকে আবার জীবনের
সব সুখ ধরা দিতে শুরু করেছে নতুন করে। যেন নতুন ফুল ফোটার
প্রতীক্ষা শুরু হয়েছে আবার। আজও যে তোমার সুখে সুখী হতে পারার
ঐশ্বরিক ক্ষমতাটি হারিয়ে যায় নি, সেটা জানাটাই সবচে' বড় প্রাপ্তি হয়ে
ধরা দিয়েছে ইদানীংকার।

---

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মিতুল's picture


"এক সময় নতুনকে ভয় পেলেও এখন আমার প্রিয় শব্দের তালিকায় নতুনত্ব ভালভাবেই রাজত্ব করছে।"

টিপ সই

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম, আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। এটি একটি মৌলিক ব্লগ। দিনলিপি, ছোটগল্প, বড়গল্প, কবিতা, আত্মোপলব্ধিমূলক লেখা এবং আরও কয়েক ধরনের লেখা এখানে পাওয়া সম্ভব। এই ব্লগের সব লেখা আমার নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত, এবং সূত্র উল্লেখ ছাড়া এই ব্লগের কোথাও অন্য কারো লেখা ব্যবহার করা হয় নি। আপনাকে এখানে আগ্রহী হতে দেখে ভাল লাগলো। যেকোন প্রশ্নের ক্ষেত্রে ই-মেইল করতে পারেন: bd.mir13@gmail.com.

ও, আরেকটি কথা। আপনার যদি লেখাটি শেয়ার করতে ইচ্ছে করে কিংবা অংশবিশেষ, কোনো অসুবিধা নেই। শুধুমাত্র সূত্র হিসেবে আমার নাম, এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের লিংকটি ব্যবহার করুন। অন্য কোনো উপায়ে আমার লেখার অংশবিশেষ কিংবা পুরোটা কোথায় শেয়ার কিংবা ব্যবহার করা হলে, তা
চুরি হিসেবে দেখা হবে। যা কপিরাইট আইনে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যদিও যারা অন্যের লেখার অংশবিশেষ বা পুরোটা নিজের বলে ফেসবুক এবং অন্যান্য মাধ্যমে চালিয়ে অভ্যস্ত, তাদের কাছে এই কথাগুলো হাস্যকর লাগতে পারে। তারপরও তাদেরকে বলছি, সময় ও সুযোগ হলে অবশ্যই আপনাদেরকে এই অপরাধের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। ততোদিন পর্যন্ত খান চুরি করে, যেহেতু পারবেন না নিজে মাথা খাটিয়ে কিছু বের করতে।

ধন্যবাদ। আপনার সময় আনন্দময় হোক।