ইউজার লগইন

গল্প: ঢাকা শহরে যেটা একটা স্বাভাবিক ঘটনা

১.
ঢাকায় আসার পর প্রথম কয়েকমাসের কথা সানি কোনোদিন ভুলবে বলে মনে হয় না। উচ্চ মাধ্যমিক শেষের আগে থেকেই জানতো তারা পরীক্ষার পরই চলে যাচ্ছে ছোট্ট মফস্বল শহর ছেড়ে। বাবার বদলী হয়ে গিয়েছিল আগেই। শুধু ওর পরীক্ষার জন্যই ছোট বোনকে নিয়ে মা রয়ে গিয়েছিলেন সেখানে। বাবা আগেই ঢাকায় গিয়ে বাসা সাজিয়ে রেখেছিলেন।

পরীক্ষার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে একদিন ট্রাকে মাল-সামাল গুছিয়ে উঠে পড়লো ওরা বাপ-বেটা। মা আর বোন রওনা দিলেন বাসে। সন্ধ্যায় যখন ঢাকায় ঢুকছিল ওদের ট্রাক আমিনবাজার দিয়ে, তখনও তেমন কিছু মনে হয় নি ওর, সব স্বাভাবিকই লাগছিল। শুধু বড় বড় বিল্ডিংয়ের ঘনত্ব আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে দেখে একটু অবাক হচ্ছিল সে। ওটাই জীবনে প্রথমবারের মতো ঢাকায় যাওয়া ওর। এর আগে নিজের শহরের আশপাশে ঘুরেছে ঠিকই। কিন্তু রাজধানীতে আসা হয় নি কিংবা অন্য কোনো বড় শহরেও না যেখানে আকাশ ছোঁয়া দালান-কোঠাই শুধু দেখা যায় চারিদিকে, খোলা আকাশ বড় সহজে পাওয়া যায় না।

তবে দূর থেকে একুশে টিভির ভবনটা দেখে একবারেই চিনতে পেরেছিল সে। একটা ছোট্ট শিহরণও খেলে গিয়েছিল শরীরে সে সময়। একুশে টিভির খবর শুরুর আগে সবসময় ওই ভবনটা দেখানো হয়। ওর বেড়ে ওঠার সময় একুশে টিভিই তো ছিল একমাত্র বিকল্প। বিটিভি ছাড়া ওই একটা চ্যানেলই আসতো ডিশ ছাড়া। অবশ্যই চিনতে পারার কথা। তখন গিয়ে প্রথমবারের মতো ওর মনে হয়েছিল সে ঢাকায় এসে পড়েছে।

২.
ঢাকার জীবনটা প্রথমদিকে খুব সহজ ছিল না সানির। পুরোনো শহরে জীবনটা ছিল বন্ধুবান্ধবে সমৃদ্ধ, ব্যস্ততায় ভরা, গতিশীল আর বহুমাত্রিক। বাড়ির ছাদে ক্রিকেট খেলা, গলির মোড়ে আড্ডাবাজি, স্কুল-কলেজের নানাবিধ বিষয়ে জড়িত এক সুন্দর সাজানো সময় ছিল সেটা। নতুন শহরে ওর কাজ বলতে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কোচিং করা। সেটাও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র। তারপর সারাটা দিন কাটানোটা আসলেই এক ঝকমারি। কোচিং সেন্টারে কিছু বন্ধু-বান্ধব হয়েছিল বলে খানিকটা রক্ষে। সন্ধ্যার পর তাদের সাথেই চায়ের দোকানে বসে খানিক আড্ডা দেয়া হতো। এছাড়া দিন ও রাতের বাকিটা সময় মোটামুটি একাকীই কাটে তার। বাসায় যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ তাও বাবা-মা-বোনের সাথে সময় কাটে। কিন্তু বাইরে একাকী সময় কাটানোটা বিশাল এক ঝামেলা।

তাও চলছিল ভালোই। এর মধ্যে কোচিং সেন্টারের ক্লাস শেষ হয়ে গেল একটা সময়। বাসায় বসে পড়াশোনা ছাড়া আর কিছুই করার নেই এমন একটা সময়। নতুন মহল্লার ছেলেপিলেদের সাথে পরিচিত হয়ে পড়ার দরুন খানিকটা সময় খেলাধূলা করে কাটানো যেতো। তারপরও প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ওর কাটতো শুয়ে-বসে বোর হয়ে হয়ে। গল্প-উপন্যাস পড়া কিংবা নাটক-সিনেমা দেখার সুযোগ তখন এখনকার যুগের চেয়ে সীমিত ছিল। তাই আগ্রহ থাকলেও বই পড়ে বা কিছু একটা দেখে অলস সময়গুলোকে পুরোপুরি পাড়ি সম্ভব ছিল না। সময়টা বেশ ভালভাবেই মনে গেঁথে গিয়েছিল ওর। জীবনে প্রথমবারের মতো বোর হওয়া কাকে বলে বুঝতে শিখেছিল সে। ঢাকার জীবন অনেক কিছু শিখিয়েছে ওকে। ওটা ছিল প্রথম শিক্ষা। তাই ঢাকায় আসার পরের প্রথম কয়েকমাসের কথা ও কখনো ভুলতে পারে না।

৩.
প্রকৃতির নিয়মকে সম্মান করেই একসময় সানির জীবনও পাল্টে গেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সুযোগেই ভর্তি হয়ে পড়তে পারাটা ছিল এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকাপালক। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর হঠাৎ একগাদা পরিবর্তন ঝড়ের মতো এসে ওকে গ্রাস করে নিয়েছিল। ক্লাস-পরীক্ষা-মিড টার্ম ইত্যাদি তো ছিলই, সেই সাথে অল্পবিস্তর ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার ফলে, দিনের শুরু আর শেষ যে কোথায় তা প্রায়ই ঠাহর করতে ব্যর্থ হতো ছেলেটা।

সকালে ক্যাম্পাসে যাওয়ার পর রাত ১০টা-১১টার আগ পর্যন্ত বাসায় ফেরার কথা মনেই পড়তো না সেই সব দিনগুলোতে। পরিবারের সাথে খানিকটা দুরত্ব তৈরি হলেও সেই সময়টা সানিকে দিয়েছে অনেক কিছুই। দেখতে শিখিয়েছে জীবনকে নতুনভাবে। আর ওর যোগাযোগ ছিল বাম রাজনীতির সঙ্গে। ক্যাম্পাসের যতো কুল বড় ভাই, বড় আপু তারা করতো বাম রাজনীতি। সরকার বা বিরোধীদলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সানির কাছে মনে হতো স্বার্থলোভী, বোরিং, ক্লিশে সেইসব মানুষ, যাদেরকে সে ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছে। বরং বাম সংগঠনের ওঁদেরকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় মনে হতো ওর। সময় কাটাতে ভাল লাগতো ওঁদের সাথে। সন্ধ্যার পর টিএসসিতে বসে সংগঠনের রিপন ভাই যখন গিটার বাজিয়ে গান ধরতো, তখন সে ঠিক ওই শিহরণটাই অনুভব করতো; যেটা এক সন্ধ্যায় প্রথমবার একুশে ভবনের নিচ দিয়ে ঢাকায় ঢোকার সময় অনুভব করেছিল সে।

৪.
পড়াশোনায় ফার্স্ট ক্লাস না হলেও; সবকিছু মিলিয়ে সানিকে তেমন ছেলেদের কাতারে সহজেই ফেলে দেয়া যেতো, যাদের সাথে সময় কাটাতে মানুষ আগ্রহই বোধ করে। বছরখানেকের মধ্যে ক্যাম্পাসে সে বেশ পরিচিত একটা মুখ হয়ে উঠলো। ওই সময়টা আরও একটা কারণে ওর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।

সে সময়েই প্রথম সানি সত্যিকার অর্থে কারও প্রেমে পড়েছিল। সে সময়ের আগে অল্পস্বল্প ভাল অনেককেই লেগেছিল। কিন্তু এমন হয় নি যে কারও কথা দিন-রাত সারাক্ষণ মনের ভেতর ঘুরে বেড়াতো। প্রথমবার অমন অনুভূতি টের পেরে স্বভাবতই ঘাবড়ে গিয়েছিল ছেলেটা। তাই যে মেয়েটির জন্য অমন অনুভব করতো, তাকেই গিয়ে বলেছিল- শোনো আমার না অদ্ভুত একটা সমস্যা হয়েছে ইদানীং। সবসময় খালি তোমার কথা মাথার ভেতরে ঘোরে। মেয়েটি আশ্চর্যান্বিত হয়ে বলেছিল, মানে কি? আমার কথা সবসময় তোমার মাথার ভেতরে ঘুরবে কেন? আজব!

মেয়েটিকে বোঝানোর সাধ্য ছিল না সানির। কিংবা হয়তো নিজের মনের কথা পরিস্কারভাবে বলার ক্ষমতা ছিল না তার। তাই সেদিন নিজের অনুভূতি অব্যক্ত রেখেই ফিরতে হয়েছিল ওকে। যদিও ওরা দুইজন ভাল বন্ধু ছিল বলে বিষয়টা খুব বেশি প্রভাব ফেলে নি সানির ওপরে। জীবন আগের মতোই ক্লাস-পরীক্ষা, আড্ডা, রাজনীতি ইত্যাদিতে ব্যস্তসমস্ত ভঙ্গিতে দৌড়েঁ চলছিল। কিন্তু সানির মনে ওই সমস্যাটা রয়েই গেল।

দিনের বেলা যখন ওরা দু'জন কাছাকাছি থাকে, তখন খুব একটা খারাপ লাগে না। বলতে কি সানির প্রায়ই মনেও থাকে না যে রাতে বাড়ি ফেরার পর মেয়েটির কথা ওর ক্রমাগত মনে পড়তে থাকবে। সেই মনে পড়া একসময় এত তীব্র হয়ে উঠবে যে বেচারা আচ্ছন্ন হয়ে পড়বে ঘোরগ্রস্থদের মতো। প্রতিটি রাত ওর ওইভাবে কাটছিল। সেই সময় পর্যন্ত যখন একসময় আশপাশের সবাই বুঝতে শুরু করলো, সানির কিছু একটা হয়েছে।

বাসার সবাই বলছিল বহুদিন ধরেই কিন্তু সানি গা করছিল না। পরিবারের সদস্যরা ভালটা অন্যদের চেয়ে একটু বেশই বাসে। তাই তাদের কাছে ছোট্ট একটু চোখের কোণে কালো দাগও অনেক বড় হয়ে ধরা দেয়। এটা সানি জানতো। কিন্তু একদিন ক্লাসে রেহনুমা ম্যা'ম, যিনি সবাইকে নিজের সন্তানের মতো দেখেন, সবার সামনে যখন সানিকে লজ্জা দিয়ে জিজ্ঞেস করে ফেললেন, "সানি কার কথা ভেবে রাত ঘুম হয় না শুনি? কে সেই সৌভাগ্যবতী?"- তখন ওকে বিষয়টা সিরিয়াসলি নিতেই হয়েছিল। ওদিকে ক্যাম্পাসের বন্ধুরাও অনেকদিন ধরেই বলছিল, দোস্ত তোর কোথাও কিছু একটা হয়েছে। দিন দিন শুকাচ্ছিস বেদমহারে। কি সমস্যা বলতো?

সব মিলিয়ে একটা খারাপ কিছু হয়ে যাওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেয়া উদ্দেশ্য সানি ঠিক করে ফেললো, মেয়েটিকে মনের কথা পার্ট বাই পার্ট খুলে বলতে হবে। আর কোনো উপায় নেই। এক সকালে একসাথে নাস্তা করে ক্লাসে যাওয়ার পথে সানি ওকে বললো, দাঁড়াও ক্লাসে যাবার আগে আমার কয়েকটা কথা শুনে যাও।

সাধারণত ঘুম থেকে উঠতে উঠতেই ওদের দুইজনের হাতে সময়ের টানাটানি শুরু হয়ে যেতো। তাই নাস্তাটা ক্যাম্পাসের আসার পর মধুর ক্যান্টিনেই সারতো দু'জন। তারপর তো কলাভবন মাত্র আধ-মিনিটের দুরত্ব।

মেয়েটি দাঁড়ালো। বললো, বলো কি বলবে। সানি তখন বড় একটা নিঃশ্বাস নিয়ে বলতে শুরু করলো প্রথম যেবার সে ওকে দেখে তখন থেকে সবকিছু। কিভাবে ধীরে ধীরে ওর চিন্তা সানির সময়গুলোকে গ্রাস করে নেয়া শুরু করেছে, কিভাবে ধীরে ধীরে সানিকে নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে- সবকিছু। শেষ বলেছিল, আমি জানি তুমিও একা। ঠিক আমার মতোই। কিন্তু জানি না, তুমি কি কাউকে খুঁজছো কিনা। কিংবা কারও সাথে নিজের জীবনটাকে জড়ানোর ইচ্ছে তোমার ভেতর এখনও জন্মেছে কিনা। কিন্তু আমরা সবাই পৃথিবীতে এসেছি খুব একটা সময়ের জন্য। এই সময়ের ভেতর নিজের জীবনকে গুছানো, অর্পিত দায়িত্বগুলো মেটানো, এবং কর্তব্যগুলো সারার পাশাপাশি এমন একজনকে খুঁজে বের করা সত্যিই কঠিন- যাকে ভালবেসে নিজেকে অনন্ত স্বার্থক করে তোলা যায়। আমি যখন তোমার কথা ভাবি, তখন মনে হয় তুমিই সেই মানুষটি যাকে ভালবেসে কোনোদিন আমার মন পুরোপুরি ভরবে না। কোনোদিন মনে হবে না যথেষ্ট ভালবেসেছি, আর ভালবাসতে পারছি না।

কথোপকথনের এই পর্যায়ে মেয়েটি সানিকে থামিয়ে দিয়েছিল মুখে হাত দিয়ে। এবং হালকা হেসে মাথা নেড়ে সায় দিয়েছিল ওর প্রস্তাবে। বলেছিল, হয়েছে। যথেষ্ট। ক্লাস শেষে ঠিক এখানটাতেই আবার ফিরে এসো। আমি অপেক্ষা করবো।

৫.
প্রেমে পড়লে নাকি সবকিছুই অন্যরকম লাগা শুরু হয়। সানি খেয়াল করে দেখলো, আগে যেখানে রিকশাওয়ালা পাঁচটা টাকা বেশি চাইলে সে গাঁইগুই করতো, এখন সেখানে বাড়তি টাকাটা দিতে পারার জন্য নিজেকে ভাগ্যবান লাগে ওর। আগে ক্লাসের পড়ার কথা মনে পড়লে একরাশ বিরক্তি ছেঁকে ধরতো চারিদিক থেকে, আজকাল সকালে উঠেই আগে ক্লাসের পড়ার না শেষ করলে বরং নিজের ওপর একধরনের বিরক্তি লাগে। আগে সপ্তাহান্তে মা বাজারে যেতে বললে একশো' একটা অজুহাত দাঁড় করাতো ছেলেটা। এখন শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে শুধু বাজার না, আর কি কি কাজের মাধ্যমে সেদিন নিজেকে ব্যস্ত রাখা যায় খুঁজতে থাকে সে। কারণ শুক্রবার ক্যাম্পাস বন্ধ। ওই মেয়েটি আসবে না। ওকে ছাড়া দিন কাটানো বড়ই সমস্যা।

ততোদিনে ঢাকা শহরকে হাতের তালুর মতো চেনা হয়ে গেছে সানির। সংগঠন করার দরুন যেমন জানা হয়েছে অনেককিছু, তেমন মেয়েটির সঙ্গে ঘুরে ঘুরে জানা হয়ে গেছে শহরের সব এলাকার বড় বড় খাবারের দোকান এবং তাদের বিশেষত্ব। আর বন্ধু-বান্ধব তো আছেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। তাদের সাথে দেখা-সাক্ষাতে যাওয়া মানেও নতুন নতুন রাস্তা-ঘাট আবিস্কার করা। প্রতিনিয়তই বাড়ছিল ঢাকা শহরের সাথে সানির সম্পর্ক। পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল মেয়েটির সাথে ওর সম্পর্কের গভীরতা।

জীবনের ওই পর্যায়টাকে সানি মনে করে সোনালী সময়। সে সময় না ছিল বড় কোনো চিন্তা, না ছিল কোনো কিছু পরোয়া করার প্রয়োজনীয়তা, না ছিল কাউকে কেয়ার করার অাবশ্যকতা। আর ছেলে হিসেবে কখনোই খারাপ না হওয়ার কারণে, ওকে পছন্দ করা মানুষের সংখ্যাই বেশি ছিল। হেটাররা ছিল সংখ্যালঘু। সময়টাকে উপভোগ করেছে যেমন, কাজেও লাগিয়েছিল সে তেমন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার আগেই সুন্দর একটা চাকরীর অফার পেয়ে গিয়েছিল সে একটা কর্পোরেট অফিসে। বেতনাদি এতোটাই ভাল ছিল যে, ওরা দুইজন জীবনের পরবর্তী পর্যায় অর্থাৎ বিয়ে করে সংসারী হওয়ার কথা ভাবতে শুরু করে দিল।

৬.
কিন্তু জীবন তো সবার সবসময় সমান যায় না। এক সকালে ঘুম থেকে উঠে ফোনে মিষ্টি একটা মেসেজ দেখে মনটা আনন্দে ভরে গিয়েছিল সানির। মেয়েটি লিখেছিল, শোনো আজ আমার ঘুম ভেঙ্গেছে তোমায় স্বপ্নে দেখে। মনে হচ্ছে এখুনি ছুটে যাই তোমার কাছে। কিন্তু যেহেতু আমার হবু জামাইটা এখন আর ক্যাম্পাসের ছেলেটা নেই, তাই অপেক্ষা করে আছি। বিকেলে বের হবো। ঠিক পাঁচটায় তোমার অফিসের নিচে অপেক্ষা করবো। মনে থাকবে তো জনাবের?

মেসেজটা দেখার পর থেকে সময় আর কাটে না সানির। আজ এতগুলো দিন হয়ে গেল অথচ এখনও এমনতর অনুভূতি কোথা থেকে আসে, ভেবে কূল পায় না সানি। অফিসের কাজে মন বসে না পুরোপুরি। পুরোটা সময় মাথায় ঘুরে ওই মেয়েটির চেহারা। সানি জানে ওর গার্লফ্রেন্ড পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে না। গায়ের রং দুধের মতো সাদাও না। কিংবা পোশাকের ঠাক-ঠমকও টিভি-সিনেমার নায়িকা মডেলদের মতো না। তারপরও সানির কাছে ও অনন্য। আর সবার থেকে আলাদা। অন্যরা ওর সম্পর্কে যাই ভাবুক, সানির হৃদয়ের রাজকন্যা সে। এটা-সেটা ভাবতে ভাবতে পাঁচটা বেজে যায়। নিচে নেমে অফিসের সামনে কিছু মানুষের জটলা দেখতে পেয়ে সেখানেই আগে এগিয়ে যায়। কি হলো দেখি, হয়তো কেউ বিপদে পড়েছে- এই ছিল ওর মনে।

৭.
নির্মানাধীন ভবন থেকে পতিত ইটের আঘাতে পথচারীর মৃত্যুর কথা শুনেছেন সবাই নিশ্চই। ওই আঘাতের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে খুব কষ্ট করতে হয়েছে সানিকে। বাবা-মা-বোনসহ আরও অনেকের অনেক সাধ্য-সাধনায় কোনমতে ফিরেছে স্বাভাবিক জীবনে। শুধু মাঝে মাঝে ওই মেয়েটির কথা সম্পর্ক শুরুর পূর্বের দিনগুলির মতো করে মনে পড়লে, বেচারাকে শেকল পড়িয়ে রাখে সবাই মিলে। নাহলে অনেক সমস্যা এড়ানো সম্ভব হয় না ওর পরিবারের পক্ষে।

যে ভবনের ইট পড়ে ওই মেয়েটির মৃত্যু হয়েছিল, সে ভবনের মালিক মাঝে মাঝে খোঁজ-খবর নেন। সানিরও, ওই মেয়েটির পরিবারেরও। ভদ্রলোক সদাশয় মানুষ। যেকোন সময় যেকোন সাহায্যের প্রস্তাব দিয়ে রেখেছেন। আর কীইবা করতে পারেন তিনি? ঢাকা শহরে এমন একটা ঘটনা তো খুব অস্বাভাবিক কিছু না।
---

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

more efficient in reading than writing. will feel honored if I could be all of your mate. nothing more to write.