ইউজার লগইন

গভীর রাতের ডায়েরী: উচুঁতে চড়ে বসা আলোচনাটা

গভীর রাতে ব্লগ লিখি। আর কোনো করার মতো কাজ না পেয়ে। লাইফটা কি যে হাস্যকর, ভাবি মাঝে মাঝে। কোথায় মানুষজন রাতে সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে প্রিয়জনের মাঝে ফেরা উপভোগ করে শান্তির একটা ঘুম দিবে, তা না জগতের যতো রকমের ঘটনা আছে সেই সব নিয়ে একটার পর একটা পৃষ্ঠা উল্টিয়ে যাচ্ছে। যেন এ পৃথিবীর সবাই হঠাৎ প্রচণ্ড পড়ুয়া একটি জাতি হয়ে উঠেছে। মহাশূন্য থেকে কেউ যদি আমাদের দেখে তাহলে আমাদেরকে ভীষণ অনুসন্ধিৎসু এক প্রকার প্রাণী মনে করবে। যারা সবসময় হাতের তালুতে রাখা একটি ক্ষুদ্রাকায় যন্ত্রের দিকে নিবিষ্ট মনে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে, তাদের চারপাশে কি ঘটছে। পুরানের সেই মায়াবী গোলকের এ যেন এক আধুনিক ভার্সন। ওই গোলক দিয়ে ডাকিনীবিদ্যায় পারদর্শীরা সাধারণত ভুত-বর্তমান-ভবিষ্যত ইত্যাদি দেখে একেকটি বিশেষ ভবিষ্যদ্বানী করতো; আর ইদানীংকালের আমরা মূলত 'মীম' চালাচালি করি।

আমিও একই কাজই করছিলাম, অর্থাৎ সেই মীম চালাচালিই হচ্ছিল। আরও বেশি হচ্ছিল নানা পদের মীম দেখে একা একাই অট্টহাসিতে প্রায়প্রায়ই ঘরের খাট-পালংককে ভয় দেখানো। চলতে চলতে শেষমেষ গিয়ে ধাক্কা খেলাম 'কার্দাশিয়ানদেরকে সব সেলিব্রেটির সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত মনে হয় কিনা?' প্রশ্নের সঙ্গে।

বলে কি? কার্দাশিয়ানদেরকে কি সব সেলিব্রেটির সাথে জড়িত মনে হয় না কি? আসলেই? ভাবি নি তো কখনো। এমনিতে কার্দাশিয়ান পরিবার সম্পর্কে আমার আগ্রহের বয়স খুব বেশি না। সপ্তাহ দুয়েক আগে, সম্ভবত বন্ধুদের আলোচনা থেকে ওই টপিকটা মস্তিষ্ক সংগ্রহ করেছে। তার আগে পরিবারটির নাম এবং বিভিন্ন সদস্যের বিভিন্ন কার্যকলাপের খবর সংবাদমাধ্যম মারফত হালকা-পাতলা জানা হয়েছে। এই হলো সাকুল্যে আমার কার্দাশিয়ান-সংক্রান্ত জ্ঞান। তা দিয়ে অমন প্রশ্নে দাঁত ফুটাতে পারবো কেন? তাই শরণাপন্ন হতে হলো যে পাতায় প্রশ্নটি করা হয়েছে সেই পাতার কাছেই। উত্তরটা প্রশ্নের সঙ্গে লাগোয়া ভিডিওতেই ছিল। কিভাবে কি- ব্যাখ্যায় যাচ্ছি না, কিন্তু ৪৯ সেকেন্ডের একটি ক্লিপ দেখেই আমি মানতে বাধ্য হলাম, আসলেই আমার কার্দাশিয়ানদেরকে চেনাজানা সব সেলিব্রেটির সাথেই অল্পবিস্তর জড়িতমতো মনে হতো। শুধু টু-দি-পয়েন্টে কথাটা জানা ছিল না। প্রশ্নটার সাথে ধাক্কা না খেলে ব্যপারটা অজানাই থেকে যেতো।

ওই পাতা থেকেই উৎসাহিত হলাম আরেকটা পাতায় ঢুঁ দেয়ার জন্য। ঢুঁ দেয়ার সময় অবশ্য কেন যেন নিজে নিজে উৎসাহিত হওয়ার চেয়ে, বিষয়টাতে অন্য কিছু জড়িয়ে থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছিল। মানে কোনোভাবে আমাকে উৎসাহিত করা হয়েছিল মনে হচ্ছিল আরকি। গুগলের গণনার মন্ত্র খুবই উন্নত। ওটা মানুষের আগ্রহকে গুণতে যেমন সিদ্ধহস্ত, তেমনি গোণার পর ফলাফলগুলো একদম জায়গামতো বিক্রি করে ব্যবসা চালাতেও তরলমতি। তাই, যদিও গুগলের সেবাগুলোকে আমি উদার মনে গ্রহণ করি, কিন্তু সেসব সেবার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য কতোটা মহৎ, সে ব্যপারে আলাপেও আমি একটা সার্বক্ষণিক আগ্রহ ভেতরে ভেতরে লালন করি। যাহোক, ইদানীং খুব অনুবাদের কাজে সাহায্য নিচ্ছি দেখেই যে গুগল বাবেল ডট কমের বিজ্ঞাপন হাজির করেছে সেটা বুঝতে বেগ পেতে না হলেও আমি আগ্রহের কাছে পরাস্ত হলাম। হয়ে বাবেলের নীড়পাতায় ঢুঁ দিলাম।

ছোট্ট একটা পাঠও নিলাম তারপর। পাঠটাকে বেশ ভালই লাগলো। এমন ছোট ছোট এক্সারসাইজ প্রতিদিন নিয়মিত করলে ভাষাজ্ঞানের উন্নতি না হয়ে আর অন্য কিছু হওয়ার খুব বেশি সুযোগ থাকতে পারে বলে মনে হলো না। বাবেলের প্যাকেজগুলোর দামও খুব বেশি না। সেটা উল্লেখ করে অবশ্য প্রায় বাবেলের বিজ্ঞাপন হয়ে উঠতে থাকা এই আলাপটাকে আর দীর্ঘায়িত করলাম না।

পাঠ নেয়ার পর আবার এই পাতা-সেই পাতা করতে করতে এসে পৌঁছালাম আমার নিজের ব্লগ পাতায়। এখানে আসতে ভালোই লাগে। প্রচুর মানুষজনের আনাগোনা নেই এই ব্লগটাতে। এই জন্যই হয়তো আসতে ভাল লাগে। যারা খুব উঁচু দরের সামাজিক জীব, ঠিক সাধারণের কাতারের না, তারাও হয়তো মাঝে মাঝে একাকীত্ব খোঁজে। আমি তাদের মতো না। আমার তো প্রায় নিয়মিত বিরতিতেই নির্জনতা লাগে। অল্প-বিস্তর 'মী-টাইম' কাটানো লাগে। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নিজের অস্তিত্বকে, কাল্পনিক একটা বস্তা কিংবা বিশাল বোঁচকার ভেতর কুড়িয়ে এনে ভরা লাগে। সেই সব করার জন্য একেকদিন একেকরকম মাধ্যম লাগে। কোনোদিন যেমন শরীরচর্চা, কোনোদিন আবার ধ্যান, আবার কখনো শুধুই এক পাতা ব্লগ লেখা। কখনো অবশ্য কোনোকিছুতেই কিছু হয় না। জাস্ট বিছানায় পাশ ফিরে শুয়ে থাকা। আবার কখনো কখনো কিছুই করা লাগে না। কিছু না করেও সবকিছুকে কেমন যেন সাজানো-গোছানো আর গন্তব্যের দিকে কেন্দ্রীভূত লাগতে থাকে।

আজকাল আবার প্রচুর পরিমাণ গান শুনছি। হাসছি প্রাণ খুলে। দৌঁড়াচ্ছি ঊর্ধ্বশ্বাসে। কথা বলছি নিজের সাথে। নিজের মতামত নিচ্ছি সবার আগে। নিজের কাছে ভাল লাগলে তবেই একেকটা বিষয় অ্যাপ্রুভ হচ্ছে। এই উপায়ে সবকিছুতে আগের চেয়ে অনেক বেশি ইতিবাচক ফলও পাওয়া যাচ্ছে।

আমার তো মনে হয়, কোনো কাজে হাত দেয়ার আগে সে কাজ সম্পর্কে নিজের সাথে বোঝাপড়ার মাধ্যমে একটা সবদিক বিবেচনাত্তোর সন্তোষ অর্জন করা গেলেই কেবল আমাদের উচিত সেই কাজে অগ্রসর হওয়া। তাহলে সেটা অন্যদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাও অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি অর্জন করে। আর যে কাজটির ব্যপারে আমরা নিজেরাই নিশ্চিত না ভালমতো, সেটি কিভাবে অন্যদের বিশ্বাস অার আস্থা অর্জন করবে?

দৌঁড়ে বেড়াচ্ছি মাঝে মাঝে পথ না জেনেই। শুধু এটুকু জেনে যে দৌঁড়াতে হবে শেষ পর্যন্ত। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ভাগ্য ভাল যে আমাদের হাতের মুঠোর ওই মায়াবী গোলকটার ভেতরকার পাতার সংখ্যার কোনো সীমা নেই। মীমগুলোরও নেই হঠাৎ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। কারণ আমাদের ব্যবহারিক জীবনে প্রতিদিন নতুন নতুন কৌতুকের জন্ম ও মৃত্যু ঘটছে। মানুষের প্রকৃত জীবন থেকে নেয়া ছোট ছোট ঘটনা, আচরণ, ব্যবহার, চিন্তাধারা- সবকিছুই আজ কৌতুকের বিষয়। সবকিছু থেকেই যে নির্দোষ আনন্দ খুঁজে বের করা সম্ভব- তার আবিস্কার আমি যে সময়টায় বেঁচে ছিলাম, সেই সময়টাতেই আলাদাভাবে পরিস্কার করে দেখানো হয়েছে। এটা ভেবেও একটা রাত আনন্দে কাটিয়ে দেয়া যায়। ছোট ছোট প্রত্যেকটা বিষয়ের মধ্যে যে মধুরেণ সমাপয়েৎ-এর মন্ত্রখানি লুকিয়ে আছে, সেটা আমরা ক'জন জানি? ক'জনই বা সবসময় মানতে পারি? তারপরেও চেষ্টা করে যাওয়া। একদিন সাফল্য আসবেই। ওরও যে আর কোনো উপায় নেই। শুধু যে সত্যিই ওকে চায়, তার কাছে ধরা দেয়া ছাড়া।

গভীর রাতের ডায়েরী ছিল এ পর্যন্তই। পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে। নিরন্তর শুভেচ্ছা।
---

পোস্টটি ২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

উচ্ছল's picture


বাহ্ ....…ব্রো….. আপনি জীবনটাকে ভালোই উপভোগ করছেন….. হিংসা….. ভালো থাকবেন সবসময়… Laughing out loud

মীর's picture


হাহাহ, আপনে প্রায়ই এই কথাটা বলেন। আসলে জীবন উপভোগেরই জিনিস। এর প্রত্যেকটা মুহূর্ত উপভোগের। সুসময়গুলো যেমন উপভোগের, তেমনি দুঃসময়গুলোও। কোনোকিছুই তো চিরস্থায়ী না। আমাদের সময়ও খুব সীমিত। তাই উপভোগ ছাড়া আর কি আসলে করা সম্ভব- তা আমার জানা নেই ব্রাভ।

তবে হ্যাঁ, একসময় জানা ছিল। সেইসব ভুল শিক্ষা মাথা থেকে ঝেড়ে একদম নতুন করে ভাবতে শেখার পর্যায়টা সহজ ছিল না। সময় লেগেছে, প্লাস পরিশ্রমও লেগেছে। আসলে পরিশ্রম হচ্ছে জীবনকে উপভোগের মূল সূত্র। সেই সঙ্গে নিজের যা কিছু আছে, সেজন্য কৃতজ্ঞ থাকা। যা কিছু নেই, সেইসব নিয়ে ভেবে সময় কিংবা শক্তি খরচ না করা। আর দুঃশ্চিন্তা উৎপাদন করে যেই সব বিষয়বস্তু- সেগুলোকে তো স্ট্রেইট ব্লক। দুঃশ্চিন্তা পৃথিবীর কারও জন্য কখনও সুফল বয়ে আনতে পারে নি, পারার যৌক্তিক কোনো কারণও নাই।

প্রচুর কথা বলে ফেললাম। সবই হয়তো আপনি অলরেডী জানতেন। তারপরও লিখলাম শুধুমাত্র রিভিশনের জন্য। নিজের, আপনার, এবং অন্য সবার। নিজের রিভিশনের জন্যই বিশেষ করে। যাহোক, ভাল থাকবেন। শুভকামনা রইলো।

উচ্ছল's picture


ধন্যবাদ ভাই .. চমৎকার বলেছেন...... আসলেই আমাদের সময় সীমিত ..... আর আমার বিশ্বাস এই সীমিত সময় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী বা মনোভাবকে আমরা কে কোন দিকে ধাবিত করবো তার উপর নির্ভর করছে সবকিছু ...... আপনার জীবন উপভোগের এই ভঙ্গী ভালো লেগেছে ।
শুভেচ্ছা। Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম, আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। এটি একটি মৌলিক ব্লগ। দিনলিপি, ছোটগল্প, বড়গল্প, কবিতা, আত্মোপলব্ধিমূলক লেখা এবং আরও কয়েক ধরনের লেখা এখানে পাওয়া সম্ভব। এই ব্লগের সব লেখা আমার নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত, এবং সূত্র উল্লেখ ছাড়া এই ব্লগের কোথাও অন্য কারো লেখা ব্যবহার করা হয় নি। আপনাকে এখানে আগ্রহী হতে দেখে ভাল লাগলো। যেকোন প্রশ্নের ক্ষেত্রে ই-মেইল করতে পারেন: bd.mir13@gmail.com.
ও, আরেকটি কথা। আপনার যদি লেখাটি শেয়ার করতে ইচ্ছে করে কিংবা অংশবিশেষ, কোনো অসুবিধা নেই। শুধুমাত্র সূত্র হিসেবে আমার নাম, এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের লিংকটি ব্যবহার করুন। অন্য কোনো উপায়ে আমার লেখার অংশবিশেষ কিংবা পুরোটা কোথায় শেয়ার কিংবা ব্যবহার করা হলে, তা প্ল্যাজিয়ারিজম হিসেবে দেখা হবে। যা কপিরাইট আইনে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
ধন্যবাদ। আপনার সময় আনন্দময় হোক।